হারিয়ে যাওয়া গাঁও গেরামে চড়ক পূজা, বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। কিন্তু সংক্রান্তি


হারিয়ে যাওয়া গাঁও গেরামে চড়ক পূজা, বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। কিন্তু সংক্রান্তি (বাংলা নববর্ষের উপলক্ষ্যে এ রচনাটি সকল বন্ধুদের ধৈয্য ধরে পড়ার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।)

Related image

“পহেলা” শব্দের আভিধানিক অর্থ “প্রথম” এবং “বৈশাখ” বলতে বাংলা নববর্ষের প্রথম মাসকে বুঝায়। যদিও পহেলা শব্দটি উর্দু শব্দ যা পেহেলী শব্দের রুপান্তরিত রুপ। এরপর এটি আরো পরিরর্তিত হয়ে “পয়লা” শব্দে পরিবর্তিত হয়েছ এবং “বৈশাখ” শব্দের আগে বসে তথা বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন বুঝিয়েছে। অন্য দিকে “বৈশাখ” শব্দটি এসেছে বিশাখা নক্ষত্রে সূর্যের অবস্থানকে বুঝানো থেকে। এদিনটি বাংলা নববর্ষের প্রথমদিন, তথা বাংলা নববর্ষ বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নববর্ষ হিসেবে বিশেষ উৎসবের সাথে পালিত হয় এবং পৃথিবী বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাঙ্গালীরা অতি উৎসাহের সাথে দিন উপভোগ করে।
বাংলাদেশ প্রচলিত বর্ষপুঞ্জি বা ক্যালেন্ডার সমূহ
বাংলাদেশের বর্তমানে ৩টি পঞ্জিকা বা ক্যালেন্ডারে সন গণনা পদ্ধতি চালু আছে।
(১) ইংরেজি বা গ্রেগোরিয়ান সন – ইংরেজী বা গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির শুরু হয় মধ্যরাত তথা রাত ১২.০১ মিটিন হতে;
(২) বাংলা বা ফসলী সন – বাংলা সনে দিন সূর্যোয়ের শুরু ও হয় ভোর হতে;
(৩) হিজরী বা আরবী সন – হিজরী সনে তারিখ শুরু হয় সূর্য ডোবার পর চাঁদ দেখার সাথে সাথে এবং শেষ হয় সূর্যাস্ত থেকে।

বাংলাবর্ষ চালু হবার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস-
বাংলা নববর্ষ বা বাংলা বর্ষপঞ্জিকা বিষয়ে বিভিন্ন লেখালেখিতে প্রায় দেখা যায় মুঘল সাম্রাজ্যের তৃতীয় সম্রাট জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর এটি চালু করেছেন। আসলে প্রচলিত কথাটা সত্য নয়। সম্রাট আকবর বাংলা কথা বলা, লেখা, পড়া কোনটাই জানতেন না। মোটকথা তিনি বাংলা ভাষার সাথে মোটেও পরিচিত ছিলো না। তিনি ফার্সী ব্যবহার করতেন। তিনি তার আমলে ফারসী মাসের অনুকরণে তারিখ-ই-ইলাহী-র প্রবর্তন করেন এবং তদানুযায়ী বার মাসের নামগুলি প্রচলিত ছিল ফারসী ভাষায় প্রচালিত ছিলো, যেমন-
1. ফারওয়াদিন,
2. আর্দি,
3. ভিহিসু,
4. খোরদাদ,
5. তির,
6. আমারদাদ,
7. শাহরিযার,
8. আবান,
9. আযুর,
10. দাই,
11. বহম এবং
12. ইসক্নদার মিজ।
সম্রাট আকবরের ফারসী মাসের নামের অনুকরণে প্রচলিত পঞ্জিকা “তারিখ-ই-ইলাহী”। কিন্তু বাংলা সন নানা ঘটনাক্রমে এবং বিভিন্ন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন নক্ষত্রের (তারকার) নামানুসারে বর্তমান নামে রূপান্তরিত বা প্রবর্তিত হয়। বাংলা বা ফসলী সনে বারো মাসের নামকরণ করা হয়েছে নক্ষত্রমন্ডলে চন্দ্রের আবর্তনে বিশেষ তারার অবস্থানের উপর ভিত্তি করে । এই নাম সমূহ গৃহিত হয়েছে জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক প্রাচীন গ্রন্থ “সূর্যসিদ্ধান্ত” থেকে গৃহীত। প্রাচীন জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক প্রাচীন গ্রন্থ “সূর্যসিদ্ধান্ত”-এ মূলতঃ সৌরবর্ষের ভিত্তিতে বছর গননা করা হয়েছে এবং দিন শুরু ও শেষ সূর্যোয়ের শুরু ও শেষে মধ্যে ধরা হয়েছে। “সূর্যসিদ্ধান্ত” একমাত্র বৈদিক পঞ্জিকা । অনুমান করা যায় – সম্রাট আকবরের ফারসী মাসের নামের অনুকরণে প্রচলিত পঞ্জিকা “তারিখ-ই-ইলাহী” প্রাচীন জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক প্রাচীন গ্রন্থ “সূর্যসিদ্ধান্ত” অনুকরনে করা হয়েছে।
নক্ষত্রের নামানুসারে বাংলাবর্ষের মাস গুলোর নাম হচ্ছে –
• বৈশাখ – বিশাখা নক্ষত্রের নাম অনুসারে
• জ্যৈষ্ঠ – জ্যেষ্ঠা নক্ষত্রের নাম অনুসারে
• আষাঢ় – উত্তরাষাঢ়া নক্ষত্রের নাম অনুসারে
• শ্রাবণ – শ্রবণা নক্ষত্রের নাম অনুসারে
• ভাদ্র – পূর্বভাদ্রপদ নক্ষত্রের নাম অনুসারে
• আশ্বিন – অশ্বিনী নক্ষত্রের নাম অনুসারে
• কার্তিক – কৃত্তিকা নক্ষত্রের নাম অনুসারে
• অগ্রহায়ণ(মার্গশীর্ষ)– মৃগশিরা নক্ষত্রের নাম অনুসারে
• পৌষ – পুষ্যা নক্ষত্রের নাম অনুসারে
• মাঘ – মঘা নক্ষত্রের নাম অনুসারে
• ফাল্গুন – উত্তরফাল্গুনী নক্ষত্রের নাম অনুসারে
• চৈত্র – চিত্রা নক্ষত্রের নাম অনুসারে

