হিন্দু ধর্মের সাপেক্ষে নিষিদ্ধ খাবারের সূচী-



হিন্দুদের কাছে খাবার বাছাই করা একটি ব্যাক্তিগত, পরম্পরাগত ও নির্দিষ্ট মতবাদের বিশ্বাসের উপর নির্ভরশীল। কাজেই এমন অনেক হিন্দু আছেন যারা তাদের বংশানুক্রমিক পরম্পরা ও বিশ্বাসের জন্য কিছু জিনিস খাওয়া ত্যাগ করেছে। যেমন – ভারতের অনেক বৈষ্ণব সম্প্রদায় ভুক্ত হিন্দু (উত্তর ভারত) আছেন যাদের বাড়িতে মাছ তোলা নিষিদ্ধ। আবার অনেকের হিন্দু বাড়িতে (উত্তর-পশ্চিম ভারত) মাছ মাংশ দুটোই তোলা নিষিদ্ধ। কাজেই হিন্দুদের মধ্যে পরম্পরাগত, ব্যাক্তিগত ও বিশ্বাসী মতবাদগত ফ্যাকটর গুলির উপর অনেক অংশে নির্ভর করে নিষিদ্ধ খাবার গুলি বাছাই এর ক্ষেত্রে।
তাই কারো ব্যাক্তিগত বা পরম্পরাগত পছন্দ তে হস্তক্ষেপ করার জন্য এই নিবন্ধ টি লিখা হয়নি! বরং উক্ত নিবন্ধটি সেইসব বাঙালী হিন্দু ধর্মালম্বীদের জন্য লিখা হয়েছে যারা হিন্দু সংস্কার (সম্প্রদায় ভিত্তিক নয়) কে অবলম্বন করে চলেন এবং জানতে ইচ্ছা রাখেন কোন কোন খাবার গুলো হিন্দু শাস্ত্রের সাপেক্ষে সিদ্ধ বা নিষিদ্ধ। এখানে হিন্দু শাস্ত্র বলতে বেদ, পুরাণ ও তন্ত্রের মূল গ্রন্থ গুলি থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এই বৈধ-অবৈধ খাবারের সূচীটি বানানো হয়েছে।
প্রাণীজ

{দুধ}
[১] উট ও ভেড়ার দুধ পান করা নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২২-২৩, বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.১১-১২, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ৭.১৭০
[২] এক খুর বিশিষ্ট প্রাণীর (যেমন – ঘোড়া) দুধ পান করা নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২৩, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ৭.১৭০
[৩] গরু, মোষ, ছাগলের বাচ্চা জন্মানোর পর থেকে ১০দিন যাবৎ তাদের দুধ পান নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২৪, বসিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৩৫, বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.৯, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ৭.১৭০
[৪] নিচুস্তরের পশু (যেমন – কুকুর, বেড়াল) ও মাংসাশী পশুর (যেমন – বাঘ, সিংহ, শৃগাল) দুধ পান নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – লৌগাক্ষিগৃহ্ম সূত্রাণি ২.১৮৪


{ডিম}
[১] হাঁস, মুরগি, ময়ুরের ডিম খাওয়া সিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – মানব গৃহসূত্র ১.৪.২-৪, ভেল সংহিতা – চিকিতসাস্থানম – ২৬৭, চরক সংহিতা ২৭.৬৩-৬৪


