ব্ৰহ্মাণ্ড রহস্যময়।


ব্ৰহ্মাণ্ড রহস্যময়

এ জগতের যাবতীয় পদার্থই আমাদের নিকট রহস্যময়। কেবলমাত্র চিরপরিচিত বলেই, উহারা রহস্য বলেই প্রতীয়মান হয় না। বস্তুতঃ আমরা যখন যে দিকে যে বস্তু নয়নগোচর করি, তা আমাদের সসীম বুদ্ধির নিকট একটা প্রকাণ্ড রহস্য। তুমি যে বিষয়টা যত উৎকৃষ্টরূপে শিক্ষা কর না কেন, যথার্থ বলতে কি, তা তোমার নিকট তত বিরাট রহস্য। তুমি যতই বিজ্ঞানশাস্ত্র অনুশীলন কর না কেন, তুমি বস্তুমাত্রের কেবল বাহ্যস্তরটি বুঝতে পার এবং তাই নিয়ে চিরদিন আন্দোলন কর; কিন্তু যদি তুমি এর গভীরতম প্রদেশে প্রবেশ করতে চেষ্টা পাও, অন্ধকার ক্রমশঃ গাঢ় হতে গাঢ়তর হয় এবং তুমিও ক্ষুঃন্নমনে প্রত্যাবৰ্ত্তন কর। যারা সংসারে গণ্ডমূর্খ, তাদের নিকট কিছুই রহস্যময় বলে বোধ হয় না; আর যাঁরা যত জ্ঞানী ও যত প্রাজ্ঞ, তাদের নিকট বস্তুমাত্রেই তত রহস্যময়।

এই যে চন্দ্র, সূৰ্য্য, গ্রহ ও নক্ষত্রগণ প্রতিদিন তোমার নয়নসমক্ষে ব্যোমমার্গে(আকাশে) উদিত, অস্তমিত বা বিলীন হয়, এদের বিষয় তুমি কি জান, বল ? সূৰ্য্য সৌরজগতের কেন্দ্রস্থল, গ্ৰহগণ উহার চতুর্দিকে দিবারাত্র অমিতবেগে ভ্ৰাম্যমাণ এবং উহা হতে আলোক, উত্তাপ ও জীবনীশক্তি প্রাপ্ত, ঐ সকল জ্যোতিষ্কমণ্ডল পরস্পর পরস্পরের মধ্যাকর্ষণ দ্বারা আকৃষ্ট ও শূন্যমার্গে অবস্থিত, ইত্যাদি জ্যোতিষশাস্ত্রের নানা কথা তুমি এখন উত্তমরূপ শিক্ষা কর; এতেই বা তুমি উহাদের জ্ঞাতব্য বিষয়ের কতটুকু জান, বল ? আর যিনি দূরবীক্ষণ সহযোগে উহাদের আজীবন উত্তমরূপ দখেন, তিনিই বা তোমা অপেক্ষা অধিক কি শিক্ষা করেন ?

এই যে প্রত্যক্ষ পরিদৃশ্যমান জগৎ, কখন চন্দ্র-সূৰ্য্য-কিরণে উদ্ভাসিত, কখনও বা তদভাবে অন্ধকার আচ্ছন্ন, যার পৃষ্ঠদেশে অসংখ্যজাতীয় জীবজন্তু সদা বিচরমাণ ও অসংখ্যজাতীয় উদ্ভিজ্জ সদা উৎপদ্যমান, এই জগৎ সম্বন্ধেই বা তুমি কি জান, বল ? সত্য বটে, পঞ্চ-ইন্দ্রিয় যোগে তুমি এসব দর্শন, শ্রবণ ও স্পর্শ কর এবং এর আঘ্রাণ ও আস্বাদ লও, এমন কি যে সকল ভৌতিকপদার্থ-সমুহের পরমাণুপুঞ্জ দ্বারা ইহা বিরচিত, তুমি আজ পরীক্ষাগারে উহাদের বিভিন্ন অংশ বা উপাদানে পৃথক কর এবং যে সকল ভৌতিক শক্তি দ্বারা চালিত হয়ে ইহা এমন সুন্দর রমণীয় মূৰ্ত্তি ধারণ করে, উহাদের নিয়মাবলি তুমি আজ উত্সাহের সঙ্গে নিরূপণ কর, তাতেই বা তুমি জগতের জ্ঞাতব্যবিষয় কতটুকু জানতে পার, বল ?