বাংলায় সাত দিনের নাম
বছরের বার মাসের নাম যেমন রাখা হয়েছে নক্ষত্র মন্ডলে সূর্য্যের অবস্হান নির্নয় করে। ঠিক তেমনি সপ্তাহের দিনগুলি অর্থাৎ ০৭(সাত)টি দিনের নাম রাখা হয়েছে আমাদের সৌরমন্ডলে একমাত্র নক্ষত্রের নামে ০১দিন, পাচটি গ্রহের নামে ৫দিন ও একটি উপগ্রহের নামে ০১দিন। যেগুলি বিবরণ সংক্ষেপে তুলে ধরা হল।

০১) বরিবারঃ – সূর্যের অপর নাম রবি – (আমাদের সূর্য মন্ডলের গ্রহগুলো একমাত্র অধিপতি নক্ষত্র সূর্য, অর্থাৎ যার থেকে সৌর মন্ডল সৃষ্টি হয়েছে। হিন্দুরা “সূর্য”কে দেবতা জ্ঞানে পূজো দিয়ে থাকেন। যে কোন মাঙ্গলিক কায্যে কিংবা যে কোন দেবতার পূজোর সময় পঞ্চদেবতার পুজো দিতে হয়। হিন্দুদের এই পঞ্চদেবতা তথা পাঁচজন দেবতার অন্যতম একজন হলো সূর্যদেব। হিন্দুধর্ম বিশ্বাস দৃঢভাবে বিশ্বাস করে আমাদের প্রিয় গ্রহ টিকে আছে সূর্যের অনুগ্রহে। অবশ্য আধুনিক বিজ্ঞানও তা অশ্বীকার করে না যে পৃথিবীর সমগ্র জ্বালানী শক্তির প্রধানতম উৎস এই সূর্য। হিন্দুধর্মাবলম্বীর ও অমুসিলম বিশ্বে বরিবারকে সপ্তাহের প্রথম দিন হিসাবে ধরা হয়।

০২) সোমবারঃ – চন্দ্রে অপর নাম সোম। সূর্য মন্ডলে পৃথিবী নামক গ্রহের একমাত্র উপগ্রহ হলো চন্দ্র। পৃথিবীতে চন্দ্রের প্রভাব দৃশ্যমান। জোয়ার-ভাটাই শুধু নয়, পৃথিবী নাম গ্রহের জীব জগতের উপর চন্দ্রে প্রভাব অনেক বেশী মাত্রায় পড়ে। হিন্দু পরিবারের সন্তান জন্ম লাভের সময় ঠিকুজি প্রস্তুত করার সময় চন্দ্রে প্রভাবের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়। হিন্দু জ্যোতিশাস্ত্র বিদ গনের মতে চন্দ্রের প্রভাব বেশী হলেও একে ক্ষতিকর হিসাবে বিবেচনা করে না।