{মাছ-মাংস}
[১] সাপ, কুমীর, ঘড়িয়াল, শুশুক, সর্প আকৃতির মাছ, ব্যাঙ, অনিয়তকার মস্তক বিশিষ্ট মাছ (যেমন – ইল, কুঁচে মাছ, হাঙর, তিমি ইত্যাদি) ও জলজ শামুক, ঝিনুক, গুগলি ইত্যাদি খাওয়া নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৪১, গৌতম ধর্মসূত্র ১৭.৩৬, আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.৩৮-৩৯
[২] বন্য মোরগ/মুরগি খাওয়া নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – মার্কণ্ডেয় পুরাণ ৭.৬.৪
★ অর্থ্যাৎ গৃহপালিত মোরগ/মুরগি খাওয়া সিদ্ধ।
[৩] যে সমস্ত পাখী শুধু তাদের পা দিয়ে মাটিতে আঁচড়ে আঁচড়ে খাবারের সন্ধান করে এবং যেসব পাখীরা লিপ্তপদী (যেমন – হাঁস) তাদের মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৪৮, গৌতম ধর্মসূত্র ১৭.৩৪-৩৫, বিষ্ণু স্মৃতি LI.২৮-৩১, বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.৭
[৪] রাজহাঁস, সারস, পানকৌড়ি, বক, কাক, পায়রা, টিয়া, ঘুঘু, তিতির, বাজ, চিল, শকূন, বাদুড়, ময়ূর, স্টার্লিং, দোয়েল, চড়ুই, কাঠঠোঁকরা, মাছরাঙা এবং নিশাচর পাখীর মাংশ খাওয়া নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৪৮, গৌতম ধর্মসূত্র ১৭.৩৪-৩৫, বিষ্ণু স্মৃতি LI.২৮-৩১, বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.৭, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ৭.১৭২-১৭৪
[৫] মাংসাশী পাখির মাংশ আহার নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.৩৪, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ৭.১৭২
[৬] যেকোনো বিস্বাদ ও খাদ্য অনুপযোগী মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – মনু স্মৃতি ৫.১১-১৭, বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৪৪
[৭] যে সমস্ত পশুর দুধের দাঁত ভাঙেনি তাকে জবাই করা নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৪৫, গৌতম ধর্মসূত্র ১৭.৩০-৩১
★ অর্থ্যাৎ অপ্রাপ্তবয়স্ক পশুর মাংস আহার নিষিদ্ধ।
[৮] যে সমস্ত পশুর একটি মাত্র চোয়ালে দাঁত আছে (যেমন-ঘোড়া) তাদের মাংস আহার নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৪০, মনু স্মৃতি ৫.১৪, বিষ্ণু স্মৃতি LI.৩০
[৯] যে সমস্ত প্রাণীর পা বহু অংশে বাঁকা। যেমন শজারু, কাঁটাচয়া, শশক, খরগোশ, কচ্ছপ, গোধা, গোধিকা ইত্যাদির মাংশ খাওয়া সিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৩৯, গৌতম ধর্মসূত্র ১৭.২৭, বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.৫, মার্কণ্ডেয় পুরাণ ৭.৬.৪
[১০] গণ্ডার ও বন্য শূকরের মাংশ খাওয়া সিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৪৭, বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.৫
[১১] নরমাংস বা নরাকার যন্তুর মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – মহানির্ব্বাণ তন্ত্র ৮.১০৮
[১২] গৃহপালিত পশু, ছাগল, ভেড়ে, শূকরের মাংশ খাওয়া বৈধ।
তথ্যসূত্র – বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.১-৪
★ অর্থ্যাৎ গৃহপালিত শূকরের মাংস বৈধ।
[১৩] গ্রাম্য শূকরের মাংস নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – মার্কণ্ডেয় পুরাণ ৭.৬.৪, আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২৯
★ গ্রাম্য শূকর বলতে ফালতু শূকরের সেইসব প্রজাতি গুলোকে বোঝানো হয়, যারা আকারে ছোটো এবং পঙ্কিল নোংরা স্থানেই শুধু বাস করে। নোংরা স্থানে থাকার জন্য এদের মাংসে কৃমিজাতীয় পরজীবীর সিস্ট থাকে যা খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করলে মানুষ সংক্রমিত হয়। উক্ত কারণের জন্য গ্রাম্য শূকরের মাংস নিষিদ্ধ কিন্তু গৃহপালিত শূকর নয়।
[১৪] যেকোনো মৃত প্রাণীর মাংস আহার করা নিষিদ্ধ। তথ্যসূত্র – আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৬.১৬
[১৫] বহু উপকারী গোজাতির মাংস আহার নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – মহানির্ব্বাণ তন্ত্র ৮.১০৮, বিষ্ণু পুরাণ ৩.৩.১৫, ব্রহ্মবৈবর্ত্ত পুরাণ ১.৯.৯, বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৪৩-৪৫
[১৬] গৌর, ঘায়ল, সরাভ, ষাঁড় প্রভৃতি গো সম্প্রদায় ভুক্ত জীবের মাংস নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৪৩, আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২৯
[১৭] মাংসাশী প্রাণীর মাংস নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – মহানির্ব্বাণ তন্ত্র ৮.১০৮, গৌতম ধর্মসূত্র ১৭.৩৪
★ মূলত মাংসাশী প্রাণী বলতে উচ্চতর প্রাণীদের বোঝানো হয়েছে যেমন – বাঘ, সিংহ, শৃগাল, বন্য কুকুর ইত্যাদি। এদের শিকার করা কঠিন এবং মাংস নিরস, দুর্গন্ধ এবং কুরুচিকর স্বাদ যুক্ত হওয়ার জন্য পরিত্যাজ্য।
[১৮] একখুর বিশিষ্ট প্রাণীর (যেমন – উটের) মাংস নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২৯
[১৯] কৃষ্ণসার, নীলগাই, সাধারণ হরিণ, বন্য শূকরের মাংস খাওয়া বৈধ।
তথ্যসূত্র – বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.৬
[২০] স্বাদু ও লবণাক্ত জলের মাছ (যেমন- বিভিন্ন মেজর ও মাইনর কার্প, খাঁড়ির মাছ ইত্যাদি) আহার হিসাবে গ্রহণ করা বৈধ।
তথ্যসূত্র – বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.৮