এই যে যত্সামান্য জল লয়ে তুমি উহাকে যন্ত্র সংযোগে হাইড্রোজন ও অক্সিজেন এ পৃথক কর এবং পুনরায় হাইড্রোজন ও অক্সিজেন নিয়ে জল প্রস্তুত কর, এতেই বা তুমি জল সম্বন্ধে কি অধিক শিক্ষা কর, বল ? এতদূর শিক্ষা করেই কি জল সম্বন্ধে তোমার জ্ঞানস্পৃহা সম্যক চরিতার্থ হয় এবং আব অধিক শিক্ষা করিবাব আবশ্যকতা তুমি অনুভব কর না ?

এই সে সরিষাকনা মাত্র বট বীজ মাটিতে পড়ে তোমার চোখের সামনে কালক্রমে সুবিশাল বৃক্ষে পরিণত হয়, এই সম্বন্ধেই বা তুমি কি জান, বল ? সত্য বটে, আধুনিক উন্নত উদ্ভিজ্জবিজ্ঞান তোমায় এইসম্বন্ধে নানা কথা শিক্ষা দেয় এবং উহার শ্রেণীবিভাগ ও দেহ পোষণ সম্বন্ধে নানা বৈজ্ঞানিক সত্যের উপদেশ দেয়, তাতেই কি তোমার মন সম্পূর্ণরূপ প্রবোধ মানে ?

এই যে মানব কয়েক দিবসের জন্য জলবুদবুদের ন্যায় উত্থিত হয়ে কখনও বা সুখে হাসেন, কখনও বা দুঃখে কাঁদেন, তৎপরে চিরদিনের জন্য কাল কবলে বিলীন হয়ে যান; এখন সেই মানবের জীবন ও দেহ সম্বন্ধে তুমি কি জান, বল ? তোমার বিজ্ঞান, তোমার দর্শন ও তোমার ধর্মশাস্ত্র এইসম্বন্ধে নানা কথা তোমায় শিখায় বটে এবং তুমিও নিজ বিশ্বাসে তা মহাসত্য বলে আদর কর বটে, তাহাই যে জগতের অমোঘ সত্য, তুমি তা কিরূপে জানলে, বল ? তোমার শারীরস্থান ও শারীরবিধান শাস্ত্র তোমার দেহ সম্বন্ধে নানা কথা শিখায় বটে এবং অনুবীক্ষণ সহযোগে ইহাকে পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে দেখায় বটে, তাহাতেই কি তোমার মন সম্পূর্ণরূপে প্রবোধ মানে ? যথার্থ বলতে কি, দেহের প্রত্যেক যন্ত্র ও প্রত্যেক যন্ত্রের প্রত্যেক ক্রিয়া আমাদের নিকট প্রকৃত রহস্যময়।

এখন এই রহস্যময় জগতের রহস্য উদঘাটন করবার জন্য আমাদের কৌতুহল শিখা চিরপ্রদীপ্ত। যেরূপ বুদ্ধিশক্তি নিয়ে আমরা অবনীমণ্ডলে জন্মগ্রহণ করি, অথবা যুগধর্মে আমাদের আধিভৌতিক উন্নতিসাধিকা জ্ঞানশক্তি নৈসর্গিক জ্ঞান বা সংস্কারের পরিবর্তে যেরূপ বিকসিত, তাতে আমরা সকল বিষয়ে স্বয়ং তত্ত্বজিজ্ঞাসু হয়ে থাকি। এই ঔৎসুক্য বশতঃ আমরা সাধন বলে, অনুশীলনবলে অপার জ্ঞান উন্নতিসাধন করে জাতীয় জ্ঞানভাণ্ডারের পরিবর্দ্ধন করি, নিজের সামাজিক অবস্থার শ্ৰীবৃদ্ধিসাধন করি ও প্রাণীজগতে শ্রেষ্ঠত্বলাভ করি; এমন কি চিররহস্যময়ী অমিততেজস্বিনী প্রকৃতি দেবীকেও আমরা আমাদের স্বাভিপ্রায় সাধনোদেশে নিযুক্ত করতে শিক্ষা করি এবং উহার উপর জয়লাভ ও আধিপত্য বিস্তার করতে ক্রমশঃ প্রয়াস পাই।

