এই জড় জগত হচ্ছে একটি জেলখানার মতো


দৃষ্টান্ত– ২

যদি আমরা স্বাভাবিক ও সুস্থ মাথায় একটু চিন্তা করি তাহলে দেখতে পাই যে, জেলখানায় যাদেরকে পাঠানো হয় তারা কেউ সমাজের ভালো মানুষ নয়। অবশ্যই ভদ্রলোক নয়। সুতরাং বোঝা যায় যে, জেলখানার এই সকল ব্যক্তি বা আসামীরা কখনই সৎ বা ভদ্রলোক নয়। এমন ব্যক্তিদের সেখানে পাঠানো হয়েছে, যারা হয় সমাজবিরোধী, চোর, ডাকাত, খুনী, ধর্ষক, প্রতারক, অবৈধ-অসৎ কর্মে রত নয়তো সরকারের তৈরী করা নিয়ম ভঙ্গকারী। তাদের এই ধরণের স্বভাবের জন্য কিংবা অনৈতিক কার্যকলাপের কারণে তাদের শাস্তি দেওয়ার জন্য এবং সেই সঙ্গে সঙ্গে সংশোধন করার জন্য জেলখানায় পাঠানো হয়। যেখানে আসামীর নিজস্ব কোন স্বতন্ত্রতা নেই, নিজস্ব কোন বিচার-বুদ্ধি প্রয়োগের কোন অধিকার নেই, কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নেই। শুধুমাত্র জেলখানায় সরকারের তৈরী করা কঠোর নিয়ম পালন করতে বাধ্য হয়। সেখানে আসামীরা চাইলেও  এবং শত চেষ্টা করলেও স্বাধীনভাবে নিজের মতো করে স্বাভাবিক অবস্থায় জীবন যাপন করতে পারে না। এই ভাবে সে তার স্বাভাবিক ইচ্ছার বিরুদ্ধে কর্ম করতে বাধ্য হয়। এই সময়ে জেলখানায় থাকাকালীন সেখানকার কঠোর নিয়মাবলীগুলি গ্রহণযোগ্য না হলেও, অসহ্য মনে হলেও সেই মতো দুর্বিসহ জীবন কাটাতে প্রস্তুত থাকতে হয়। এটাই জেলখানার স্বাভাবিক নিয়ম। এটাই সেখানকার স্বাভাবিক পরিবেশ। না চাইলেও তা ভোগ করতে হবে, সেখানকার কর্তৃপক্ষের দেওয়া ভীষণ দুঃখ-কষ্ট চরম ভাবে ভোগ করতে হয়। চাইলেও সেই জেলখানা থেকে বেড়িয়ে আসা যায় না।

a

এখন বুঝতে হবে যে, জেলখানায় শাস্তি ভোগকারী এই সকল ব্যক্তিরা তো জীবনের শুরু থেকেই জেলখানার শাস্তি ভোগ করতে থাকে না। জেলখানায় তো তার জন্মও হয় নি। তাহলে এই অবস্থা হল কি করে ? এই সকল বিপরীত অবস্থা বা পরিস্থিতি ভোগ করার একমাত্র কারণ হল হয় এখানকার সরকারের নির্ধারিত আইন ভঙ্গ করা হয়েছে, নয়তো অবৈধভাবে অসৎ কার্যকলাপে যুক্ত হয়েছে। সুতরাং অসৎ এবং অবৈধ কর্মের ফল তো ভোগ করতেই হবে। কেন না এটাই স্বাভাবিক রীতি, এটাই আমাদের কর্মের পরিণাম।

ঠিক তেমনই এই জড় জগতটাও একটি জেলখানার মতো। এই জড় জগতেও জেলখানার আসামীদের মতো জীবনযাপন করতে হয়। এখানে আমাদেরকে সর্বদা উৎকন্ঠা, উদ্বেগ ও হতাশাচ্ছন্ন জীবন কাটাতে হয়। এগুলি আমরা না চাইলেও এর থেকে আমরা মুক্ত হতে পারি না, কোন ভাবেই এর প্রতিরোধ করতে পারি না। জেলখানার মতো এই জড় জগতেও আমরা সর্বদা দুঃখময় জীবন ভোগ করছি। শত প্রচেষ্টা করেও আমরা আমাদের হৃদয়ে পোষণ করা আশা, কামনা-বাসনা পূর্ণ করতে পারি না এবং ভবিষ্যৎ জীবনের সুপ্ত বাসনা পূর্ণ করা তো দূরের কথা! প্রতিটি মূহুর্তে আমাদের হৃদয় বিষন্ন করা দুঃখ আমাদের দিকে ধেঁয়ে আসে। কিছুতেই তা প্রতিহত করতে পারি না।
16494809_303

এই সব কারণে নিজের মনের মতো করে আনন্দময় জীবনযাপন করতে পারি না। সর্বদাই বিপরীত এবং কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। একের পর এক কোন না কোন সমস্যা লেগেই থাকে। যা এক প্রকারে না চাওয়া পরিস্থিতি। সুতরাং সব সময়ই জীবনটা দুর্বিসহ হয়ে ওঠে। একেবারে ঠিক যেন জেলখানার মতো, জেলখানার আসামীর জীবনের মতো। আসামীদের যেমন সেখানে কোন স্বতন্ত্রতা নেই, বিচার-বিবেচনা করার অধিকার নেই, কোন প্রকারে কোন কিছুর সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নেই। শুধু মুখ বুজে সহ্য করতে হয়, তেমনই জেলখানা সদৃশ এই জড় জগতেও আমাদেরকে মুখ বুজে সব কিছু সহ্য করতে হয়, প্রকৃতির নিয়মকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও ভোগ করতে হয়। আমরা কোন কিছুই পরিবর্তন করতে পারি না। আর প্রতিরোধ করা তো দূরের কথা! অহরহ ক্লেশ-যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়। সুতরাং এই প্রকারে আমরাও জড় জগতরূপ জেলখানাতে বাস করছি, ঠিক আসামীদের মতো। আমাদের এই সব ভোগ করার কারণ আমাদের পোষণ করা কর্ম বাসনা, আর অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে জীবন অতিবাহিত করা। এছাড়া সর্বোপরি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আদেশকে ঊল্লঙ্ঘন করা। এই সকল কারণে আমরা প্রতিনিয়ত এই জড় জগতে দুঃখ-কষ্ট, ক্লেশ-যন্ত্রণা ভোগ করছি। সুতরাং একমাত্র বুদ্ধিমান মানুষেরাই উপলব্ধি করতে পারেন যে, এই জড় জগত সর্বদা দুঃখময় এবং তা জেলখানার মতোই সমান। সেই জন্য এখানে শান্তি নেই, সুখ নেই, আনন্দ নেই। আছে শুধু দুঃখ! দুঃখ! আর শুধুই দুঃখ!!!

prison-jpg3_-jpg-333333

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s