পুরাণ নিয়ে আলোচনা-৭


পুরাণ নিয়ে আলোচনা– ৭


পুরাণধর্মী শাস্ত্রের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য –
বেদের পরে ভারতে দুটো ধর্মের আবির্ভাব হয়েছিল- জৈনধর্ম আর বৌদ্ধধর্ম। এদের মধ্যে জৈনধর্ম একটা বিশেষ গোষ্টির মধ্যে আবদ্ধ থেকে গেল। কারণ এমন এমন কঠোর তপস্যার কথা জৈনধর্মে বলা হয়েছে যেগুলো সাধারণ মানুষের পক্ষে পালন করা অসম্ভব ছিল। তবে জৈনরা নিজের ধর্মের প্রতি অত্যন্ত নিষ্ঠাবান এবং গোঁড়। জৈনদের প্রচুর আচার বিধি আবার হিন্দুদের সাথে এমন ভাবে মিলে মিশে গেছে যে মাঝে মাঝে দুটোকে আলাদা করা খুব কঠিন হয়ে যায়। অন্য দিকে জৈনরা অহিংসা ব্রত অনুশীলন করার জন্য অনেক ধরণের কাজ করে না, কৃষিকাজ করবে না, সৈন্য বাহিনীতে কাজ করবে না। সেইজন্য তারা একমাত্র ব্যবসাবাণিজ্যের পেশাকেই অবলম্বন করে জীবন ধারণ করে। অহিংসাব্রত, নিরামিশ খাওয়া এই জিনিষগুলো জৈনদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন। যার জন্য জৈনধর্ম কোন দিন সাধারণের কর্ম হতে পারলো না।
অন্য দিকে বৌদ্ধধর্ম রাতারাতি সাধারণের ধর্ম হয়ে গিয়েছিল। ভগবান বুদ্ধের তিনশ বছর পর সম্রাট অশোকের আবির্ভাবের সময় সারা ভারতে বৌদ্ধ ধর্ম ব্যাপক ভাবে প্রসার লাভ করেছিল। বৌদ্ধধর্মের এই প্রসার ও জনপ্রিয়তার স্থায়িত্ব সম্রাট হর্ষবর্ধন পর্যন্ত বজায় ছিল। প্রায় হাজার বছর যাবৎ বৌদ্ধধর্মের প্রভাব ভারতকে গ্রাস করে রেখেছিল। বৌদ্ধধর্মের কিছু কিছু দুর্বলতার মধ্যে প্রধান দুর্বলতা ছিল বৌদ্ধধর্ম পুরোপুরি সন্ন্যাসীদের, সাধারণ মানুষের জন্য নয়। সাধারণ মানুষ জানে একটু তুলসী পাতা, মহাপ্রসাদ খেয়ে, গঙ্গাজল পান করে মন্দিরে গিয়ে ঠাকুর প্রণাম করেই আমার সব ধর্ম পালন হয়ে যাবে আর আমিও শান্তি পেয়ে যাব, কে বাবা অত ত্যাগ বৈরাগ্য আর শাস্ত্রের যুক্তি বিচার করতে যাবে! শান্তি যদি চাও তো অত শাস্ত্র পাঠের কোন প্রয়োজন নেই, শুধু এই ভাবে ধর্মাচরণ করে যাও তাতেই শান্তি পাবে। সাধারণ মানুষ এটাই চায়।
ক্রমশঃ

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s