পুর্ব্বভাগ- মৃত্যু


10452354_407721509395661_8164327692226700379_n

১.৩ পুর্ব্বভাগ- মৃত্যু

মুর্চ্ছা বিশেষ। সামান্য মূর্চ্ছায় পূর্বাবস্থা পুনঃ প্ৰাপ্তি হয়, নচেৎ দেহত্যাগ জন্য মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুমূর্চ্ছার পর সূক্ষ্ম শরীরের আতিবাহিক অবস্থা হয়। ইহা প্ৰত্যক্ষও হয়। প্ৰেত ষড়্‌বিধ সামান্য পাপী, মধ্য পাপী, স্থূল পাপী, সামান্য ধর্ম্মা মধ্য ধৰ্ম্মা ও উত্তম ধর্ম্মা। স্থূলপাপী মহাপাতকী। স্বাভাবিক মৃত্যু হইলে ইহাদের মহাপাতক জনিত রোগে মৃত্যু হয়। এইরূপ মৃত্যু অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। মৃত্যুর অব্যবহিত পূর্ব্বে দায়াদগণ ও রোগী ভয়ঙ্কর প্রতিমূৰ্ত্তি সকল দেখেও বিকট শব্দও শুনতে পায়। মুমূর্ষু বাহ্যজ্ঞান শূন্য হয়, ও স্বপ্নাবেশে পরজন্মের ছায়া দেখিয়া চীৎকার বা ক্ৰন্দন করতে করতে. মূর্চ্ছিত হইয়া মৃত্যুমুখে পতিত হয়। ভোগাবসানে পুনশ্চ মনুষ্যদেহ প্রাপ্ত হইলেও ঐ মহাপাতকের চিহ্ন সপ্তজন্ম পৰ্য্যন্ত থাকে। কোন শিশু, অনাবৃত লিঙ্গ জন্মগ্রহণ করে। ইহা অতি কুৎসিৎ মাতৃগমন জনিত মহাপাতকের চিহ্ন। কেহ নাসিকা বা কৰ্ণে ছিদ্র লইয়া ভূমিষ্ঠ হয়। ঐ চিহ্ন গুরুদ্রোহ রূপ মহাপাতকজনিত হয়। এই প্রকার নানা পাতকের নানাপ্রকার চিহ্ন নির্দিষ্ট আছে। তা অনেকে প্রত্যক্ষ করিয়া থাকিবেন। মধ্য ও সামান্য পাপীর পাতকবিশেষে ফলেরও নৃত্যুনাধিক্য ঘটিয়া থাকে।

যাহারা উত্তম ধৰ্ম্ম পুণ্যশীল, তাহাদের মৃত্যু অত্যন্ত সুখকর বলিয়া হাস্যবাদনও কষ্টের কোনরূপ চিহ্ন ও লক্ষিত হয় না। মমতাশূন্য হইয়া সর্বান্তঃকরণে সজ্ঞানে সর্বতোভাবে পরমাত্মায় আত্মসমৰ্পণ করিয়া উত্তমঅঙ্গের ছিদ্ৰ দিয়া বা ব্ৰহ্মরন্ধ্র উদঘাটিত করিয়া চলিয়া যায়, অর্থাৎ প্ৰাণত্যাগকরে। কেবল বস্ত্ৰত্যাগের ন্যায় এই স্থূল শরীর পরিত্যাগ, ও বস্ত্রান্তর গ্রহণের ন্যায় কায়ান্তর গ্ৰহণ মাত্র উপলব্ধি হয়। সুগন্ধ বায়ু প্রবাহিত হয় ও সূৰ্য্যমণ্ডলের প্রকাশ হয়। তাহাদের রাত্রিকালে বা সন্ধ্যার সময় মৃত্যু হয় না। যাহারা মধ্য ধর্ম্মী তাহারা মৃত্যুমূর্চ্ছার পর, ব্যোমবায়ু পরিচালিত হইয়া ওষধিপ্রধান চৈত্ররথাদি বনে কিন্নরাদি শরীর প্রাপ্ত হয়। তথায় সুফল ভোগান্তর প্রচ্যুত হইয়া, খাদ্যের সংশ্লেষে ব্ৰাহ্মণাদি নরগণের হৃদয়ে প্রবেশ করতঃ রেতঃ সংক্রমে নারী গর্ভে প্রবেশান্তর জন্মগ্রহণ করে। মৃত মাত্রেই ক্ৰমে বা অক্ৰমে মৃতিমূর্চ্ছাবসানে বাসনানুরূপ এই নিয়ম অনুভব করে। মুর্চ্ছা ভঙ্গের পর “আমি মরিয়াছি” এইরূপ জ্ঞান হয়। দাহকাৰ্য্যের পর পিণ্ডাদি প্রাপ্ত হইলে, “আমার শরীর হইয়াছে” এইরূপ জ্ঞান হয়। তাহারপর যম যমদূত, স্বৰ্গ, যমালয়, “ঐ আমাকে যমপূরে লইয়া যাইতেছে” এইরূপ উপলব্ধি হয়। উত্তম পুণ্যশালী প্ৰেতগণ সকৰ্ম্মলব্ধ বিমানাদি উপভোগ অনুভব করিতে থাকে। পাপিষ্ঠেরা বোধ করে হিম, কণ্টক, গৰ্ত্ত, শস্ত্রসঙ্কুল অরণ্য অপবিত্ৰস্থান সকল, বিষ্ঠা, মূত্র এই সমস্ত অনুভবে দ্বারা ভোগ করে। মরণে প্ৰত্যেকেরই পারলৌকিক ফল ভোগ হয়। ফলতঃ জীব যদি অধিকাংশ পুণ্য ও স্বল্প পাপ করে, তবে পৃথিব্যাদি সূক্ষ্ম ভূত দ্বারা শরীর লাভ করিয়া পারলৌকিক ভোগ করে। অধৰ্ম্ম বহুল ব্যক্তির সেরূপ না হইয়া, যাতনাময় দেহলাভ করিয়া যন্ত্রণা ভোগ করে। যমযাতনা শেষ হইলে পুনশ্চ ভাগমত ভৌতিক দেহ প্ৰাপ্ত হইলে পর, পাপ ও পুণ্যফল ভোগ হয়। আতিবাহিক অবস্থায় অনুভবাত্মক ফলভোগ করে। দেহ ভিন্ন দৈহিক ফলভোগ হয় না। চেতনা পুনর্জন্মের বীজ ভূত বাসনা বিশিষ্ট থাকায়, পুনর্বার দেহ প্ৰাপ্তির জন্য চেষ্টা করে। সেই কারণই পুনর্জন্ম হয়। ইহাই জীবনামে কথিত হয়। উহা গগনেই থাকে, শূন্যই ইহার বাসস্থান। ব্যবহারিকগণ ইহাকেই প্রেত বলে। ভৌতিকাংশের ন্যূনাধিক্য বশতঃ ব্যাধির উৎপত্তি হয়। কিন্তু ঐরূপ সংযোগীর বিষমাংশে ক্ষয় উপস্থিত হইলে মৃত্যু হয়। ঐ রূপ দেহে চেতনা থাকে না। ভৌতিকাংশের সমতা’ হইলে ব্যাধি মুক্ত হয় নতুবা মৃত্যু ঘটে।

