যদি গৌর না হইত, তবে কি হইত !


আজ থেকে ৫৩২ বছর পূর্বে বাংলা ৮৯১ সনে, ইংরেজি ১৪৮৫ (মতান্তরে ১৪৮৬) খ্রিস্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি দোল পূর্ণিমার সন্ধ্যাবেলায় চন্দ্রগ্রহণ হওয়ায় সকল নবদ্বীপবাসী যখন হরিধ্বনি করতে করতে গঙ্গাস্নানে যাচ্ছে এমনই এক পবিত্র ক্ষণে রাত্রির প্রথম প্রহরে সিংহরাশিতে সিংহলগ্নে এক পবিত্র সন্ধ্যায় ভারতের নবদ্বীপে জন্মেছিলেন বাংলার রেঁনেসা পুরুষ শ্রীচৈতন্যদেব। তাঁর পিতার নাম জগন্নাথ মিশ্র এবং মায়ের নাম শচীদেবী। শ্রীচৈতন্যদেব ছিলেন বাংলায় প্রথম সার্থক আধুনিক গণতন্ত্রের উদ্বোধক। বিদেশী সাম্রাজ্যবাদী তুর্কি শাসন-শোষণ এবং জাত-পাত সহ সকল প্রকার সামাজিক, রাজনৈতি, অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে এক জ্বাজল্যমান দ্রোহমূর্তি এবং যুগপৎ ছিলেন মানবপ্রেমের এক অমৃতময় পুরুষ। তাইতো বিংশ শতাব্দীর ছন্দের যাদুকর সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বলেছেন-
বাঙালির হিয়া
অমিয় মথিয়া
নিমাই ধরেছে কায়া।

অর্থাৎ বাঙালি হৃদয়ের সকল প্রকার অমৃতময় সত্ত্বাকে আত্মসাৎ করেই শ্রীচৈতন্যের মহাপ্রকাশ। গণতন্ত্রের একটি বিশিষ্ট দিক হল ব্যাপক গণসংযোগ এবং তার ফলে সৃষ্ট সামাজিক সচলতা (social mobility) এর মধ্য দিয়েই রচিত হয় সমাজের উচ্চবর্গের সাথে নিম্নবর্গের যোগাযোগ। অর্থাৎ সমাজে পশ্চাৎপদ শ্রেণি তাদের সাথে সমাজে যারা প্রতিষ্ঠিত মান্য তাদের এক গণসংযোগ। শ্রীচৈতন্যদেবের (১৫০৯-১০ খ্রিস্টাব্দে) নবদ্বীপ পরিভ্রমণ লীলার মধ্যে আমরা এর সার্থক প্রয়াস দেখি। নগর পরিভ্রমণের সময়ে তাঁতি (যে কিনা মুসলমানও হতে পারে), গোয়ালা, গোপ, গন্ধবণিক, মালাকার, পান ব্যবসায়ী, শাঁখারীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সাথে তাঁর সহজাত স্বাভাবিক সম্পর্ক আমাদের বিমুগ্ধ করে তোলে। শ্রীচৈতন্যভাগবতের দশম অধ্যায়ের অত্যন্ত সুন্দর করে এ বিষয়ে বর্ণনা করা আছে। আমরা সেখান থেকে গোয়ালা গোপদের সাথে কথোপকথোন উল্লেখ করছি-

বসিলেন মহাপ্রভু গোপের দুয়ারে।
ব্রহ্মণ সম্বন্ধে প্রভু পরিহাস করে।।
প্রভু বোলে আরে বেটা দধি দুগ্ধ আন।
আজি তোর ঘরের লইব মহাদান।।
প্রভু সঙ্গে গোপগণ করে পরিহাস।
মামা মামা বলি সবে করয়ে সম্ভাষ।।
কেহ বলে চল মামা ভাত খাই গিয়া।
কোন গোপ স্কন্ধে করি যায় ঘরে লৈয়া।।
কেহ বলে আমার ঘরের যত ভাত।
পূর্বে যে খাইলে মনে নাহিক তোমাত।।

