হরিভজন করলে শরীর মন আত্মা-তিনটি ভালো থাকবে


10455805_10206471272718426_7170022941044865664_n

”হরিভজন করলে শরীর মন আত্মা-তিনটি ভালো থাকবে,আর হরি ভজন বিমুখ হলে তিনটিই প্রতিকূল হয়ে দাঁড়াবে। যে ব্যক্তি কপটতা যুক্ত হয়ে বাইরে কৃষ্ণ ভজনের অভিনয় দেখায়,অন্তরে কৃষ্ণের কাছে ধর্ম-অর্থ-কাম-মোক্ষ-এই কৈতব গুলি বাঞ্ছা করে,কৃষ্ণ তার অভিলষিত এই সমস্ত কৈতব দিয়ে তাকে বঞ্চনা করেন,তাঁকে কখনও প্রেমভক্তি প্রদান করেন না। কিন্তু যে ব্যক্তি নিষ্কপট ভাবে কৃষ্ণের ভজন করতে করতে অজ্ঞানতা বশত কৃষ্ণের নিকট বিষয় সুখ প্রার্থনা করে
থাকে,কৃষ্ণ কৃপা পরশ হয়ে সেই নিষ্কপট অজ্ঞ ব্যক্তিকে যথার্থ সাধুদের কাছে হরিকথা শ্রবণের সুযোগ দান করে অজ্ঞের তুচ্ছ বিষয় সুখ বাসনা নিরস্ত করে দেন। যেমন ধ্রব কে কৃষ্ণ নারদের মাধ্যমে কৃপা করেছিলেন। জড়বুদ্ধি সহজিয়াদের কপট ভাবে আছে বলে তারা প্রকৃত নিষ্কপট ও অকৃত্রিম সাধুর দর্শন ও তাঁদের বাণী শ্রবণ করতে পারে না। অর্থাৎ,কৃষ্ণ কৃপা করে তাদের বিষয়
বাসনা ভুলিয়ে দেন না। তারা কৃষ্ণের মায়ার চাতরে পড়ে থাকে। মোট কথা এই যে,কৃষ্ণ ভজনের অভিনয় কারী কপট ব্যক্তিকে কৃষ্ণ কখনও সুদুর্লভ প্রেমভক্তি প্রদান করেন না। কেবল নিষ্কপট
ভজন কারী অজ্ঞ ব্যক্তিকে দয়া পরবশ হয়ে সদ্গুরুর মাধ্যমে শুদ্ধভক্তি বা প্রেমভক্তি প্রদান করেন। যে সব মানুষ হরিভজন করে না,যারা হরি সম্বন্ধহীন, তাদের জীবিত থেকে দৌরাত্ম্য করা অপেক্ষা জীবন ধারণ না করাই ভালো। মানুষ ও দেবতা প্রভৃতি যদি শ্রীহরির উপাসনা না করেন, তবে তাঁরা কেবল মাত্র জগতে জঞ্জাল আনয়ন করেন।দেবতাদের উপাস্য যে কৃষ্ণ, মানুষেরও উপাস্য সেই কৃষ্ণ। সুতরাং অন্যান্য দেবতার উপাসনা না করে সর্ব সর্বেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উপাসনা করলেই সবার উপাসনা হয়ে যাবে।যুগধর্ম হল যুগের ধর্ম। আমাদের চারটি যুগ রয়েছে যথাঃ-সত্যযুগ, ত্রেতাযুগ, দ্বাপরযুগও কলিযুগ। বর্তমান সময় কলি যুগের অর্ন্তভুক্ত।প্রত্যেক যুগে ভগবানকে সন্তুষ্টি বিধানের জন্য আলাদা ভাবে ধর্মানুষ্ঠানকরা হত। এ সম্ভন্ধে শ্রীমদ্ভাগবতের (১২/৩/৫২শ্লোকে) শুকদেব গোস্বামী পরিক্ষিত মহারাজকে বলেন-“ কৃতে যদ্ধ্যায়তো বিষ্ণুং ত্রেতায়াং ঘজতো মখৈঃ।দ্বাপরে পরিচর্যায়াং কলৌতদ্ধরিকীর্তনাৎ ।। অথাৎ, সত্যযুগে বিষ্ণুকে ধ্যান করে, ত্রেতাযুগে যজ্ঞের মাধ্যমে যজন করে এবংদ্বাপর যুগে অর্চন আদি করে যেফল লাভ হত, কলিযুগে কেবল মাত্র“ হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র” কীর্তনে সেই সকল ফল লাভ হয়।অথাৎ, সত্যযুগে যুগধর্ম ছিল ভগবান বিষ্ণুর ধ্যান করা। ধ্যানের মাধ্যমে ভগবানের সন্তুষ্টি বিধানের প্রয়াস করা হত। বৈদিক শাস্ত্রমতে ধর্মের চারটি স্তম্ভ যথাঃ-সত্য, দয়া, তপ ও শৌচ।