কেন মন্দির (TEMPLE) প্রয়োজন ?


Image result for temple
অনেকে প্রশ্ন করে এত অর্থ দিয়ে মন্দির তৈরি করার কি প্রয়োজন রয়েছে? আর মন্দিরেই বা আসার কি দরকার? আমাদের মনে ঠাকুর আছে ঘরেই বসে কি ঠাকুরকে ডাকা যাই না? তাছাড়া এত অর্থ খরচ না করে আমাদের চারপাশে অনেক লোক অন্ন, বস্ত্র এবং বাসস্থানের অভাবে কষ্ট পাচ্ছে । ঐসব দরিদ্রদের সাহায্য করাটা কি জরুরী নয়?
তাই আমি আজকে বর্ননা করব TEMPLE শব্দটিকে বিশ্লেষনের মাধ্যমে কিভাবে এটি সামাজিক সেবা কর্মকান্ডে ভূমিকা রাখে ।
T = Tranquility(প্রশান্তি)
E = Education(শিক্ষা)
M = Medication(আরোগ্য বিধান)
P = Purification(শুদ্ধতা)
L = Love(ভালবাসা)
E = Engagement(সেবায় নিযুক্তিকরণ)
Tranquility(প্রশান্তি) – দেহের মৌলিক চাহিদাগুলি হল খাদ্য, বস্ত্র এবং বাসস্থান এবং শান্তি হল মনের মৌলিক চাহিদা । বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা মনের ঐ মৌলিক চাহিদা সমাধানে ব্যর্থ । বিস্ময়কর হলেও সত্য যে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর মতে সাম্প্রতিক শতাব্দির সবচেয়ে বড় মেডিক্যাল চ্যালেঞ্জ এইডস বা ক্যান্সার নয় বরং মানসিক সুস্বাস্থ্য সমস্যা । মন্দির হল সেরকম কিছু স্থান যেখানে অবস্থানের মাধ্যমে খুব তাড়াতাড়ি গভীর মানসিক প্রশান্তি অনুভূত হয় ।
প্রশান্তি হল দিব্য তরঙ্গের ফলাফল যা মন্দিরে ক্রমাগতই অনুপ্রবেশ ঘটে । এই দিব্য তরঙ্গের আগমন ঘটে বিগ্রহরূপে ভগবানের উপস্থিতির মাধ্যমে এবং সেই সাথে ক্রমাগত হরিনামের জপ কীর্তনের মাধ্যমে । প্রতিদিন সন্ধ্যায় অনেক অনেক লোক মন্দিরে আসে গৃহে ফেরার পূর্বে নিজেদের মানসিক অশান্তি দূরীভূত করার জন্য । তারা ভগবানেকে দর্শন করে আরতিতে অংশগ্রহন করে অথবা মন্দির হলে একটি চিন্ময় পরিবেশে পারমার্থিক আলোচনা করে । এভাবে তারা জীবনের চ্যালেঞ্জগুলো মধ্যেও মানসিক প্রশান্তি অর্জন করে । শ্রীল প্রভুপাদ (ইসকন প্রতিষ্ঠাতা আচার্য) চেয়েছিলেন যে, ইসকনের মন্দিরগুলো হবে শহরের প্রাণকেন্দ্রে, যাতে করে অধিকাংশ লোকেরা মন্দির প্রদত্ত প্রশান্তি খুব সহজেই পেতে পারে ।
অনেকে প্রশ্ন করে থাকে মনের প্রশান্তি এতটাই রাজকীয় যে, আমাদের অনেক কর্তব্য সম্পাদন করতে হয় পরিবারে, অফিস এবং সমাজের জন্য ।
আমাদের জানতে হবে মনের প্রশান্তি রাজকীয় নয়, কিন্তু যেটি প্রয়োজন সেটি হল আমাদের কর্তব্যগুলো ভালোভাবে সম্পাদন করা । কয়েক মিনিট পর্যন্ত একটি ৫ কেজি ওজনের ভার উত্তোলন করা কঠিন কিছু নয় । কিন্তু যদি সেটি জীবনের অবশিষ্ট সময় ক্রমাগত উত্তোলন করা হয় তখন এটি বোঝা হয়, একটি অসহনীয় বোঝা । আমাদের বাহু পেশীগুলো কিছুক্ষন বিশ্রাম দিতে হবে এবং যার ফলে শক্তি সঞ্চিত হয় । অনুরূপে আমাদের কর্তব্যগুলো এবং তাদের সাথে আগত উদ্বিগ্নতা হল আমাদের মনের উপর বোঝাস্বরূপ । যদি এসমস্ত বোঝাগুলিকে আমাদের মনে ক্রমান্ব্য়ে ধারণ করি তখন সেগুলো মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে । সেজন্য আমাদের সংক্ষিপ্ত বিরতি দেয়া প্রয়োজন যার মাধ্যমে আমাদের মন প্রয়োজনীয় বিশ্রাম গ্রহনের মাধ্যমে শক্তি সঞ্চয় করতে পারে ।
লোকেরা এই বিরতি টেলিভিশন এবং মুভি দেখে বিনোদনের মাধ্যমে অতিবাহিত করে । বিনোদন হয়ত মাঝে মাঝে আমাদের সতেজতা দেয়, কিন্তু প্রায়ই এসব বিনোদন ভাবনা, বাসনা এবং স্মৃতিকে বিচলিত করে । অপরদিকে, যখন আমরা মন্দিরে আসি, তখন আমরা মন্দিরের চিন্ময় পরিবেশের মাধ্যমে মানসিক বোঝা বা সমস্যাগুলোকে সমাধান করতে পারি । এভাবে যখন আমরা মানসিকভাবে বিশ্রাম এবং সতেজতা গ্রহন করি, তখন আমরা আমাদের কর্তব্যগুলো পুনরায় পূর্ণ শক্তি নিয়ে শুরু করতে পারি ।
মন্দির যে সমাজকে মানসিকভাবে প্রশান্তি রাখতে অবদান রাখছে তা ইসকনে যুক্ত হওয়ার আগে এ ধরনের ধারনা আমার ছিল না । সেজন্য আমাদের পারমার্থিক সংস্কৃতি নিয়ে গর্ব করা উচিত ।

