বেদ ও প্রাচীন ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য (নিয়মিত পর্ব-২০)


ওঁ তৎ সৎ

বেদের মন্ত্রগুলো হচ্ছে সেই দিব্যশক্তির স্তুতি, এখানে যেমন বাকদেবীর স্তুতি করা হচ্ছে। দ্বিতীয় হচ্ছে এই মন্ত্রগুলো ঋষিরা অনুভূতির মাধ্যমে পেয়েছিলেন। পঁচিশ তিরিশ বছর সাধনার পর সাধনা করে করে তাঁরা যখন গভীর ধ্যানে মগ্ন হয়ে যেতেন সেই অবস্থায় এই মন্ত্রগুলো তাঁদের মনে উদ্ভাসিত হত। তারপর তিনি তাঁর তাঁর নিজের শিষ্যদের বলতেন- হে তাত, আমি সেই সত্যকে জেনেছি, এই মন্ত্রটা পেয়েছি। এই বলে তিনি সেই মন্ত্রটা তাদেরকে শুনিয়ে বলতেন- এটা তোরা মুখস্ত করে তোদের হৃদয়ে ধ্যান করবি। আমি নদীর ধারে বসে আছি, একটা পাখি গাছে বসে গান করছে সেটা দেখে আমার মধ্যে একটা কল্পনা এলো আর এই কল্পনা থেকে একটা কবিতা লিখলাম, বেদ এই ভাবে কখনই রচিত হয়নি। যারা মনে করে বেদ কয়েকজন কবির মনের কল্পনার প্রতিচ্ছবি, এদের জন্য বেদ নয়। ঋষিরা যদি কিছু রচনা করতে চাইতেন তাহলে তিনি এর থেকে অনেক বিরাট কিছু রচনা করতে পারতেন। বিখ্যাত সাহিত্যকদের মত বইয়ের পর বই তারা লিখতে যেতেন না। আমরাও যদি সারাটা জীবন সাধনা করে যাই তাহলে হয়তো এই রকম দুই একটা মন্ত্র পেতে পারি। কিন্তু ঋষিরা আরো অনেক বেশি পেতেন। কিন্তু ঋষিরা কখনই কোন অবস্থাতেই নিজের খুশি মত কবিতা লিখতে যেতেন না, ঋষিরা বরং তার থেকে ধ্যানের গভীরে গিয়ে বসে থাকতে চাইতেন। বসেই আছেন, কত ঋষি কিছু না পেয়েই হয়তো শরীর ছেড়ে দিয়েছিলেন। যিনি পেতেন তিনি আবার তাঁর শিষ্যকে দিয়ে যেতেন, যেমন এই ঋষি স্বামীজীকে দিয়ে গেলেন। এইভাবেই গুরু পরম্পরা চলে আসছে। এইটাই হচ্ছে ভারতের আধ্যাত্মিক সাধনার মূল ভিক্তি। বই পড়ে আধ্যাত্মিক বিদ্যা উপার্জন করা যায় না। আমরা যে এখানে বেদের আলোচনা করছি এতে বেদের আলোচনা করছি এতে বেদের শব্দগুলিকে বাক্যরূপে দেওয়া যাবে মাত্র, বেদের প্রকৃত তাৎপর্য্যকে দর্শন করান যাবে না। বেদের এই ঐতিহ্য সম্প্রসারণ একমাত্র গুরু থেকে শিষ্যের মাধ্যমেই সম্ভব। সুফি সম্প্রদায়ের মুসলমানরাও এইটাকে মানে, এনারাও বলেন বই পড়ে সুফির ঐতিহ্য লাভ করা যায় না।

ক্রমশঃ

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s