প্রশ্ন:- নবপত্রিকা কি ?


 প্রশ্ন:- নবপত্রিকা কি ?

Image result for nabapatrika

উত্তরঃ
নবপত্রিকা পূজা দুর্গাপূজার একটি বড় অংশ । চণ্ডীতে স্তব মন্ত্রে বলা হয়েছে “যা দেবি সর্বভূতেষু” অর্থাৎ সেই মহাশক্তি দেবী ভগবতী সকল কিছুতে বিরাজমানা। তাই দুর্গাপূজায় কিছু বৃক্ষকে মাতৃশক্তির প্রতিভূ হিসাবে পুজো করা হয়। এই সকল বৃক্ষের সংখ্যা নয়টি, সেগুলি যথাক্রমে
……… রম্ভা ,কাচ্চ, হরিদ্রা , জয়ন্তী , বিল্বদাড়িমৌ ।
অশোকা, মানকশ্বৈব, ধানাঞ্চ, নবপত্রিকা ।।
অনুবাদঃ
কলা, কচু, হরিদ্রা, জয়ন্তী, বেল, ডালিম, অশোক, মান ও ধান এরা নবপত্রিকা । এই সকল বৃক্ষের মধ্যে মাতৃ শক্তির অবস্থান চিন্তা করা হয় । এ সব বৃক্ষের অধিষ্ঠাত্রী দেবী ও রয়েছেন …… কলাতে ব্রাহ্মনী, কচুতে কালীকা, হরিদ্রাতে দুর্গা, জয়ন্তীতে কার্ত্তিকী, বেলে শিবা, ডালিমে রক্তদন্তিকা, অশোকে দেবী শোকরহিতা, মানে চামুন্ডা, ধানে লক্ষ্মী । এই বৃক্ষ গুলি আমাদের জন্যে অনেক উপকারি । যদিও সকল বৃক্ষই আমাদের প্রয়োজনীয় তারপরও এই বৃক্ষ গুলিতে বিশেষ কিছু গুণ আছে যা আমাদের মানব দেহের জন্যেও উপকারি। নিন্মে কিছু সংক্ষেপে বর্ণনা করা হল।

কলাঃ
এটি আমাদের একটি পরিচিত ফল। কলার বৈজ্ঞানিক নাম Musa Paradisiaca L. কলার ব্যাপক পুষ্টি গুণের জন্যে একে ফ্রুট অব ওয়ায়িজ বা জ্ঞানের ফল বলা হয়। কলাতে প্রায় সকল প্রকার ভিটামিন অর্থাৎ এ, বি, সি, ডি এবং ম্যাগনেশিয়াম, পটাসিয়াম, সুক্রোজ, ফ্রুকটোজ ও গ্লুকোজ ইত্যাদি অতি প্রয়োজনীয় উপাদান রয়েছে যেগুলো মানব দেহের জন্যে প্রচুর দরকারি ।

কচুঃ
কচুর বৈজ্ঞানিক নাম Colocasia Esculenta(L) Schott . কচু শাঁকে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন এ। এছাড়া রয়েছে প্রোটিন, শর্করা, স্নেহ, ভিটামিন বি-১(থায়ামিন) বি-২(রিবোফ্লাবিন) সি ক্যালসিয়াম , লৌহ ইত্যাদি গুরুত্ত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান ।

হরিদ্রাঃ
হলুদ কে সংস্কৃতে হরিদ্রা বলা হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম Curcuma Longa L. এটি সাধারণত মশলা এবং রূপ চর্চাতে ব্যাবহৃত হয় । হলুদে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন, খনিজ লবণ, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, লোহা ইত্যাদি আছে। তাছাড়া হলুদ ক্যান্সার প্রতিরোধি এবং মানব দেহে টিউমারের বৃদ্ধি রোধ করে ।

জয়ন্তীঃ
এই গাছটি সম্পর্কে তেমন একটা তথ্য দেয়া গেল না বলে দুঃখিত।

বেলঃ
বেল গাছ শিব ঠাকুরের প্রিয়। সংস্কৃতে একে শ্রীফল বলা হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম Aegle marmelos correa । এতে রয়েছে শর্করা, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, লৌহ, ক্যারোটিন, স্নেহ, থায়ামিন,রিবোফ্লাবিন, নায়াসিন, অ্যাসকোরিক আ্যাসিড, টার্টারিক আ্যাসিড, ইত্যাদি উপাদান । বেল কোষ্ঠ্যকাঠিন্য সমস্যায় খুব কার্যকর । এ ছাড়া অজীর্ন, পেটের গোলমাল ইত্যাদিতে খুবই উপকারি ।

দাড়িম্ব (ডালিম)ঃ এটি আমাদের পরিচিত ফল । বৈজ্ঞানিক নাম Punica granatum Linn । আমরা সবাই জানি রোগীদের পথ্য হিসাবে এটি বহুল ব্যাবহৃত। এটি রক্ত বর্ধক এবং মহিলাদের ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে ।