Image result for iskcon temple

অনেকে প্রশ্ন করে এত অর্থ দিয়ে মন্দির তৈরি করার কি প্রয়োজন রয়েছে? আর মন্দিরেই বা আসার কি দরকার? আমাদের মনে ঠাকুর আছে ঘরেই বসে কি ঠাকুরকে ডাকা যাই না? তাছাড়া এত অর্থ খরচ না করে আমাদের চারপাশে অনেক লোক অন্ন, বস্ত্র এবং বাসস্থানের অভাবে কষ্ট পাচ্ছে । ঐসব দরিদ্রদের সাহায্য করাটা কি জরুরী নয়?
তাই আমি আজকে বর্ননা করব TEMPLE শব্দটিকে বিশ্লেষনের মাধ্যমে কিভাবে এটি সামাজিক সেবা কর্মকান্ডে ভূমিকা রাখে ।
T = Tranquility(প্রশান্তি)
E = Education(শিক্ষা)
M = Medication(আরোগ্য বিধান)
P = Purification(শুদ্ধতা)
L = Love(ভালবাসা)
E = Engagement(সেবায় নিযুক্তিকরণ)

আগের পর্বে আমরা আলোচনা করেছি Tranquility(প্রশান্তি) নিয়ে আজকে আমরা আলোচনা করব Education(শিক্ষা) নিয়ে

শিক্ষা আমদের খুবই জরুরি বিশেষ করে এই বর্তমান যুগে । কিন্তু দুঃখের বিষয় হল বর্তমানে হাতেগণা কিছু মন্দির ছাড়া আর কোথাও পারমার্থিক শিক্ষা প্রদান করে না । অন্যান্য মন্দিরে যেমন প্রশান্তিময় পরিবেশ আছে ইসকন মন্দিরগুলোতেও তার পাশাপাশি পারমার্থিক শিক্ষাও প্রদান করছে । ইসকন প্রতিষ্ঠাতা আচার্য শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন ইসকন কোন মঠ মন্দির না আমাদের মন্দির গুলো হবে একেকটা পারমার্থিক শিক্ষা কেন্দ্র , যেখানে তারা শুধু পূজা দেবে না পারমার্থিক শিক্ষা অর্জন করতে আসবে ।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে পারমার্থিক শিক্ষা বিজ্ঞানের যুগে আদৌ প্রয়োজন কিনা?

বিজ্ঞান আমাদের বলে কিভাবে বিষয় সম্পাদন করতে হয় । কিন্তু পারমার্থিকতা আমদের শিখায় কেন তা করতে হয় । যেমন – মেডিকেল কলেজ শিক্ষা দেয় কীভাবে একজন রোগীর আরোগ্য বিধান করতে হয় কিন্তু তারা শিক্ষা দেয় না কেন তাকে আরোগ্য বিধান করতে হবে । অনেক ডাক্তার তাদের রোগীদের দেখে অর্থ উপার্জনের মেশিন হিসেবে রোগীদেরকে অপ্রয়োজনীয় টেস্ট এবং চিকিৎসা দিয়ে অধিক অর্থ উপার্জন করে । শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষিত লোকদের এই অবস্থা ।

প্রকৃত শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের টেকনিক্যাল দক্ষতা দেওয়াই বরং তাদের নিম্ন মানবিক প্রবৃত্তিগুলোকেও পরিশুদ্ধ করা প্রয়োজন । দুঃখজনকভাবে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা এটি করতে ব্যর্থ হয়েছে । কোন কিছু শেখা মানে শুধু আয় উপার্জনের জন্য নয় বরং সেবা করার জন্যও ।