বৃন্দাবন দাসের লেখা উদ্ধৃত শ্লোকগুলোতে আমরা দেখি শ্রীচৈতন্যদেব গোয়ালা গোপদের গৃহে শুধুমাত্র যেতেন না; তাদের সাথে অনেক ঠাট্টা পরিহাসও এবং তাদের গৃহে আহারও করতেন। মানুষের ভালবাসার আনন্দ আস্বাদ করতে চেয়েছেন বলেই তিনি আমাদের হৃদয়ের এখনো এতো কাছাকাছি। তিনি নিজেই ঘোষণা করেছেন তিনি আমাদের কাছে, ‘প্রেম-ঋণে বদ্ধ আমি শুধিতে না পারি।’ এ প্রেমের ঋণ শোধ করার জন্যই তিনি তাঁর দেহকে সমর্পন করে দিয়েছেন সাধারণ জনদের জন্যে। শ্রীকৃষ্ণদাস কবিরাজের ভাষায়-

প্রভু কহে এই দেহ তোমা-সবাকার।
যে তুমি কহ সেই সম্মত আমার।।
(চৈতন্যচরিতামৃত : মধ্যলীলা, দশম পরিচ্ছেদ)

শ্রীচৈতন্যের আধ্যাত্মিক গণতন্ত্রে ছিল না কোন নারী-পুরুষ, জাতি-বর্ণ এবং ধর্মের ভেদাভেদ সকলেই আশ্রয় দিয়ে এক অক্ষয় বটবৃক্ষ হয়েছিলেন তিনি। বৃন্দাবন দাসের ভাষায়-

নীচ জাতি নহে কৃষ্ণ ভজনে অযোগ্য।
সৎকুল বিপ্র নহে ভজনের যোগ্য।।
যেই ভজে সেই বড়, অভক্ত হীন ছাড়।
কৃষ্ণভজনে নাহি জাতিকুলাদি বিচার।।

দক্ষিণ ভারত ভ্রমণের সময়ে দূরাচারি ভট্টথারি সম্প্রদায় সহ অসংখ্য সম্প্রদায়ের মানুষকে শ্রীচৈতন্যদেব আপন করে নিয়েছেন এবং এ সময় কালেই দক্ষিণ ভারতের অনেক বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ভিক্ষুসহ সাধারণ মানুষেরা তাঁর কাছে শ্রীকৃষ্ণমন্ত্রের দীক্ষা গ্রহণ করে। জন্মসূত্রে ইসলাম ধর্মালম্বী হরিদাস ঠাকুরের কথাতো আমরা সকলেই জানি। তিনি ছিলেন তাঁর অন্যতম প্রধান পর্ষদ। শ্রীচৈতন্যদেব স্বয়ং ভক্ত হরিদাসের দেহকে সমাধিস’ করেন পুরীর সমুদ্রতীরে এবং বাজারে ভিক্ষা করে শ্রাদ্ধের আয়োজন করেন। হরিদাস ঠাকুর ছাড়াও অসংখ্য তুর্কি-পাঠানকেও তিনি শ্রীকৃষ্ণমন্ত্রে দীক্ষিত করেন। যাদের মধ্যে বিজলী খাঁ অন্যতম। অর্থাৎ শ্রীচৈতন্যেদেবের ভালবাসার দ্বার ছিলো সবার জন্য উন্মুক্ত-অবারিত। অকৃপণভাবে তিনি প্রেম, ভক্তি, ভালবাসা বিলিয়ে গিয়েছেন এ ভূখণ্ডে। এ ভূখণ্ডের মাটি পবিত্র হয়ে উঠেছে শ্রীচৈতন্যের পদস্পর্শে। শ্রীচৈতন্যদেব আমাদের শিখিয়েছেন সকল জ্ঞান এবং শিক্ষা প্রথমে নিজেকে আচরণ করেই পরে সবার মাঝে প্রচার করতে হয় ; তবেই মানুষ তা গ্রহণ করে। নিচে আচরণ না করে যে শিক্ষা সে শিক্ষা কেউ গ্রহণ করে না।

