ঋগ্বেদ পরিচয় – (২) ঋগ্বেদের সঙ্গে অন্য বেদের সম্পর্ক


ঋগ্বেদের সঙ্গে অন্য বেদের সম্পর্ক

 Image result for rigveda book

ঋক্, সাম, যজু ও অথর্ব এই চারটি বেদের সঙ্গে পরস্পর ঘনিষ্ঠ সন্বন্ধ আছে। ঋকবেদের শাকল শাখাই সমধিক প্রচলিত। তাতে দশটি মন্ডল আছে এবং প্রতি মন্ডলে অনেকগুলি সূক্ত বা দেবতার উদ্দেশ্যে রচিত প্রশস্তি আছে। এই সূক্তগুলির উপাদান হল কয়েকটি মন্ত্র। এই মন্ত্রগুলিকে ঋক্ বলে। ঋক্ সমূহের সংগ্রহ গ্রন্থ বলেই ঋগবেদের এই নাম। কোনও সূক্তে ঋক্ সংখ্যা ৪।৫টি, কোনও সূক্তে ২৫।৩০টিও আছে। কোথাও আরও বেশী আছে।

ঋগবেদের দশটি মন্ডলে মোট ১০,৫৫২টি ঋক্ নিয়ে ১,০২৮টি সূক্ত আছে। এদের মধ্যে অষ্টম মন্ডলের অন্তর্ভূক্ত ৮০টি ঋক নিয়ে ১১টি সূক্তকে বালখিল্য সূক্ত বলা হয়। সায়ণাচার্য এগুলিকে ঋগবেদের অন্তর্ভূক্ত বলে স্বীকার করেন না। সেই জন্য তাদের ওপর ভাষ্য রচনা করেন নি। তাদের বাদ দিয়ে ঋগবেদে সূক্ত সংখ্যা দাঁড়ায় ১,০১৭এই এবং ঋক্ সংখ্যা দাঁড়ায় ১০,৪৭২টি। তাদের ধরে নিয়ে বিভিন্ন মন্ডলে সূক্ত এবং ঋক্ সংখ্যা এই রকম দাঁড়ায়ঃ

প্রথম মন্ডল           ১৯১ সূক্ত            ২,০০৬ ঋক্
দ্বিতীয় মন্ডল          ৪৩ সূক্ত               ৪২৯ ঋক্
তৃতীয় মন্ডল          ৬২ সূক্ত               ৬১৭ ঋক্
চতুর্থ মন্ডল           ৫৮ সূক্ত              ৫৮৯ ঋক্
পঞ্চম মন্ডল           ৮৭ সূক্ত               ৭২৭ ঋক্
ষষ্ট মন্ডল             ৭৫ সূক্ত               ৭৬৫ ঋক্
সপ্তম মন্ডল          ১০৪ সূক্ত               ৮৪১ ঋক্
অষ্টম মন্ডল         ১০৩ সূক্ত              ১৭১৬ ঋক্
নবম মন্ডল          ১১৪ সূক্ত              ১১০৮ ঋক্
দশম মন্ডল          ১৯১ সূক্ত               ১৭৫৪ ঋক্
মোটঃ              ১০২৮ সূক্ত             ১০৫৫২ ঋক্

