বেদের পরিচয়-৭


বেদের পরিচয়-৭

বেদসংহিতা তুলে ধরেছেন বিশ্বদরবারের সন্মুখে সকল প্রকার হিতকর বস্তুর সারপদার্থটি। যদি কিছু জগতে গ্রহণীয় হয়, তবে মঙ্গলকামীর পক্ষে বেদশাস্ত্রই সর্ব্বাগ্রণী। যদি সর্ব্বকল্যাণকর অবিনশ্বর পরম-রত্নের সন্ধান করতে হয়, তবে বেদই তাহা সম্যক্‌ প্রদান করতে যোগ্যতম বলে চিরপরিচিত। ভারতের ঋষিসন্তানগণের নিত্যধর্ম্মের মূল ও অবলম্বনস্বরূপ এই বেদ। রাক্ষসী-স্বরূপিণী পাপিয়সী নাস্তিকতা স্বতঃই পরমশত্রুর ন্যায় মানব-জাতিকে ধর্মপথ হতে বিচ্যুত করে অন্তিমে ভগবদ্বিদ্বেষে নিযুক্ত করতে যত্নবতী; তাদের এই অকল্যাণকারণী চেষ্টার হাত থেকে রক্ষা করতে বেদই সর্ব্বোত্তম শক্তিশালী বান্ধব। সনাতন সিদ্ধান্তের বেদই একমাত্র আগম এবং পরোক্ষ-বস্তুর বিভিন্ন ধর্ম্মাদির তারতম্যবিচারে ভ্রমশূন্যতা সূচনাকারী বেদ। পুরাকালে কতশত মহর্ষি-রাজর্ষিই না বেদপ্রভাবে সংসারে সুখ-সম্পত্তির অধিকারী হয়েও অন্তিমে পরাৎপর ভগবানের অশোক-অভয়-চরণামৃত-পানে প্রমত্ত হয়ে নিত্য-কল্যাণ প্রাপ্তিতে ধন্যাতিধন্য হয়েছিলেন। গোভিল-আশ্বলায়ন-মনু প্রভৃতি কত কত মহর্ষি বেদ্র বিধিনিষেষ-বাক্য অনুশীলন করে সূত্র-সংহিতা, স্মৃতি-শাস্ত্র সকল রচনা করে অমরত্ব লাভ করে গেছেন-মার্কণ্ডেয়-ব্যাস উপদেষ্টাগণ বেদের আখ্যায়িকাভাগ পল্লবিত করে বিবিধ বিস্তৃত ইতিহাস-পূরাণ আদি প্রচার করে বিশ্বের মহা মঙ্গল বিধান করে গেছেন-কঠ-বাল্মীকি প্রভৃতি মুনিগণ বেদের কবিত্বের আশ্রয় করেই ‘আদি-কবি’ বলে যশঃ অর্জ্জন করেছেন- যাজ্ঞবল্ক্য-পাণিনি প্রভৃতি মনীষিগণ বেদের বোধ সরল করবার মানসে কতই বা পরিশ্রম করে ব্যাকরণশাস্ত্র প্রচার করে গেছেন-স্থৌলাপ্টীবী-শাকপূনি-যাস্ক প্রভৃতি ঋষিগণ বেদের শব্দার্থ হৃদয়ঙ্গম করাবার জন্য অঙ্কশাস্ত্র প্রণয়ন করেছিলেন- বেদের ভাগবত বিবাদ মীমাংসা করে জৈমিনি প্রভৃতি মহামুনিগণ শিষ্যপরম্পরায় অটুটকীর্ত্তি লাভ করেছেন-মহর্ষি-কপিলাদি যোগিগণও বেদের দোহাই না দিয়ে চলতে সমর্থ হন নাই এবং বেদের কোটি অংশের এক অংশ আশ্রয় করেই বর্ত্তমানকালে কতশত ব্যক্তিই না সাহিত্যিক, কবি, জ্ঞানী, ধার্ম্মিক প্রভৃতি আখ্যায় যশঃশোভা লাভ করে সৌভাগ্যার্জ্জন করেছেন। এই বেদশাস্ত্রের অধ্যয়ন হতেই পুরাতন আর্য্যগণ বহুপ্রকার অস্ত্র-শস্ত্র ব্যোমযান-ধূমযান সকল আবিষ্কার করে তাঁদের আকর কুশলতার পরিচয় দিয়েছেন। যে আর্য্যাবর্ত্তে শতসহস্র রাজবিপ্লব, রাষ্ট্রবিপ্লব, বিধর্ম্মীর কূটনাট্য, ম্লেচ্ছের কূটনীতি সত্ত্বেও বেদ ভাস্কর এতাবৎকালে সমুজ্জ্বল থেকেই আজ তমসাবৃত হতে বসেছেন, সেই অতীতের পরমগৌরমস্বরূপ বেদসংহিতার পরিচয় জ্ঞাত হতে এবং তাঁহার মর্য্যাদা রক্ষার্থে কঠিনতম হৃদয়ও কি কাঁদিয়া উঠবে না? আজ এই মহাদুর্দ্দিনে বাংলার আর্য্যসন্তানগণের হৃদয় কি এই ক্ষোভ-বারিতে বিগলিত হবে না? আমরা নিকট ভবিষ্যতের দিকে লক্ষ্য করে আশাবদ্ধ মাত্র পোষণ করছি।
ক্রমশঃ-

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s