{অন্যান্য}
[১] মাদক দ্রব্য মিশ্রিত পানীয় নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২১
[২] সুরা ও সুরা প্রস্তুতের জন্য ব্যাবহৃত দ্রব্য সমূহ নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২৫
[৩] ব্যাঙের ছাতা, শালগম নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২৮, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ৭.১৭১, বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৩৩
[৪] যেকোনো আহারে উপযোগী বীজ, ফল, মূল, সব্জি খাওয়া বৈধ।
তথ্যসূত্র – নারদ পুরাণ ১১.১২-২২
[৫] সুস্বাদু আহারে উপযোগী রস (যেমন – খেঁজুরের রস, তালের রস, আখের রস, ডাবের জল, ফলের রস ইত্যাদি), দুগ্ধজাত পদার্থ (যেমন – দুধ, ঘি, মাখন, দই) মধু ইত্যাদি বৈধ।
তথ্যসূত্র – নারদ পুরাণ ১৮.১২-১৩
[৬] রসুন, পেঁয়াজ, পলাণ্ডু খাওয়ার উপর বিতর্কিত বিধান আছে, কাজেই ইহা খাওয়া যেতে পারে।
★আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২৬, মনু স্মৃতি ৫.৫, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ১.১৭৬, বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৩৩ অনুসারে পেঁয়াজ রসুন খেলে প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। অপরদিকে বৈদিক আয়ুর্ব্বেদ শাস্ত্র গুলিতে ভিন্ন চিকিৎসার কাজে পেঁয়াজ রসুনের ব্যাবহার উল্লেখ রয়েছে। কাজেই পেঁয়াজ রসুন খাওয়া কে নিষিদ্ধ বলা অযৌক্তিক।
[৭] টকে যাওয়া (ব্যাতিক্রম – দই) বা পচে যাওয়া বা কোনো খাবারে উভয়ে মিশ্রিত খাবার খাওয়া নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২০, বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.১৫, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ৭.১৬৭
[৮] কুকুর, বিড়াল, বানর, মহিষ প্রভৃতি বন্য প্রাণীর মাংস আহার নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – লৌগাক্ষিগৃহ্ম সূত্রাণি ২.১৯৩, বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৩৩, মানব গৃহসূত্র ১.৪.২-৪
[৯] যে খাবারে কোনো পশু মুখ দিয়েছে তা খাওয়া নিষিদ্ধ। তথ্যসূত্র – গৌতম ধর্মসূত্র ১৭.১০, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ৭.১৬৭
[১০] যে সব খাবারে পোকা জন্মছে তা খাওয়া নিষিদ্ধ। তথ্যসূত্র – আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৬.২৬, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ৭.১৬৭

উক্ত নিষিদ্ধতার বাইরের খাদ্য বস্তু বা আহার সামগ্রী সমূহ বৈধ, কারণ সেইসব আহার সামগ্রীর উপরে নিষিদ্ধতা আরোপ হয়নি হিন্দুশাস্ত্র সমূহে।
Writer and Editor Samir Kumar Mondal

Advertisements

ধর্মীয় রীতি কুসংস্কার না বিজ্ঞান?


