বৈষ্ণব পদাবলী-রাধা তত্ত্ব



বৈষ্ণব পদাবলীকে অনেক সমালোচক বলেছেন বৈষ্ণব তত্ত্বের রসভাষ্য৷ কেউ আবার বলেছেন, বৈষ্ণব পদাবলী নাকি সমুদ্রগামী নদীর মতো প্রবাহমান ও গতিশীল৷যাইহোক, রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলার আঁড়ালে বৈষ্ণব পদাবলীতে যে অনেক তত্ত্বকথা প্রকাশ পেয়েছে,একথা স্বীকার্য৷ এই তত্ত্বগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল – শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যতত্ত্ব,রাধাতত্ত্ব, সাধ্য-সাধন তত্ত্ব ও অচিন্ত্যভেদাভেদ তত্ত্ব৷
আমাদের আলোচ্য হল রাধাতত্ত্ব৷ চৈতন্যদেবের আবির্ভাবের অনেক আগে থেকেই এদেশে বৈষ্ণব পদ রচিত হয়েছে৷ মহাপ্রভূ নিজে অনেকসময় বিদ্যাপতি ও চন্ডীদাসের পদ শুনতে শুনতে মূর্চ্ছা (দিব্যজ্ঞান হারানো) যেতেন৷ বৈষ্ণব তাত্ত্বিকেরা চৈতন্যজীবনীকাব্যগুলি ও কিছু প্রামান্য সংস্কৃত গ্রন্থের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্তে উপনিত হয়েছেন যে, শ্রীচৈতন্যদেব রাধাকৃষ্ণের যুগল অবতার৷ তিনি বহিরঙ্গে রাধা ও অন্তরঙ্গে কৃষ্ণ৷ তত্ত্বমতে শ্রীকৃষ্ণই মনের তিনটি সাধ পূরণের জন্য শ্রীরাধার ভাবযুক্ত হয়ে শ্রীচৈতন্যরূপে আবির্ভূত হলেন৷ সেগুলি হল–
১)রাধার প্রেমের স্বরূপ কেমন,
২)রাধার প্রেমে কৃষ্ণ কেমন আনন্দ অনুভব করেন,
৩)কৃষ্ণপ্রেমের আনন্দ অনুভব করে রাধার মনে কিরূপ আনন্দ হয়,
এই সমস্ত কিছু উপলব্ধি করার জন্য প্রয়োজন ছিল রাধাকৃষ্ণের একই দেহে অবস্থান৷ রাধাকৃষ্ণ যে একত্মা ও অভেদ দেহ, সেই প্রসঙ্গের সঙ্গে এই চৈতন্যতত্ত্বটির যোগ আছে৷ ‘চৈতন্যচরিতামৃত’ গ্রন্থে কৃষ্ণদাস কবিরাজ বলেছেন–
“রাধাকৃষ্ণ এক আত্মা দুই দেহ ধরি৷
অন্যোন্যে বিলাসে রস আস্বাদন করি৷৷
সেই দুই এক এবে চৈতন্য গোঁসাঞি৷
ভাব আস্বাদিতে দোঁহে হৈল এক ঠাঞি৷৷”
এই দর্শনের উপর ভিত্তি করেই পরবর্তীকালে গৌরচন্দ্রিকা ও গোরাঙ্গ বিষয়ক পদগুলি রচিত হয়৷ চৈতন্যদেব আবির্ভাবের পর পূর্ববর্তী বৈষ্ণব পদাবলীর সঙ্গে চৈতন্যদেব প্রবর্তিত গৌড়িয় দর্শন একস্রোতে মিশে যায়৷ তাই চৈতন্য পরবর্তী কবিরা আগে ভক্ত, পরে কবি৷
উল্লেখ্য, গৌড়িয় বৈষ্ণব পদকর্তারা শ্রীচৈতন্যের মতো প্রথমে রাধাভাবে ভাবিত হতেন এবং পড়ে কৃষ্ণসাধনা করতেন৷ বৈষ্ণবীয় রসশাস্ত্রে একেই বলা হয়েছে রাধা-তত্ত্ব৷ শ্রীচৈতন্যদেবও গুরু পরম্পরায় মাধবেন্দ্রপুরী, ঈশ্বরপুরীর কাছ থেকে রাধাভাবটি আত্মস্থ করেছিলেন৷ চৈতন্যজীবনীকাব্যে পাই –
“ইষ্টগোষ্ঠী কৃষ্ণকথা কহি কতোক্ষণ৷
প্রভুপদে ধরি রায় করে নিবেদন৷৷
কৃষ্ণতত্ত্ব, রাধাতত্ত্ব, প্রেমতত্ত্ব সার৷
রসতত্ত্ব লীলাতত্ত্ব বিবিধ প্রকার৷৷”
