আহবহমান কাল ধরে বাংলাদেশের মানুষরা বছরের শেষ দিন চৈত্র-সংক্রান্তি ও নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ কিভাবে পালন করতো?


Image result for সংক্রান্তি

সেই অজানা সময়কাল হতে এদেশের সনাতনী সম্প্রদায়, আদিবাসী ও বিভিন্ন নৃতাত্বিক গোষ্টি ভিন্ন ভিন্ন রীতিতে নববর্ষ পালন করে আছে। সনাতনী সম্প্রদায়ের পার্বনগুলো মধ্যে বছরের শেষ দিন ধরা হয় চৈত্র সংক্রান্তি। এদিনটিকে উপলক্ষ্য করে এসম্প্রদায়ের লোকজন তাদের ঘর, দোর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, নিত্য ব্যবহার্য তৈজস পত্র থেকে সব কিছুই পরিস্কার পরিছন্ন করে থাকে। প্রয়োজনে পুরাতন জীর্ণ ব্যবহার্য জিনিষ গুলো পরিত্যাগ করে নতুন জিনিস ক্রয় বা তৈরী করে নেয়। ছোট্ট বেলায় দেখেছি সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন চৈত্রসংক্রান্তির দিন খুব ভোরে বিছানা ত্যাগ করে এবং খড়কুটো ও শুকনো কিছু ঔষুধি লতা পাতার গাছ পোড়ানো ধোঁয়া আর আগুনের তাপ পোঁহানের পর অনেকটা পথ হাঁটাহাঁটি করতে। এই সময়ে এরা পুরোনো সব জীর্ণতা দূরীকরনের জন্য কিছু শব্দ উচ্চারণ করতে- যেমন “মশা মাছি দূর হও”, “রোগ বালাই দূর হও”, “দূঃখ কষ্ট দূর হও” “অশান্তি দূর হও” ইত্যাদি ইত্যাদি। এরপর স্নানাদি শেষ করে গৃহ দেবতা কিংবা যে যার ইষ্ট দেবতার পুজো শেষ করে ঐদিনের কাজে লেগে পড়ে। মহিলারা ঐদিন দুপুরের খাবার আয়োজনে ব্যস্ত থাকেন। দূপুরের আয়োজনের মধ্যে থাকে পাঁচ মিশালী সবজী, খই, মুড়ি, দধি মিষ্টি। তবে মাছ মাংশ বা অন্য কোন আমিষ জাতীয় রান্না ঐদিন হয় না। বলাবাহুল্য এলাকা ভেদে এর পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। বিকেলের দিকে চড়ক পূজো ও মেলায় অংশ গ্রহন করে। রাত্রে হরি কীর্তনের মাধ্যমে পুরাতন বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরের উদ্দেশে পরবর্তী দিনের জন্য অপেক্ষা করতে।
চৈত্রসংক্রান্তির রাত্রী অবসানে পরবর্তী দিন সূর্য উদয় হতেই নববর্ষ শুরু হয়। এদিনও সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষ গুলো ঘুব ভোরে বিছানা ছাড়েন এবং ঘর থেকে বের হয়ে সূর্য প্রনাম করার পর পর পুকুরে বা স্নানাগারে যায় স্নান সন্ধ্যা করতে। কেহ কেহ ভেজা কাপড়ে সূর্য দেবতার উদ্দেশ্যে প্রনাম করে গৃহ দেবতা তথা ইষ্ট দেবতার পূজো সম্পন্ন করেন। তারপর ঘরের কিংবা বাড়ী সবাই একত্রে বসে মুড়ি, মুড়কি, খই, দই, মিষ্টি, জল গ্রহন করে – এবং এরপর যে যার মতো কাজে লেগে যায়। ব্যবসায়ীরা এদিন হালখাতা অনুষ্ঠান তথা বকেয়া আদায়ের উদ্দেশ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে খদ্দেরদেরকে মিষ্টি মুখ করায়। প্রায় সকল শ্রেনীর মানুষ এদিন দূপুরের খাবারে মাছ, মাংস সহ যে যার মতো রাজভোগের ব্যবস্হা করে। রাত্রে গান বাজনা, হরি কীর্তন যোগদান করে। মূলতঃ সনাতনী সম্প্রদায় আবহমান কাল হতে এভাবেই চৈত্র সংক্রান্তি ও বৈশাখের প্রথম দিন উদযাপন করে এবং গ্রামের হিন্দুরা এখনো এভাবে চৈত্রসংক্রান্তি ও নববর্ষ পয়লা বৈশাখ উদযাপন করে থাকে।
আদিবাসি ও বিভিন্ন নৃগোষ্টির চৈত্র সংক্রান্তি অনুষ্ঠান পালন করেন এবং সেটিতে বৈদিক চাপ ষ্পষ্ঠ পরিলক্ষিত হয়। আদিবাসীরা চৈত্রমাসের শেষ দিনটিকে “ফুল বিজু” বলে। সমতলের হিন্দুরাও চৈত্রসংক্রান্তির দিনকে “ফুলবিশু” বলে। পয়লা বৈশাখকে বৈশাবী বলে। আদিবাসী ও নানান নৃগোষ্টির অনুষ্ঠান গুলো সাথে সমতলে বাস করা সনাতনী সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠান গুলোর মিল পাওয়া যাবে। এর কারণ রীতিনীতি গুলো অতিপ্রাচীন এবং একই সত্বার অন্তর্ভূক্ত।
(খন্ডিত অংশ) অরুন চন্দ্র মজুমদার।

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s