বৈদিক সনাতন ধর্মে(হিন্দু) বিবাহ-০৯ 


(সনাতন ধর্ম দর্শনের মহিমা জানুন- ছবিতে লাইক নয় লেখাটি পড়ুন)
স্বামীজি বলতেন- ভারতীয় রমণীদের যে রূপ হওয়া উচিত সীতা তার আদর্শ, রমণী চরিত্রের যত প্ৰকার ভারতীয় আদর্শ আছে সবই এক সীতার চরিত্রে কেন্দ্রীভূত, আমরা সকলেই সীতার সন্তান, আমাদের নারীদেরকে আধুনিক ভাবে গঠন করার যে সকল চেষ্টা চলছে, যদি সে সকল চেষ্টার মধ্যে তাদেরকে সীতাচরিত্রের আদর্শ হতে ভ্ৰষ্ট করার চেষ্টা থাকে, তবে সেগুলি বিফল হবে। ভারতীয় নারীদেকে সীতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে নিজেদের উন্নতি-বিধানের চেষ্টা করতে হবে-এই ভারতীয় নারীর উন্নতির একমাত্র পথ।
…সমগ্ৰ ভারতবাসীর সমক্ষে সীতা যেন সহিষ্ণুতার উচ্চতম আদর্শরূপে বৰ্ত্তমান রয়েছেন। পাশ্চাত্য দেশ বলে- “কৰ্মকর, কর্ম করে তোমার শক্তি দেখাও।” ভারত বলেন ‘দুঃখ কষ্ট সহ করে তোমার শক্তি দেখাও। – এই দুইটি আদর্শই এক এক ভাবের চরম সীমা। সীতা যেন ভারতীয় ভাবের প্রতিনিধি স্বরূপ, যেন মূৰ্ত্তিমতী ভারতমাতা। ভগবান বুদ্ধ বলে গেছেন,-“আঘাতেব পারিবৰ্ত্তে আঘাত করলে সেই আঘাতের কোন প্ৰতিকার হল না, উহাতে কেবল জগতে একটি পাপের বৃদ্ধিমাত্র হবে।’ ভারতের এই বিশেষ ভাবটির সীতার প্রকৃতিগত ছিল। তিনি অত্যাচারের প্রতিশোধের চিন্তা পৰ্য্যন্ত কখনও করেননি।
তথ্যসূত্র- ভারতের নারী।
ক্রমশঃ