শ্রীমদ্ভাগবতে রাধা নামটির সেভাবে উল্লেখ না থাকলেও বিষ্ণুপুরাণ ও ব্রহ্মবৈবর্ত্তপুরাণে রাধাতত্ত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে৷ ব্রহ্মবৈবর্ত্তপুরাণে শ্রীমতি রাধা শ্রীকৃষ্ণের অর্ধাংশস্বরূপা, আবার তিনিই মূল প্রকৃতি; তিনিই সৃষ্টির আধার৷ তাই এই পুরাণে শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং রাধাকে বলেছেন — দুধে যেমন সাদা রঙ মিশে থাকে, অনলে যেমন দহিকা শক্তি বিরাজ করে, গন্ধ যেমন পৃথিবীকে আশ্রয় করে অবস্থান করে; আমিও তেমনি তোমার মধ্যে বিরাজ করছি৷ আমাদের কোনো ভেদ নেই৷ গৌড়ীয় বৈষ্ণব তাত্ত্বিকগণ মনে করেন, লীলারস আস্বাদনের জন্য কৃষ্ণ ও রাধা আলাদা দেহ স্বীকার করলেও চৈতন্যদেবের মধ্যে তাঁরা পুনরায় ঐক্য লাভ করেছেন৷ এই বিষয়টির সঙ্গে অচিন্ত্যভেদাভেদ তত্ত্বের যোগ আছে৷ বৃন্দাবনের গোপিকাগণের প্রেম ছিল কামগন্ধহীন, তাঁদের মধ্যে আত্মেন্দ্রিয় প্রীতিবাঞ্ছা ছিল না,ছিল কৃষ্ণেন্দ্রিয়-প্রীতিবাঞ্ছা৷ কবিরাজ গোস্বামী এই কাম ও প্রেমের পার্থক্য দিয়েছেন এভাবে–
“আত্মেন্দ্রিয়-প্রীতি-ইচ্ছা তারে বলি কাম৷
কৃষ্ণেন্দ্রিয়-প্রীতি-ইচ্ছা ধরে প্রেম নাম৷৷”
আর গোপিদের মধ্যে রাধার শ্রেষ্ঠত্ব নিরূপণ করেছেন এভাবে —-
“সেই গোপীগণ মধ্যে উত্তমা রাধিকা৷
রূপে গুণে সৌভাগ্যে প্রেমে সর্বাধিকা৷৷”
রাধার প্রেম যে গোপিগণের প্রেমের থেকে আলাদা, তা গৌড়িয় বৈষ্ণবতত্ত্বে স্বীকার্য৷শ্রীমতি রাধা শ্রীকৃষ্ণের হ্লাদিনী শক্তি৷ শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার প্রেমের তীব্র প্রকাশ ঘটেছে শ্রীচৈতন্যের মধ্যে৷ এই বিষয়টিই গৌড়িয় বৈষ্ণবতত্ত্বে রাধাতত্ত্বের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত৷ শ্রীমন্মহাপ্রভুর কাছ থেকেই এই তত্ত্বটি পরবর্তীকালে বৃন্দাবনের ষড়গোস্বামী জানতে পেরেছিলেন৷
আলোচক – ধনঞ্জয় চক্রবর্তী
(বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, কোচবিহার।

Advertisements

ভগবান, ইষ্ট ও গুরুতত্ত্ব


ভগবান, ইষ্ট ও গুরুতত্ত্ব
ভগবান, ইষ্ট ও গুরু এই তিন তত্ত্ব মিলে অনেক সম্প্রদায় অনেক সাধনের ব্যবস্থা দেখা যায়। সুতরাং এই তিন তত্ত্ব সম্বন্ধে একটু আলোচনা অত্যাবশ্যক। ভগবান্‌ সর্ব্বব্যাপী সচ্চিদানন্দ স্বরূপ। যাঁর থেকে বা যাতে জগৎ সৃষ্ট, পরিণত বা বিবর্ত্তিত, যিনি আমাদের সমস্ত সত্তার, শক্তির, জ্ঞানের আনন্দের মূল প্রশ্রবন, সেই ভগবান্‌ যেন একটি বিস্তৃত গালিচা, মায়ার চাদর গায়ে দিয়ে জগৎ-জীব রূপে প্রতীয়মান হয়েছেন। আমরা মায়ার আবরণের ভিতর দিয়ে তাকে দেখতে পাই না। এখন যদি কোনো জায়গায় চাদরটা একটু ছিঁড়ে যায়, তবে সেই ছেঁড়া স্থান দিয়ে আমরা গালিচার কতটুকু অংশমাত্র দেখতে পাব! সেই দেখতে পাওয়া অংশটুকু সর্ব্বতোভাবে গালিচার অনুরূপ-যদিও সীমাবদ্ধ; আর সেই সীমা গালিচার নয়, চাদরের গায়ে ছেঁড়া অংশ। এই যে সাধক ভক্তের নিকট ভগবানের সীমাবদ্ধ সচ্চিদানন্দ ভাবে পূর্ণ প্রকাশ, তাই ঈষ্টতত্ত্ব। যাঁর ভিতরে