০৩) মঙ্গলবারঃ – মঙ্গল গ্রহের নামের সপ্তাহের একটি দিন রাখা হয়েছে। মঙ্গল সৌরমন্ডলের শক্তিশালী গ্রহ, পৃথিবীর ভুমন্ডলের সাথে এর যথেষ্ট মিল রয়েছে। পৃথিবীর উপর এই গ্রহটির প্রভাব রয়েছে।
০৪) বুধবারঃ –বুধ গ্রহের নামের সপ্তাহের একটি দিনের নাম করন করা হয়েছে। বুধ গ্রহের ইংরেজী নাম Mercury বা মার্কিউরী। বুধ হচ্ছে সূর্যের নিকটতম গ্রহ। সূর্যের খুব কাছের এবং সেই সাথে সৌরজগতের সবচাইতে ক্ষুদ্রতম গ্রহ হচ্ছে এই বুধ গ্রহ। এই কারণে বুধের মাধ্যাকর্ষণ শক্তিও অনেক কম, পৃথিবীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

০৫) বৃহস্পতিবারঃ – সৌর মন্ডলের সর্বাপেক্ষা বড় গ্রহ বৃহস্পতির নামে সপ্তাহের পঞ্চম দিনের নামকরণ করা হয়েছে। এটি সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে পঞ্চম এবং আকার আয়তনের দিক দিয়ে সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ হচ্চছ আমার বৃহস্পতি। সূর্যের সব কটি গ্রহের ভর সমস্টির প্রায় শতকরা ৭০ ভাগ ভরই হচ্ছে বৃহস্পতির। আয়তনের কারনে বৃহস্পতিকে গ্রহরাজ বলা হয়। হিন্দু পুরানে বৃহস্পতিকে দেবগুরু তথা সকল শুভকর্মের ও শুভ ভাবনার গুরু হিসাবে বিবেচনা করা হয়। বৃহস্পতি গ্রহকে ইংরেজীতে বলা হয় Jupiter (জুপিটার)। রোমানরা গ্রহটির নাম রেখেছিল পৌরাণিক চরিত্র জুপিচারের নামে। জুপিটার রোমান পুরাণের প্রধান দেবতা। রোমান ভাষায় জুপিটার শব্দের অর্থ হচ্ছে “আকাশের পিতা।”

০৬) শুক্রবারঃ – ‘শুক্র গ্রহ’ (Venus) সৌরজগতের দ্বিতীয় গ্রহ। কারণ সূর্য থেকে দূরত্বের দিক থেকে হিসেব করলে সূর্যের একেবারে কাছের গ্রহ হচ্ছে বুধ গ্রহ, আর এর পরই শুক্র গ্রহের অবস্থান। বুধ আর পৃথিবীর মতই এই গ্রহটিও কঠিন পদার্থ দিয়ে তৈরি বলে একে পার্থিব গ্রহ বলা হয়। পৃথিবী এবং শুক্রের মধ্যে গাঠনিক উপাদান, আকার আকৃতি, মুক্তি বেগ এবং অন্যান্য মহাযাগতিক আচার আচরণে অনেক মিল রয়েছে বলে শুক্রকে পৃথিবীর বোন গ্রহ বা ‘Sister Planet’ বলে। এটি এমন একটি গ্রহ যাকে দুটি ভিন্ন ভিন্ন তাঁরা নামে ডাকা হয়। ভোর রাতের আকাশে শুকতারা আর সন্ধ্যার আকাশের সন্ধ্যাতারা একই বস্তু, যা সত্যিকার অর্থে একটি গ্রহ, আর এই গ্রহটিই হচ্ছে শুক্রগ্রহ। অনেক যায়গায় এই গ্রহটি যখন ভোরের আকাশে উদিত হয় তখন লুসিফার বা শয়তান নামেও ডাকা হয়ে থাকে। অন্যদিকে হিন্দু পুরানে শুক্রকে দৈতগুরু হিসাবে দেখানো হয়েছে। সুতরাং শুক্রগ্রহ তথা দৈত্যগুরুর নামে সপ্তাহের ষষ্ঠ দিনের নামকরণ করা হয়েছে।