Advertisements

বৈদিক সনাতন ধর্মে(হিন্দু) বিবাহ-০৮ 


(সনাতন ধর্মে আচার সমূহ কুসংস্কার নয়, এর ভিতর লুকানো আছে সুগভীর দর্শন)
সন্তান আগমনের পূর্বে পিতা-মাতা সন্তানের জন্য ব্রত পূজা অনুষ্ঠান করে থাকে। পিতৃগণের তৃপ্তি ও পিতৃঋণ শোধ করার জন্য সুসন্তান আবশ্যক তাই বৈদিক জীবন ধারায় অনার্য্য বা অসুরের মত বিবাহ নয়। আমাদের পুরাণ সমূহে এর ভুরি ভুরি কল্পকথা দিয়ে মানুষকে বোঝানো হয়েছে যেমন, গার্গ্য মুনির কথা, শিব সতীর কথা ইতাদি।
মানবীয় প্রেমের মধ্যে স্ত্রীপুরুষের প্রেমই সৰ্ব্বোচ্চ, স্পষ্ট অভিব্যক্তি প্রবলতম ও মনোহর। স্ত্রীপুরুষের এই মত্ত ভালবাসা সাধু মহাপুরুষদের উন্মত্ত প্ৰেমেরই ক্ষীণতম প্ৰতিধ্বনি মাত্র। শাস্ত্র বলেন জগতে একমাত্র আকর্ষণী শক্তি রয়েছে। সেই আকর্ষণী শক্তি ঈশ্বর। পতির পরম অনুরাগিণী রমণী জানেনা যে তার পতির মধ্যে সেই মহা আকর্ষণী শক্তি রয়েছে। তাই তাকে তার স্বামীর দিকে টানছে।
তখনই মানুষ যথার্থ ভালবাসতে পারে যখন সে দেখতে পায়, তার ভালবাসার পাত্র কোন মর্ত্ত্য জীব নয়। তখনই মানুষ যথার্থ ভালবাসতে পারে, যখন সে দেখতে পায়, তার ভালবাসার পাত্ৰ-খানিকটা মৃত্তিকা খণ্ড নয়, স্বয়ং ভগবানের অংশভূত। স্ত্রী স্বামীকে আরও অধিক ভালবাসবেন যদি তিনি ভাবেন,-স্বামী সাক্ষাৎ ব্রহ্মস্বরূপ। স্বামী ও স্ত্রীকে অধিক ভালবাসবেন যদি তিনি ভাবেন,-স্ত্রী স্বয়ং ব্রহ্মস্বরূপিনী। তিনিই স্ত্রীর মধ্যে, তিনিই স্বামীতে বৰ্ত্তমান।
দাম্পত্য কলহে আমরা প্রায়ই ভাবি বনবাসের কথা, স্বামীজি বলছেন- তোমার স্ত্রী থাকুক, তাতে ক্ষতি নেই। তাদেরকে ছেড়ে চলে যেতে হবে, তার কোন অর্থ নেই, কিন্তু ঐ স্ত্রীর মধ্যে ঈশ্বর দর্শন করতে হবে। পুরুষ স্ত্রীকে এবং স্ত্রী পুরুষকে যে ভালবাসা দিয়ে ভালবেসে থাকে, সেই ভালবাসা ভগবানকে অৰ্পণ করতে হবে।
…ভারতের দৃষ্টিতে, বিবাহ স্ত্রীপুরুষের অনন্তকালের সম্বন্ধ ঘটানোর একটি সামাজিক ব্যবস্থা…যদি তাঁদের কেউ জীবনে অত্যধিক পিছিয়ে পড়ে। তবে সেই স্ত্রী বা স্বামী যতদিন পর্য্যন্ত তার সহধর্মী বা সহধর্মিনীর সমকক্ষ না হচ্ছেন ততদিন অগ্ৰগামীর পক্ষে অপেক্ষা করে থাকা ভিন্ন উপায় নেই।
ক্রমশঃ
সৌজন্যে- শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা স্কুল

বৈদিক সনাতন ধর্মে(হিন্দু) বিবাহ-০৭ 


(সনাতন ধর্মে আচার সমূহ কুসংস্কার নয়, এর ভিতর লুকানো আছে সুগভীর দর্শন)
আমরা মাতৃ প্রণাম মন্ত্রে বলে থাকি- ‘অশেষ দুঃখ ক্লিষ্টা সর্ব্বংসহা’ মায়ের ভালবাসাই আমাদের আদর্শ। মাতৃভক্তির এটাই মূল উৎস। এই তপস্বিনীই আমাকে জগতে এনেছেন, আমি আসব বলেই বৎসরের পর বৎসর ধরে তিনি দেহ পবিত্র রেখেছিলেন, মন পবিত্র রেখেছিলেন, অশন, ভূষন, চিন্তা পবিত্র রেখেছিলেন-তাই তো তিনি আমার পূজ্যা।
দেহমনকে পবিত্র ও সংযম করে সন্তানকামী হতে হয়। কারণ জন্মের প্রাক কালীন প্রভাব সমূহকে নিয়মিত করতে হবে, এটাই শাস্ত্রের বিধান। …যে অনুষ্ঠানের দ্বারা সন্তানের উৎপত্তি হয় তা ভগবানেরই পবিত্র প্রতীকস্বরূপ। একটি নুতন জীবাত্মা আবির্ভাব শুভ বা অশুভ সংস্কার হয়ে জগতে আসছে। একটি পবিত্র নুতন জীবাত্মাকে জগতে আনবার জন্য স্বামীস্ত্রীর মিলন-সুতরাং ভগবানের নিকট উহা তাঁদের মিলিত সর্ব্বোচ্চ প্রার্থনা স্বরূপ;-এ কি তামাসার কথা; একি শুধু ইন্দ্রিয়ের পরিতৃপ্তি না, পশু প্রবৃত্তির চরিতার্থতা।
কে জানে, যে সন্তান ভূমিষ্ঠ হবে সে কোন সাধু, দেবতা, যোগভ্রষ্ট কোন মহাজন অথবা অবতারকল্প পুরুষ কি না? এই জন্য সন্তান আগমনে।
ক্রমশঃ

