ভগবান এবং গণেশ দেব কে নিয়ে জাকির নায়েকের অপপ্রচারের উত্তরঃ-


#‎ভগবান‬ কি ?
শ্রীমভাগবত- ১.২.১১
ব্যাসদেব বলছেন – “এই তত্বের জিজ্ঞাসার অর্থ ধর্মজিজ্ঞাসা, তত্বঞ্জ ব্যাক্তিরা অদ্বয় জ্ঞান কেই তত্ব বলিয়া থাকেন।সেই তত্বের অনেক নাম যথা –বেদজ্ঞরা তাকে বলে পরাব্রহ্মা, হিরণ্যগর্ভা উপাসকেরা (মহাযোগী) তাকে বলে পরমাত্মা, আর ভগবদ্ভক্তেরা তাহাকে ভগবান বলিয়া থাকেন, তিনিই একমাত্র পরম সত্য”
শ্রীমভাগবত- ১.২.১২
“শ্রদ্ধাশালি যে মুনিগনেদের বেদান্ত শ্রবণ(বেদান্ত দর্শন উপলগ্ধি),জ্ঞান(আধ্যাত্মিক জ্ঞান),বৈরাগ্যযুক্ত,ভক্তি (ঈশ্বরভক্তি) উৎপন্ন হয়, তাহারাই স্বআত্মা থেকে সেই তত্বের উপলগ্ধি করতে পারে”

ডাঃ জাকির কি বেদান্ত দর্শন উপলগ্ধি করেছে? আধ্যাত্মিক জ্ঞান অর্জন করেছে? তিনি কি বৈরাগ্যযুক্তা? তিনি কি ঈশ্বরভক্ত? তাহলে তিনি কি করে ভগবানের উপলগ্ধি করবেন?

এখান থেকে এটায় বোঝা যাচ্ছে পরাব্রহ্মা,হিরণ্যগর্ভা,পরমাত্মা,ভগবান এছাড়া সচ্চিদানন্দ,পরমপুরুষ,ঈশ্বর এগুলি কে যদি একে অপরের সঙ্গে গুনগত ভাবে তুলনা করা হয় তবে সব একই হবে, কিন্তু ভিন্ন লোকের ভিন্ন দৃষ্টিকোণ হবার জন্য আমরা এদের মধ্যে সাদৃশ্য টা বুঝতে পারি না।

বিষ্ণুপুরাণ-৬.৫.৭৯
“যিনি পরম ঐশ্বর্য, বীর্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্য গুনযুক্তা তিনিই ভগবান”
এখানে নির্গুনা-পরাব্রহ্মা, হিরণ্যগর্ভা, পরমাত্মা, ভগবান এছাড়া সচ্চিদানন্দ, পরমপুরুষ, ঈশ্বরের গুণ কে মানব কল্যাণের উপর ভিত্তি করে ৬ টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

এছাড়া সংস্কৃত অভিধানে “ভগবান” এর “ভগ” শব্দের অর্থ – Fortune, Wealthy, Prosperity, Blessed. যেখানে –
Fortune= শ্রী
Wealthy= ঐশ্বর্য
Prosperity= বীর্য+যশ
Blessed= জ্ঞান+বৈরাগ্য

অথ্যাৎ তিনিই ভগবান যিনি মানব কল্যাণের জন্য – শ্রী দাতা, সকল ঐশ্বর্য দাতা, সকল প্রকার জ্ঞান দাতা, সকল প্রকার বীর্য ও যশ দাতা, যিনি সর্বদা ভোগ বিষয়ে অনাসক্ত(বৈরাগ্য) তিনিই ভগবান ।

‪#‎গণেশ‬ কি ?
এবার দেখী গণেশ শব্দের অর্থ কি – গন(গ্রুপ বা বহুসংখ্যক)+ঈশ(ঈশ্বর)
অথ্যাৎ যিনিই “ঈশ্বর” তিনিই “গণেশ” ও এখানে গন(গ্রুপ বা বহুসংখ্যক) হল মানব কল্যাণকারী সেই ঈশ্বরের কতগুলি গুন। সেই গুন গুলো কি কি ?
গণেশ কে বলা হয় বুদ্ধি, সিদ্ধি ও রিদ্ধি দাতা, এখানে
বুদ্ধি= জ্ঞান
সিদ্ধি= শ্রী+বৈরাগ্য
রিদ্ধি= ঐশ্বর্য + Prosperity= বীর্য+যশ= ঐশ্বর্য+বীর্য+যশ
আমি আগে বলেছি মানব কল্যাণে “ঈশ্বর” ৬টি গুন কি কি।
হাতে কলমে প্রমান হল তো, যিনিই “ঈশ্বর” তিনিই “গণেশ” বা “ভগবান গণেশ”
এরজন্য “ভগবান গণেশ” প্রথম পূজ্য।
এবার বুঝছেন তো ডাঃ জাকির ভিলেন কতটা হিন্দুধর্ম জানতা। দোষ টা ডাঃ জাকিরের না দোষ টা ইসলাম ধর্মের যাতে কোনো ধর্ম-দর্শন নাই।
এবার যদি এক যোগীর দর্শনে শ্রী গণেশ কে বিচার করি, তবে কুলকুণ্ডলীনি যোগ দর্শন অনুসারে শ্রী গণেশ মূলাধার(মূল+আধার)চক্র হিসাবে পরিচিত হবে।মূলাধার চক্র যা শরীরের Sacral Plexus অংশে অবস্থিত। হ্যাঁ, এবার এখানে যদি আপনি বিজ্ঞান খেলাতে যান তবে এই অংশটা আপনার জন্য নয়।