যেমন একটি অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশু সামান্য জ্ঞান উদয়ের সঙ্গে চতুর্দিকস্থ ঘটনা পরস্পর সন্দর্শনে কৌতুহল আক্রান্ত হয়ে পিতামাতাকে উহাদের কারণ জিজ্ঞাসা করে; সেইরূপ মানব ও জাতীয় জীবনের শৈশব অবস্থা হতে নিজ বুদ্ধিবিকাশের সঙ্গে সকল বিষয়ের কারণ পরস্পর অবগত হওয়ার জন্য সমুৎসুক হন। তাঁর বুদ্ধিশক্তি যে সময়ে যেরূপ বিকসিত ও স্ফুরিত বিশ্বের কার্য্যকারণ সম্বন্ধে তিনি তদনুরূপ তত্ত্ব উদ্ভাবিত করে আপনার চিরপ্রদীপ্ত কৌতুহলশিখা নিৰ্ব্বাপিত করেন। দেখ, অসভ্য অবস্থায় বায়ু দেবতা বিশেষ, দার্শনিক যুগে উহা একটা ভৌতিক পদার্থ, বৈজ্ঞানিকযুগে উহা অক্সিজেন ও যবক্ষার জনের(নাইট্রোজেন) মিশ্র সংযোগ মাত্র।

এইরূপে মানবের জাতীয় জ্ঞান ভাণ্ডার যুগে যুগে পরিবর্তিত ও পরিবৰ্দ্ধিত। এ জগতে উন্নতিরও সীমা আছে, অবনতিরও সীমা আছে। যখন মানব জ্ঞানের চরমসীমায় উপনীত হন, তখন খণ্ড প্রলয় উপস্থিত হয়ে ভৌতত্ত্বিক পরিবর্তন দ্বারা মহাদেশবিশেষ জলমগ্ন হয় এবং সমুদ্রের গর্ভস্থ ভূমিখণ্ড উত্থিত হইয়া মহাদেশে পরিণত হয়। সেই খণ্ড প্রলয়ে জাতীয় জ্ঞানভাণ্ডার লুপ্তপ্রায় হয়ে যায় এবং নবউত্থিত মহাদেশে যে নবমানবজাতি আভিভূত হয়, তাহাদিগকে পূৰ্ব্বতন জ্ঞানের পুনরভিনয় করতে হয়।

এখন জিজ্ঞাসা, মানব জীবনের কুটপ্রশ্ন কি, যা মীমাংসা করার জন্য মানব চিরদিন সমভাবে সমুৎসুক ? এ পৃথিবীর আদি ও অন্ত কোথায় ইহার সৃষ্টিকর্ত্তা কে, কিরূপেই বা ইহা সৃষ্ট হয়েছিল, কতদিন হইল ইহা সৃষ্ট হয়েছে কতদিনই বা ইহা রইবে, পরেই বা কি হবে, তুমি কোথা হতে আসলে, কোথায় বা যাবে, কেন তুমি সুখ দুঃখের ভাগী হয়ে জন্মগ্রহণ করেছ, তোমার জীবনের মহৎ উদ্দেশ্য কি ? এই সকল প্রশ্নই মানব জীবনের কুটপ্রশ্ন। এই সকল কুটপ্রশ্ন মীমাংসা করিবার জন্য মানব চিরদিনই স্বীয় অসীমবুদ্ধি চালনা করেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, তিনি কোন কালে ইহাদের ভালরূপ মীমাংসা করতে সমর্থ হন না। এই সকল কুট প্রশ্ন মীমাংসা করবার জন্য তিনি বুদ্ধিবলে কত দর্শনশাস্ত্র, কত বিজ্ঞানশাস্ত্র রচনা করেন; কিন্তু সকলশাস্ত্রই তাঁহাকে সমস্বরে বলে, এ সকল বিষয় মানবমনের অজ্ঞেয়। কেবলমাত্র অতি প্রাচীনকালে বা পূৰ্ব্ব পূৰ্ব্ব যুগে যোগেশ্বরদিগের সমাধিস্থ আত্মায় এ সকল বিষয়ের সম্পূর্ণ জ্ঞান প্রতিভাত হইত।