ঋক্, সাম ও যজুর্বেদের মধ্যে খুব ঘনিষ্ঠ সন্বন্ধ বিদ্যমান। আগেই বলা হয়েছে যাঁর জন্য যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হচ্ছে তিনি যজমান এবং যাঁরা যজ্ঞ কার্যটি অনুষ্ঠান করছেন তাঁরা ঋত্বিক। এই ঋত্বিকদের মধ্যে শ্রেণী বিভাগ ছিল। যিনি প্রশস্তি পাঠ করতেন তিনি হোতা। তাঁর পাঠন মন্ত্রের সংকলন ঋক্ সংহিতা। যিনি গান গেয়ে স্তুতি করেন তিনি উদ্গাতা। তাঁর গেয় মন্ত্রের সংকলন হল সাম সংহিতা। যিনি আহুতি দেন তিনি অধ্বর্যু। সেই সময় যে মন্ত্র উচ্চারণ হত তার সংকলন হল যজুঃসংহিতা। মীমাংসার মত ঋক্ ও সাম ছাড়া সব যজুঃ (মীমাংসা সূত ২।১।৩৭)। সুতরাং ঋক্ মিত’ অর্থাৎ পদবদ্ধ, সাম সুরে বাঁধা সঙ্গীত রূপে গেয়, আর যজুঃ ‘অমিত’ অর্থাৎ তা ঋকের মত ছন্দোবদ্ধ নয়। যজুর্বেদ সংহিতার মন্ত্রগুলি গদ্যে রচিত। সুতরাং ঋক্, সাম ও যজুঃ সংহিতা পরস্পর ঘনিষ্ঠ সন্বন্ধে যুক্ত। সম্ভবতঃ একই যজ্ঞে তিন সংহিতার মন্ত্রই ব্যবহার হত।

এই তিন বেদের ঘনিষ্ঠতা সন্বন্ধে আরও কিছু প্রমাণ পাওয়া যায়। আমরা দেখি সামবেদের কৌথুন শাখার ১,৮১০টি ঋক্ আছে।  পুনরুক্তি বাদ দিলে মোট ঋক্ সংখ্যা ১,৬০৩। তাদের মধ্যে ১৯টি বাদে সবই ঋগবেদ হতে নেওয়া। তাদের সম্ভবত ঋগবেদের অন্য শাখা হতে সংগ্রহ করা হয়েছে। এ বিষয়ে নিশ্চিত হবার উপায় নেই। কারণ ঋগবেদের অনেক শাখা বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

অনুরূপভাবে যজুর্বেদ যদিও গদ্যে রচিত, তার মধ্যেও অনেক ঋগবেদের ঋকের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। বাজসনেয় সংহিতার অর্ধেক মন্ত্র ঋগবেদ হতে নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে অথর্ববেদের সঙ্গেও ঋগবেদের কিছু সংযোগ আছে। অথর্বেদে ছন্দোবদ্ধ মন্ত্রও আছে, গদ্যে রচিত মন্ত্রও আছে। ছন্দোবদ্ধ মন্ত্রকেও ঋক্ বলা হয়। অথর্ববেদের মোট মন্ত্র সংখ্যার এক পঞ্চমাংশ ঋগবেদ সংহিতা হতে নেওয়া।

এই সব দেখে মনে হয় ঋগবেদ চারটি বেদের মধ্যে প্রাচীনতম গ্রন্থ। এদের মধ্যে আবার ঘনিষ্ঠতার ভিত্তিতে বেদগুলিকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। ঋক্, সাম ও যজু নিয়ে পরস্পর ঘনিষ্ঠ সন্বন্ধে যুক্ত তিনটি বেদ এক দিকে এবং চতুর্থ বেদ অথর্ববেদ সংহিতা অন্য দিকে। অথর্ববেদের আবির্ভাব হয়েছিল মনে হয় এদের অনেক পরে। এই প্রতিপাদ্যের সপক্ষে কিছু প্রমাণ স্থাপন কর যায়।

প্রথমত লক্ষ্য করা যেতে পারে, অথর্ববেদের প্রকৃতি অন্য তিন বেদ হতে ভিন্ন। সেটা বুঝতে হলে অথর্ববেদের আলোচিত বিষয়ের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া প্রয়োজন।

অথর্ববেদের সূক্তগুলি কুড়িটি কান্ডে বিভক্ত। সপ্তম কান্ড পর্যন্ত নানা আভ্যুদয়িক কর্মের মন্ত্রই বেশী। এরা হল আয়ূষ্য অর্থাৎ দীর্ঘ আয়ূলাভের জন্য, ভৈষজ্য অর্থাৎ আরোগ্য লাভের জন্য, শান্তিক অর্থাৎ ভৌতিক উপদ্রবাদি দূর করবার জন্য, পৌষ্টিক অর্থাৎ শ্রীলাভের জন্য, সাংমনস্য অর্থাৎ মৈত্রী লাভের জন্য, আভিচারিক অর্থাৎ শত্রুনাশের জন্য, প্রায়শ্চিত্ত, এবং রাজকর্ম অর্থাৎ রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও উন্নতির জন্য। এই বিষয়গুলি গার্হস্থ্য ও সামাজিক বিষয় সংক্রান্ত। এ ধরনের মন্ত্রের ব্যবহার জন্য তিন বেদে সাধারণত পাওয়া যায় না। এই হল অথর্ববেদের প্রথম ভাগ।

