পুর্ব্বভাগ- বাসনাহেতু শরীর।


১.৪ পুর্ব্বভাগ- বাসনাহেতু শরীর।

জন্ম মৃত্যুর কাল নির্দিষ্ট থাকিলেও জীবের অজ্ঞাত বলিয়া দৈবাধীন বলে। মৃত্যুর পরক্ষণ হইতে পুনশ্চ কৰ্ম্মফল ভোগ আরম্ভ হয়। নিরবকাশহেতু নিত্যবৎ অনুমেয়। জীবন ক্ষণস্থায়ী ও নশ্বর। এই দেহপিণ্ড অনিত্য, চঞ্চল, অনাধার ও রসোদ্ভব। যেমন অন্নসকল প্ৰাতঃকালে প্ৰস্তুত হইয়া সায়ং কালেই নষ্ট ও বিনাশ প্ৰাপ্ত হয়। সেইরূপ অন্নপুষ্ট দেহের, নিত্যতা কোথায় ? কেবল অদৃষ্ট সঞ্চয় জন্য অবসর প্রদান হেতু মনুষ্য জন্ম, সৃষ্টিকর্ত্তা ক্ষণকালের নিমিত্ত বিধান করিয়াছেন। এই সামান্য কালের মধ্যে শুভাদৃষ্ট অর্জন করিতে পারিলে অভ্যুদয় হয়। নচেৎ পুনঃ পুনঃ দুঃখান্তরে পতিত হইতে হয়। প্রলোভনে প্ৰতারিত হওয়া পাপ জনক পরিণাম। জন্মে জন্মে ত্ৰিবিধ পাপ সঞ্চয় হয়। পশুজন্মে শারীরিক দুঃখই ভোগ হয়। মনুষ্য জন্মে ত্ৰিবিধ দুঃখভোগ হয়। বায়ুর সহিত যেমন গন্ধ থাকে, মৃত্যুর পর আত্মার সহিত বাসনাও সেইরূপে থাকিয়া যায়। বাসনা অর্থে ইচ্ছা ঐ বাসনা আবার কৰ্ম্মানুরূপ জন্মে। গর্ভবাস কালেও কৰ্ম্ম নিয়ত থাকে। জন্মেও সেইরূপ গতি হয়। আধি, ব্যাধি, ক্লেশ, জ্বরা, ও মৃত্যুরূপ বিপৰ্য্যয় গর্ভবাসানুসারেই হয়। বাসনা দ্বিবিধ শুদ্ধ ও মলিন। শুদ্ধ বাসনার দ্বারা অদৃষ্টের অভাব হেতু পুনরাবৃত্তির ও অভাব হয়। মলিনবাসনা পুনরাবৃত্তি অর্থাৎ জন্মের কারণ। মলিন বাসনা অজ্ঞানের আকর এবং অহং জ্ঞানের মূলীভূত কারণ। সেইজন্য পণ্ডিতগণ ইহাকে জন্মকারিণী ও শুদ্ধ বাসনাকে জন্মহারিণী বলিয়া নির্দেশ করেন। যেমন ভৃষ্টবীজের দ্বারা অন্ধুরোদগম হয় না। সেইরূপ অদৃষ্ট অভাব হেতু আর জন্মগ্রহণ করিতে হয় না। মলিনবাসনা পুনঃ পুনঃ সংসারে আনয়ন করে। সংসার প্রলোভন মাত্র ইহাতে সুখের লেশমাত্ৰও নাই।

মন শান্ত ও নিরীহ হইলে, স্বকীয় ইন্দ্ৰিয়ের কাৰ্য উৎপন্ন বা অনুষ্ঠিত হইলেও তাহাতে কোন ফলদর্শে না। অর্থাৎ তাদৃশ জ্ঞান হইতে সংস্কারের উৎপত্তি হয় না। যেমন, বন্ধ্যার স্বামিসহবাস ব্যর্থ হয়। তদ্রুপ নিরীহ মনের কাৰ্য্য দ্বারা সংস্কারের উৎপত্তি হয় না। বিষয়ের সহিত জ্ঞানেন্দ্ৰিয়ের সংযোগ হইলে, বিষয় ভোগের ইচছা প্ৰবল হয়। বিষয় ভোগ ও ঘটে। সেই ভোগ জন্যই সংস্কার উৎপন্ন হয়। তাহাই বাসনা। এইরূপ বাসনাই জন্মান্তরের মূল কারণ। মন শান্ত হইলে কিছুতেই তাদৃশবাসনা দ্বারা সংস্কার জন্মে না। সংস্কার অভাবে জন্মান্তরেরও অভাব হয়। এইরূপ বিষয় ভোগ হওয়া বা না হওয়া উভয়ই সমান। মন প্রত্যক্ষের কিঙ্কর। মন নিরীহ ও শান্ত হইলে, তোমার কৰ্ম্মেন্দ্ৰিয় সকল আর কৰ্ম্মে প্ৰবৃত্ত হইবে না। যেমন যন্ত্রী না চালাইলে যন্ত্র চলেনা, তদ্রুপ মন না চালাইলে কৰ্ম্মেন্দ্ৰিয়ের সংস্কার উৎপাদক কৰ্ম্মসকল নিবৃত্তি হয়। মন হইতে বিষয়ের আবির্ভাব হয়। সুতরাং বিষয় বাসনা না হইলে মনও সঞ্চালিত হয় না। বায়ুর যেমন সঞ্চালন শক্তি আছে। সেইরূপ বিষয় বাসনার অন্তরেও বাহ্যিক ভোগ ও চিন্তার বিষয়ীভূত জগৎসংস্কাররূপে বিরাজিত রহিয়াছে। এই বাসনাই পুনরাবৃত্তির হেতু। বায়ুর সহিত সুগন্ধ ও দুৰ্গন্ধ উভয়ই থাকে। সুগন্ধ শুদ্ধ ও দুৰ্গন্ধ মলিন।

ক্রমশঃ

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s