বেদ ও প্রাচীন ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য (নিয়মিত পর্ব-১০)


ওঁ তৎ সৎ
%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%a6-%e0%a6%93-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%90শাস্ত্রতো বলে দিল তোমার মনে যা নোংরা আছে এটাকে পরিষ্কার না করলে তোমার কিছুই হবে না। আমিও জানি আমার মনে নোংরা আছে। একটা বাচ্চা ছেলেও জানে যে তার খেলার দিকে মন বেশি, লেখাপড়াতে মন কিছুতেই দিতে পারছে না, আর এটাও সে জানে মন দিয়ে পড়লেই ভালো রেজাল্ট করতে পারবে। সে যদি বলে আমি মন খেলাতে দিতে চাইছি না, লেখাপড়াতেই মন দিতে চাইছি কিন্তু আমার মন খেলাতেই টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আমি জানি আমার দুর্বলতা কোথায়, কিন্তু আমি এই দুর্বলতাকে কাটাতে পারছি না। তখন আমরা তাকে কি পথ দেখাব? কোন পথ আমাদের কাছে নেই? আমরা কোন পথা দেখাতে পারিনা। কিন্তু বেদ বলবে- হ্যাঁ উপায় আছে, তুমি এই এই যজ্ঞ কর। আবার অনেকে বলছে আমরা কোন সন্তান নেই তাই একটা ব্যাথা বেদনায় মনটা খুব অস্থির হয়ে আছে, আমার যদি একটা সন্তান হয়ে যায় তাহলে আমার মনের অস্থিরতা কেটে গিয়ে মনের শান্তি হয়ে যাবে। বেদ তখন বলে দেবে- ঠিক আছে, তুমি পুত্রোষ্টি যজ্ঞ কর। এখন পুত্রষ্টি যজ্ঞ করার জন্য কয়েক মাস থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে, এই উপোশ কর, এই এই জিনিষ খাবে না, এই এই দেবতার নামে পূজা দাও, রোজ এত স্নান কর, ভূমিশয্যাতে শয়ন করে। এটাই তপস্যা হয়ে গেল। এইভাবে কিছু ব্রত পালনের পর যজ্ঞের জন্য মনটাকে তৈরী করে নিল। এখন যজ্ঞ করে সন্তান হবে কি হবে না আমাদের জানা নেই। আলোচনা করতে করতে এর উত্তরো আমরা পেয়ে যাব। অনেক দিন আগে বেদের এই প্রসঙ্গে এক ব্রহ্মচারী বলছিল ‘এগুলো সব ফালতু কথা, যজ্ঞ করলে কখন সন্তান হয় না কি? সব গাঁজাখুড়ির গপ্প’। স্বামী ভূতেশানন্দজী সেই সময় ব্রহ্মচারী ট্রেনিং সেন্টারে আচার্য ছিলেন। তিনি ছিলেন প্রচণ্ড রসিক। ব্রহ্মচারীর এই কথা শুনে তিনি তাঁর স্বভাব সুলভ সুরে মজা করে বললেন ‘একবার করে দেখই না’।
পুত্রেষ্টি যজ্ঞের প্রচুর দৃষ্টান্ত আমরা শাস্ত্রেই পাই, যেমন শ্রীরামচন্দ্রের জন্ম পুত্রেষ্টি যজ্ঞ থেকে হয়েছিল। দ্রৌপদী, ধৃষ্টদ্যুম্নের জন্মও যজ্ঞ থেকে হয়েছিল। দুর্যোধনের জন্ম যজ্ঞ থেকে। এত যে ঘটনার কথা শাস্ত্রে লিপিবদ্ধ হয়ে আছে, ইচ্ছে করলে এগুলোকে কেউ বিরাটাকারের ধাপ্পা বলতে পারেন। কিন্তু বেদের বিভিন্ন যজ্ঞের ধারণা পরবর্তি কালে এসে অন্য রূপ নিল। যজ্ঞের ধারণাটা আস্তে আস্তে পূজা পদ্ধতিতে এসে দাঁড়িয়ে গিয়েছে। কাশীতে বিশ্বেশ্বরের কাছে মানত করে ভূবনেশ্বরী দেবী নরেন্দ্রনাথকে পেলেন। এইটাই বেদের সময়ে পুত্রষ্টি যজ্ঞ নামে করা হত। শুধু পুত্রষ্টি যজ্ঞই নয়, যে কোন কিছুর জন্য, আমার বাড়িতে প্রায়ই চুরি হয়। যজ্ঞ কর তোমার বাড়িতে চুরি বন্ধ হয়ে যাবে, বাড়িতে সাপের উৎপাত হয়, সর্পযজ্ঞ করে দাও সাপের উপদ্রব কমে যাবে। স্বমীজী মজা করে বলছেন- তোমার যদি গরু হারিয়ে গিয়ে থাকে, সেটাও তুমি বেদে খুঁজে পাবে। বেদের সম্বন্ধে মানুষের এই রকমের ধারণাই ছিল। বেদের মন্ত্রগুলি এত শক্তিশালী যে শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস নিয়ে ঠিকঠিক ভাবে উচ্চারণ করলে সেই মন্ত্র কাজ করবেই করবে। বেদ বলে দিচ্ছে তুমি এই যজ্ঞ করলে তোমার এই ফল লাভ হবে, কোন কিছুই এই ফল লাভকে আটকাতে পারবে না।
ক্রমশঃ

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s