বেদ ও প্রাচীন ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য (নিয়মিত পর্ব-১৫)


ওঁ তৎ সৎ
%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%a6-%e0%a6%93-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%90
বেদান্ত যতই শীর্ষে থাকুক, কিন্তু বেদের ব্যাপারে আজ পর্যন্ত আমরা যা কিছু পেয়েছি, আর এর যা কিছু ব্যাখ্যা আছে এর সবটাই হচ্ছে মীমাংসকদের অবদান। সেইজন্য বেদের ব্যাপারে মীমাংসা দর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বেদের বিভিন্ন মন্ত্রের, শব্দের অর্থ কিভাবে নেওয়া হবে, এই অর্থ কিভাবে কোথায় প্রয়োগ করা যাবে, এই শব্দ কেন ব্যবহার করা হয়েছে ইত্যাদি যে সব নিয়মগুলো আজকে আমরা পাচ্ছি এগুলোকে মীমাংসা দর্শন খুব যুক্তিসম্মত ও বিজ্ঞানসম্মত ভাবে তৈরী করে বেদকে তার নিজস্ব কাঠিণ্যতা আর ভীতি থেকে বার করে সবার উপযোগী করে দিয়েছে। সেইজন্য মীমাংসা খুব উচ্চকোটির দর্শন।
শ্রুতি- মীমাংসকরা শ্রুতিকে ব্যাখ্যা করছে- শ্রুয়তে ধর্ম অনয়া ইতি। যে ধর্মোপদেশ গুরুমুখে শ্রবণ করা হয় তাকে শ্রুতি বলছে। যার তার কাছ থেকে যে কোন কিছু শুনে নিলেই শ্রুতি হবে না। গুরুর কাছ থেকে শোনা চাই আর যেটা শুনছে সেটা ধর্মের কথা হওয়া চাই, তবেই সেটা শ্রুতি হবে।
আমনায়- আমনায়তে উপদিষ্যতে অনেন ইতি। যে জিনিষ আদেশ দিচ্ছে। বেদ হচ্ছে- সে আদেশ দিচ্ছে, এইটা কর, এইভাবে কর, এখানে আদেশ দেওয়া হচ্ছে। বেদ আদেশ দিচ্ছে বলে বেদের আরেকটি নাম হচ্ছে আমনায়। বেদ আর শাস্ত্রের এইখানেই পার্থক্য, শাস্ত্র আসছে শাস্‌ ধাতু থেকে, যা আমাদের কিছু আচরণ বিধি ঠিক করে দিচ্ছে, আমাদের আচার আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করছে। কিন্তু বেদ আমাদের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করছে না, আমাদের জীবনকে উচ্চ থেকে উচ্চতর অবস্থাতে নিয়ে যায়। তাই শাস্ত্রের স্থান বেদের থেকে একটু নীচে।
নিগম- নিগম হচ্ছে, যে ঐতিহ্য অনাদিকাল থেকে পরম্পরা ভাবে চলে আসছে। নিগম আর শ্রুতি প্রায় একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। গুরুর কাছে ধর্মের যা কিছু শোনা হচ্ছে সেটাকে শ্রুতি বলা হয় আর পরম্পরা ভাবে যে আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য প্রবাহমান কাল থেকে চলে আসছে তাকেই নিগম বলা হচ্ছে।
ত্রয়ী- ঋক্‌, সাম ও যজুর্বেদ এই তিনটেকে বেদ বলা হয়। আসলে বেদকে তিন ভাবে দেখা হয়- প্রথম হচ্ছে বেদকে পদ্য রূপে দেখা হয়। দ্বিতীয় হচ্ছে গদ্য রূপে আর তৃতীয় হচ্ছে সঙ্গীত রূপে, যেটাকে গান করা যায়। যে কোন সাহিত্য যখন রচিত হয় তখন এই তিনটির যে কোন একটি রূপে রচিত হয়ে থাকে-পদ্য, গদ্য ও গেয়। পদ্য আবার দুই রকমের হয়- একটা হচ্ছে পাঠমুক্ত আরেকটা হচ্ছে গেয়মুক্ত। পাঠমুক্ত হচ্ছে- কিছু কিছু কবিতা আবৃত্তি করতে খুব ভালো লাগে কিন্তু সেটাকে গান করা যায় না। আবার কিছু কিছু কবিতা আছে আবৃত্তি করতেও ভালো লাগে আবার সুরের ব্যবহার করে খুব সুন্দর গান করাও যায়। এই তিনটে রূপই আমরা বেদে পাই যেমন- ঋকবেদ হচ্ছে পাঠমুক্ত, মানে শ্লোক রূপে। যজুর্বেদ হচ্ছে বেশিটাই গদ্যরূপে আর সামবেদ হচ্ছে গেয়মুক্ত, মানে গান করা যায়। এই তিনটে বৈশিষ্ট্যের জন্য বেদের আরেক নাম ত্রয়ী। আর অথর্ববেদ হচ্ছে পদ্য ও গদ্যের সংমিশ্রণ।
ক্রমশঃ

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s