বেদের পরিচয়- ১৫


বেদের পরিচয়- ১৫


জগতের কালনির্ণয়েই বেদের কাল নির্ণয় করা উচিত। ত্রিকালজ্ঞ ভগবানের অভিন্ন ভগবজ্‌জ্ঞানস্বরূপ বেদশাস্ত্রকে কালাধীন করতে হলে, মনুস্মৃতি প্রমাণ এই যে-
মনুসংহিতা, অধ্যায় ১, শ্লোক ৬৮-৭৩, ৭৯-৮০।
#হে মহর্ষিগণ! ব্রহ্মার দিবারাত্রির ও সত্যত্ৰেতাদি এক এক যুগের যে পারমাণ, তা আমি ক্রমে ক্রমে সংক্ষেপে আপনাদিগকে বলিতেছি, অবধান করুন। ৬৮ #দৈবপরিমাণে চারি সহস্ৰ বৎসরে সত্যযুগ হয়, সেই যুগের পূর্ব্ব চারি শত বৎসর সন্ধ্যা ও ঐ যুগের উত্তর চারি শত বৎসর সন্ধাংশ হয়। ৬৯
#ত্রেতা-দ্বাপরাদিতে যুগের পরিমাণ ক্রমে এক সহস্ৰ বৎসর করিয়া ও সন্ধাংশের পরিমাণ এক শত বৎসর করিয়া ন্যুন হইয়া যায় অর্থাৎ তিন সহস্ৰ বৎসরে ত্রেতাযুগ, তিন শত বৎসর যাহার সন্ধ্যা ও তিন শত বৎসর সন্ধাংশ। এই সহস্ৰ বৎসরে দ্বাপরযুগ, দুই শত বৎসর তাহার সন্ধা। দুই শত বৎসর সন্ধ্যাংশ হয়। সহস্ৰ বৎসরে কলিযুগ, এক শত বৎসর তাছার সন্ধা ও এক শত বৎসর সন্ধ্যাংশ হয়। ৭০
#ইতঃপূৰ্ব্বে মনুষ্যদিগের যে চারিযুগের সংখ্যা নিরূপিত হইল, ইহার স্বাদশ সহস্ৰ সংখ্যা পরিমাণে দেবগণের এক যুগ বলা যায়। ৭১
#দৈবপরিমাণের সহস্ৰ যুগসংখ্যাতে ব্ৰহ্মার এক দিন হয় এবং ঐ পরিমাণে তাঁহার এক রাত্রি হয়। ৭২
#দৈবপরিমাণে সহস্ৰ যুগ পরিসমাপ্তিতে ব্ৰহ্মার এক দিন হয় ও ঐ পরিমাণে তাঁহার এক রাত্রি হয়। এই পবিত্র দিবারাত্রির পরিমাণ যাহারা অবগত আছেন, তাহাদিগকে অহোরাত্রবেত্তা বলা যায়। ৭৩
#পরমাত্মা পূৰ্ব্বোক্ত স্বীয় অহোরাত্রের অবসানে প্রতিবুদ্ধ হয়েন এবং প্রতিবুদ্ধ হইয়াই ভূলোকাদি সৃষ্টি করিবার জন্য মনকে নিয়োগ করেন। ব্রহ্মার এইপ্রকার-নিয়োগের নাম মনঃসৃষ্টি। ৭৪
#পরমাত্মা সৃষ্টি করিবার ইচ্ছা করিলে পর সেই ইচ্ছায় প্রেরিত মহত্তত্ত্ব হইতে আকাশ উৎপন্ন হয়। ময়াদি আকাশের গুণ শব্দ বলিয়াছেন। ৭৫
#বিকৃতভাবাপন্ন আকাশ হইতে সুগন্ধ ও দুর্গন্ধবহু প্রবল পবিত্র বায়ু সমুদিত হয়। মন্বাদি উহার স্পর্শগুণ বলিয়াছেন।৭৬
#বিকৃতভাবাপন্ন বায়ু হইতে তমোনাশক, সকল বস্তুর প্রকাশক, দীপ্তিমান তেজ উৎপন্ন হয়; ঐ তেজের গুণ রূপ। ৭৭
#তেজ বিকৃতভাবাপন্ন হইলে বিকারজনক তেজ হইতে জল জন্মে, জলের গুণ রস। জল হইতে গন্ধগুণসম্পন্ন পৃথিবী উৎপন্ন হয়, মহাপ্রলয়াবসানে সৃষ্টির প্রথমে পঞ্চভূতের উৎপত্তিক্রম এইরূপ। ৭৮
#পুৰ্ব্বে দ্বাদশ সহস্ৰ সংখ্যায় পরিগণিত দৈবপরিমাণে যে যুগনির্ণয় করা হইয়াছে, তাহাকে একসপ্ততি গুণ করিলে যে ফল হয়, অর্থাৎ (৮,৫২,০০০) আট লক্ষ বাহান্ন সহস্ৰ দৈববৎসর, তাহাকে এক মন্বন্তর বলা যায়। ৭৯
#পরমেষ্ঠী পিতামহ ব্ৰহ্মা যেন ক্রীড়া করিতে করিতে বার বার অসংখ্য মন্বন্তর এবং অনন্ত সৃষ্টি ও সংহার করিতেছেন। ৮০
উক্ত প্রমাণ অনুসারে জগতের ও বেদের কাল নির্ণয় করা দুঃসাধ্য ব্যাপার। যা হোক, বেদ কোন প্রাকৃত সাহিত্যের সমপর্য্যায়ের গ্রন্থ নহেন-বেদ ব্রহ্মজ্ঞান-প্রতিপাদক অখণ্ডজ্ঞানস্বরূপ। সুতরাং পারমার্থিক বিচার ধারায় অবরোহ বা শ্রৌতপন্থা অনুয়ায়ীই এর উৎপত্তি অনুসন্ধান করা সত্যানুসন্ধিৎসুর পক্ষে মঙ্গল বিধায় আমরাও সেই শাশ্বতী ধারা অবলম্বন করলাম।
ক্রমশঃ-

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s