০৭) শনিবারঃ – শনি গ্রহদেবতা হিসেবে হিন্দু পুরানে ও শাস্ত্রে সবিশেষ পরিচিত। হিন্দু সম্প্রদানের নবজাতকের ঠিকুজি তৈরীর করার সময় জ্যোতিষশাস্ত্রে জন্ম ছকে এর অবস্থান বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়। শনি দ্বাদশে, জন্মরাশিতে ও দ্বিতীয়ে অবস্থানকালে সাড়ে সাত বছর মানুষকে প্রচণ্ড কষ্ট দেয়। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় শনি গ্রহ রূপে গুণে অসামান্য। তার কারণ, এই গ্রহকে ঘিরে থাকা চাকতিগুলি; যাকে আমরা বলি ‘শনির বলয়’। তুষারকণা, খুচরো পাথর আর ধূলিকণায় সৃষ্ট মোট নয়টি পূর্ণ ও তিনটি অর্ধবলয় শনিকে সর্বদা ঘিরে থাকে। শনি দৈত্যাকার গ্রহ; এর গড় ব্যাস পৃথিবীর তুলনায় নয় গুণ বড়। এর অভ্যন্তরভাগে আছে লোহা, নিকেল এবং সিলিকন ও অক্সিজেন মিশ্রিত পাথর। তার উপর যথাক্রমে একটি গভীর ধাতব হাইড্রোজেন স্তর, একটি তরল হাইড্রোজেন ও তরল হিলিয়াম স্তর এবং সবশেষে বাইরে একটি গ্যাসীয় স্তরের আস্তরণ।শনি গ্রহের রং হালকা হলুদ। এর কারণ শনির বায়ুমণ্ডলের উচ্চবর্তী স্তরে অবস্থিত অ্যামোনিয়া ক্রিস্টাল। শনির ধাতব হাইড্রোজেন স্তরে প্রবাহিত হয় এক ধরনের বিদ্যুত প্রবাহ। এই বিদ্যুৎ প্রবাহ থেকেই শনির গ্রহীয় চৌম্বক ক্ষেত্রের উদ্ভব ঘটেছে। হিন্দুদের পুরানে শনিকে দেবতা এবং একে নিয়ে বিভিন্ন পুরাণে বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ্য আছে। শনি গ্রহের নাম, এবং বিচিত্র গ্রহ। পুরানে উল্লেখ্য শনিদেবের দৃষ্টি যে দিকে পড়ে সেটি ভস্ম হয়ে যায়। সেই শনিগ্রহের নামে সপ্তাহের শেষ দিন তথা সপ্তম দিনের নামকরণ করা হয়েছে।

শংকর বালকৃষ্ঞ দীক্ষিতের মতে, হিন্দু পঞ্জিকা সৃষ্টির তিনটি যুগ রয়েছে, যথাক্রমে-
১. বৈদিক যুগ (অবর্ণিত প্রাচীনকাল থেকে ১৩৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ)
২. বেদান্ত-জ্যোতিষ যুগ (১৩৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ৪০০ খ্রিস্টাব্দ)
৩. সিদ্ধান্ত-জ্যোতিষ যুগ (৪০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে আধুনিককাল পর্যন্ত)।

উপরোলিখিত এই তিনটি যুগের দিকে তাকালে স্পষ্ঠ হয় সম্রাট আকবরের শাসনামল (১৫৪২-১৬০৫ খ্রিস্টাব্দ) খুবই নবীন। সম্রাট তিনি বাংলাবর্ষ প্রনয়ন চালু করবেন এটা তামাশা মাত্র। আগেই উল্লেখ্য করা হয়েছে সম্রাট আকবর নিজে বাঙ্গালা ভাষাভাষি ছিলেন না, এমন কি বাংলা জানতেনও না। তার শাসনামলে বাংলা সন বলে সেই সময় কিছু না। সুতরাং সূর্য সিদ্ধান্ত অনুকরনে তিনি বাংলা নববর্ষ চালু করেছেন এটি বলা অবান্তর মাত্র। বরং তিনি সূর্য সিদ্ধান্তের অনুকররে তারিখ-ই-এলাহী প্রবর্তন করেছিলেন। বলা যায় ভিন্ন একটি প্রেক্ষাপটে সময়ের চাহিদানুসারে নক্ষত্রের নামানুসারে বাংলাবর্ষ বা ফসলী সন পুনঃ প্রচলিত হয়েছে ।
বাংলা তথা ফসলী সন শুরু হয়েছিল ১৫৫৬ সালের ১৪ এপ্রিল থেকে। তবে শুরুর দিন কিন্তু প্রথম তথা ১ সাল ছিল না, ছিল ৯৬৩ সাল। যে সময় এটি পুন প্রচলন করা হয়, তখন এদেশে হিজরী সাল প্রচলিত ছিল। কিন্তু ফসল তোলার সাথে সাথে খাজনা পাবার বিষয়টি জড়িত আর এই কারণে একটি বাৎসরিক সময় নির্ধারণের জন্য ফসলী সনের পুনঃ প্রবর্তন করেছেন সম্রাট আকবর।