ভগবানের সব লক্ষণ বর্ত্তমান তিনি সীমাবদ্ধ রূপে প্রতীয়মান হন আমাদেরই পূর্ণ দর্শনের অভাবে। যিনি ইষ্ট, অভিলষিত, প্রার্থিত, যাঁকে দেখলে আর দেখার কিছু বাকী থাকে না, যাঁকে পেলে আর পাওয়ার কিছু বাকী থাকে না, যিনি আমার সমস্ত অভাব পূরণ করে আমাকে তৃপ্ত, শান্ত, পূর্ণ করতে পারেন তিনি আমার ইষ্ট। যেমন চাদরখানা যত ছেঁড়া যাবে গালিচা ততই অধিকতর ব্যাপকরূপে দেখা দিবে, তেমনি ইষ্টের ধ্যানে আমরা যতই সমাহিত হব, ততই তাঁর ব্যাপকতা ফুটে বের হবে। এজন্য সাধনরাজ্যে সীমাবদ্ধ ইষ্টতত্ত্বের লক্ষণে “নমস্তে জগদ্ব্যাপিকে বিশ্বমূর্ত্তে” আদি ভাবের সমাবেশ দেখতে পাওয়া যায়। যেমন ভূগোলে সমস্ত পৃথিবীর ধারনা করার জন্য সীমাবদ্ধ মানচিত্রে দূরত্বের পরিমাণ লিখে দেওয়ায় জ্ঞানলাভের সাহায্য হয়, অথচ পৃথিবীকে সীমাবদ্ধ করা হয় না, তেমনই ইষ্টকে ধারণার সুবিধার জন্য সীমাবদ্ধ রূপে চিত্রিত ও কল্পিত করলেও তাঁর সর্ব্বব্যাপিত্বে বাধা হয় না।
যিনি সর্ব্বশক্তিমান্‌, তিনিই জীবের উপলব্ধির সুবিধার জন্য সীমাবদ্ধ ভাবে সীমাবদ্ধ চিত্তে প্রতীয়মান হতে পারেন না বলিয়া আমরা যে সর্ব্বশক্তিমান্‌কে কতটা সীমাবদ্ধ করে ফেলি তাহাও চিন্তনীয়। ঈষ্টতত্ত্ব আদর্শপ্রাপ্ত নরনারী রূপে বা তত্ত্বরুপে আগত ও শ্রীভগবানের সীমাবদ্ধ ভাবরূপে অনুভূত। ইষ্টতত্ত্ব ভগবৎ-তত্ত্বেরই আংশিক ভাবের অনুভূতি। প্রত্যেক ইষ্টতত্ত্ব অনন্ত সৌন্দর্য্য-মাধুর্য্য দ্বারা চিত্তাকর্ষক। অনন্ত শক্তিগুণ-প্রেম-জ্ঞানাদি দ্বারা জীবের চালক। যিনি পরম করুণাময় বলে জীবের দুঃখে বিগলিত-হৃদয়, -যাঁর শারীরিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক বৃত্তিগুলি পূর্ণরূপে পরিণত ও অপূর্ব্ব সামঞ্জস্যযুক্ত। যিনি সমস্ত জীবের সমস্ত অভাব দূর করে পূর্ণতা লাভের অনন্ত আনন্দ লাভের সহায়ক। এক কথায় জীবের পূর্ণ আদর্শ। এই ইষ্টতত্ত্ব অবতার ভাবে বর্ণিত। অবতার বহু প্রকার- পূর্ণ অবতার, অংশ অবতার, গুণাবতার, শক্তি অবতার ইত্যাদি। এর মধ্যে কালী তারা আদি শক্তিরুপে এবং রাম কৃষ্ণ আদি জীবভাবে অবতাররূপে প্রসিদ্ধ। যে অবতার যাঁর নিকট অনুকূল, চিত্তাকর্ষক ও পূর্ণতাপ্রাপ্ত মনে হবে তিনিই হবেন তাহার ইষ্ট।
 
গুরুতত্ত্ব ঈষ্টতত্ত্বের প্রতিমূর্ত্তি বা প্রতীক; সংযত শুদ্ধ শান্ত হওয়ার ফলে যাঁর ভিতরে নিত্যসিদ্ধ ইষ্টতত্ত্ব প্রায় পূর্ণভাবে প্রকটিত, যাঁর কথা ভাব এবং কাজের মধ্যে দিয়ে ইষ্টতত্ত্বের প্রায় পূর্ণভাবে স্ফুরণ উপলব্ধ হয় তিনিই আমার গুরু। ভগবানের অসীম ভাবের ধারনা করা কঠিন বলে ইষ্টতত্ত্বের ব্যবস্থা হয়েছে, আবার ইষ্টতত্ত্বও সুলভ নয় বলে গুরুতত্ত্বের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করা হয়েছে। যাতে সাধন-রাজ্যে বিকৃতি না ঘটে এজন্য এই তিন তত্ত্ব মিলিয়ে দেখার ব্যবস্থা আছে। উপনিষদ্‌ বেদান্ত