আপনি আচরি ভক্তি শিখাইমু সবারে।।
আপনি না কৈলে ধর্ম্ম শিখান না যায়।
এই ত সিদ্ধান্ত গীতা-ভাগবতে গায়।। (চৈতন্যচরিতামৃত : আদি, তৃতীয় পরিচ্ছেদ)

এ ভারতবর্ষের পবিত্র ভূমিতে জাত হয়ে আমাদের সবারই লক্ষ হওয়া উচিত। প্রথমে যেন আমরা সবাই যার যার মনুষ্য জন্ম সার্থক করতে পারি। এর পরেই পর উপকার এই শিক্ষাটা বর্তমান যুগের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। নিজ জন্ম সার্থক করার পরেই পরিবার এবং এর পরে পর্যায়ক্রমে বৃহৎপরিবার অর্থাৎ জাতির সেবার মাধ্যমে প্রত্যেকেরই জীবন সার্থক করতে হবে- এই মহৎ শিক্ষাটিও শ্রীচৈতন্যদেবের।

ভারতভূমিতে হৈল মনুষ্য-জন্ম যার।
জন্ম সার্থক করি পর-উপকার।। (চৈতন্যচরিতামৃত : আদি, নবম পরিচ্ছেদ)

অখিল ধর্মের মূল বেদই সনাতন ধর্মের মূল এবং বেদের উপরেই সনাতন ধর্ম ও সভ্যতা সংস’াপিত। তাই সকল প্রকার শাস্ত্রীয় সিদ্ধান্ত নির্ণয়ে বেদবাণীই যে একমাত্র প্রমাণ- এ শিক্ষা শ্রীচৈতন্যদেবই আমাদের দিয়েছেন। এবং যুগপৎ দেখিয়েছেন ওঙ্কার (ওঁ) এ মহাবাক্যই ঈশ্বরের মূর্তিস্বরূপ। সেই ওঙ্কার হতেই সকল বৈদিক জ্ঞান এবং জগতের উৎপত্তি।

প্রমাণের মধ্যে শ্রুতি প্রমাণ প্রধান।
শ্রুতি যেই অর্থ কহে সেই সে প্রমাণ।।
প্রণব সে মহাবাক্য ঈশ্বরের মূর্ত্তি।
প্রণব হইতে সর্ব্ববেদ জগৎ উৎপত্তি।। (চৈতন্যচরিতামৃত : মধ্য, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ)

ব্রাহ্মণ-শূদ্র নির্বেশেষে সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে তিনি গুরু হবার, আচার্য্য হবার, তত্ত্ববেত্তা হবার অধিকার দিয়েছেন-

কিবা বিপ্র কিবা ন্যাসী শূদ্র কেনে নয়।
যেই কৃষ্ণতত্ত্ববেত্তা সেই গুরু হয়।। (চৈতন্যচরিতামৃত : মধ্য, অষ্টম পরিচ্ছেদ)
প্রভু কহে ঈশ্বর হয় পরম স্বতন্ত্র।
ঈশ্বরের কৃপা নহে বেদপরতন্ত্র।।
ঈশ্বরের কৃপা জাতিকুলাদি না মানে।
বিদুরের ঘরে কৃষ্ণ করিলা ভোজনে।। (চৈতন্যচরিতামৃত : মধ্য, দশম পরিচ্ছেদ)

উড়িষ্যাতে জগন্নাথদেবের রথযাত্রার পূর্বে শ্রীচৈতন্যদেব তাঁর সকল শিষ্যদের নিয়ে গুণ্ডিচামন্দির পরিষ্কার এবং ধৌত করতেন। একবার মন্দির পরিষ্কারের শেষে তার এক বাঙালি ভক্ত এক ঘটি জল নিয়ে তাঁর চরণে দিয়ে তা চরণামৃত বলে পান করে ফেলে। তাতে শ্রীচৈতন্যদেব প্রচণ্ড দুঃখ এবং রুষ্ট হয়ে যান এবং চরণামৃত পান করতে নিষেধ করেন স্বরূপ গোঁসাইর কাছে এই কর্মের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