এখন জিজ্ঞাস্য, মানবের জ্ঞানশক্তি কি প্রকারে উদ্ভূত ? বিজ্ঞানের মতে সহস্ৰ সহস্ৰ বৎসর ব্যাপিয়া জাতীয় সাধনার গুণে মানবমস্তিষ্কের অধিক স্ফুর্ত্তি হওয়াতে কালক্রমে তাহার জ্ঞানশক্তি ক্রমবিকশিত। আধ্যাত্মবিজ্ঞানের মতে, যুগধৰ্ম্মে মানবের আধ্যাত্মিকতার হ্রাস হওয়াতে, জগতের আধি ভৌতিক উন্নতিসাধনের জন্য তাঁহার জ্ঞানশক্তি ক্রমবিকসিত। সভ্য মানবের জ্ঞানশক্তি যেরূপ স্ফুরিত, অসভ্য বৰ্ব্বর মানবের বুদ্ধি সেরূপ অস্ফুরিত। আবার বর্বর মানবের বুদ্ধি বনমানুষের বুদ্ধির সাথে তুলনা করলে, উহাদের ভিতর বিস্তর পার্থক্য দেখা যায়। অতএব মানববুদ্ধি এ জগতে বৈশেষিক।

মানবের এই জ্ঞানশক্তি চিরদিনই অসম্পূর্ণ ও সসীম। অনুশীলনবলে, সাধনবলে ইহা ক্রমউন্নত হবে এবং ক্রমউন্নত হয়ে তাহার আধিভৌতিক সুখসম্ভার বৃদ্ধি করবে, এজন্য প্রাথমিক অবস্থায় ইহা এত ভ্রমসঙ্কুল ও প্রমাদগ্ৰস্ত হয়। কিন্তু নিকৃষ্ট জন্তুদের নৈসর্গিক সংস্কার কদাচ প্রমাদগ্ৰস্ত হয় না। জগতে উহাদের উন্নতিও নাই, অবনতি ও নাই; উহারা প্রাকৃতিক সাম্যাবস্থায় অবস্থিত। মানবের জ্ঞানশক্তি যেমন স্ফুরিত তাঁহার নৈসর্গিক সংস্কার তেমনি ক্রমশঃ অস্ফুরিত ও মন্দিভূত। তিনি কেবল জ্ঞানশক্তির উন্নতিসাধন করেই জগতে অপ্রাকৃত অবস্থায় থাকতে চাহেন। এই জ্ঞানশক্তি যতই স্ফুরিত হোক না কেন, যতই উন্নত হোক না কেন, বিশ্বের কার্য্যকারণ সম্বন্ধে তাহার প্রকৃত জ্ঞানপিপাসা কদাচ শাস্ত হয় না এবং কস্মিনকালে তিনি এ জগতে জ্ঞানের চরম সীমায় উপনীত হতে পারেন না। অথচ যে সময়ে তিনি যেরূপ জ্ঞানলাভ করেন, তাহাই তাহার নিকট অভ্রান্ত ও মহৎ সত্যজ্ঞানে পূজিত; তাহাই আবার ভূয়োদর্শনে বহুকাল পরে অসত্যজ্ঞানে উপেক্ষিত হতে দেখা যায়। তাহার সাক্ষ্য, দেখ না পূৰ্ব্বে ধরিত্রী অচলা ছিলেন, এখন কিনা উহা অমিতবেগে অহর্নিশি ভ্ৰাম্যমানা।

যথার্থ বলিতে কি, রহস্যময়ী প্রকৃতির মহাসত্যগুলি আমাদের এই ভ্রমসঙ্কুল জ্ঞানশক্তির উপর চিরদিন যেন অট্টহাসি দিয়ে বিদ্রুপ করে। আমরা উহাদের পাবার জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করি বটে; কিন্তু উহারা আমাদের নিকট হতে ততই দুরে পলায়ন করে, কেবলমাত্র মধ্যে মধ্যে অত্যল্পমাত্র আভাস দিয়ে আমাদেরকে চরিতার্থ করে। পূৰ্ব্ব পূৰ্ব্ব যুগে মহাত্মাগণ যোগাভ্যাস দ্বারা সৰ্ব্বজ্ঞ আত্মার অষ্টসিদ্ধি স্ফুরণ করেই যোগবলে মহাসত্য প্রাপ্ত হতেন। এখন এ কলিযুগে আমরা কেবলমাত্র প্রকৃতিপুস্তক অধ্যয়ন করেই প্রকৃতির মহাসত্য অবগত হই এবং জাতীয় জ্ঞান ভাণ্ডার অনুসন্ধান করে জ্ঞানোন্নতি করি। সত্যসংগ্রহে আমাদের সমস্ত চেষ্টা, যত্ন ও পরিশ্রম প্রায় বিফল হয়। এজন্য জগৎবিখ্যাত নিউটন সাহেব বলেন, “জ্ঞানসমুদ্র পুরোভাগে অক্ষুন্ন, আমি উপকূলে দণ্ডায়মান হইয়া উপলথণ্ডমাত্র সংগ্ৰহ করিতেছি” এবং পণ্ডিতপ্রবর সক্রেটিশ বলেন “আমি এইমাত্র জানি, যে আমি কিছুই জানি না।” এজন্য প্রকৃতির গৃঢ়রহস্যজ্ঞ মহাকবি সেক্ষপীয়ার যথার্থই বলেন- “There are many things more in this world, Horatio, than your Philosophy can dream.” দর্শনশাস্ত্র যাহা ভাবে, তদ্ব্যতীত সংসারে আরও অনেক বিষয় আছে। বস্তুতঃ আমরা সসীম জ্ঞানশক্তিবলে এ জগতের কোন বিষয়ের আদ্যন্ত পাই না, বা পাইব না।

