বেদ ও প্রাচীন ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য (নিয়মিত পর্ব- ৮)


ওম তৎ সৎ
%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%a6-%e0%a6%93-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%90
ভারতের এটা একটা জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল যে জাগতিক ব্যাপারে ভারতীয়রা কোন আগ্রহই অনুভব করত না, যার ফলে যারা আধ্যাত্মিক পথে অজ্ঞ ছিলেন তাদেরকে অলসতা আর নিষ্কর্মতা গ্রাস করে কুসংস্কারে আচ্ছন্ন করে দিত। গত দশ পনের বছর ধরে ভারতের লোকেরা বুঝতে পারল যে সুস্থ দেশের এইটাই ছিল জাতীয় রোগ, এখানে প্রেমের কবিতা লিখে দেবে কিন্তু কিছুতেই অর্থ আর কামের জন্য খাটবে না। আমাদের পূর্বপুরুষরা ছিলেন ঋষি, আমাদের শিক্ষা-দীক্ষা সব ঋষিদের কাছ থেকে পরস্পরা ভাবে এসেছে। ফলে কামিনী-কাঞ্চন ত্যাগ আমাদের কাছে স্বাভাবিক। কিন্তু অন্য দিকে মনের মধ্যে কামিনী-কাঞ্চনের বীজ রয়েছে, বীজ না থাকলেতো সে মুক্ত পুরুষ হয়ে যেত, আকাঙ্ক্ষা রয়েছে কিন্তু খাটবে না, কায়িক শ্রমে সব বিমুখ। কায়িক শ্রমবিমুখতার জন্য তাদেরকে জোর করে কাজে লাগাবার জন্য বলা হত- ওহে ভাই তুমি কি মোক্ষ লাভ করতে চাইছ? মোক্ষের কথা শুনেই বলবে- না না, ওসব মোক্ষ-টোক্ষতে আমার মোটেই বিশ্বাস নেই ওসব ফালতু কথা। তাহলে তুমি ধর্ম কর্ম কি করবে? ধর্ম! না না, শীতের মধ্যে ভোর চারটেয় গঙ্গাস্নান আমার দ্বারা হবে না। ঠিক আছে, তুমি যখন ধর্ম ও মোক্ষ কোনটাই পারবে না তখন তুমি অর্থ সাধন ও কাম সাধন কর। কিন্তু বেশির ভাগই অর্থ ও কাম সাধন না করে চাইত জীবন যেমন ভাবে চলছে চলতে থাকুক। ধর্ম ও মোক্ষ তো দূরের কথা এদের শরীর কাম সাধনেরও উপযুক্ত নয়, কারুর হজমের গোলমাল, কারুর ব্লাডপ্রেসার, কারুর হাঁপানি। তিন কিলো মিটার হাঁটতে দিলেই হাঁটু আর বুকে ব্যাথা হয়ে যাবে। খেতে দিলে বলবে আমার খাবারে তেল মশলা কম দেবেন এগুলো আমার সহ্য হয় না, এসিড হয়ে যায়। আবার এদিকে ব্যাঙ্ক-ব্যালেন্সও সেই রকম আহামরি কিছু নেই। পরিষ্কার ভাবেই বোঝা যাচ্ছে এদের শারীরিক ও মানসিক গঠন কোন সাধনের পক্ষেই যোগ্য নয়। ভারতে বেশির ভাগই এই শ্রেণীর লোক। সেইজন্য আমাদের বেদ বলেছিল- এই চারটের মধ্যে যে কোন একটাকে উদ্দেশ্য করে কিছু একটা কর। তাই বেদ কোন আজেবাজে কথা মোটেও বলেনি। মোক্ষ সাধন হচ্ছে সব কিছু ছেড়ে দেওয়া, নিজের শরীর যে এত প্রিয় সেই শরীরের মমত্বকেও ত্যাগ করতে হবে। এখন ভোরবেলা শীতকালে গঙ্গাস্নান করলেই সর্দি-কাশি হয়ে যাবে, এই হচ্ছে আমাদের শরীরের অবস্থা, তাই বেদ বলল-তুমি তো বাপু এসব পারবে না, তাই অর্থ আর কামের জন্য লেগে পড়।
ক্রমশঃ

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s