ঈশ্বর-মন্দিরে মোর পদ ধোয়াইল।
সেই জল লইয়া আপনে পান কৈল।।
এই অপরাধে মোর কাঁহা হবে গতি।
তোমার নৌড়িয়া করে এতেক ফৈজতি।। (চৈতন্যচরিতামৃত : মধ্য, দ্বাদশ পরিচ্ছেদ)

শ্রীচৈতন্যদেবের সকল শিক্ষার মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা হলো- মানুষকে অতিস্তুতি করে যেন ঈশ্বর বানিয়ে না ফেলা হয়। তিনি ছিলেন এর ঘোরতর বিরোধী। আজকে বাংলায় যে গত দেড়শো বছরে আমরা অবতারের হাইব্রীড ফসল দিয়ে ভরে ফেলেছি। তা হয়তো শ্রীচৈতন্যদেব আগেই বুঝতে পেরেছেন তার দূরদৃষ্টি দিয়ে। তাইতো তিনি বলেছেন-

প্রভু কহে বিষ্ণু বিষ্ণু ইহা না কহিহ।
জীবধামে কৃষ্ণজ্ঞান কভু না করিহ।।
জীব ঈশ্বর তত্ত্ব কভু নহে সম।
জলদগ্নি রাশি যৈছে স্ফুলিঙ্গের কণ।।
যেই মূঢ় কহে জীব ঈশ্বর হয় সম।
সেই ত পাষণ্ডী হয় দণ্ডে তবে যম।। (চৈতন্যচরিতামৃত : মধ্য, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ)

এভাবে সবার জন্যে যিনি নিজেকে অকৃপণভাবে বিলিয়ে দিয়েছেন, তাঁর পিছনে লোক না ছুটে পারে? না ভালবেসে পারে? হোসেন শাহ্‌ (১৪৯৪-১৫১৯) ছিলেন চৈতন্য সমসাময়িক বাংলার বিদেশী তুর্কি শাসনকর্তা। তার একটি উক্তিতেই আমরা এ কথার যথার্থ উত্তর পাই, তিনি বলেছেন- বিনা দানে, প্রলোভনে সকল লোক যাঁর পিছনে চলে সেই প্রকৃত গোঁসাঞি (সাধু)।

বিনা দানে এত লোক যার পাছে ধায়।
সেই ত গোসাঞি ইহা জানিহ নিশ্চয়।। (চৈতন্যচরিতামৃত : মধ্য, প্রথম পরিচ্ছেদ)

শ্রীচৈতন্যদেবই আমাদের দেখিয়ে দিলেন, কোন রকমের অস্ত্র-শস্ত্রের ব্যবহার না করেও শুধুমাত্র মানুষের ভালবাসাকে অবলম্বন করে যে বিপ্লব করা যায়। তাই তো তিনি ‘আধ্যাত্মিক গণতন্ত্রে’র পুরোধা পুরুষ। তাঁর রচিত গণতন্ত্রের ভিত্তিমূলে ছিল না কোন জাত-পাত, ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য। সবার সেখানে একটিই পরিচয় ‘কৃষ্ণের নিত্যদাস’। একটি মন্ত্রই সেখানে প্রতিনিয়ত ধ্বনিত হয়, তা হল ‘প্রেম’ ; মানবপ্রেম।