 

মন্দিরে ঘণ্টা বাজানো থেকে শুরু করে নদীতে কয়েন ফেলা, এমনকি নমস্কার করা, এ সবই আমরা হিন্দুধর্মের রীতি মেনে করে থাকি। অনেকে হিন্দু ধর্মের রীতিনীতিকে কুসংস্কার বলে মনে করেন। কিন্তু আপনারা কী জানেন হিন্দু ধর্মের এই সমস্ত প্রথা বা রীতিনীতির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে? আর তাই যুগ-যুগ ধরে এই ঐতিহ্য পালিত হচ্ছে। কী এই ঐতিহ্য বা প্রথাগুলি, যার পিছনে বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে? আজ প্রথম পর্ব


নদীতে কয়েন ফেলা: আমাদের ধারণা, নদীতে কয়েন ফেললে, তা আমাদের জন্য গুড লাক নিয়ে আসবে। কিন্তু এর একটি বিজ্ঞানভিত্তিক কারণও রয়েছে। প্রাচীন কালে তামার মুদ্রা প্রচলিত ছিল, আজকের যুগের মতো স্টেইনলেস স্টিলের মুদ্রা নয়। মানবশরীরের জন্য তামা খুব উপকারি ধাতু। জলের মাধ্যমে আমাদের শরীরে যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে তামা যায়, তা নিশ্চিত করার জন্যই আমাদের পূর্বপুরুষরা এই প্রথা চালু করেন। কারণ, নদীই পানীয় জলের একমাত্র উত্‍‌স।

হাতজোড় করে নমস্কার করা: কাউকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য আমরা সাধারণত হাতজোড় করে নমস্কার করে থাকি। এই প্রথার প্রচলিত ব্যাখ্যা হল, কাউকে নমস্কার করার অর্থ তাঁকে সম্মান প্রদর্শন। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, হাতজোড় করার ফলে আমাদের দুই হাতের পাঁচটি আঙুলের ডগা পরস্পরের সঙ্গে মিলে যায়। যার ফলে আমাদের চোখ, কান এবং মস্তিষ্কের প্রেশার পয়েন্টে চাপ পড়ে। এই চাপই ওই ব্যক্তিকে দীর্ঘ দিনের জন্য মনে রাখতে আমাদের সাহায্য করে।
পায়ের আঙুলে আংটি পড়া: বিবাহিত মহিলারা হিন্দু প্রথা মেনে পায়ের আঙুলে আংটি পড়লেও, এর পিছনে বিজ্ঞান রয়েছে। সাধারণত পায়ের দ্বিতীয় আঙুলে এই আংটি পড়া হয়। ওই দ্বিতীয় আঙুলের একটি স্নায়ু জরায়ু হয়ে হৃদযন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত। এই আঙুলে আংটি পড়লে, তা জরায়ুকে সুস্থ, সবল রাখে। এর ফলে রক্তপ্রবাহ নিয়ন্ত্রিত হয় এবং নিয়মিত মাসিক হয়। রুপো ভালো কনডাক্টর হওয়ায় তা পৃথিবী থেকে পোলার এনার্জি আত্মসাত্‍‌ করে শরীরে ছড়িয়ে দেয়।

তিলক করা: কপালে, দু’টি ভুরুর মাঝখানে তিলক করি। দুই ভুরুর মাঝখানের অংশে মানবশরীরের গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ু বর্তমান। মনে করা হয়, তিলক শক্তি অপচয় রোধ করে। লাল রঙের কুমকুম মানবশরীরে শক্তি বজায় রাখে এবং মনোযোগের বিভিন্ন স্তর নিয়ন্ত্রণ করে। কপালে কুমকুম লাগানোর সময়ে ভুরুর মাধখানের অংশ এবং আদ্য-চক্রে চাপ পড়ে। এর ফলে মুখের পেশিতে রক্ত চলাচল সুচারু ভাবে সম্পন্ন হয়।

