শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা বিষয়ক প্ৰশ্ন এবং উত্তর-১৫


প্রশ্নঃ- গীতোপদিষ্ট জ্ঞান কাহাকে বলা যায় ? কোন্‌ সাধক সে জ্ঞান লাভ করেন ? গীতার আদর্শ-জ্ঞানী স্থিতপ্রজ্ঞের লক্ষণ কি ?

%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%ae%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%ad%e0%a6%97%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a7%80%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a7%9f%e0%a6%95-%e0%a6%aa

উঃ- গীতোপদিষ্ট তত্ত্বজ্ঞান পরাবিদ্যা অর্থাৎ যে জ্ঞান দ্বারা সেই অবিনাশী অক্ষর ব্ৰহ্মকে জানতে পারা যায়-তবে এই তত্ত্বজ্ঞান লাভ করতে হলে কৰ্মযোগের দ্বারা চিত্তশুদ্ধি লাভ করতে হয়, নিম্ন লিখিত শ্লোক গুলি হতে গীতার উপদেশ সুস্পষ্ট হয়-
আরুরুক্ষোর্মুনের্যোগং কর্ম্ম কারণমুচ্যতে ।
যোগারূঢ়স্য তস্যৈব শমঃ কারণমুচ্যতে ॥৬/৩॥
যে মুনি যোগ লাভ করতে চেষ্টা করেছেন, কৰ্মই তাঁহার আরোহণ পদবী, আর যিনি যোগস্থ শম তাঁহার আশ্রয়।
ন হি জ্ঞানেন সদৃশং পবিত্রমিহ বিদ্যতে ।
তৎ স্বয়ং যোগসংসিদ্ধঃ কালেনাত্মনি বিন্দতি ॥৪/৩৮॥
জ্ঞানের ন্যায় পবিত্ৰ ইহসংসারে আর কিছুই নাই, তাহা হইতে যোগসিদ্ধ হইয়া মানব কালে আপনাকেই প্রাপ্ত হয়।
প্রজহাতি যদা কামান্ সর্ব্বান্ পার্থ মনোগতান্ ।
আত্মন্যেবাত্মনা তুষ্টঃ স্থিতপ্রজ্ঞদোচ্যতে ॥২/৫৫॥
হে পাৰ্থ! সাধক যখন মনোগত সকল বাসনা পরিত্যাগ করিয়া আপনাতে আপনি সন্তুষ্ট থাকেন, তখন তাঁহাকে স্থিতপ্ৰজ্ঞ বলা হয়।
শ্রেয়ান্ দ্রব্যময়াদ্যজ্ঞাজ্ঞানযজ্ঞঃ পরন্তপ ।
সর্ব্বং কর্ম্মাখিলং পার্থ জ্ঞানে পরিসমাপ্যতে ॥৪/৩৩॥
হে শত্রুজয়ী, দ্রব্যময় যজ্ঞ হইতে জ্ঞান যজ্ঞ শ্ৰেষ্ঠ, কেন না অখিল কৰ্মসমূহ জ্ঞানে পরিসমাপ্ত হয়।
যথৈধাংসি সমিদ্ধোঽগ্নির্ভস্মসাৎ কুরুতেঽর্জ্জুন ।
জ্ঞানাগ্নিঃ সর্ব্বকর্ম্মাণি ভস্মসাৎ কুরুতে তথা ॥৪/৩৭॥
প্ৰজ্বলিত অগ্নি যেমন কাষ্ঠরাশিকে ভস্মাৎ করে, হে অর্জ্জুন! জ্ঞানাগ্নি তেমনি সর্ব কৰ্ম্মকে ভস্মসাৎ করিয়া থাকে।
শ্রাদ্ধাবান্ লভতে জ্ঞানং তৎপরঃ সংযতেন্দ্রিয়ঃ ।
জ্ঞানং লব্ধা পরাং শান্তিমচিরেণাধিগচ্ছতি ॥৪/৩৯॥
যিনি শ্রদ্ধাবান এবং ঈশ্বরে ভক্তিপরায়ণ, তিনিই জ্ঞান অর্থাৎ তত্ত্বজ্ঞান লাভ করিতে পারেন এবং পরম জ্ঞান লাভ করিলেই অপার নিত্য শান্তির অধিকারী হয়েন। যিনি শ্রদ্ধাবান, বিশ্বাসী, যিনি তৎপর অর্থাৎ পরমেশ্বরে ভক্তিপরায়ণ তিনি এই শ্ৰেষ্ঠ জ্ঞান লাভের অধিকারী হয়েন।
গীতায় নিম্ন লিখিত কয়েকটি শ্লোকে স্থিতপ্ৰজ্ঞ আদৰ্শ-জ্ঞানীর লক্ষণ বর্ণিত হইয়াছে।
প্রজহাতি যদা কামান্ সর্ব্বান্ পার্থ মনোগতান্ ।
আত্মন্যেবাত্মনা তুষ্টঃ স্থিতপ্রজ্ঞদোচ্যতে ॥২/৫৫॥
হে পার্থ! যিনি মনোগত বাসনা সকল ত্যাগ করিয়াছেন, যিনি আপনাতেই আপনি সন্তুষ্ট, তিনি আদর্শ জ্ঞানী তিনি স্থিতপ্রজ্ঞ।
দুঃখেষ্বনুদ্বিগ্নমনাঃ সুখেষু বিগতস্পৃহঃ ।
বীতরাগভয়ক্রোধঃ স্থিতধীর্মুনিরুচ্যতে ॥২/৫৬॥
যিনি দুঃখে অবিচলিত, সুখে স্পহাশূন্য, যিনি বাসনা ভয় এবং ক্ৰোধ বর্জ্জিত, তিনি স্থিরবুদ্ধি মুনি বলিয়া কথিত হয়েন।
যদা সংহরতে চায়ং কূর্ম্মোঽঙ্গানীব সর্ব্বশঃ ।
ইন্দ্রিয়াণীন্দ্রিয়ার্থেভ্যস্তস্য প্রজ্ঞা প্রতিষ্ঠিতা ॥২/৫৮॥
যখন সাধক কূৰ্ম্মের অঙ্গের ন্যায় আপনার মধ্যে আপন সকল বাসনা সংহরণ করিয়া লয়েন, ইন্দ্রিয় প্রয়োজনীয় বিষয় হইতে ইন্দ্ৰিয় সকল ও সংহরণ করেন, তখনি তাঁহার প্রজ্ঞা লাভ হয়।

প্রিয়ম্বদা।

তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা, সপ্তদশকল্পচতুর্থ_খণ্ড।
সৌজন্যে- শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা স্কুল।

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s