আদি গ্রন্থে উল্লেখিত ভগবৎ-তত্ত্বের সব লক্ষণগুলি ইষ্টতত্ত্বের সাথে মিলিয়ে দেখতে হবে। যে পর্য্যন্ত ভগবৎ-তত্ত্বের সঙ্গে ইষ্টতত্ত্বের লক্ষণগুলি সুন্দরভাবে মিলে না যাবে, সে পর্য্যন্ত মনে করতে হবে, আমি আমার ইষ্ট হবার যোগ্য নন। যাঁর ভিতর দিয়ে ইষ্ঠতত্ত্বের অবাধিত স্ফুরণের সম্ভাবনা নেই- মনে রাখতে হবে, তিনি আমার গুরু হবার উপযুক্ত নন। গুরুই ইষ্টের প্রতীক, ইষ্ট ভগবানের প্রতীক; গুরু পৌছিয়ে দিবেন ইষ্টের কাছে, ইষ্টের ভিতর দিয়ে আমরা পৌঁছাব ভগবানের কাছে । যাঁরা গুরু ও ইষ্টের সাহায্য ব্যতীত ভগবানকে উপলব্ধি করতে চেষ্টা করেন, দেহধারীর পক্ষে তাঁদের পন্থাটা অনেকটা কঠিন বলেই ভক্তিমার্গ ঈষ্ট ও গুরুতত্ত্বের দিকে এতটা দৃষ্টি রেখেছে।
তথ্যসূত্র- পূজা-শ্রীচুনীলাল সান্যাল।
সংকলনে- কৃষ্ণকমল।

বিষ্ণূ



বেদে উল্লেখিত বিষ্ণু হলেন পরমেশ্বরের ব্যাপনশীল মূর্তি, যিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সবকিছু পরিব্যাপ্ত করে বিরাজ করেন।বিশ্ + নু-ক এভাবে বিষ্ণু শব্দটি নিষ্পন্ন। বিশ ধাতুর অর্থ প্রবেশ করা অর্থাৎ পরমাত্মা যেই রুপে সবকিছুর মধ্যে প্রবেশ করে, ব্যাপক হয়ে বিরাজমান। ব্যাপ্তিভাবনার মধ্য দিয়ে আমরা বিষ্ণু মূর্তি ধ্যান করতে পারি- যিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কোন কিছুতেই ক্ষণকালের জন্যও অনুপস্থিত থাকেন না।ত্রিলোকেই তিনি সর্বক্ষণ বিরাজ করেন– তাই তাঁকে ত্রিপাদচারী ত্রিবিক্রম ইত্যাদি নামে ভূষিত করা হয়, অর্থাৎ বাহ্য এবং এই অন্তর সব লোকেই তিনি সমভাবে বিরাজমান আবার আমাদের অন্তর জগতের অজ্ঞানময়,জ্ঞানময় এবং বিজ্ঞানময় তিন অবস্থাতেই তিনি আমাদের পরিচালিত করেন। পরমেশ্বরের বিষ্ণুরুপে বর্ণনাতে তাই বৈদিক ঋষিরা ত্রিপাদ পরিক্রমারর ইঙ্গিত করেছেন।
পরবর্তিকালে পৌরাণিক উপাখ্যানে, বলি রাজা ও বামন অবতারের একটি কাহিনীর উল্লেখ পাই যেখানে সর্বব্যাপক পরমেশ্বর বিষ্ণুরুপে এক পায়ে সমগ্র পৃথিবী দখল করলেন আর এক পায়ে তিনি অন্তরিক্ষসহ সমগ্র মহাকাশ পরিব্যাপ্ত করলেন আর তৃতীয় পাদ তিনি বলিরাজের মাথায় দিয়ে বলিরাজের অহংবোধ যেটুকু অবশিষ্ট ছিল তাও নাশ করলেন।পুরাণকর্তারা রুপকের অন্তরালে আমাদের দেখিয়ে গেছেন আমরা সকলেই বলিরাজের মত।
সর্বব্যাপী পরমাত্মা বিষ্ণুরুপে চার বেদেই যেন সমান ভাবে বিরাজমান।
*ইদং বিষ্ণুর্বিচক্রমে ত্রেধা নি পদম্।স মূঢ়মস্য পাংসুরে।।
★সর্বব্যাপক পরমাত্মা এই প্রত্যক্ষ ও অপ্রতক্ষ্য জগৎ কে বিশেষ ক্রমপূর্বক রচনা করিয়াছেন। স্থূল সূক্ষ্ম ও কারন এই তিন প্রকারের এবং সূক্ষ্মরেণু পূর্ণ আকাশে সুব্যবস্থিত জগৎ কে ধারণ করিয়াছেন। (ঋগ্বেদ ১/২২/১৭)
অথবা
বিষ্ণু এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড পরিক্রমা কালে ত্রিলোক পা দিয়ে ধারণ করেন।তাঁর ধূলিযুক্ত পায়ে এই সমগ্র জগদব্রহ্মাণ্ড সংলগ্ন।