মন্দিরে ঘণ্টা বাজাই কেন? মন্দিরের গর্ভগৃহে ঢোকার আগে আমরা ঘণ্টা বাজাই। আগামা শাস্ত্রে বলা গয়েছে, ঘণ্টাধ্বনি সেখান থেকে অশুভ শক্তিকে দূরে রাখে এবং সেই ধ্বনি ঈশ্বরের প্রিয়। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, ঘণ্টাধ্বনি আমাদের মস্তিষ্ক পরিষ্কার করে। ঘণ্টা বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মস্তিষ্কের ডান এবং বাম অংশ এক হয়ে যায়। ইকো মোডে ৭ সেকেন্ড পর্যন্ত ঘণ্টাধ্বনি বজায় থাকে। এই সাত সেকেন্ডে আমাদের শরীরের সাতটি আরোগ্য কেন্দ্র সক্রিয় হয়। যার ফলে আমাদের মস্তিষ্কে বর্তমান সমস্ত নেগেটিভ চিন্তাধারা মুছে যায় এবং ঈশ্বর আরাধনায় আমাদের সম্পূর্ণভাবে মনোযোগী করে তোলে।

বছরে দু’বার নবরাত্রি কেন হয়? এই ২ মাসে ঋতু পরিবর্তন হয়। আবার এই দুই মাসের খাদ্যাভ্যাসও একে অপরের থেকে আলাদা। পরিবর্তিত ঋতুর সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময়ের প্রয়োজন। নবরাত্রি মানবশরীরকে সেই সময় দেয়, যাতে মানুষ পরিবর্তিত ঋতুর সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। এই ৯ দিনের উপবাসে মানুষ অত্যধিক পরিমাণে নুন বা চিনি খায় না। যা মানুষের শরীর পরিষ্কার করে দেয়। এর ফলে মানুষের পজিটিভ এনার্জি, আত্মবিশ্বাস এবং আত্মনির্ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। অবশেষে ব্যক্তি পরিবর্তিত ঋতুর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়।

তুলসি পুজো কেন করি? হিন্দু ধর্মে তুলসিকে মা মনে করা হয়। বৈদিক যুগের সাধুরা তুলসির উপযোগিতা সম্পর্কে সচেতন ছিলেন, তাই তাঁরা সকলের মনে ধারণা গড়ে তোলেন যে তুলসি ঈশ্বরসম এবং সমগ্র সমাজের কাছে তুলসি সংরক্ষণের বার্তা পৌঁছে দেন। তুলসি মানবজাতির জন্য সঞ্জিবনী। তুলসির একাধিক ঔষধি গুণ রয়েছে। এটি অসাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক। চা বা অন্য কোনও ভাবে তুলসি খেলে তা মানবশরীরের অনাক্রম্যতা বৃদ্ধি করে এবং মানুষকে রোগমুক্ত করে। এমনকি আয়ুও বাড়িয়ে তোলে। বাড়িতে তুলসি গাছ রাখলে, তা কীটপতঙ্গ বা মশা ঘরে ঢুকতে দেয় না। কথিত আছে, সাপ তুলসি গাছের ধারে-কাছে যেতে সাহস করে না। হয়তো তাই, প্রাচীন কালে বাড়ির সামনে তুলসি গাছ লাগানো থাকত।

অশ্বত্থ গাছের পুজো কেন করি? সাধারণ মানুষের কাছে অশ্বত্থ গাছের কোনও উপকারিতা নেই। ছায়া প্রদান করা ছাড়া এই গাছটি না সুস্বাদু ফল দেয় আর না এর কাঠ এত শক্তপোক্ত, যে তা অন্য কাজে ব্যবহার করা যাবে। তা সত্ত্বেও অশ্বত্থ গাছের পুজো কেন করি আমরা? আমাদের পূর্বপুরুষরা জানতেন যে, অশ্বত্থ নির্দিষ্ট কয়েকটি গাছের মধ্যে অন্যতম (বা সম্ভবত একমাত্র গাছ) যা রাত্রিবেলাতেও অক্সিজেন উত্‍‌পন্ন করে। তাই এই গাছকে বাঁচানোর জন্য এর পুজো চালু করা হয়।