নববর্ষ কোথায় ও কিভাবে পালিত হতো?
ধারণাগত ভাবে প্রাচীন পারস্যের পরাক্রমশালী সম্রাট জমশীদ খ্রিস্টপূর্ব ৮০০ সালে এই নওরোজের প্রবর্তন করেছিল এবং এ ধারাবাহিকতা এখনো পারস্য তথা ইরানে নওরোজ ঐতিহ্যগত নববর্ষের জাতীয় উৎসব পালিত হয়। ইরান থেকেই এটা একটি সাধারণ সংস্কৃতির ধারা বেয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মুসলিম দেশ এবং ভারত উপমহাদেশে প্রবেশ করে।
ব্যাবিলনে নববর্ষ উদ্‌যাপিত হতো আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে। সেটি ছিল সে দেশের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় উৎসব, চলত ১১ দিন ধরে। চীন, ভিয়েতনাম, লাওসেও আছে এ ধরনের নববর্ষ পালনের উৎসব। লাওসে নববর্ষের উৎসব যে দিনটিতে শুরু হয় সেটি ঠিক আমাদের দেশে পালিত পয়লা বৈশাখ এর মত।

আহবহমানকাল ধরে বাঙ্গালীরা যেভাবে চৈত্র-সংক্রান্তি ও নববর্ষের প্রথম দিন যেভাবে পালন করতোঃ
সেই অজানা সময়কাল হতে এদেশের সনাতনী সম্প্রদায়, আদিবাসী ও বিভিন্ন নৃতাত্বিক গোষ্টি ভিন্ন ভিন্ন রীতিতে নববর্ষ পালন করে আছে। সনাতনী সম্প্রদায়ের পার্বনগুলো মধ্যে বছরের শেষ দিন ধরা হয় চৈত্র সংক্রান্তি। এদিনটিকে উপলক্ষ্য করে এসম্প্রদায়ের লোকজন তাদের ঘর, দোর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, নিত্য ব্যবহার্য তৈজস পত্র থেকে সব কিছুই পরিস্কার পরিছন্ন করে থাকে। প্রয়োজনে পুরাতন জীর্ণ ব্যবহার্য জিনিষ গুলো পরিত্যাগ করে নতুন জিনিস ক্রয় বা তৈরী করে নেয়। ছোট্ট বেলায় দেখেছি সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন চৈত্রসংক্রান্তির দিন খুব ভোরে বিছানা ত্যাগ করে এবং খড়কুটো ও শুকনো কিছু ঔষুধি লতা পাতার গাছ পোড়ানো ধোঁয়া আর আগুনের তাপ পোঁহানের পর অনেকটা পথ হাঁটাহাঁটি করতে। এই সময়ে এরা পুরোনো সব জীর্ণতা দূরীকরনের জন্য কিছু শব্দ উচ্চারণ করতে- যেমন “মশা মাছি দূর হও”, “রোগ বালাই দূর হও”, “দূঃখ কষ্ট দূর হও” “অশান্তি দূর হও” ইত্যাদি ইত্যাদি। এরপর স্নানাদি শেষ করে গৃহ দেবতা কিংবা যে যার ইষ্ট দেবতার পুজো শেষ করে ঐদিনের কাজে লেগে পড়ে। মহিলারা ঐদিন দুপুরের খাবার আয়োজনে ব্যস্ত থাকেন। দূপুরের আয়োজনের মধ্যে থাকে পাঁচ মিশালী সবজী, খই, মুড়ি, দধি মিষ্টি। তবে মাছ মাংশ বা অন্য কোন আমিষ জাতীয় রান্না ঐদিন হয় না। বলাবাহুল্য এলাকা ভেদে এর পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। বিকেলের দিকে চড়ক পূজো ও মেলায় অংশ গ্রহন করে। রাত্রে হরি কীর্তনের মাধ্যমে পুরাতন বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরের উদ্দেশে পরবর্তী দিনের জন্য অপেক্ষা করতে।
চৈত্রসংক্রান্তির রাত্রী অবসানে পরবর্তী দিন সূর্য উদয় হতেই নববর্ষ শুরু হয়। এদিনও সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষ গুলো ঘুব ভোরে বিছানা ছাড়েন এবং ঘর থেকে বের হয়ে সূর্য প্রনাম করার পর পর পুকুরে বা স্নানাগারে যায় স্নান সন্ধ্যা করতে। কেহ কেহ ভেজা কাপড়ে সূর্য দেবতার উদ্দেশ্যে প্রনাম করে গৃহ দেবতা তথা ইষ্ট দেবতার পূজো সম্পন্ন করেন। তারপর ঘরের কিংবা বাড়ী সবাই একত্রে বসে মুড়ি, মুড়কি, খই, দই, মিষ্টি, জল গ্রহন করে – এবং এরপর যে যার মতো কাজে লেগে যায়। ব্যবসায়ীরা এদিন হালখাতা অনুষ্ঠান তথা বকেয়া আদায়ের উদ্দেশ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে খদ্দেরদেরকে মিষ্টি মুখ করায়। প্রায় সকল শ্রেনীর মানুষ এদিন দূপুরের খাবারে মাছ, মাংস সহ যে যার মতো রাজভোগের ব্যবস্হা করে। রাত্রে গান বাজনা, হরি কীর্তন যোগদান করে। মূলতঃ সনাতনী সম্প্রদায় আবহমান কাল হতে এভাবেই চৈত্র সংক্রান্তি ও বৈশাখের প্রথম দিন উদযাপন করে এবং গ্রামের হিন্দুরা এখনো এভাবে চৈত্রসংক্রান্তি ও নববর্ষ পয়লা বৈশাখ উদযাপন করে থাকে।
আদিবাসি ও বিভিন্ন নৃগোষ্টির চৈত্র সংক্রান্তি অনুষ্ঠান পালন করেন এবং সেটিতে বৈদিক চাপ ষ্পষ্ঠ পরিলক্ষিত হয়। আদিবাসীরা চৈত্রমাসের শেষ দিনটিকে “ফুল বিজু” বলে। সমতলের হিন্দুরাও চৈত্রসংক্রান্তির দিনকে “ফুলবিশু” বলে। পয়লা বৈশাখকে বৈশাবী বলে। আদিবাসী ও নানান নৃগোষ্টির অনুষ্ঠান গুলো সাথে সমতলে বাস করা সনাতনী সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠান গুলোর মিল পাওয়া যাবে। এর কারণ রীতিনীতি গুলো অতিপ্রাচীন এবং একই সত্বার অন্তর্ভূক্ত।

বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের বর্তমান হালহকিকত।
আজও গ্রামবাংলায়ে হিন্দু পরিবার গুলোতে চৈত্রসংক্রান্তি ও নববর্ষের দিন গুলো এখনো পর্যন্ত পালন করলে আগের মতো উৎসাহ উদ্দীপনা ছোঁয়া নেই। চৈত্র মাসের মাস জুড়ে সং সাজা, ঢাকি, ঢাকের আওয়াজ, সংক্রান্তিতে চড়ক পূজো, পূজো আয়োজনকে কেন্দ্র করে মেলা, সং সাজা কোনটাই আজ আর চোখে পড়ে না। অথচ বিগত বছর ত্রিশেক আগেও এগুলোর কিছু কিছু চোখে পড়ত। এককথায় বলা যায় এখন সনাতনী সম্প্রদায়ের চৈত্রসংক্রান্তির অনুষ্ঠানগুলি শুধু আনুষ্ঠানিকতায় রুপ নিয়েছে, উপভোগ্য আনন্দ অনুষ্ঠানে নয়।

অন্যদিকে লক্ষ্য করা যায়, বিগত কয়েক বছর যাবৎ সরকারী উদ্যোগে উপজেলায় সরকারী কলেজ মাঠ, কিংবা উপজেলা প্রশাসনিক অফিসের মাঠে স্হানীয় প্রশাসনের ব্যবস্হাপনায় বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। কিন্তু তাতে গ্রাম বাংলা খুজে পাওয়া যায় না, বরং এগুলোতে অশ্লীল নাচ, বিরুক্তিকর শব্দে ড্রাম ও বিদেশী ঢংয়ে অরুচিকর গান বাজনার অনুষ্ঠান লম্বা সময় ধরে চলে। স্হানীয় মানুষের তৈরী তৈজসপত্র, খেলনার পরিবর্তে স্হান করে নিয়েছে চায়না থেকে আমদানীকৃত প্লাষ্টিকের খেলনা সামগ্রী।