ভূঃ ভুবঃ স্বঃ, সত্ত্ব রজঃ তমঃ ইত্যাদি তিন লোকেই বিষ্ণুর পাদচারণা। শ্রীবিষ্ণুর পদরেণুতেই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড বিধৃত।বিষ্ণু বিরাট বিশাল সুমহান তাঁর তুলনায় বিশ্বব্রহ্মাণ্ড নিতান্তই নগণ্য।বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের যে বিশালতা আমরা প্রত্যক্ষ করি তা কেবলি মায়া কারন পরমাত্মার বিষ্ণুরুপের পদরেণু মধ্য থেকে নিমেষে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডেরর সৃষ্টি স্থিতি প্রলয় ঘটে।

তথ্যসুত্র- বেদমন্ত্র (অযাচক)
সৌজন্যে- শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা স্কুল​

শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রার মাহাত্ম্য


শাস্ত্রে আছে ‘রথস্থ বামনং দৃষ্টা পুনর্জন্ম ন বিদ্যতে’। রথের ওপর খর্বাকৃতি বামন শ্রী শ্রী জগন্নাথকে দর্শন করলে তার পুনর্জন্ম হয় না। এ বিশ্বাস অন্তরে ধারণ করে ভোর হতেই ভক্তরা প্রাণের টানে ছুটে আসেন প্রেমোরথের প্রাণের ঠাকুরকে নিয়ে স্নানযাত্রার উদ্দেশ্যে, অর্থাৎ রথের রশি ধরে টানতে। রথটানা শুরু করতেই আশ্চর্যভাবে অনেকটা ভারাক্রান্ত ও বেদনাচ্ছন্ন হয়ে ঘন মেঘ দুঃখী দুঃখী ভাব নিয়ে মাটির পৃথিবীতে বৃষ্টি হয়ে ঝড়ে পড়ে। সেই বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে নেচেগেয়ে উচ্ছ্বাসের প্লাবনে মতোয়ারা হন সবাই। সেই সঙ্গে সমানতালে বাজতে থাকে ঘণ্টাবাদ্যি। একদিকে পুরুষেরা শঙ্খ, ঘণ্টা, কাঁসা, ঢাক, ঢোল বাজিয়ে পরিবেশ মুখর করে তোলেন অন্যদিকে নারীরা উলুধ্বনি ও মঙ্গলধ্বনির মাধ্যমে রথটানায় আনন্দচিত্তে শামিল হন। রথ থেকে রাস্তায় দাঁড়ানো দর্শনার্থীদের দিকে ছুড়ে দেয়া হয় কলা আর ধানের খৈ।
প্রতিবছর আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার মধ্য দিয়ে শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব সাড়ম্বরে উদযাপিত হয়। শ্রীকৃষ্ণের দ্বাপর যুগে লীলা সম্বরণের পরবর্তী সময়ে জগন্নাথ, বলরাম, সুভ্রদা-এ তিন রূপের পুনঃউদঘাটন এক আশ্চর্য সংবাদও বটে। শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রায় সমাগম হয় লাখ লাখ ভক্তের, যার ফলে সৃষ্টি হয় সমন্বয় ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা। সেই সঙ্গে রথ থেকে দেয়া হয় আশীর্বাদ ও প্রসাদ ভক্তবৃন্দ তা গ্রহণ করে হন কৃতার্থ। রথে থাকেন জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রা। ভক্তবৃন্দ ভক্তি সহকারে রথরজ্জুর মাধ্যমে রথকে টেনে এগিয়ে নিয়ে যান। আর এ দৃশ্য দেখার জন্য আবেগপ্রবণভাবে ভক্তবৃন্দ এবং বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণীর মানুষ অবস্থান নেন। কারণ রথরজ্জু ধরে রথটানা মহাপুণ্য কর্ম বলে সনাতন ধর্মে স্বীকৃতি লাভ করেছে।