এবার শ্রী গণেশের মূর্তির তাৎপর্য দেখী-
শ্রী গণশের গজমুণ্ড যা জ্ঞান ও শ্রী এর প্রতিক।
শ্রী গণশের স্ফিত উদর যা সর্ব প্রকার যশের প্রতিক।
শ্রী গণশের হস্তপদ্ম ও হস্তশ্বঙ্খ যা সর্ব প্রকার ঐশ্বর্যে প্রতিক।
শ্রী গণশের হাতে অস্ত্র-সস্ত্র যা মহাবীর্যের প্রতিক।
শ্রী গণশের হাতে লাড্ডুর থালা ও আর্শিবাদী হস্তমুদ্রা যা পরম বৈরাগ্যের প্রতিক।
শ্রী গণশের মূষিক হল ঈশ্বরের স্বরণাপন্নের দ্বারা একজন এমন ব্যাক্তি যে অসৎ থেকে সৎ পরিণত হয়েছে।
শ্রী গীতায় ৯/৩০ তে বলা হয়েছে-“অতিদূরাচারী ব্যাক্তিও যদি অনন্যচিত্ত হয়ে ভগবানের স্বরণাপন্ন হয়, তবে সেও ধীরে ধীরে সাধু হয়ে উঠে”- এখানে মূষিক হল তারই তাৎপর্য।
অথ্যাৎ শ্রী গণশের মূর্তির দ্বারা সেই -পরাব্রহ্মা, হিরণ্যগর্ভা, পরমাত্মা, ভগবান এছাড়া সচ্চিদানন্দ, পরমপুরুষ, ঈশ্বর মানুষের সামনে প্রকাশ হচ্ছেন। তিনি তো অব্যাক্ত কিন্তু তিনি এই মূর্তির দ্বারা আমদের সামনে ব্যাক্ত হচ্ছেন।

‪#‎প্রসাদ‬ কি ?
মানুষের দ্বারা সেই পরাব্রহ্মার মূর্তি কে অর্পিত ভক্তি ও শ্রদ্ধার প্রতিক এই প্রসাদ। প্রসাদ মানে ১৮ বা ১৩ বা ৭ বা ৩ রকমের ফলের-মিস্টির সমাহার তবে সেটা কে প্রসাদ বলে না। প্রসাদ মানে যে সব সময় ফল-মিস্টি হবে সেটা কোনো কথা নয়। শ্রী গীতায়-৯/২৬ তে বলা হয়েছে “যদি কেউ বিশুদ্ধচিত্তে নিস্কাম ভক্তি সহকারে ঈশ্বর কে পত্র, পুস্প, ফল ও জল অর্পণ করেন, তবে তিনি তা ভক্তিপ্লুত উপহার প্রীতি সহকারে গ্রহণ করেন”
এখানে কিন্তু বলা নাই যে প্রসাদ করতে ১৮ বা ১৩ বা ৭ বা ৩ রকমের ফলের-মিস্টি বা ফুল বা পত্র লাগবে। যথা সাধ্যে পূজা পদ্ধতি। আর সবচেয়ে গুরু্ত্বপূর্ণ “বিশুদ্ধচিত্তে নিস্কাম ভক্তি সহকারে” যেটা আজকাল কার পূজা তে প্রায় দেখা যাই না। এবার এখানে কাটমোল্লাদের পেটে ব্যাথা শুরু হবে “ভগবান প্রসাদ গ্রহণ করছেন কি ভাবে ?”। হিন্দুধর্মের একটী মূল ভিত্তি গুলোর মধ্যে একটি হল “পরম ঈশ্বর সর্বব্যাপি ও সর্ব অধিষ্ঠিত”। প্রসাদের একটি মূল উদ্দেশ্য গুলোর মধ্যে একটি হল প্রসাদের বিতরণ, অথ্যাৎ বিতরণ সর্বব্যাপি ও সর্ব অধিষ্ঠিত সেই জীব রূপি ঈশ্বর কে। যদি কেউ এই প্রাসাদের কমপক্ষে ২/৩ অংশ বিতরণ না করে তবে তার পূজো কোনো অংশ গ্রাহ্য বলে বিবেচনা করা হবে না।অথ্যাৎ আমাদের দ্বারা সেই ঈশ্বর কে নিয়জিত প্রসাদ সেই ঈশ্বর গ্রহণ করছে। এর জন্য স্বামীজী বলে গেছেন-“জীব সেবা মানে শিব সেবা”।