ডাক্তারের প্রকৃত লক্ষ্য হওয়া উচিত রোগীদের সেবা প্রদান করা তাদের রোগজনিত সমস্যা থেকে মুক্ত করা । একটু ভাবুন না, যদি সবাই একে অপরের ক্ষতি না করে সেবা করে তবে এই পৃথিবীটা কেমন হবে । পারমার্থিক শিক্ষা বিশ্বে এ ধরনের সেবা সংস্কৃতি সৃষ্টি করতে পারে ।
এখন প্রশ্ন হতে পারে পারমার্থিক শিক্ষার কেন প্রয়োজন? আমাদের যেটি দরকার তা হল লোকেদের ভালো হতে এবং অন্যদের ভালো করতে সাহায্য করা । এটুকুইতো যথেষ্ট না?
পারমার্থিক শিক্ষা ছাড়া, অধিকাংশ লোকেরা না ভাল থাকতে সমর্থ হবে না দীর্ঘ সময় ধরে ভালো থাকতে পারবে । তারা শীঘ্রই একটি অনৈতিক, ধংসাত্মক মানসিকতার শিকার হতে পারে ।

নৈতিক আদর্শের মাধ্যমে ভালো হওয়া এবং ভালো কাজ করা অথবা ভালো জীবন যাপন করা অনেকটা নিরাপদ ও সুন্দর ভ্রমনের জন্য ট্রাফিক আইন অনুসরণের মত । ভ্রমনের উদ্দেশ্য শুধু ট্রাফিক আইন মেনে চলা নয় বরঞ্চ গন্তব্যে ঠিকভাবে পৌছতেও হবে । যদি ভ্রমণকারী মনে করে যে, ট্রাফিক আইন গন্তব্যে পৌছতে বাধা সৃষ্টি করছে এবং এখন কোন পুলিশও নেই তবে সে শীঘ্রই সে আইনগুলো ভেঙে ফেলতে প্ররোচিত হবে ।

ট্রাফিক আইনগুলোর মত কিছু নৈতিক আদর্শগুলো সমাজে যদিও রয়েছে কিন্তু আধুনিক শিক্ষা আমাদেরকে জীবনের লক্ষ্য অথবা সামাজিক কর্তব্যগুলোর প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে শিক্ষা দেয় না । তাই অধিকাংশ লোকেরা সম্পদ, সন্মান, শক্তি, অবস্থান ইত্যাদি অপ্রয়োজনীয় উদ্দেশ্য বাছাই করে নেয় ।

শ্রীমদ্ভগবদগীতা একসময় এমারসন, আইনস্টাইন, গান্ধী এবং বিশ্বের অনেক চিন্তাবিদদের একমাত্র পাঠ্যবস্তু ছিল, সেই ভগবদগীতা জড়জগতের এসব দুরবস্থার কথা ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে, সুতরাং জীবনের উদ্দেশ্য যদি অন্য কিছু থাকে (সন্মান, শক্তি……………) তবে এক্ষেত্রে নৈতিক আদর্শগুলোর ব্যবহার অনেক সময় অচল হয়ে যায় ।

নৈতিকতা স্থায়ী হয় না, একসময় সে নীতিবান মানুষ অনৈতিকতায় জড়িয়ে যায় ।

বৈদিক শাস্ত্র ব্যাখ্যা করছে যে, ভগবানকে ভালোবাসাই আমাদের পরম লক্ষ্য হওয়া উচিত । বিভিন্ন ধর্ম এ শিক্ষাই দেয়া হচ্ছে ।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে ভগবানকে ভালোবাসাই যদি পরম লক্ষ্য হয়ে থাকে তবে কিভাবে এটি নৈতিকতা শিক্ষা দেয়?

এটা ঠিক একটি ঘরের মাষ্টার সুইচ অন করার মত । যেটির কারনে ঘরের সমস্ত আলো জ্বলে উঠবে । অনুরূপভাবে যদি ভগবানকে ভালোবাসা হয় তবে আপনাআপনিই সমস্ত জীবের প্রতি ভালোবাসতে শিখব । তখন এই বিশ্বের প্রতিটি জীবকে ভগবানকে কেন্দ্রে রেখে একটি পরিবার হিসেবে উপলব্ধি করতে পারব । তখন প্রকৃত নৈতিকতা আপনা আপনিই উথিত হবে । আমাদের কাছ থেকে স্বার্থপর মনোবৃত্তি, কামুক প্রবৃত্তি। লোভ এবং হিংসা ইত্যাদি দূরীভূত হবে এই হল পারমার্থিক শিক্ষার সুফল যা একে অপরের প্রতি সেবা সংস্কৃতির দিকে পরিচালিত করে । আমাদের মন্দিরগুলো সেটিই প্রদান করছে ।
আগেরকার দিনে তাদের দরজা জানালা খোলা রাখত কেউই কোন কিছু চুরি করত না তার কারন হচ্ছে পারমার্থিক শিক্ষার সুফল ।

কৃতজ্ঞতায়- সুশান্ত।

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s