বৈদিক বর্ষচক্র


Image result for vedic new year
মানবসভ্যতার ঊষাকালে এই ভারত ভূমিতে যে জ্ঞানবিজ্ঞানের বিকাশ ঘটেছিল, তার তুলনা পৃথিবীর অন্য কোথাও দেখতে পাওয়া যায়না।
যে সভ্যতা পেশিশক্তির প্রভাবে নয় জ্ঞানশক্তির প্রভাবে বিকশিত হয়েছিল, যার সঠিক কাল নির্ধারণ করা এখন সম্ভবপর হয়ে ওঠেনি, সমবেত মানুষের উন্মুক্ত জ্ঞানের উপলব্ধি থেকে এই সভ্যতার বিকাশ, তাই এই সভ্যতা অপৌরুষ সভ্যতা।
যদিও এই সভ্যতার পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন আমাদের চোখের সামনে তেমন নাই, তবুও যেটা রয়ে গেছে এটাই অসীম আকাশের ন্যায়, যার নাম বৈদিক সাহিত্য।
কিন্তু অনুতাপের বিষয় এইযে তার সামান্যতম অংশও আমরা বর্তমানে নিজের করে রাখতে পারিনি। তাই আমাদের সমাজ অতীতের ন্যায় উজ্জ্বল নয়।।
আজথেকে হাজার হাজার বছর পূর্বে বৈদিক ঋষিরা উদাত্তকণ্ঠ বলে গেছেন।
“দ্বাদশ প্রধয়শ্চক্রমেকং ত্রীণি নভ্যানি ক উ তচ্চিকেত।
তস্মিন্ৎসাকং ত্রিশতা ন শঙ্কবোহর্পিতাঃ যষ্টির্ন চলাচলাসঃ।।
★শব্দার্থ — চক্রন- এই বর্ষচক্রে/ দ্বাদশ – দ্বাদশ / ত্রীণি নভ্যানি- ইহার নাভি স্থান তিন ঋতু রহিয়াছে / কঃ উ তৎ চিকেত-এই তত্ত্বকে কে জানে/ তস্মিন সাকম শঙ্কব -সেই বর্ষের সহিত কীলক / ত্রিশতা ষষ্টি – তিন শত ষাট / অর্পিতা – স্থাপিত / ন চলা চলাশ – তাহা বিচলিত হয় না।
★অনুবাদ ঃ- বর্ষ চক্রে দ্বাদশ মাস আরের ন্যায় আবর্তন করে। ইহার কেন্দ্র স্থলে গ্রীষ্ম বর্ষা শীত এই তিন ঋতু রহিয়াছে।এই তত্ত্বকে কে জানে! এই বর্ষচক্রে ৩৬০দিনর্দ্ধ, কীলকের ন্যায় স্থাপিত।ইহার ব্যতিক্রম ঘটে না।
(ঋগ্বেদ, ১/১৬৪/৪৮)
বৈদিক সাহিত্য জ্ঞান বিজ্ঞানের অনেকদিকই আমাদের সামনে খুলে দিয়ে গেছে, কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস এমন তা আমরা সঠিক ভাবে গ্রহণ করতে পারিনি।
অনেকেই ভাবেন ৭০০ বছরের মুসলিম আগ্রাসন আমাদের ভারতীয় সভ্যতার প্রচুর ক্ষতি করে গেছে, এইকথা যেমন সত্য তেমনি তার থেকে বড় সত্য এইযে ১২০০ বছরের বৌদ্ধ এবং জৈন ধর্মের প্রভাবে বৈদিক সাহিত্যের ধ্বংস সবথেকে বেশি হয়েছে, বৈদিক সাহিত্য জ্বালিয়ে দিয়ে নিজেদের ধর্মকে প্রতিষ্ঠা করাই ছিল এই দুই ধর্মের অন্যতম কাজ।।Image result for vedic new year