বৈদিক সনাতন ধর্মে(হিন্দু) বিবাহ-০৬


(এই ধারাবাহিক লেখার উদ্দেশ্য, স্বজাতিয়দের নিজ ধর্ম সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া। যদি আমরা আমাদের এই সংস্কৃতিকে ঠিক ঠিক লালন করি তবে এই ধর্মান্তর, সাংসারিক কলহরূপ অনেক সমস্যার অবসান ঘটবে।)
স্মৃতিকার। ভগবান মনু “আৰ্য্য’ সম্বন্ধে এই সংজ্ঞা দিয়েছেন “সৎসস্তান কামনার ফলে যার জন্ম হয়েছে, সেই আৰ্য্য”। ভগবানেব নিকট সন্তানদের কামনা না করে যাঁদের জন্ম হয় স্মৃতিকারের মতে তারা অনার্য্য। সন্তানের জন্য ভগবানের নিকট কামনা করতে হবে। অভিশাপ অসন্তোষের মধ্যে যাদের জন্ম, সংযমের অসামর্থ্য হেতু, উত্তেজনার অতর্কিত সুযোগে যারা জগতে আবির্ভূত হয়, সেই সব সন্তানের কাছে আবার কি আশা করা যায় ?”
দশরথ পুত্ৰেষ্টি যজ্ঞ করেছিলেন, পুত্ৰ পাবার জন্য। অনেক ব্রত ও অনুষ্ঠান এখন বিলুপ্ত হলেও আজও সন্তানবতী নারী ষষ্ঠী পূজাদি করেন ভবিষ্যৎ সন্তানের মঙ্গলের জন্য, তুলসী তলায় বা বিল্বমূলে বসে তিনি সন্তান না হওয়া পর্য্যন্ত নিত্য জপ ধ্যানে ব্রতী থাকেন, এছাড়া গ্রাম্য দেবতার কাছে, তীর্থ-দেবতার কাছে সন্তানের জন্য ‘মানত’ করা ত আছেই। বিবাহের মন্ত্রে আমরা দেখেছি দম্পতির সম্বন্ধ। গর্ভাধানেব মন্ত্রে, সত্ত্বগুণবিশিষ্ট আত্মানন্দময় সন্তানেব কামনা করা হয়। ঋতুমতী কন্যা ভিন্ন গর্ভাধান হয় না।
বিবাহ অনুষ্ঠানে দশবিধ সংস্কারের একটি সংস্কার গর্ভাধান, এর মন্ত্র অর্থ অনুধাবন করে দেখুন কি গভীর দর্শন এতে নিহিত-
‘বিষ্ণু, তোমাব গর্ভস্থানকে শক্তি দান করুন, ত্বষ্টা তোমার গর্ভে রূপ নিৰ্ম্মাণ করুন, ভগবতী সিনী বলি। এই বধূত গর্ভাধান কর, পদ্মমালাধারী অশ্বিনীকুমারদ্বয় তোমার গর্ভাধান করুন-যে অশ্বিনীকুমারদ্ধয়ের অধিষ্ঠানে সমূৎপন্ন সন্তান দেবকুলের প্রিয়, স্বভাব-নম্র, বিনয়ী, সত্ত্বগুণযুক্ত, সম্পদশালী ও আত্মানন্দময় হয়।’
ক্রমশঃ

#কৃষ্ণকমল।