প্রশ্নঃবেদ ও বেদের বিষয় সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা চাই ।


প্রশ্নঃবেদ ও বেদের বিষয় সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা চাই ।

উত্তরঃ
বেদ ও বেদের বিষয় সম্পর্কে ধারণা প্রদান কঠিন একটি বিষয় । তার পরেও সুবিশাল বেদ ও বৈদিক সাহিত্য সম্পর্কে অমরা ধারণা লাভের চেষ্টা করতে পারি । যার ফলে আমরা প্রাথমিক ধারনা লাভ করতে পারি ।
আমরা সকলেই জানি বেদ চারটি যথাক্রমে … ঋক, যজুঃ, সাম ও অথর্ব । মহর্ষি কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস বেদকে চারভাগে ভাগ করেন । এ থেকে বোঝা যায় আগে চারটি বেদ ছিল না, ছিল একটিই । বস্তুত ঋকবেদের অনেক শ্লোক যজুর্বেদে ও সামবেদে পাওয়া যায় । তবে ঋক, যজুঃ ও সাম বলতে এক একটি মাত্র গ্রন্থ বোঝায় না । কারণ একখানি বেদ নিয়ে আলোচনা করলে বোঝা যাবে একটি বেদের ভিতর আছে অনেকগুলি বিভাগ বা সম্পূর্ণ গ্রন্থ । তাই বেদকে আমরা সম্পূর্ণ সাহিত্য বলে অভিহিত করতে পারি । এই সাহিত্যকে মোটামুটি তিনটি বিভাগে ভাগ করেছেন পন্ডিতেরা- মন্ত্র বা সংহিতা, ব্রাহ্মণ ও উপনিষদ । সমগ্র বেদকে আবার দুটি ভাগ- কর্মকাণ্ড ও জ্ঞানকাণ্ডে ভাগ করা হয়েছে। কর্মকাণ্ড মূলত ব্রাহ্মণ ও সংহিতা নিয়ে আর জ্ঞানকাণ্ড মূলত আরণ্যক ও উপনিষদ।

১. মন্ত্রগুলির সংগ্রহকে সংহিতা বলে, যেমন ঋকবেদ সংহিতা, যজুর্বেদ সংহিতা ইত্যাদি । সব বেদেরই রয়েছে একটি সংহিতা, কিন্তু ব্রাহ্মণ ও উপনিষদ অনেক ।

২. যজ্ঞের প্রয়োজনীয় মন্ত্রগুলির ব্যাখ্যাসহ গদ্যগ্রন্থের নাম ব্রাহ্মণ । তাই সংহিতা ও ব্রাহ্মণে আমরা পাই যাগ-যজ্ঞ প্রভৃতির অনুষ্ঠান ও তার প্রণালীর বিবরণ, কেন করব এই যজ্ঞ- সেই উদ্দেশ্যের ব্যাখ্যা, ফলস্বরূপ কী লাভ হবে তার সুষ্ঠু বিবরণ ও দার্শনিক ব্যাখ্যা ।

৩. ঈশ্বর সম্বন্ধীয় যাবতীয় জ্ঞানের কথা রয়েছে এই উপনিষদে । এই উপনিষদই ১০৮-খানি তবে উপনিষদের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন মতবাদ রয়েছে । শঙ্করাচার্য তাঁর ভাষ্যে ১৪-টি উপনিষদের কথা বলেছেন । সম্রাট সাজাহানের জ্যেষ্ঠ পুত্র দারা শিকো ফরাসীতে যে উপনিষদগুলির অনুবাদ করান, তাদের সংখ্যা পঞ্চাশ । আর মুক্তিক উপনিষদ থেকে ১১২-টি উপনিষদের সন্ধান পাওয়া যায় । শ্রী বাসুদেব লক্ষ্মণ শাস্ত্রী মুম্বাইয়ের ‘নির্ণয় সাগর প্রেস’ থেকে ১১২- টি উপনিষদের সঙ্কলন প্রকাশ করেছেন ১৯৮০ সালে । কিন্তু এই উপনিষদগুলি সব বৈদিক যুগের উপনিষদ নয় । যে উপনিষদগুলি চারটি বেদের কোন না কোন অংশের সঙ্গে যুক্ত, তাদের সংখ্যা হল ১২ টি । এগুলি প্রাচীন ও বৈদিক উপনিষদ হিসাবে সর্বজন স্বীকৃত । এগুলি যথাক্রমে…
ঈশ, কেন, কঠ, প্রশ্ন, মুণ্ডক, মাণ্ডুক্য, তৈত্তিরীয়, ঐতরেয়, শ্বেতাশ্বতর, ছান্দোগ্য, বৃহদারণ্যক এবং কৌষীতকি উপনিষদ । কৌষীতকি ছাড়া বাকী এগারোটি উপনিষদের ভাষ্য আচার্য শঙ্কর করেছেন । এগুলি প্রাচীন উপনিষদ ।

যাই হোক বেদের কথাতে আবার ফিরে যাই । বেদ কে রচনা করেন এ বিষয়ে হিন্দুদের মধ্যে অনেক মতভেদ আছে ।
১. সাধারণত প্রাচীন বিশ্বাস অনুযায়ী বেদ মানুষ রচনা করেনি । বেদ অপৌরুষেয় এবং চিরকালই আছে, প্রলয় কালে ঈশ্বর বেদকে ধারণ করেন । বেদ অনাদি অনন্ত ।
(## বেদের রচিয়তা দেখতে প্রশ্ন ২৮ দেখুন##)

২. আর একটা মত, বেদ ঈশ্বরসৃষ্ট তবে ঈশ্বর নিজেই অগ্নিস্তব, ইন্দ্রস্তব ও নদীস্তব, অশ্বমেধ যজ্ঞ ইত্যাদি রচনা করেছেন এটা ঠিক গ্রহণযোগ্য নয় । কারণ সহজ, যিনি সর্বোপরি অবস্থান করেন, তাঁর তো স্তব করার কোন প্রয়োজন নেই । ঋষিরা ধ্যানে ঈশ্বর কৃপায় সেসব জানতে পেরেছেন । বেদ যেভাবেই রচিত হোক, কোন একজন একে সঙ্কলন ও বিভাগ করেছেন, এটি সন্দেহাতীত ।

ঋকবেদের মন্ত্র ছন্দবদ্ধ স্তোত্র যেমন ইন্দ্রস্তোত্র, অগ্নিস্তোত্র, বরুণস্তোত্র ।
যজুর্বেদের মন্ত্র গদ্যে রচিত এবং যজ্ঞানুষ্ঠানই তার উদ্দেশ্য ।
সামবেদের মন্ত্র হল গান ।

ঋকবেদের মন্ত্রও গাওয়া হয় ।

অথর্ব বেদের মন্ত্রের উদ্দেশ্য মারণ, উচাটন, বশীকরণ ইত্যাদি।

গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন- ‘বেদানাং সামবেদোহস্মি দেবানামিত্যাদি’ অর্থাৎ ‘বেদের মধ্যে আমি সাম’ ।

বি:দ্র: এটি বেদ সম্পর্কে নগণ্য ধারণা ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিত উত্তরের আশা রইলো।

#হিন্দুধর্মজিজ্ঞাসা-বই।

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s