প্রকৃতির মহাসত্য অবগত হওয়া মানবজীবনের একটা প্রধান উদ্দেশ্য। “নাস্তি সত্যাৎপরো ধৰ্ম্মঃ।“ সত্য লাভ অপেক্ষ উৎকৃষ্ট ধৰ্ম্ম এ জগতে আর কিছুই নাই। পরমার্থজ্ঞান বা তত্ত্বজ্ঞান লাভ করাতেই জীবাত্মার যথার্থ শ্রেয়োলাভ ও মঙ্গললাভ এবং তত্ত্বজিজ্ঞাসাই জীবনের মহৎ ব্রত। ইহার জন্যই সনাতন হিন্দুধৰ্ম্ম চিরদিন জ্ঞানমার্গের এত অনুশীলন করে এবং উহার এত প্রশংসা করে। তত্ত্বজ্ঞানলাভেই মহাত্মাগণ জীবন্মুক্ত হন।

জগতে সত্যের বিনাশ নাই। সত্য চিরদিনই নিজ জ্যোতি সমভাবে বিকীর্ণ করে। পৃথিবীর আহ্ণিক ও বার্ষিক গতির কথা প্রচার করাতে যে সকল পাদরীপুঙ্গবেরা মহাত্মা গ্যালিলিয়োকে কারারুদ্ধ করেন, তাহারা কি সেই প্রকার পাশব অত্যাচারে পৃথিবীর আহ্ণিকগতি বন্ধ করতে পারেন? দেখ, সেই সকল দুরাচারগণ অনন্তকালে বিলীন হয়ে গিয়াছে; কিন্তু মহাত্মা গ্যালিলিইয়ো এখনও জগতে জীবিত আছেন, “কীৰ্ত্তি যস্য স জীবতি”।

“একমেবাদ্বিতীয়ং” এর বার্তা প্রচার করাতে, যে সকল নরাধম যীশুখৃষ্টকে ক্রুসে বিদ্ধ করে হত্যা করে, তাহারা কি জগতে একেশ্বরবাদ বন্ধ করতে পারে ? দেখ, তাহারা সকলে কে কোথায় হারিয়ে গেছে; কিন্তু যীশুখৃষ্ট জগতে অদ্বিতীয় হয়ে আছেন এবং খৃষ্টজগতে কোটা কোটা মানব তাহারই ধৰ্ম্মামৃত পান করতঃ জীবন সার্থক করেন।

রহস্যময় ব্রহ্মাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে সদা উৎসুক হও। অধ্যাত্মবিজ্ঞান, দর্শন ও জড়বিজ্ঞানের মহাসত্য অবগত হয়ে জীবাত্মার অপার উন্নতিসাধন করতে সচেষ্ট হও। পরমার্থজ্ঞান লাভে মনপ্রাণ অর্পণ কর এবং চিরজীবন সৰ্ব্বত্র ইহারই অন্বেষণ কর; তাহলেই তোমার মানবজীবন ধন্য ও সার্থক হবে।

তথ্যসুত্র- বৈজ্ঞানিক হিন্দু ধর্ম- ভারতবর্ষের ইতিহাস,

সংকলনে- #কৃষ্ণকমল।

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s