শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা বিষয়ক প্ৰশ্ন এবং উত্তর-১০


প্রশ্নঃ- ভগবান বলছেন যে, ক্ষত্রিয়দের জন্য (অন্যায়ের বিরুদ্ধে) যুদ্ধ ছাড়া কল্যাণের আর কোন উপায় নেই(২/৩১), তাহলে কি কেবল লড়াই করলেই ক্ষত্রিয়দের কল্যাণ হয় ? অন্য কোন সাধনা দ্বারা কল্যাণ লাভ সম্ভব নয় ?

উত্তরঃ- কথাটি ঠিক তা নয়। সেই সময় যুদ্ধের প্রাসঙ্গিকতা ছিল এবং অর্জুন যুদ্ধ পরিত্যাগ করে ভিক্ষান্ন গ্রহণ করাকে শ্রেষ্ঠ মনে করেছিলেন। সেইজন্যই ভগবান বলেছেন যে, এইরূপ ধর্মযুদ্ধ স্বতঃ প্রাপ্ত হওয়া যে কোন যুদ্ধবীর ক্ষত্রিয়ের কল্যাণ লাভের এক মস্ত বড় সুযোগ। এইরুপ সুযোগ পেয়েও যদি কোন যুদ্ধবীর ক্ষত্রিয় যুদ্ধ না করেন তবে তাঁর অপযশ হয়, তিনি সমস্ত গণ্যমান্য ব্যক্তির কাছে লঘুতা প্রাপ্ত হন, শত্রুরাও নিন্দা করে তাঁর সম্বন্ধে অকথ্য কথা বলতে থাকে (২/৩৪-৩৬)। এর তাৎপর্য হচ্ছে যে, সেই সময় যুদ্ধের প্রাসঙ্গিকতা থাকায় ভগবান অর্জুনকে ‘যুদ্ধকে শ্রেষ্ঠ সাধন’ বলে বলেছেন। একথা ঠিক নয় যে, যুদ্ধ ছাড়া অন্য সাধনায় ক্ষত্রিয় নিজকল্যাণ করতে পারে না। কেননা পূর্বেও বহু রাজ্য চতুর্থ আশ্রমে বনবাসী হয়ে সাধন ভজন করেছেন এবং তাতে তাঁদের কল্যাণ সাধিত হয়েছে।

উল্লেখ্য শ্লোকঃ-

গীতা (২/৩১) হে আর্জন, তুমি ক্ষত্রিয়। ধর্মযুদ্ধই ক্ষত্রিয়ের কর্তব্য। এটা তোমার তোমার স্বধর্ম।৩১

গীতা (২/৩৪-৩৬) আরও দেখ, সকল লোকে চিরকাল তোমার অকীর্তি ঘোষণা করিবে । সম্মানিত ব্যক্তির পক্ষে অকীর্তি মরণ অপেক্ষা অধিক, অর্থাৎ অকীর্তি অপেক্ষা মরণও শ্রেয়ঃ । ৩৪
মহারথগণ মনে করিবেন, তুমি ভয়বশতঃ যুদ্ধে বিরত হইতেছ, দয়াবশতঃ নহে । সুতরাং যাহারা তোমাকে বহু সম্মান করেন তাহাদিগের নিকট তুমি লঘুতা প্রাপ্ত হইবে । ৩৫
তোমার শত্রুরাও তোমার সামর্থ্যের নিন্দা করিয়া অনেক অবাচ্য কথা বলিবে; তাহা অপেক্ষা অধিক দুঃখকর আর কি আছে ? ৩৬
তথ্যসুত্র- শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা দর্পন।
সৌজন্যে- শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা স্কুল

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s