বাঙালির ভাষা, সাহিত্য এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশের প্রাণপুরুষ শ্রীচৈতন্যদেব। তাঁর আগমনের সাথে সাথেই বাংলা সাহিত্য ফুলে-ফলে, পত্র-পল্লবে বিভিন্ন রঙে বিকশিত হয়ে উঠে। বাংলা সাহিত্যের জীবনীগ্রনে’র প্রচলনও তাঁর মহাজীবনের উপরে তাঁর বিভিন্ন পার্ষদ এবং বৈষ্ণব মহাজনদের রচনার অমূল্য ভিত্তিসৌধের উপরেই গড়ে ওঠে। বৈষ্ণব মহাজনেরা শ্রীচৈতন্যদেবের জীবন এবং দর্শনের উপরে অসংখ্য গ্রন’ লিখে বাংলা ভাষাকে বহুবছরের বন্ধ্যাত্ব থেকে মুক্তিদান করেন। বাংলাসাহিত্যে শ্রীচৈতন্যদেবের অবদান বিষয়ে প্রথাবিরোধী লেখক হুমায়ুন আজাদের একটি উক্তি খুবই প্রাসঙ্গিক-

“চৈতন্যদেব এক অক্ষরও কবিতা লেখেন নি, তবু তিনি বাঙলা সাহিত্যের ইতিহাসে অধিকার ক’রে আছেন বড়ো স’ান। বাঙলা সাহিত্যে তাঁর প্রভাব অসীম। তিনি মধ্যযুগের বাঙলাদেশে জাগিয়েছিলেন বিশাল আলোড়ন, তাতে অনেকখানি বদলে গিয়েছিলো বাঙলার সমাজ ও চিন্তা ও আবেগ। তিনি সাহিত্যে যে- আলোড়ন জাগান, তা তো তুলনাহীন। মধ্যযুগের সমাজ ছিলো সংস্কারের নিষ্ঠুর দেয়ালে আবদ্ধ, চৈতন্যদেব তার মধ্যে আনেন আকাশের মুক্ত বাতাস। তিনি প্রচার করেন ভালোবাসার ধর্ম, যাকে বলা হয় বৈষ্ণব ধর্ম এর ফলে মধ্যযুগের মানুষ লাভ করে কিছুটা মানুষের মর্যাদা; এবং মধ্যযুগের কবি বলেন, ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।’ চৈতন্যদেবের আবির্ভাবে বাঙলার জীবনে, সমাজে এসেছিলো জাগরণ। এর ফলেই বাঙলা সাহিত্য ফুলেফুলে ভ’রে ওঠে।”
(হুমায়ুন আজাদ, লাল নীল দীপাবলি বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী, ঢাকা: ১৯৯৬, পৃ.-৫৮)

শ্রীচৈতন্যদেবের অন্যতম পার্ষদ এবং মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের খ্যাতিমান পদাবলিকার শ্রীবাসুদেব ঘোষ অসাধারণ পদলালিত্যে শ্রীচৈতন্যদেবের মাহাত্ম্যকথা বর্ণনা করেছেন; তাই শ্রীবাসুদেব ঘোষের ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের পাদপদ্মে জানাই অনন্ত শ্রদ্ধা-

(যদি) গৌর না হইত, তবে কি হইত,
কেমনে ধরিতাম দে’।
রাধার মহিমা, প্রেম-রসসীমা,
জগতে জানাত কে?
মধুর বৃন্দা- বিপিন-মাধুরী,
প্রবেশ চাতুরী সার।
বরজ-যুবতী- ভাবের ভকতি
শকতি হইত কা’র?
গাও গাও পুনঃ, গৌরাঙ্গের গুণ,
সরল করিয়া মন।
এ ভব-সাগরে, এমন দয়াল,
না দেখিয়ে একজন।।
(আমি) গৌরাঙ্গ বলিয়া, না গেনু গলিয়া,
কেমনে ধরিনু দে’।
বাসুর হিয়া, পাষাণ দিয়া,
(বিধি) কেমনে গড়িয়াছে।।

সবাইকে দোলপূর্ণিমা এবং গৌরপূর্ণিমার শুভেচ্ছা!

লেখক: কুশল বরণ চক্রবর্ত্তী
সহকারী অধ্যাপক, সংস্কৃত বিভাগ,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং
সভাপতি, সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s