ঝাল দিয়ে খাওয়া শুরু, মিষ্টি দিয়ে শেষ: খেতে বসে মশলাদার বা ঝাল খাওয়ার আগে খেতে হয় এবং শেষে মিষ্টি। ছোটবেলা থেকেই আমাদের এই খাদ্যাভ্যাস তৈরি করা হয়েছে। এ ধরনের খাদ্যাভ্যাস তৈরির কারণ হল, মশলাদার বা ঝাল খাদ্য হজম পদ্ধতিকে সহজ করে দেয়। কিন্তু মিষ্টি বা কার্বোহাইড্রেট হজম পদ্ধতিকে ধীরগতিতে চালিত করে। তাই সব সময় খাবারের শেষে মিষ্টি খাওয়া উচিত।

মাথায় টিকি রাখা: শুশ্রুত ঋষি মাথায় মুখ্য স্পর্শকাতর অংশটিকে অধিপতি মর্ম হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। যা সমস্ত স্নায়ুর যোগসূত্র। শিখা বা টিকি ওই অংশটিকে নিরাপত্তা প্রদান করে। শরীরের নিম্নাংশ থেকে মস্তিষ্কের নীচে, ব্রহ্মরন্ধ্রে সুশুম্না স্নায়ু পৌঁছয়। যোগ অনুসারে ব্রহ্মরন্ধ্র ১০০০ পাপড়ি বিশিষ্ট পদ্ম এবং এটি শীর্ষ সপ্তমচক্র। এটি জ্ঞানের কেন্দ্র। গিঁঠ বাধা শিখা বা টিকি কেন্দ্রটিকে উত্‍‌সাহিত করে এবং ওজস নামে পরিচিত এর সূক্ষ্ম শক্তিকে সংরক্ষিত করে।

মেহেন্দি কেন লাগানো হয়: মেহেন্দি খুবই শক্তিশালী ঔষধি। বিয়ের সময় চাপ এবং চিন্তা বেড়ে যায়, যার ফলে মাথাব্যথা, এমনকি জ্বর পর্যন্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মেহেন্দি শরীর ঠান্ডা করে। ফলে চাপ কমে এবং স্নায়ুকে চিন্তাগ্রস্ত হতে দেয় না। তাই হাতে এবং পায়ে মেহেন্দি লাগানোর প্রথা প্রচলিত।

দীপাবলির আগে ঘর পরিষ্কার: সাধারণত অক্টোবর বা নভেম্বরে দীপাবলি উত্‍‌সব পালিত হয়। দীপাবলির আগে বর্ষাকাল শেষ হয় এবং শীতকাল শুরু হয়। ভারী বৃষ্টির ফলে অনেকের ঘর-বাড়িই সারাই এবং পরিষ্কার করার প্রয়োজন হয়। তাই দিওয়ালির আগে ঘরদোর পরিষ্কার এবং সৌন্দর্যায়নের কাজ করা হয়ে থাকে।

মাটিতে বসে খাদ্যগ্রহণ: মাটিতে বসে খাদ্যগ্রহণের সময়ে আমরা সাধারণত সুখাসনে বসি। সুখাসনে বসে খাবার খেলে তা আমাদের হজমশক্তি বাড়িয়ে দেয়। সংবহনতন্ত্র হজমের ওপর দৃষ্টি দেয়। যা চেয়ারে বসে বা দাঁড়িয়ে খেলে হয় না।

প্রশ্ন:ভাইফোঁটা কী?



উত্তর: ভাইফোঁটা হিন্দুদের একটি উৎসব। এই উৎসবের পোষাকি নাম ভ্রাতৃদ্বিতীয়া অনুষ্ঠান। কার্তিক মাসের শুক্লাদ্বিতীয়া তিথিতে (কালীপুজোর দুই দিন পরে) এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। পশ্চিম ভারতে এই উৎসব ভাইদুজ নামেও পরিচিত। সেখানে ভ্রাতৃদ্বিতীয়া পাঁচ-দিনব্যাপী দীপাবলি উৎসবের শেষদিন। আবার, মহারাষ্ট্র, গোয়া ও কর্ণাটকে ভাইফোঁটাকে বলে ভাইবিজ। নেপালে ও পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং পার্বত্য অঞ্চলে এই উৎসব পরিচিত ভাইটিকা নামে। সেখানে বিজয়াদশমীর পর এটিই সবচেয়ে বড় উৎসব।

