বেদের পরিচয়- ১০


বেদের পরিচয়- ১০ (পড়ুন জানুন শেয়ার করুন)


আমাদের জীবনসর্ব্বস্ব পরম মঙ্গলের আশ্রয়স্বরূপ বেদ-মহামণি, কোন এক সময়ে ভারতের প্রতি-ঘরে প্রতি-শরীরে মাথার রত্নরূপে দেদীপ্যমান ছিল। সর্ব্বত্র তখন বেদধ্বনিতে মুখরিত হোত- প্রতি বর্ষে অসংখ্য যজ্ঞ সম্পাদিত হইত। কারোও কোন প্রকারের শঙ্কা ছিল না। আস্তিকতা ও ধর্মভাবে দেশ ভরপূর ছিল এবং সার্থ-সুস্বরসমন্বিত বেদসংহিতা তখন দ্বিজাতিগণের কন্ঠাগ্রে থাকত। কিন্তু সময় চিরদিন এক রকম থাকে না, কালক্রমে বৈদিক ক্রিয়া অজ্ঞান অন্ধকারে আচ্ছাদিতা হতে লাগল। যে দেশে অসংখ্য বেদজ্ঞ ছিলেন, সেখানে আজ বহু অনুসন্ধান করলে ক্বচিৎ কোথাও দুই একজন মাত্র বেদজ্ঞ পাওয়া যায়। তারমধ্যে আবার মন্ত্রার্থ-জ্ঞানসহ সুবেদজ্ঞ অতি বিরল-পাঠমাত্র জ্ঞাতা বৈদিকই অধিক। যদি এই সময় একজন সামবেদজ্ঞের প্রয়োজন হয়, তবে অনুসন্ধান করে প্রাপ্ত হওয়া এক দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। বারাণসী হতে কান্যকুজ্ব পর্য্যন্ত যে দেশ বেদবিদ্যার ভাণ্ডার ছিল, সেই বারাণসীতেই বা অযোধ্যাদি ধর্মক্ষেত্রে বর্ত্তমান সময়ে দুই একজন মাত্র বেদজ্ঞ পাওয়া যায়।
হিন্দুধর্ম্ অন্তর্গত বিভিন্ন সৎসম্প্রদায়ের বিদ্বৎ-সমাজে স্ব স্ব সাম্প্রদায়িক বন্ধনে এত ব্যাপৃত হয়ে পড়েছেন যে, বেদ কি বস্তু এবং তাতে কি আছে এই সম্বন্ধে তাঁদের কৌতূহল পর্য্যন্ত জাগ্রত হয় না। তাঁরা নিজ সাম্প্রদায়িক ভজনের নামে বেদাধ্যায়নে সময় বৃথা নষ্ট হবে প্রভৃতি বাক্যের প্রচারদ্বারা স্বীয় ভজন উৎকর্ষ্য প্রতিপন্ন করে ভজনানন্দী নামের প্রতিষ্ঠা লাভের গুপ্ত আশা হৃদয়ে পোষণ করেই বেদের প্রতি তাচ্ছিল্য করে শ্রুতিশাস্ত্র-নিন্দনরূপ অপরাধ করতেও ত্রুটী করেন না। কত বড় দুঃখের বিষয় যে, এক এক সাম্প্রদায়িক গ্রন্থের উপর কত কত টিকা-টিপ্পনী হয়ে গেছে, কিন্তু ভগবৎ-বিষয়ক জ্ঞানের যে মূল আশ্রয়-সর্ব্বশাস্ত্রের যে প্রাণস্বরূপ-যাবতীয় সম্প্রদায়প্রবর্ত্তক জগদ্‌গুরু আচার্য্যগণের প্রতিপাদ্য বিষয়ের যে মূলাধার, সেই বেদের অর্থবিস্তারের নিমিত্ত দুই চার ভাষ্যও পাওয়া যায় না। উবট, সায়নাচার্য্য, মহীধর এবং ইদানীন্তন পণ্ডিত মিশ্র ও স্বামী দয়ানন্দ ব্যতীত বেদার্থ-জ্ঞানার্জ্জনের নিমিত্ত কয় জন সাম্প্রদায়িক মহাত্মা বেদ ব্যাখ্যা করবার জন্য জীবন নিয়োগ করেছেন? আজ এই সুবিস্তীর্ণ ভারতবর্ষে সুবেদজ্ঞ বিদ্বানের এক রকম সম্পুর্ণ অভাব বললেও অত্যুক্তি হবে না। তথাপি হৃদয়ে আশাবদ্ধ পোষণ করছি যে, আবার এমন এক সময় আসবে যখন কালচক্রের গতির পরিবর্ত্তনের সঙ্গে সঙ্গে বৈদিক যুগের সুষমা বিস্তারিত এবং সর্ব্ব জগতে বেদের নিগূঢ় ধর্ম্ম প্রসারিত হয়ে, অতীতের গৌরব-বিজয়-ডঙ্কা নিনাদিত করবে। এইজন্য এখন হতেই ধর্মপ্রাণ পণ্ডিতগণের মধ্যে বেদ-বিদ্যার আলোচনা হওয়া বিশেষ আবশ্যক। ইহা হতেই জীবের পরম মঙ্গল সাধিত হবে।
ক্রমশঃ-
সৌজন্যে- শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা স্কুল​ (কপি নয় শেয়ার করুন)

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s