অশোকঃ
এটি মাঝারি আকারের চির সবুজ গাছ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Saraca indica । এই গাছ ভেষজ গুণ সম্পন্ন । আন্ত্রিক রোগ, উদারাময়, ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি ও স্ত্রীরোগ চিকিৎসায় এটি ব্যাবহৃত হয় ।

মানঃ
এটিও আমাদের পরিচিত । বৈজ্ঞানিক নাম Alocasia indica (Roxb)Schott । এটি রক্ত দুষ্টিনাশক।অশ্বরোগে উপকারি, সেই সাথে কোষ্ঠবদ্ধ রোগে কার্যকর । বাত ব্যাথা নিরাময়ে এটি ফলপ্রদ ।

ধানঃ
ধানের কথা বিস্তারিত নাই বা বলি, কারণ এ সম্পর্কে সবাই আমরা কম বেশি জানি ।

তথ্যসূত্র : ভেষজ উদ্ভিদ পরিচিতি (১ম/২য় খন্ড) ড.হাসনা হেনা বেগম ( চেয়ারম্যান উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগ ও ডিন বিজ্ঞান বিভাগ …জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ) আফসার ব্রাদার্স প্রকাশ কালঃ একুশে বইমেলা ২০১২

পরিশেষে একটি ভ্রান্তির কথা দিয়ে শেষ করি ।ছোট বেলা থেকে বড়দের মুখে আমরা অনেকে শুনে আসছি নবপত্রিকা নাকি গণেশের বউ । যা কি না একটি ভ্রান্তিমূলক এবং মহাপাপজনক কথা । পৌরানিক কাহিনীতে আমরা গণেশের স্ত্রীর নাম পাই ঋদ্ধি এবং সিদ্ধি । আসলে নবপত্রিকা কে ঘোমটা দিয়ে নতুন বধূর মত করে সাজানো হয়, যার ফলে অনেক জায়গায় নবপত্রিকা কে কলাবৌ নামে ডাকা হয় এবং দুর্গা পূজার চালচিত্রে তার অবস্থান হল মাতৃভক্ত গণেশের পাশে । সম্ভবত এই কারণে সমাজে ভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে ।উপরের বর্ণনায় আমরা স্পষ্টই দেখেছি নবপত্রিকা অধিষ্ঠাত্রী দেবীরা যেমন ধানে লক্ষী, হলুদে দুর্গা এরা সবাই মায়ের অংশ , তাই নবপত্রিকা গণেশের মা, তথা প্রকৃতি স্বরূপিণী মা দুর্গা । নিঃসন্দেহে আমাদের এই মহাপাপজনক ভ্রান্ত ধারণা থেকে উত্তোরন প্রয়োজন ।

 

Advertisements

One comment on “প্রশ্ন:- নবপত্রিকা কি ?

  1. জয়ন্তী গাছ সাধারণত দেখা যায় না। তবে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের দুর্গাপূজায় এই গাছ অবশ্যই ব্যবহার করে থাকেন। এই গাছের ডাল ছাড়া দুর্গাপূজা করা সম্ভবই না। সংস্কৃত ভাষায় এর নাম জয়ন্তিকা। জয়ন্তী গাছের বৈজ্ঞানিক নাম হল Sesbania sesban. এটি Fabaceac গোত্রের ফুল। গাছ সাধারণত ৩-৪ বছর বাঁচে। মাঝারি আকৃতির গাছটি লম্বায় ১০- ২০ফুট উচ্চতার হয়ে থাকে। এর কাণ্ড বাদামি রঙের হয়। পাতা পক্ষল যৌগিক। প্রায় ২০ জোড়া পত্রক থাকে। সাধারণত হলুদ, গোলাপি ও বাদামী এই ৩ ধরণের ফুল গাছভেদে দেখা যায়। ফুল ২ – ৩ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের হয়ে থাকে। ৪ টি পাপড়ির মধ্যে ২ টি উল্টানো বিস্তৃত ও ২ টি একত্রীভূত। পৌষমাসে ফুল ফোটে। ফল চিকন লম্বাটে, কাঁচা অবস্থায় সবুজ। শুকিয়ে গেলে বাদামি বর্ণ। প্রতিটি ফলে ২০-২৫টি বীজ থাকে। এই গাছ প্রাকৃতিক ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দুর্গাপূজায় এই গাছের ডাল ব্যবহার করে। দুর্গাপূজায় ষষ্ঠী পূজার সময় নবপত্রিকার একটি অংশ হিসেবে এটি ব্যবহার করা হয়।

    https://www.facebook.com/groups/banglargassgassra/permalink/1007934239305403/
    ei link e gele picture o paowa jabe.

    –Collected.

    Like

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s