অষ্টম হতে দ্বাদশ কান্ড অথর্ববেদের দ্বিতীয় ভাগ। এখানেও আভ্যুদয়িক কর্ম আছে। তবে অতিরিক্তভাবে দার্শনিক চিন্তা আছে। এই ধরনের সূক্তগুলি কোনও বৈদিক ক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা যায় না। ঋগবেদের দশম মন্ডলের নানা দার্শনিক তত্ত্ব সম্পর্কিত সূক্তের সহিত এদের তুলনা চলে।

ত্রয়োদশ হতে বিংশ কান্ড অথর্ববেদের তৃতীয় ভাগ। শেষের দুটি কান্ড হল পরিশিষ্ট। অন্য কান্ডগুলির প্রত্যেকটির বিষয়য়বস্তু নির্দিষ্ট। ত্রয়োদশ কান্ডে রোহিত নামে আদিত্যের প্রসঙ্গ আছে। চতুর্দশ কান্ডের বিষয় বিবাহ প্রকরণ। পঞ্চদশ কান্ডে ব্রাত্যের প্রশংসা আছে। ষোড়শ কান্ডে নানা শান্তি স্বস্ত্যয়নের মন্ত্র আছে। সপ্তদশ কান্ডে আছে আদিত্যের স্তুতি এবং অষ্টাদশ কান্ডের বিষয় হল পিতৃমেধ।

সুতরাং অথর্ব সংহিতার শ্রৌত কর্ম হতে স্মার্ত কর্মেরই প্রাধান্য। অবশ্য শ্রৌত কর্মের আদৌ উল্লেখ যে নেই তা নয়। তবে প্রধানত স্মার্তকর্ম প্রাধান্য পাওয়ায় তার প্রকৃতি অন্য তিন বেদ হতে পৃথক।

এককালে বেদ যে তিনটি ছিল এবং চতুর্থ বেদ অথর্বের আবির্ভাব হয়নি তার প্রমাণ নানাভাবে পাওয়া যায়। নেই প্রমাণগুলি এবার একে একে স্থাপন করা হবে।

ঋগবেদের দশম মন্ডল সম্ভবত সবার শেষে রচিত হয়েছিল। তার একটি প্রমাণ তার সূক্তগুলি একেবারে এই বেদের প্রান্তে স্থাপিত। আরও ভাল প্রমাণ হল এই মন্ডলে এমন অনেকগুলি সূক্ত আছে যাদের সঙ্গে শ্রৌত কর্মের কোনও সংযোগ নেই। এগুলিকে মনুষ্য জাতির প্রথম দার্শনিক চিন্তা বলা যায়। চিন্তা পরিণতি লাভ করলেই ব্যবহারিক যাগযজ্ঞাদি ক্রিয়া হতে বিশুদ্ধ চিন্তায় সরে আসে।

এই দশম মন্ডলে পুরুষ সূক্তে (১০।৯০) সৃষ্টির একটি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সেই প্রসঙ্গে বেদগুলির উৎপত্তির কথাও আছে। তার নবম মন্ত্রে পাইঃ ‘সেই সর্বহোম সম্বলিত যজ্ঞ ঋক্ ও সাম সমূহ উৎপাদিত হল, ছন্দ সকল আবির্ভূত হল, যজুঃ তা হতে জন্মগ্রহণ করল।’ অর্থাৎ সৃষ্টির এই ব্যাখ্যায় তিন বেদের উল্লেখ আছে, চতুর্থ অথর্ববেদের উল্লেখ নেই। তার তাৎপর্য হল এই যে, এই সূক্ত যখন রচিত হয় তখন অথর্ববেদের আবির্ভাব হয়নি।

