বৈদিক শাস্ত্রে স্ত্রীকে বলা হয় অর্ধাঙ্গিনী বা সহধর্মীনি-


Image result for brahma created man and women

বিলোক্যৈকান্তভূতানি ভূতান্যাদৌ প্রজাপতিঃ
স্ত্রিয়ং চক্রে স্বদেহার্ধ যয়া পুংসাং মাতর্হৃতা ।। (ভাগবত ৬/১৮/৩০)
অনুবাদ:–সৃষ্টির প্রারম্ভে প্রজাপতি ব্রহ্মা দেখিয়াছিলেন যে, সমস্ত জীবেরা অনাসক্ত। তাই প্রজাবৃদ্ধির জন্য তিনি পুরুষের দেহের অর্ধাঙ্গ দিয়া স্ত্রী সৃষ্টি করিয়াছিলেন। সেই স্ত্রীদের দ্বারাই পুরুষের চিত্ত অপহৃত হয়। এই শ্লোকে বর্ণনা করা হয়েছে, ব্রহ্মা স্ত্রীলোকের প্রতি পুরুষের আকর্ষণ বৃদ্ধির জন্য পুরুষের দেহের অর্ধাংশ দিয়ে স্ত্রীলোক সৃষ্টি করলেন, তাই বৈদিক শাস্ত্রে স্ত্রীকে বলা হয় অর্ধাঙ্গিনী বা সহধর্মীনি। নিজের দেহের প্রতি প্রতিটি জীবের আকর্ষণ আছে সেই অংশ দ্বারা যখন অন্য বস্তু তৈরী করা হয় তখন সেই অংশের প্রতি আকর্ষণ স্বাভাবিকভাবে থাকবে। আধুনিক বিজ্ঞানের জেনেটিক তত্ত্ব আবিষ্কার এই বিষয়টিকে সমর্থন করে। ছেলের প্রতি মায়ের আকর্ষণ এবং মায়ের প্রতি ছেলের আকর্ষণের কারণ মায়ের জেনেটিক অংশ ছেলের মধ্যে আছে। ঠিক এই নিয়মে যখন ছেলের অর্ধাংশ দিয়ে মেয়ে তৈরী হয় তখন মেয়ের মধ্যে ছেলের জিনের অংশের অর্ধেক থাকে সেজন্য উভয়ের প্রতি উভয়ের আকর্ষণ থাকে। ছেলে মেয়ের প্রতি যদি আকর্ষণ না থাকত তাহলে সঙ্গম সম্ভব হত না ফলে সন্তান তৈরী হত না এবং প্রজাবৃদ্ধি পেত না। সেজন্য ব্রহ্মা সৃষ্টির আদিতে ছেলের অর্ধাংশ দিয়ে মেয়ে তৈরী করলেন যাতে সৃষ্টি কার্যক্রম সঠিকভাবে চলতে থাকে। ছেলে মেয়ের প্রতি আকর্ষণ প্রতিটি প্রজাতিকে এই মহাবিশ্বে টিকে থাকতে সাহায্য করছে। ব্রহ্মা যখন ছেলের অর্ধাংশ দ্বারা মেয়ে সৃষ্টির পরিকল্পনা করলেন তখন তার শরীর হতে দুটি মূর্তি প্রকাশিত হল একটি ছেলে এবং আরেকটি মেয়ে যা ছেলের অর্ধাংশ।

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s