বেদ ও প্রাচীন ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য (নিয়মিত পর্ব-২১) 


ওঁ তৎ সৎ

ইংরাজীতে যখন Veda লেখা হয় তখন তার একটা বিশেষ অর্থ হবে আবার যখন The Vedas লেখা হবে তখন তার আবার অন্য অর্থ হবে। যখন Veda বলা হয় তখন তার অর্থ হচ্ছে Common noun, যেটা আমরা আগে আলোচনা করেছি আবার যখন The Vedas বলা হয় তখন চারটে বেদকে উল্লেখ করা হচ্ছে- ঋক, সাম, যজু ও অথর্ব। প্রাচীন কাল থেকে দুটো মত চলে আসছে- একটা মতে বলছে যা কিছু আছে সব বেদেই আছে, তোমার গরু হারিয়ে গেছে, সেই গরুকে বেদে খুঁজবে, তার মানে যত ধরণের জ্ঞান হতে পারে সবই হচ্ছে বেদ। এইটাই হচ্ছে ভারতের প্রাচীন হিন্দুদের মত। যার ফলে যে কোন বিদ্যার নামের সাথে বেদকে জুড়ে দেওয়া হত যেমন- ধনুর্ব্বেদ, আয়ুর্বেদ ইত্যাদি। ইদানিং কালে যেমন বিজ্ঞান শব্দকে জুড়ে দেওয়া হয়- environmental science, political science, management science etc. বেদকে যখন এইভাবে ব্যবহার করা হয় তখন common noun হিসাবে বলা হচ্ছে। যাকে এখন বিজ্ঞান বলে সম্বোধিত করা হচ্ছে তাকেই আমরা আগে বেদ বলতাম।
আমরা দেখেছি বিদ্‌ ধাতু থেকে বেদ শব্দের জন্ম হয়েছে, বিদ্‌ মানে যে কোন কিছুকে জানা। এখন যেকোন জিনিষকে জানার ব্যাপারকে বেদ কেন বলা হচ্ছে? সব ধর্মেই ঈশ্বর হচ্ছেন অনন্ত। পৃথিবীতে যতগুলি ধর্মীয় দর্শন আছে তার মধ্যে একটি দর্শন ঈশ্বরকে মানে না, সেই দর্শনটির নাম হল পূর্বমীমাংসা। ঈশ্বরকে না মানলেও এরা দেবতাদের মানে। ইংরাজীতে বানানের খুব সুন্দর ভাবে দেবতা ও ভগবানের মধ্যে পার্থক্য করা হয়। দেবতাদের ক্ষেত্রে গড্‌ শব্দে ছোট অক্ষরের ‘জী’ ব্যবহার করা হয় আর ঈশ্বরের ক্ষেত্রে বড় অক্ষরের ‘জী’ লেখা হয়- (god-দেবতা আর God- ঈশ্বর)। দেবতারা হচ্ছেন শান্ত এঁদের ক্ষমতা ও সীমিত। দেবতাদেরও পতন হয়, কিছুদিন দেবতা পদে অধিষ্ঠিত থাকার পর তাদের সেখান থেকে পতন হয়ে যায়–এটা হচ্ছে মীমাংসকদের মত।
ক্রমশঃ

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s