তারপর প্রমাণ পাই ব্রাহ্মণের যুগেও অথর্ববেদের সন্ধান পাওয়া যায় না। তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণে বেদকে ‘ত্রয়ী বলা হয়েছে এবং এই ত্রয়ীর অন্তর্ভূক্ত বেদ হিসাবে কেবলমাত্র ঋক্, সাম ও যজুর্বেদের উল্লেখ করে হয়েছে। প্রাসঙ্গিক উক্তিটি এইঃ ‘যমৃষয়স্ত্রয়ীবিদ্যে বিদুঃ ঋচঃ সামানি যজুংষি ৷৷ (তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণ ১। ২।১।২৬)। সুতরাং এটা অনুমান করা অসঙ্গত হবে না এই ব্রাহ্মণ যখন রচিত হয় তখন অথর্ববেদের নাম জানা ছিল না।

তারপর আসে উপনিষদের যুগ। ছান্দোগ্য এবং বৃহদারণ্যক উপনিষদ প্রাচীনতম উপনিষদগুলির অন্যতম। এই দুটি উপনিষদই ব্রাহ্মণের অংশ। এদের আলোচনা হতে দেখা যায় যে এরা ‘ত্রয়ী’ কথাটির সঙ্গে পরিচিত এবং সেই সূত্রে যখন বেদের উল্লেখ করছে তখন অন্য তিনটি বেদের উল্লেখ আছে, কিন্তু অথর্ববেদের উল্লেখ নেই। আবার অন্য সূত্রে আলোচনায় চারটি বেদেরই উল্লেখ করা হয়েছে।

ছান্দোগ্য উপনিষদের প্রথম অধ্যায়ের চতুর্থ খন্ডে আছে মৃত্যু হতে ভয় পেয়ে দেবতারা ত্রয়ী বিদ্যায় প্রবেশ করল। (দেবা বৈ মৃত্যোর্বিভ্যতস্ত্রয়ীং বিদ্যাং প্রাবিশন্ ৷৷ ১ ৷৷ ৪ ৷৷ ২)। তারপর আছে তাঁরা ঋক্ সাম এবং যজুর স্বরের মধ্যে প্রবেশ করলেন। (তে তু বিত্ত্বোর্ধ্বা ঋচঃ সাম্নো যজুষঃ স্বরমের প্রাবিশন্ ৷৷১৷৷৪৷৷৩)। সুতরাং এখানে দেখি ঋক্ সাম ও যজুর্বেদকে ‘ত্রয়ী বিদ্যা’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।

অপর পক্ষে একই উপনিষদের সপ্তম অধ্যায়ে দেখি নারদ যখন সনৎকুমারের কাছে ব্রহ্মবিদ্যা শিক্ষা লাভের জন্য গেছেন তখন তিনি জিজ্ঞাসা করছেন, নারদ কি বিদ্যা আয়ত্ত করেছেন। তখন নারদ যে বিষয়গুলি পাঠ করেছেন তাদের যে তালিকা দিলেন তার মধ্যে ঋক্ সাম যজু এবং অথর্ব এই চারটি বেদের উল্লেখ আছে (৭।১।২)। সুতরাং ছান্দোগ্য উপনিষদ যখন রচিত হয় তখন যে অথর্বব্দের আবির্ভাব হয়েছে তার প্রমাণ পাওয়া যায়।

বৃহদারণ্যক উপনিষদেরও একই অবস্থা পাই। তার প্রথম অধ্যায়ের পঞ্চম ব্রাহ্মণে মাত্র প্রথম তিনটি বেদের উল্লেখ আছে। প্রাসঙ্গিক উক্তিটি এইঃ ত্রয়ো বেদা এত এব বাগের ঋগ্বেদো মনো যজুর্বেদঃ প্রাণঃ সামবেদঃ (১।৫।৫) অর্থাৎ তিনটি বেদের মধ্যে ঋগ্বেদ বাক্যের সঙ্গে তুলনীয়, সামবেদ প্রাণের সঙ্গে তুলনীয় এবং যজুর্বেদ মনের সঙ্গে তুলনীয়। এখানে কেবল তিনটি বেদেরই উল্লেখ পাই।