সত্যযুুগে এই চারটি স্তম্ভই বর্তমান ছিল। তখন চারভাগ ধর্মছিল এবং মানুষের আয়ুষ্কাল ছিল ১ (এক) লক্ষ বছর। ভগবানকে সন্তুষ্টি করার জন্য হাজার হাজার বছর ধ্যান (তপস্যা) করাহত। ভগবানকে লাভ করা খুবই কষ্ঠসাধ্য ছিল। ত্রেতাযুগে যুগধর্ম ছিল যজ্ঞের মাধ্যমে ভগবানের সন্তুষ্টি বিধান করা। বিভিন্ন রকমের উপাদান যজ্ঞেরঅগ্নিতে আহুতির মাধ্যমে ভগবানকে আহবান করা হত। যজ্ঞে বিভিন্ন প্রকার বৈদিক মন্ত্র উচ্চারিত হত। এই যুগে তিন ভাগধর্ম এবং এক ভাগ অধর্ম ছিল। মানুষের আয়ু ছিল ১০ (দশ) হাজার বছর। দ্বাপর যুগে যুগধর্ম ছিল অর্চন।এ যুগে দুই ভাগ ধর্ম ও দুই ভাগ অধর্ম ছিল। মানুষের আয়ুস্কাল ছিল ১ (এক) হাজারবছর। মানুষ অর্চনের মাধ্যমে ভগবানকে সন্তুষ্ট করার জন্য চেষ্টা করত। কলিযুগের যুগধর্ম হচ্ছে হরিনাম সংকীর্তন করা। কলিযুগে তিনভাগ অধর্ম এবং এক ভাগ ধর্ম। মানুষ অল্প আয়ূ,অল্প মেধা,কলহ প্রিয়, এবং অধার্মিক। কিন্তু কলি যুগে সব চেয়ে বড় আশীবাদ হল খুব অল্পতেই হরিনাম সংকীর্তন করার মাধ্যমে ভগবানকে লাভ করতে পারা যায়। চৈতন্য চরিত্রামৃতে বর্ণনাহয়েছে -“ কলিকালে নামরূপে কৃষ্ণঅবতার। নাম হৈতে হয় সর্বজগৎ নিস্তার।”এই কলিযুগে ভগবানের দিব্যনাম“ হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র ” হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণের অবতার। কেবলমাত্র এই দিব্যনাম গ্রহন করার ফলে, যে কোন মানুষ সরাসরি ভাবে ভগবানের সঙ্গলাভ করতে পারেন। যিনি তাকরেন তিনি অবশ্যই জড় জগত থেকে উদ্ধার লাভ করেন। এই নামের প্রভাবেই কেবল সমস্ত জগৎ নিস্তার পেতে পারে।অন্যান্য যুগে অনেক বছর সাধনার ফলে যা লাভ হতো না,কলিযুগে শুধুমাত্র নিরন্তন হরিনামের মাধ্যমে তা অতি সহজেই লাভ হয়। কলিযুগে অধর্মের পরিমান বেশী থাকার ফলে শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভুর উদারতার ফল স্বরূপ কলির পতিত জীব খুব স্বল্প প্রয়াসে ভগবানকে লাভ করছে।কলির প্রথম সন্ধ্যায় মহাপ্রভু কলির পাপাহত জীবদের মুক্তির বিধানের জন্য নবদ্বীপে আবির্ভূত হন এবং সর্বত্রহরিনাম দান করেন এবং তিনিভবিষ্যৎ বানী করেন -“ পৃথিবীতে আছে যত নগরাদি গ্রাম সর্বত্র প্রচার হইবে মোর এই নাম। ”তার ধারা বাহিকতায় মহাপ্রভু আর্দশকে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে গুরুর আদেশ কে অন্তরে লালন করে কৃষ্ণ কৃপা শ্রীমূর্তি শ্রীলঅভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামীপ্রভুপাদ সারা বিশ্বব্যাপি যুগধর্ম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইস্কন প্রতিষ্ঠা করেন।

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s