বেদ ও প্রাচীন ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য (নিয়মিত পর্ব-৭)


ওম তৎ সৎ
%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%a6-%e0%a6%93-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%90
পুরো বেদকে যদি খুব ভালো করে খতিয়ে দেখা হয়, তাহলে আমরা বেদে কি পাব? এই বিশাল গ্রন্থে এনারা এতো কথা কি বলছেন? তখন দেখা যাবে একটা জিনিষকেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলা হয়েছে, আর তা হচ্ছে চতুর্বর্গ পুরুষার্থ। এই চতুর্বর্গ বেদ থেকে এসে ধীরে ধীরে সমস্ত হিন্দুদের মধ্যে ছড়িয়ে গেছে। চতুর্বর্গ পুরুষার্থের পুরুষার্থ কথার অর্থ হচ্ছে জীবনের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য, প্রত্যেক মানুষের জীবনে চারটে উদ্দেশ্য- ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ। অর্থ হচ্ছে যাদের লক্ষ্য জীবনে প্রচুর অর্থোপার্জন করব, জমি, বাড়ি, গাড়ি বানাব। কাম হচ্ছে যারা জীবনে প্রচুর ভোগ করতে চাইছে, ভালো খাবো, বেড়াব, দামী দামী সাজ-পোষাক দিয়ে নিজেকে সাজাব, আর সুখে থাকব। ধর্ম হচ্ছে পূজো, পাঠ, সকাল বিকেল মন্দিরে যাওয়া, ভোরে গঙ্গাস্নান, সাধুদের সেবা করা, দান ধ্যান করা ইত্যাদি। মোক্ষ হচ্ছে একমাত্র আত্মোপলব্ধিই যাদের লক্ষ্য।
এই চারটেকে কেন্দ্র করে হিন্দুধর্মের বিভিন্ন শাখা একটা আরেকটা থেকে আলাদা হয়ে যায়।
বেদে কেন অর্থ আর কামের কথা বলা হয়েছে?বেদ চারটি পুরুষার্থের কথাই বলছে। আর পুরো বেদ, বিশেষ করে সংহিতাতে বলছে- প্রভু টাকা দাও, প্রভু সন্তান দাও। এর উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে ফিরে যেতে হবে, বিশেষ করে পুরানে যেখান দেখা যায় ব্রহ্মা প্রথম সৃষ্টি করলেন চার কুমারের- সনক, সনন্দন, সনাতন ও সনৎকুমারদের। ব্রহ্মার মানসপুত্র হওয়ার জন্য এই চার কুমারেরা ত্যাগ বৈরাগ্যেতে পূর্ণ ছিলেন। এঁরা জন্ম নিয়েই দেখছেন আমরা কোথায় সংসারে এসে ফেঁসে গেছি, সঙ্গে সঙ্গে কমণ্ডলু তুলে নিয়ে চার কুমার সংসার ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন। ব্রহ্মা পড়ে গেলেন মহা মুস্কিলে, এত কষ্ট করে চারটে ছেলেকে সৃষ্টি করলাম যাতে এরা সৃষ্টিটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, কিন্তু সংসারকে ছেড়ে দিয়ে এরা তপস্যাতে চলে গেল। এখন সৃষ্টি চলবে কি করে? ব্রহ্মা তখন আবার নতুন করে সৃষ্টি করলেন। এবার যাদের সৃষ্টি করলেন যদিও এরা আগের চার কুমারের মত প্রচণ্ড বৈরাগ্যবান ছিলেন না, কিন্তু প্রায় ঐ রকমই হলেন। এরা বিয়ে করেছেন কিন্তু সংসার কার্যে কোন ভাবেই সম্পর্ক না রাখাতে সমস্যা দেখা দিল। এই রকম ঋষিদের আরও বড় সমস্যা হয়ে গেল। ঋষিরা বিয়েথা করে গৃহস্থধর্ম পালন করতেন, কিন্তু কিছুতেই তাঁরা সন্তানের জনক হতে চাইতেন না। এই রকমই হয়, যাঁরাই খুব বেশি ধর্মপ্রাণ পুরুষ হন, তাঁদের মন কিছুতেই জাগতিক কোন ব্যাপেরে দিতে চাননা। দেখা যেত গুরু যদি পূর্ণ ত্যাগী হতেন তখন তাঁর শিষ্যরাও গুরুর মত হয়ে যেতেন, সাংসারিক ব্যাপারে সমস্ত আগ্রহ হারিয়ে কেমন একটা উদাস উদাস ভাবে থাকতেন। এইটাকে আটকানোর জন্য অর্থ আর কামের কথাও বলা হয়েছিল।
ক্রমশ:

Advertisements

2 comments on “বেদ ও প্রাচীন ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য (নিয়মিত পর্ব-৭)

  1. আমি উপরিউক্ত বিষয়টি নিয়ে মন্তব্যকরছি না আমি একটি অন্য প্রশ্ন জানতে চাইছি দয়া করে যদি বলে দেন । মূল ছয়টি রাগের মধ্যে যে পাঁচটি ভগবান শিব গেয়েছিলেন এবং বাকি একটী পার্বতী গেয়েছলেন সেগুলি কি কি? এবং রাগীনি মোট কতগুলি আছে? দয়া করে যদি উত্তর গুলি বলেন তা হলে খুব কৃতজ্ঞ থাকব। ধন্যবাদ-তন্ময় আদিত্য

    Like

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s