জ্ঞানের স্তর – সাধারন সংক্ষিপ্ত আলোচনা


জ্ঞানের স্তর – সাধারন সংক্ষিপ্ত আলোচনা
দেবাশীষ ভট্টাচার্য্য

Image result for knowledge

জ্ঞান বিষয়টা খুবই কঠিন। তা আবার যদি সঠিক জ্ঞানের বিষয় হয়। তাহলে তো কথাই নেই। আজ একটু জ্ঞানের নানা স্তর নিয়ে হালকা আলোচনা করি। উদাহরনের সাহায্যে। ধরুন “শ্রীমদ্ভাগবত গীতা” এই কথাটি দেখিয়ে বিভিন্ন মানুষকে বলতে বলা হোল। প্রথমে একজনকে দেখানো হোল যে হয়েতো নিরক্ষর। এই লেখাটি দেখে কি মানে বুঝবে? হয়েতো বলবে কোন ছবি বা কোন লেখা। কিন্তু কি লেখা তা বলতে পারবেনা। এরপর ক্লাস ৫এর একটি ছেলেকে বলতে বললে সে শুধু উচ্চারন করে হয়েতো পরে দেবে। এবার যদি কোন পুরোহিতের কাছে দেখানো হয় তিনি এটা পড়ার সাথে সাথে এর শ্লোকের কথাগুলিও মাথায় এসে যাবে, এর ভেতরের কৃষ্ণার্জুনের আলোচনার কথা, সেই যুদ্ধের ছবি মাথায় এসে যাবে। এবার এই লেখাটি সত্যজ্ঞানী কোন পন্ডিত বা সাধককে দেখালে তিনি তা দেখার সাথে সাথেই মনে মনে ভক্তি আর আবেগে সেই আধ্মাত্মীক জগতে প্রবেশ করবেন যেখানে তাঁর মাথায় সেই বৈদান্তিক সত্যগুলি ভেসে উঠবে। তখন শুধু যুদ্ধ বা বাক্যালাপের বাইরে গিয়ে এর অন্তর্নিহীত তত্যকথাগুলি এসে যাবে তাঁর মাথায়। এভাবেই একটি কোন বস্তুর প্রতি বিভিন্ন ধরনের জ্ঞানযুক্ত মানুষের চিন্তা বা জ্ঞানের সীমা বিভিন্ন। তাই কোন বিষয়কে জানতে বা বিশ্লেশন করতে সঠিক ও সম্পূর্ন জ্ঞান খুবই জরুরি। আর ঠিক সেই অর্থেই, না যেনে বা সঠিক ভাবে কিছু না জেনে সেই নিয়ে তর্ক বা কথা বলা উচিত নয়। নিজেকে মহা পন্ডিত ভাবা, অথচ নিজের কাছে সম্পূর্ন ও সঠিক জ্ঞান নেই যে বিষয়ের ওপর সেই বিষয়কে বিরাট জ্ঞানির ন্যায় বিশ্লেষন করতে যাওয়া এবং নিজের যুক্তিকে খাড়া করতে ভুলভাল কথা বলে তর্ক করে নিজেকে সঠিক প্রমানের চেষ্টা করা আমার মতে বিরাট অন্যায়। যা আজকাল অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। আর এরফলে বেড়ে চলেছে হিংসা, মারামারি। কিন্তু এটা সকলেই ভাবা বা জানা উচিত যিনি সত্যিকারের জ্ঞানী হবেন তিনি নিজেকে তো একে প্রমান করতে গিয়ে তর্ক করবেন না আবার তেমনই তিনি ঝগড়াও করবেন না। কারন সত্যিকারের জ্ঞান পেলে সে শান্ত, সুন্দর ও নম্র হয়ে যায়। ঝগরা ইত্যাদি অজ্ঞানতার লক্ষন। এরও একটা উদাহরণ দি। উদাহরন যখন পরবেন সর্বদাই এটা মাথায় রাখতে হবে যে এর ব্যাতিক্রমও থাকে। সবার ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হয়ে না। কিন্তু বেশিরভাগের ক্ষেত্রে যা হয় সেটা ধরেই তৈরী হয় উদাহরন। যাই হোক, বলি। যখন আমরা মাধ্যমিক পাশ করি ভালোভাবে, তখন বেশ গর্ব হয়। কেউ যখন বলে “হ্যাঁ ও তো খুব ভালো পড়াশোনায়”, বুকটা যেন দশহাত হয়ে যায়। এরপরে উচ্চমাধ্যমিকেও তাই। তখন আরো গর্ব। তারপর যখন অনার্স নিয়ে পরতে ঢুকি, তা শেষ হলে মনে হয় নাঃ, এই বিষয়টা নিয়ে আরো কিছু জানতে হবে। তখন আমরা মাস্টার ডিগ্রী করতে ভর্তি হই। তা পাশ করে গেলে মনে হয় এখন যেন কিছু বাকি থেকে গেলো জানার। তখন পি.এইচ.ডি করতে ঢোকা। সেটা যখন শেষ করলাম, মনে হোল যাঃ, কিছুই যেন জানা হোলনা। এতো জ্ঞানের মহা সমুদ্র। কতটুকুই আর শিখলাম জীবনে। আর এটাই হোল জ্ঞানের ধাপ। এর মাধ্যমে এটাই বোঝাতে চাইলাম যে সল্পজ্ঞানী ভাবে সে অনেক কিছু জানে। সে পন্ডিত। কিন্তু যে আসল পণ্ডিত, তিনি এই ভেবে কখনই গর্ব করবেন না যে আমি সবজান্তা। আর এই কারনেই আইনস্টাইনও বলেছিলেন “আমি জ্ঞানসমুদ্রের পাড়ে নুড়ি কোরাচ্ছি মাত্র”।

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s