ঢাকার চারুকলার উদ্যোগে যেভাবে পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয়ঃ
আমাদের দেশে বর্তমানে শহর কেন্দ্রিক পয়লা বৈশাখ পালন হওয়ার মধ্যে মোটামুটি এরকম – ভোর সকালে রমনা বটমুলে (আসলে অস্ত গাছ) প্রভাতে উদীয়মান সূর্যকে স্বাগত জানায়, নতুন সূর্যকে প্রত্যক্ষকরণ, রবীন্দ্রসংগীতের মাধ্যমে বর্ষবরন, বৈশাখী মেলা, রমনার বটমূলে পান্তা-ইলিশের ভোজ, জীবজন্ত, রাক্ষস-খোক্কসের ও হাতির(গণেশের) প্রতিকৃতি নিয়ে মিছিল(মঙ্গল যাত্রা) এবং এ উপলক্ষে নারী-পুরুষের অবাধ হাসিঠাট্টা ও আনন্দ উপভোগ, সাজগোজ করে সৌন্দর্যের প্রদর্শনী ও অবাধ বিচরণ, সহপাঠী সহপাঠিনীদের একে অপরের দেহে চিত্রাংকণ। হালখাতা খোলা(বছরের নতুন হিসাব শুরু করা)। মূলতঃ এটা শুধু ঢাকার চিত্র নয়, প্রায় প্রতিটি বিভাগীয় শহরে এচিত্র দেখা যায়। যদিও এগুলো ঐহিত্যবাহী গ্রামীন চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখ উদযাপনের অংশ ছিলো না।

পয়লা বৈশাখ বাঙ্গালী সংস্কৃতির অন্যতম ঐতিহ্যবাহী গৌরবোজ্জল উৎসবের দিন। নানান রঙের সাজসজ্জা ও নতুন পোষাক, পিঠা, পায়েশ, মিষ্টি ও বাঙ্গালী সংস্কৃতির সাথে মিল রেখে নানা ধরনের কার্টুন হাতে নিয়ে, ঢাক, ঢোল, কাঁসার ঘন্টা বাজিয়ে গান গেয়ে আনন্দ মিছিল করা ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ উপজিব্য হয়েছে। পয়লা বৈশাখ একসময় গ্রামীন মানুষের জীবনের প্রানের অংশ হিসাবে উদযাপিত হতো। এটি এখন কেবল আর গ্রামীন জীবনে নয, বরং অনুষ্ঠান উদযাপনে পরিবর্তন হয়ে নগর সভ্যতার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সম্মান বা মর্যাদা রক্ষার অপরিহার্য্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিধায় বাংলাদেশের মেট্রোপলিটন শহর গুলোর সমস্ত শহর জুড়ে এর আমেজ খুব কড়া ভাবে অনুভব করা যায়।

পয়লা বৈশাখে শুধু ঢাকার রমনা ও শাহবাগ এলাকায় লক্ষ লক্ষ নারীপূরুষের ঢল নামে। শাহবাগের শোভা যাত্রার ছবি স্যাটেলাইট চ্যানেন গুলোতে দেখার পর যে কারো মনে ব্রাজিল সহ তাবৎ পাশ্চিমাদের কার্নিভাল গুলোর ছবি উঠে আসতে পারে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত বড় বড় কার্নিভাল গুলোর প্রস্তুতি শুরু হয় অনুষ্ঠানের দিন ক্ষনের কয়েক মাস আগে থেকেই। বাংলাদেশের ঢাকার পয়লা বৈশাখ উদযাপনের শোভাযাত্রার প্রস্তুতি ও রমনা বটমূলের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির কাজটা যথাক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের “চারুকলা ইনস্টিটিউট” ও “ছায়ানট” এদুটি প্রতিষ্ঠান পয়লা বৈশাখের কয়েক মাস আগে থেকেই তাদের প্রস্তুতি পর্ব গ্রহন করে থাকে। এভাবে বিশ্বের বড় বড় কার্নিভাল গুলোর সাথে বাংলাদেশের ঢাকার পয়লা বৈশাখ উদযাপনের তুলনা মূলক চিত্র উপলব্দী করতে বাধ্য।

রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে স্হানীয় প্রশাসনের ব্যবস্হাপনায় উপজেলা পর্যায়ে গ্রামীন বৈশাখী মেলায় ঐহিত্য কতটা ধরে রাখা সম্ভব?
বিগত কয়েক বছর যাবত দৃশ্যমান হয় যে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ও স্হানীয় প্রশাসনের ব্যবস্হাপনায় উপজেলা পর্যায়ে বৈশাখী মেলা উদযাপনের মাধ্যমে বাঙ্গালীর ঐতিহ্য ধরে রাখার প্রানান্ত চেষ্টা করা হচ্ছে। এধরনের চেষ্টায় কতটা গ্রামীন ঐতিহ্য কতটা সংরক্ষণ করা যাবে তা প্রশ্ন সাপেক্ষ। কেননা, গ্রামীন মেলা ও উৎসবরে প্রাণ হলো কামার, কুমোর, পাল, তাঁতি, ধোপা, নাপিত, ঢাক, ঢোল, করতাল, কাসার ঘন্টা ইত্যদি। আজ এসব সম্প্রদায় ও ঐসব সম্প্রদায়ের বাদ্যযন্ত্র গুলোর অবশিষ্ঠাংশ উপজেলার পর উপজেলায় খুঁজে পাওয়া ভার। যে জনগোষ্ঠীর সব সম্প্রদায় তাদের জীবন ও জীবিকার সাথে সম্পৃক্ত কাজ কর্মের মাধ্যমে এসব উৎসব ধারণ করে থাকে, তাদের কেহ দেশান্তরি হয়েছে, কেহবা আর্থিক নিরাপত্তার জন্য পেশা পরিবর্তন করেছে, কেহবা সামাজিক নিরাপত্তার জন্য এলাকা ত্যাগ কর শহরমূখী হয়েছে। ফলে উপজেলা পর্যায়ে সরকারী তত্তবধানে বর্তমান গ্রামীন বৈশাখী মেলা আমাদের প্রাচীন ঐহিত্য ধারণ করাতো দূরের কথা, বরং অপসংস্কৃতি ও কুসংস্কৃতির আগমন ঘটাচ্ছে।

বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে চৈত্রসংক্রান্তি ও বাংলানববর্ষ উদযাপনের ঐহিত্য ম্রিয়মান হবার কারণঃ
দৃশ্যমান অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, আবহমান কাল হতে সূর্য্য সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী হিন্দু সম্প্রদায়ের কথিত বারমাসের তের পার্বন অনুষ্ঠান হয়। কালে কালে এগুলো শুধু সনাতনী সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের অনুষ্ঠানে রুপ নিয়েছিলো। কিন্তু উপমহাদেশের এঅঞ্চলে ধর্ম ভিত্তিক চিন্তা চেতনা জাগ্রত হবার পর অন্যান্য অনুষ্ঠান গুলোর মতো গ্রামাঞ্চলে চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষের আনুষ্ঠানিকতা গুলোকে হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি বলে যুগের পর যুগ উপেক্ষা করা হয়েছে। কখনো কখনো কোথাও কোথাও অনুষ্ঠান উদযাপনে বাঁধা দেবার নজীরও আছে। এছাড়া নানা কারণে বাংলাদেশের এঅঞ্চল হতে সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন আসাম, ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ সহ পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলে স্হানান্তরিত হয়েছে। এসব কারনে বিগত ৫-৭ দশকের অধিক সময় অবধি চৈত্র সংকান্তি ও নববর্ষ উদযাপনের ঐতিহ্যগুলো ক্রমান্বয়ে কমতে কমতে শুন্যের কোটায় এসে দাঁড়িয়েছে। মূলতঃ একারণে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্হাপনায় ঐতিহ্য ধরে রাখার প্রানান্ত চেষ্টা করা হচ্ছে।

উপসংহার
অক্সিজেন ব্যতীত প্রানী যেমন জীবন ধারণ করতে পারে না, জল ছাড়া মাছ যেমন বাঁচতে পারে না, ঠিক তেমনি মানুষের সৃজনশীলতার জন্য সংস্কৃতির বিকল্প হতে পারে না। এটা দেরীতে হলেও আমাদের দেশের রাজনীতিবিধগন বুঝেতে সক্ষম হন। এবং এজন্য হাসপাতালে মৃতপ্রায় রোগীকে বাঁচিয়ে অক্সিজেন সরবরাহ করার মতো করে পয়লা বৈশাখ উৎসবে গ্রামীন মেলা উদযাপনের চেষ্টা করছেন। এদেশের উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধিতে ঐতিহ্য সংরক্ষণ করতে হবে। একই সাথে ঐতিহ্য ধারনকারী জাতি গোষ্টি তথা সংখ্যালঘু হিন্দু, আদিবাসী সহ সকল নৃগোষ্টির নিজস্ব সাংস্কৃতির চর্চার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

লেখক-  অরুন চন্দ্র মজুমদার (নিজস্ব অভিজ্ঞা ও অনুসন্ধান. বিভিন্ন সময়ের আর্টিকেল, বিশ্বকোষ ও সংগৃহীত তথ্যের আলোকে সংকলিত)

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s