এই উৎসবের আরও একটি নাম হল যমদ্বিতীয়া। কথিত আছে, এই দিন মৃত্যুর দেবতা যম তাঁর বোন যমুনার হাতে ফোঁটা নিয়েছিলেন। অন্য মতে, নরকাসুর নামে এক দৈত্যকে বধ করার পর যখন কৃষ্ণ তাঁর বোন সুভদ্রার কাছে আসেন, তখন সুভদ্রা তাঁর কপালে ফোঁটা দিয়ে তাঁকে মিষ্টি খেতে দেন। সেই থেকে ভাইফোঁটা উৎসবের প্রচলন হয়। ভাইফোঁটার দিন বোনেরা তাদের ভাইদের কপালে চন্দনের ফোঁটা পরিয়ে দিয়ে ছড়া কেটে বলে-
“ ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা।
যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা।।
যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা,
আমি দিই আমার
ভাইকে ফোঁটা॥
কাটা যেনো নড়ে না
ভাই যেনো মরে না।।”

এইভাবে বোনেরা ভাইয়ের দীর্ঘজীবন কামনা করে। তারপর ভাইকে মিষ্টি খাওয়ায়। ভাইও বোনকে কিছু উপহার বা টাকা দেয়।

পশ্চিমবঙ্গে ভাইফোঁটা একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠান হলেও ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে পালিত হয়। পশ্চিম ভারতের ভাইবিজ একটি বর্ণময় অনুষ্ঠান। সেখানে এই উপলক্ষ্যে পারিবারিক সম্মেলনেরও আয়োজন করা হয়। মহারাষ্ট্রে মেয়েদের ভাইবিজ পালন অবশ্যকর্তব্য। এমনকি, যেসব মেয়েদের ভাই নেই, তাঁদেরও চন্দ্র দেবতাকে ভাই মনে করে ভাইবিজ পালন করতে হয়। এই রাজ্যে বাসুন্দি পুরী বা শ্রীখণ্ড পুরী নামে একটি বিশেষ খাবার ভাইবিজ অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি করার রেওয়াজ আছে।
সূত্র: উইকিপিডিয়া