অথচ দেখি চতুর্থ অধ্যায়ে চারটি বেদেরই উল্লেখ আছে। সেখানে বলা হয়েছে ‘মহতো ভূতস্য নিঃশ্বসিতমেতদ্ যদৃগবেদো যজুর্বেদঃ সামবেদোহথর্বাঙ্গিরসঃ’ ৪।৫।১১)। তাৎপর্য হল ব্রহ্ম হতেই চারটি বেদের উৎপত্তি হয়েছে। এখানে স্পষ্টই প্রমাণ পাওয়া যায় বৃহদারণ্যক উপনিষদ যখন রচিত হয় তখন চারটি বেদের সহিত মানুষ পরিচিত ছিল।

সুতরাং এটা অনুমান করা যায় যে, এই দুই প্রাচীন উপনিষদ যখন রচিত হয় তখন তিন বেদের ধারণা একেবারে লুপ্ত হয়ে যায় নি। ‘ত্রয়ী’ বা ‘ত্রয়ো বেদাঃ’র ধারণা তখনও প্রচলিত ছিল। অবশ্য চতুর্থ বেদ অথর্বের তখন আবির্ভাব হয়েছে এবং তার সঙ্গেও মানুষের পরিচয় ছিল।

তারপর দেখি মুন্ডক উপনিষদে আর ‘ত্রয়ী’র উল্লেখ নেই; সোজাসুজি চারটি বেদকে বেদাঙ্গগুলিসহ অপরা বিদ্যার অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে (১।৫)। সুতরাং অনুমান করা যায় তখন ‘ত্রয়ী’র ধারণা লুপ্ত হয়েছে এবং চারটি বেদই সম্মানের আসন অধিষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রসঙ্গে লক্ষ্য করা যেতে পারে যে, এই উপনিষদখানি কোনও বেদের সংহিতা বা ব্রাহ্মণ বা আরণ্যকের সঙ্গে সংযুক্ত আকারে পাওয়া যায় না। তা ঐতিহ্য অনুসারে অথর্ববেদের অন্তর্ভূক্ত। সুতরাং বুঝা যায় এটি ছান্দোগ্য এবং বৃহদারণ্যক উপনিষদ হতে অপ্রাচীন এবং এটি যখন রচিত হয় তখন অথর্ববেদ রচিত হয়ে গেছে।

সুতরাং দেখা যায় অথর্ববেদের যে অনেক পথে আবির্ভাব হয়েছিল তার একাধিক প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রথমত ঋক্, সাম ও যজুর্বেদ যেমন অঙ্গাঙ্গীভাবে পরস্পরের সহিত সংসুক্ত, অথর্ববেদের সহিত এদের তেমন সংযোগ নেই। দ্বিতীয়ত অথর্ববেদের প্রকৃতি এই তিনটি বেদ হতে বিভিন্ন। প্রথম তিনটি বেদে শ্রৌত কর্ম প্রাধান্য পেয়েছে। চতুর্থ বেদের আভ্যুদয়িক কর্ম প্রাধান্য পেয়েছে। তৃতীয়ত দেখি ব্রাহ্মণের যুগে বেদকে ‘ত্রয়ী’ বলা হত অর্থাৎ তখনও চারটি বেদের কথা মানুষ জানত না। ‘ত্রয়ী’ কথাটি উপনিষদের যুগেও প্রচলিত ছিল। তারপর অথর্ববেদ রচিত হয়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করবার পর চারটি বেদের স্বীকৃতি উপনিষদ গুলিতে পাওয়া যায়। সুতরাং এমন অনুমান করা অসঙ্গত হবে না যে অথর্ববেদ তুলনায় অপ্রাচীন বেদ।

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s