কঠোপনিষদ বলেছেন, ‘আত্মা হলো রথী, শরীর হলো রথ, বুদ্ধি হলো সারথি, মন হলো লাগাম। মনীষীরা ইন্দ্রিয়গুলোকে দেহরথের অশ্ব বিষয়গুলোকে ইন্দ্রিয়গুলোর বিচরণ ভূমি এবং দেহ-মন ও ইন্দ্রিয়যুক্ত আত্মাকে ভোক্তা বলেছেন। যে পুরুষের সারথি (বুদ্ধি) অসংযত মনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অবিবেকী হয় তার ইন্দ্রিয় সব লৌকিক সারথির দুষ্টু অশ্বের মতো আপন বশে থাকে না। কিন্তু যার বুদ্ধি বিবেকবান, মন সংযত, যার অন্তঃকরণ সর্বদা পবিত্র, তিনি সেই পরম পদপ্রাপ্ত হন। তাকে আবার আর সংসারে জন্মগ্রহণ করতে হয় না। সে পরমপদ প্রাপ্তি অর্থাৎ অভীষ্ট লক্ষ্যের পথ অতি দুর্গম, এ জন্য উপযুক্ত ‘যান’ প্রয়োজন। ‘রথ’ পথযাত্রার একটি প্রকৃষ্ট যান। এ রথের সুযোগ্য চালক বা সারথি প্রয়োজন, তার সঙ্গে প্রয়োজন শক্তিশালী বশীভূত তথা বিশ্বস্ত অশ্ব ও সুদৃঢ় লাগাম। শাস্টত্রকাররা রূপক ছলে বলেছেন, অবিদ্যাবশে সংসারী জীবনের এ দেহটাই ‘রথ’ এবং রথের অধিষ্ঠাতা আত্মীয় ‘রথী’। সুতরাং, প্রাণ থাকা পর্যন্ত দেহকে অবহেলা করতে নেই। তাই ঋষিরা বলেছেন, আত্মা নং বিদ্ধি আত্মাকে জানো, রথযাত্রায় চরম আধ্যাত্মিক রহস্যকে সূক্ষ্ম রূপে তুলে ধরা হয়েছে। প্রেমিবিগলিত জগন্নাথের দেহটির বর্ণনা গৌড়ীয় দর্শনের আচার্যরা ব্যাখ্যা দিয়েছেন এভাবে- ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দ্বারকালীলায় ১৬ হাজার আটজন প্রধান মহিষীকে নিয়ে চরম বিলাস করেছেন। কিন্তু প্রায়ই রাতে ‘রাধা’ ‘রাধা’ বলে চিৎকার করে কাঁদা দেখে একদিন সত্যভামাসহ মহিষীরা কান্নার কারণ জানার জন্য মা রোহিনীর কাছে উপস্থিত হলেন এবং জানার প্রত্যাশা নিবেদন করলেন। বন্ধুদের ব্যাকুলতা দেখে অন্তঃপূরের দরজায় সুভদ্রা বোনকে পাহারা দেয়ার দায়িত্ব প্রদান করে বৃন্দাবনের প্রেমলীলাতত্ত্বের ওপর বক্তব্য শুরু করেন। এই প্রেক্ষাপটে বলরাম আকর্ষিত হয়ে দরজায় এসে হাজির হলেন। সুভদ্রা বললেন, মাতা রোহিনীর নিষেধ রয়েছে ভেতরে যেতে। এরপর কৃষ্ণ এসে হাজির। বোনের কথায় বলরাম ও শ্রীকৃষ্ণ দাঁড়িয়ে রইলেন। সুভদ্রার ডান দিকে দাদা বলরাম, বাদিকে কৃষ্ণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভেসে আসা লীলাকথা শুনতে থাকলেন। এ মধুময় প্রেমতত্ত্বের আলোচনা শ্রবণ করে তিনজন প্রেম বিগলিত হয়ে বিকলাঙ্গ হয়ে গেলেন। এ অবস্থায় দেবর্ষী নারদ এসে উপস্থিত হলেন। এ প্রেম বিগলিত স্বরূপ দর্শন করে নারদ হাতজোড় করে দাঁড়িয়ে রইলেন। কিছুক্ষণ পর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন, বহুদিন পরে ব্রজলীলার কথা শুনতে পেলাম।