অশ্বমেধ-গোমেধ-নরমেধ যজ্ঞ এবং বলি


অশ্বমেধ-গোমেধ-নরমেধ যজ্ঞ এবং বলি-


🌻সর্বপ্রথমে একটা কথা বলে নেই ভাই…… আমি সমাজতত্ত্বের একজন ছাত্র, তাই সামাজিক ইস্যুগুলোর সুরাহা না করে আত্মা শান্তি পায় না। ধর্ম একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। যাহোক এবার দেখি হিন্দুদের বৈদিক যজ্ঞে অশ্ব, গো বা গরু, নর বা মানুষ বলী দেয়া হতো কি না??? অনেক মুসলিম ভাই এমনকি হিন্দু ভাইরাও বলত যে বৈদিক যজ্ঞে নাকি এত বেশি পশু বলী দেয়া হতো এবং খাওয়া হতো যে ভারতে নাকি গরুর সংকট পড়ে গিয়েছিল, তাই হিন্দু পুরোহিতরা নাকি গরুকে দেবতা মনে করে তা খাওয়া বা হত্যা নিষেধ করেছে। এইবার দেখি বিষয়টা আসলে কি???
🌻 আমরা মহাভারতে দেখেছি যে রাজা যুধিষ্ঠির অশ্বমেধ যজ্ঞ করেছেন। সেখানে আমরা দেখেছি যে একটা ঘোড়া বেঁধে রেখে একটা যজ্ঞ করা হতো আগুন জ্বালিয়ে তাতে ঘি, চন্দন কাষ্ঠ ইত্যাদি সুগন্ধি দ্রব্য দিয়ে তার পর সেই ঘোড়াকে ছেড়ে দেয়া হতো। বৈদিক যুগের রাজা/সম্রাটরাই এই অশ্বমেধ যজ্ঞ করতো। যজ্ঞের পর ঘোড়াকে ছেড়ে দিয়ে তার পিছনে সম্রাটের সেনাবাহিনী থাকত। ঐ ঘোড়া বিভিন্ন রাজ্যে প্রবেশ করতো। যে রাজা ঐ ঘোড়া আটক করতো না সেই রাজা যজ্ঞকারী সম্রাটের অধীনতা স্বীকার করেছেন বলে ধরে নেয়া হতো। আর যে রাজা ঘোরা আটক করতো তার সাথে যুদ্ধ হতো। বস্তুত, কোন রাজা যদি সম্রাট হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করত, তাহলে তিনি এই অশ্বমেধ যজ্ঞ করতো। মাত্র গুটিকয়েক বৈদিক সম্রাট এই যজ্ঞ করেছেন, যেমন- যুধিষ্ঠির, দশরথ, পরীক্ষিত ও জন্মেজয়। অশ্বমেধ যজ্ঞ মানে অশ্ব বা ঘোড়া বলী দেয়া না বা ঘোড়ার মাংস খাওয়াও না। ঘোড়ার মাংস বিষাক্ত তা খাওয়াও যায় না। তাই যারা বলেন যে অশ্বমেধ মানে অশ্ব বলী, গোমেধ মানে গরু বলী, নরমেধ মানে নরবলি তারা হয় বেদ পড়েননি না হয় হিন্দুদের অমৌলিক গ্রন্থ পুরাণসমূহ পড়ে বেদের কদর্থ করছেন।
🌻 আসলে মৌলিক বৈদিক গ্রন্থ বেদ সংহিতা, উপনিষদ, ব্রাহ্মন গ্রন্থসমূহের উপর জ্ঞান না থাকায় আমরা গোমেধ,অশ্বমেধ, নরমেধ ইত্যাদি পবিত্র শব্দ গুলির অর্থ না জেনেই শোনা কথার উপর ভিত্তি করেই বলে বেড়াই যে ,বৈদিক যজ্ঞে গো-অশ্ব বলি দেওয়ার বিধান আছে ! এবার দেখে নেই ‘যজ্ঞ’ কে পবিত্র বেদে কি বলা হয়েছে। পবিত্র বেদের প্রথম মন্ডলের প্রথম সুক্তের চার নং মন্ত্রে যজ্ঞকে ‘অধ্বরং’ বলা হয়েছে। বৈদিক ব্যাকরন গ্রন্থ নিরুক্ত এর ১.৩৩ এ বলা হয়েছে ‘অধ্বরং’ অর্থ হল অহিংস অর্থাত্ যজ্ঞ হল অহিংস। সেখানে রক্তপাতের কোন প্রশ্ন ই আসেনা। আর পবিত্র বেদে যেখানে শত শত মন্ত্রে পশুহত্যা নিষিদ্ধ করা হয়েছে,পশুদের উপকারী জীব বলে সেবা করতে বলা হয়েছে সেখানে যজ্ঞতে পশুবলীর চিন্তা আনাটাও অমূলক!
অশ্বমেধ যজ্ঞ কি?
“রাষ্টং বৈ অশ্ব মেধঃ । অগ্ন হি গৌঃ ।অগ্নির্বা অশ্বঃ আজ্যং মেধঃ ॥
(শতপথ ব্রাহ্মন ১৩.১.৬.৩)
অনুবাদ- অশ্ব হল রাষ্ট্রের প্রতীকি নাম (সুপ্রশাসকের প্রগতিশীল রাষ্ট্র অশ্বের ন্যয় বেগবান এই অর্থে)। এই রাষ্ট্রের মেধ(প্রগতি) কামনায় যে যজ্ঞ রাজা করেন তাই অশ্বমেধ যজ্ঞ।
গোমেধ যজ্ঞ কি?
গো শব্দের ৯টি অর্থের মধ্যে একটি হল পৃথিবী। পৃথিবী ও পরিবেশের নির্মলতা কামনায় যে যজ্ঞ বা উপাসনা তাই গোমেধ যজ্ঞ।
নরমেধ যজ্ঞ কি?
মানুষের মৃত্যুর পর তার আত্মার সদগতি কামনায় যে অগ্নিদাহাদি ভিত্তিক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া (শ্রাদ্ধ) যজ্ঞ করা হয় তাই নরমেধ যজ্ঞ।
অশ্ব,গবাদি পশু ইত্যাদি হত্যা করে ,হোম বা যজ্ঞ করার বিধান কোন প্রামাণ্য শাস্ত্রে নেই । কেবল পৌরাণিক যুগে অল্প শিক্ষিত পুরোহিত/ব্রাহ্মণরা বেদের অর্থ না বুঝে এটা শুরু করেছে।(Collected)