সাধারণ চক্রে একটি বিশিষ্ট শক্তির আবির্ভাব হয়। ইহা আমরা প্ৰত্যক্ষ করিয়া থাকি। অন্ততঃ দশজন না হইলে এইরূপ চক্র হয় না। একদিবস এই চক্ৰে কোন এক মহাপাতকী উপস্থিত হয়। আমরা বুঝিতে পারিয়া তাহাকে পরিচয় জিজ্ঞাসা করিলে, উত্তর পাইলাম,-অহো কি অনন্ত অসীম যন্ত্রণা। আমরা জিজ্ঞাসা করিলাম, কাহার যন্ত্রণা ? ওঃ নাহিজল নাহিস্থল নাহিদিক্‌ বিদিক, ঘোরতম চারিধার, অযুত অযুত ফণিফণা ভয়ঙ্কর। তীব্ৰ গরল করিছে উদগার, দহে দেহ, মৃত্যুকষ্ট জ্যেষ্ঠ নহে তুলনায় ইহার। আহা গেলাম গেলাম ? প্ৰশ্ন-কতকাল এরূপ যন্ত্রণাভোগ করিতেছ? বহুকাল, কিসে অব্যাহতি, উপায় কি আছে কিছু। প্রশ্ন-কে যাতনা দিতেছে, তোমার অব্যাহতির উপায় তুমি জান না ? যে চারিজন বিকট ছায়া মূৰ্ত্তি আমাকে লইয়া আসিয়াছে তাহারাই যন্ত্রণা দিতেছে। প্রশ্ন হইল হরিনাম কর ? আমার অধিকার নাই। কোন দয়াবান কৃপা করিলে এযন্ত্রণা শেষ হয়। প্রশ্ন, কিরূপে দলন দয়া করিবেন ? আমার হইয়া ক্ষমা প্রার্থনা ও সাধুসেবা করিয়া তাহাদের শুভ কামনা লাভ; সেইজন্য এইচক্ৰে আশ্রয়ভিক্ষার্থ আসিয়াছি। স্বীকার করিলে সেই মহাপাতকী চলিয়া গেল। এইরূপে আতিবাহিক অবস্থায় অনুভব সিদ্ধ যন্ত্রণা ভোগকরে। ইহা দশ ব্যক্তির প্রত্যক্ষ বিষয়। এই অনুভবাত্মক যন্ত্রণা কতকাল ভোগ হবে তাহা অজ্ঞাত। ভোগ অবসানে ভৌতিক শরীর প্রাপ্ত হইলে, দৈহিকাদি ত্ৰিবিধ যন্ত্রণাভোগ হইবে। সময় না হইলে পিণ্ডদানেও কোন ফল দৰ্শেনা। এবং গয়া কাৰ্য্যে সুবিধা বা প্ৰবৃত্তি ও জন্মে না। কাল পূর্ণ হইলে সকলি সুবিধা জনক হয়। ইহা আমার প্রত্যক্ষ বিষয়।

ক্রমশঃ

বৈষ্ণবদিগের সাধনা

সংকলনে- #কৃষ্ণকমল।

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s