প্রশ্ন:- পৃথিবীর প্রথম পশু চিকিৎসক কে? তার অবদান কী?


প্রশ্ন:- পৃথিবীর প্রথম পশু চিকিৎসক কে? তার অবদান কী?
Image result for shalihotra
উত্তর :
পৃথিবীর প্রথম পশু চিকিৎসক শালিহোত্র (২৩৫০ খ্রিস্টপূর্ব-?)। অসম্ভব মেধাবী ও ধর্মপ্রাণ এই হিন্দুবিজ্ঞানীর অবদান নিম্নরূপ:

ঘোড়া ও হাতি প্রাচীন পৃথিবীর যুদ্ধবিগ্রহের জন্য বড় সম্পদ ছিল। প্রাচীন ভারতে মানুষের চিকিৎসায় বিজ্ঞানী চরক ও সুশ্রূত যেমন অবদান রেখেছেন, তেমনি পশুচিকিৎসায় শালিহোত্র। ঘোড়া ও হাতির চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে হিন্দুবিজ্ঞানী শালিহোত্রের হাত ধরে সৃষ্টি হয়েছে বিশ্বের প্রথম পশুচিকিৎসাবিদ্যা।

২৩৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ভারতের উত্তরপ্রদেশে বিজ্ঞানী শালিহোত্রের জন্ম। বাবা হয়ঘোষও ছিলেন পশচিকিৎসক। শালিহোত্র ও আচার্য অগ্নিবেশ একই গুরুর শিষ্য ছিলেন। উল্লেখ্য ‘অগ্নিবেশতন্ত্রে’ অগ্নিবেশ প্রথম জীবের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ তুলে ধরেন এবং একই পথ ধরে আচার্য চরক একই কাজ করেন। নিশ্চিত বলা হয় যে, আচার্য সুশ্রূত (পৃথিবীর প্রথম শল্যচিকিৎসক) শালিহোত্রের ছাত্র ছিলেন।

শালিহোত্র সংহিতায় ঘোড়া ও হাতির রোগ, শরীরবিদ্যা, শল্যবিদ্যা ও রোগ প্রতিরোধ-প্রতিকারের উপায় ১২০০০ শ্লোকে বর্ণনা করা হয়েছে। এই মহামূল্যবান গ্রন্থ ফারসি, আরবি, তিব্বতি ও ইংরেজি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। উক্ত গ্রন্থে শালিহোত্র বিভিন্ন প্রকৃতির ঘোড়ার শারীরীক গঠন ও এর মাধ্যমে বয়স নির্ধারণের সূত্রও দিয়েছেন। ঘোড়ার চিকিৎসা বলে একে ‘তুরঙ্গমশাস্ত্র’ও বলা হয়। ১২০০০ শ্লোক মোট ৮ টি খণ্ডে বিভক্ত। প্রথমখণ্ডে ৪ জাতের ঘোড়ার কথা বলা হয়েছে।

ঘোড়ার সাধারণ কী কী গুণ থাকা উচিত, গায়ের রং, ঘোড়ার বংশ পরিচয়, ভিন্ন ভিন্ন ঘোড়াকে আলাদা করে চেনার উপায় প্রথম খণ্ডে বলা হয়েছে। ঘোড়ার কোন অঙ্গের পরিমাপ কী হওয়া উচিত, বুনো ঘোড়াকে বশ মানানোর উপায় কী, কোন ধরনের ঘোড়া রাজা ব্যবহার করবেন, এমনকি ঘোড়া বেচকেনার নিয়ম কী রকম হওয়া উচিত তাও উল্লেখ রয়েছে।

দ্বিতীয় খণ্ডে ঘোড়ার নানারকম রোগের কথা রয়েছে। রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি ও চিকিৎসার কথা বলা হয়েছে। তৃতীয় খণ্ডে ঘোড়ার ভ্রূণ ও জন্মের পূর্বে মায়ের শরীর অভ্যন্তরে ঘোড়ার বেড়ে ওঠার বর্ণনা আছে। চতুর্থ খণ্ডে ঘোড়ার মুখ জিহ্বার কত রকমের রোগ হয় তা বর্ণনা করে প্রতিকারের কথা বলা হয়েছে। পঞ্চম ও ষষ্ঠ খণ্ডে ঘোড়ার ওপর গ্রহের প্রভাবের কথা বলা হয়েছে। সপ্তম খণ্ডে চিকিৎসার সংকট তথা চিকিৎসাকালে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে ও তা থেকে উত্তরণের উপায় বর্ণিত আছে। অষ্টম তথা শেষ খণ্ডে শরীরের বিভিন্ন অংশের গুরুত্ব, ঘোড়ার গড় আয়ু ও মৃত্যুর লক্ষণ বর্ণনা করা হয়েছে। শালিহোত্রের অন্য দৃটি গ্রন্থ হল- ‘অশ্বপ্রশ্নস’ (Asva-prashnsa) ও ‘অশ্ব-লক্ষণ শাস্ত্রম’ (Asva-lakshana sastram)।

পরবর্তীকালে শালিহোত্রের সংহিতাকে অনুসরণ করে মুনি হস্তি আয়ুর্বেদ নামক গ্রন্থ রচনা করেন। উক্ত গ্রন্থ ৪ টি খণ্ড ও ১৫২টি অধ্যায়ে বিভক্ত। উল্লেখ্য যে, মহাভারতের সময়ে শ্রীনকুলকে ‘অশ্ব চিকিৎসা’ গ্রন্থের লেখক বলা হয়েছে অন্যদিকে শ্রীসহদেবকে পশু বিশেষজ্ঞ আখ্যা দেয়া হয়েছে।
যে আর্য জাতি ২৫০০ খ্রিস্টপূর্বে পশু চিকিৎসামূলক গ্রন্থ রচনা করে, নিশ্চয়ই সেজাতি মানব চিকিৎসা বিদ্যায় আরও অধিক পারদর্শী ছিল -একথা সহজেই অনুমেয়।

— with Rajat Das Gupta, Tapon Kanti Adhikary Tapu, শুভ্রাংশু সরকার সোহাগ and 17 others.

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s