আজ বড় আনন্দের দিন, নারদ এ অবসরে তুমি কিছু বর প্রার্থনা কর। ভক্তপ্রবর দেবর্ষী নারদ বললেন, প্রভু এ প্রেম বিগলিত স্বরূপ যেন জগতবাসী জীবের নয়ন গোচর হয় এ প্রার্থনা। শ্রীকৃষ্ণ বললেন, দারুব্রহ্মস্বরূপ জগদ্বাসী অবশ্যই দেখতে পাবে এবং তোমার, শিবপার্বতীর ইচ্ছায় আমার অন্ন ব্রহ্মরূপও প্রকাশ পাবে। নীলাচল ধামে তিনটি মন্দির-গম্ভীরা মন্দির, জগন্নাথ মন্দির, গু-িচা মন্দির। শ্রীকৃষ্ণ রাধাভাবে শ্রীকৃষ্ণের জন্য কেঁদেছেন স্থান গম্ভীরা, রাধার বিরহে কৃষ্ণ কেঁদেছেন স্থান জগন্নাথ মন্দির, রাধা কৃষ্ণ বিরহে কেঁদেছেন স্থান গুন্ডিচা মন্দির। রথে আরোহণ করে যাত্রা বলেই রথযাত্রা রথীহীন রথে যাত্রা নেই। তেমনি জীবনদেহও রথী শূন্য নয়। আমাদের মানবদেহে রথী আছেন দেহ থেকে রথী বিচ্ছেদ ঘটলে পৃথিবীর ভাষায় মৃত্যু। এ সত্য শুদ্ধ সত্তা আছেন বলেই জীবের দেহরথ চলে। দেহের প্রাণ নামক সত্য সত্তাই জগন্নাথ। দ্বারকায় অবস্থানকালে বৃন্দাবনের প্রেমকথা শ্রবণ করে শ্রীকৃষ্ণের বাসনা জেগেছিল একবার বৃন্দাবনে যাওয়ার। জগন্নাথ মন্দির থেকে জগন্নাথ বিগ্রহকে রথে চড়িয়ে গু-িচা মন্দিরে নিয়ে যাওয়া অর্থ জগন্নাথ শ্রীকৃষ্ণের বৃন্দাবনে যাত্রা। গু-িচা মন্দিরে জগন্নাথ বিগ্রহকে ৭ দিন রাখার পর পুনঃশ্রীমন্দিরে ফিরিয়ে নিয়ে আসা অর্থ আবার দ্বারকায় আসা- এটি ফিরতি রথ বা উল্টোরথ নামে খ্যাত। অন্তরে কৃষ্ণ বাইরে রাধা তিনি কলিকালে শ্রীকৃষ্ণের অবতার রূপে হলেন চৈতন্য মহাপ্রভু। আর অন্তরে রাধা বাইরে কৃষ্ণ হলেন জগন্নাথদেব। দু’জনের মিলন হলো লীলাচলে। ষোড়শ শতাব্দীতে মহাপ্রভু শ্রীগৌরাঙ্গ সন্ন্যাস গ্রহণ করে নীলাচলে এলে জগন্নাথ মন্দিরে রথযাত্রার উৎসব বৃহত্তর আঙ্গিকে শুরু হয়, যা আজ অবধি বিশ্বে পরিব্যাপ্ত।
অনেকে মনে করেন যে, জগন্নাথদেবের মূর্তি বুদ্ধদেবেরই রূপান্তর। আবার অনেকে মনে করেন যে, জগন্নাথদেব কোনো অনার্য জাতির দেবতা। বিবর্তনের ধারায় হিন্দুদেবতা বিষ্ণু এবং সব শেষে জগন্নাথদেব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। এর পেছনে যুক্তিও আছে-স্কন্দপুরাণে উৎকলখ-ে এবং পুরষোত্তমখ-ে শবরপতি বিশ্বাসুর ছিলেন নীলগিরি পর্বতে নীলমাধবের পূজারী এবং উপাসক। পরে নীলমাধব এখান থেকে অন্তর্হিত হয়ে কাঠদ্বারা নির্মিত জগন্নাথদেবের মূর্তিরূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। শবরপতি বিশ্বাসুর অনার্য জাতির অন্তর্ভুক্ত ছিলেন বলেই জগন্নাথদেবকে অনার্যদের দেবতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। আবার কেউ কেউ, বৌদ্ধ ত্রিরত্মের মধ্যে সংঘ নারীরূপে বুদ্ধের ও ধর্মের মাঝখানে অবস্থান করায় জগন্নাথদেবের মূর্তি ত্রিরত্মের রূপান্তর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
স্বামী অভেদানন্দ তিব্বতের লাদাখ অঞ্চল ভ্রমণকালে ‘বৌধখুর্ব’ গ্রামে ত্রিরত্মের যে মূর্তি দেখেছিলেন, সেই মূর্তিগুলোকে তিনি জগন্নাথদেবের মূর্তির প্রতিরূপ বলে গণ্য করেছেন। স্বামীজীর বর্ণনা অনুসারে লামাদের একটি ত্রিরত্ম বা ‘পরমেশ্বরা’ রহিয়াছে। আমাদের দেশের ইট দিয়ে গাঁথা তুলসী মন্দিরের মতো ইহারা তিনটি ক্ষুদ্র নিরেট মন্দির নির্মাণ করিয়া প্রথমটিতে কালো, দ্বিতীয়টিতে হলদে ও তৃতীয়টিতে সাদা রঙ লাগাইয়া বুদ্ধ, ধর্ম ও সংঘের প্রতীক নির্মাণ করিয়া তাহাদের পূজারতি করেন। ইঁহারা এইগুলিকে ‘পরমেশ্বরা’ বলেন। ‘পরমেশ্বরা’ শব্দ পরমেশ্বর শব্দের অপভ্রংশ। এইগুলোতে চোখ অাঁকিয়া দিলে প্রথম কালোটিকে হস্তপদহীন জগন্নাথ, দ্বিতীয় হলদেটিকে সুভদ্রা ও তৃতীয় সাদাটিকে বলরাম মনে হয়।
উড়িষ্যার অনেক বৈষ্ণব ভক্তকবি জগন্নাথদেবকে বুদ্ধের মূর্তি বা অবতার বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের দৃঢ় বিশ্বাস শ্রীকৃষ্ণই বুদ্ধরূপে জগন্নাথ নামে অধিষ্ঠিত। জগন্নাথ দাসের ‘দারুব্রহ্ম’ ও অচ্যুতানন্দ দাসের রূপান্তর ‘শূন্য সংহিতা’য় এই তত্ত্ব স্থান পেয়েছে। শুধু তাই নয়, ঈশ্বর দাস ও অচ্যুতানন্দ জগন্নাথদেবকে বুদ্ধের এবং শ্রীচৈতন্যদেবকেও বুদ্ধ বলে বর্ণনা করেছেন।
উৎকলখ-ের বর্ণনা অনুসারে জগন্নাথদেব শঙ্খচক্রধারী, সুতরাং দ্বিভূজ। কিন্তু প্রচলিত কিংবদন্তী অনুসারে বিশ্বকর্মা জগন্নাথদেবের মূর্তি তৈরি করার সময় কারো প্রবেশ ছিল নিষেধ, এমনকি রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নেরও না। বিশ্বকর্মা মূর্তি তৈরি করার আগেই রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন অধৈর্য হয়ে বন্ধ দরজা খোলার জন্য মূর্তি অপূর্ণাঙ্গ থেকে যায়। আমরা যে রথযাত্রা উৎসব পালন করে থাকি তা জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা এবং রথযাত্রা সূর্যের অয়নপথ পরিক্রমার সাথে সংশ্লিষ্ট। সূর্যের দক্ষিণায়ন যাত্রার সঙ্গে সর্ষাগমনের সম্পর্ক স্বতঃসিদ্ধ। আর বর্ষা শুরুর উৎসব জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা। জগন্নাথদেব সূর্য-সপ্তাশ্ব বাহিত রথে আকাশলোক পরিক্রমণ করেন। তারপর রথে অরোহণ করে গু-িচা যাত্রা করেন। অয়নপথে সূর্যের দক্ষিণ দিকে যাত্রা ও উত্তরে প্রত্যাবর্তন জগন্নাথদেবের রথযাত্রা ইতিবৃত্ত।
প্রাচীনকাল থেকেই বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে রথযাত্রার উৎসব সাড়ম্বরে পালিত হয়ে আসছে। রথযাত্রা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য মিলন মেলা। এই দিনে এখানে নানা ধর্মের-বর্ণের লোক জগন্নাথদেবের মূর্তি এক নজর দেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে সমবেত হয়। জগন্নাথদেবও তার জগৎকল্যাণময় মূর্তি নিয়ে মন্দিরের পূজাবেদী হতে বেরিয়ে এসে রথারোহণে যাত্রা শুরু করেন। বছরে একবার দর্শন দিয়েও তিনি অসংখ্য ভক্তের চিত্তবিহারী হয়ে ভক্তহৃদয়ে অবস্থান করেন।

তারাপদ আচার্য্য: সাধারণ সম্পাদক, সাধু নাগ মহাশয় আশ্রম, দেওভোগ, নারায়ণগঞ্জ