যে সভ্যতা এত প্রাচীন, যে সভ্যতার ঋষিরা এত আগে সৌরবিজ্ঞান কে আয়ত্ত করে ছিল তাদের নিজেদের প্রাচীন বর্ষপঞ্জী নেই এটা ভাবাই যায়না।
এখন না থাকেলেও, আমার দৃঢ় বিশ্বাস সৌর পঞ্জিকাবর্ষ অবশ্যই বৈদিক যুগ থেকে ছিল, যা বৌদ্ধ যুগে বৌদ্ধ রাজানুগ্রহে ধ্বংস করা হয়।
তবে কিছু প্রাচীন ঐতিহাসিক সৌরপঞ্জিকা বর্তমানে ভারতীয় প্রচলিত বর্ষের সঙ্গে টিকে আছে। যেমন শকাব্দ।
শকাব্দ একটি প্রাচীন ভারতীয় সৌরবর্ষ, পণ্ডিতরা মনে করেন রাজা শালীবাহন শক জাতির উপর বিজয়ের সময় থেকে এই অব্দ শুরু হয় সৌরসিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে, একটি রাশি থেকে অপর রাশিতে আপতগমনের জন্য মাস পরিবর্তন হয়।
পূর্ব ভারতে প্রচলিত বঙ্গাব্দে এবং ভাস্করাব্দে বর্ষগণনার ক্ষেত্রে এখনও এই প্রাচীন পদ্ধতিটিই অনুসৃত হয়ে থাকে। শকাব্দে অঞ্চলভেদে বিভিন্ন সময়ে বর্ষারম্ভ হত। যেমন উত্তর ভারতে বছর শুরু হত চৈত্র মাসে কিন্তু পূর্ব ভারতে নববর্ষ অনুষ্ঠিত হত বৈশাখ মাসে। ভারত একটি কৃষি প্রধান দেশ, নববর্ষের সঙ্গে ধর্মাচরণ এবং কৃষিকাজ সম্পর্ক যুক্ত।
ভারতীয় ইতিহাসের আধুনিক যুগেও অন্যান্য অব্দের পাশাপাশি শকাব্দের ব্যবহার বহুলভাবে লক্ষিত হয়। সূর্যসিদ্ধান্তের প্রাচীন নিয়ম মেনেই অসমে বৈশাখ পালিত নববর্ষ উৎসব “বহাগ বিহু” থেকে শকাব্দ গণনা করা হয়।
অনেক প্রাচীন গ্রন্থ ও মধ্যযুগীয় গ্রন্থে শকাব্দের উল্লেখ আছে। আবার কনিষ্কের সঙ্গেও শকাব্দ সম্পর্ক আছে, অনেকেই মনে করেন, আমাদের বঙ্গাব্দ থেকে শকাব্দ ৫১৫ বছর প্রাচীন।
ভারতের বঙ্গাব্দ(পশ্চিমবঙ্গ) এবং ভাস্করাব্দ(অসম) শকাব্দের অনুকরণে প্রবর্তিত।
কামরুপ রাজ ভাস্কর দেবের রাজ্যভিষেকের সময় থেকে ভাস্কারব্দ গণনা করা হয়। এখন প্রশ্ন বঙ্গাব্দ কে প্রবর্তন করেন? যা ভাস্কারাব্দের সমান সৌরবর্ষ পঞ্জিকা।
গৌড়াধিপতি শশাঙ্ক ছিলেন সেই সময়ে অধুনা বঙ্গেশ্বর সুতরাং তিনিই ছিলেন বঙ্গাব্দের প্রবর্তক বাঙ্গালি রাজা।
আকবর বীরবল প্রসঙ্গ এখানে অবান্তর এবং ইতিহাস বিকৃতির নামান্তর মাত্র।

Advertisements

অউম(ওঁ)



ওমিত্যেতদহ্মরমিদঁ সর্বং তস্যোপব্যাখ্যানং ভতংভবদ্ভবিষ্যদিতি সর্বমোঙ্কার এব।যচ্চান্যৎ ত্রিকালাতীতং তদপ্যোঙ্কার এব।।
“ওঁ ইতি এতৎ = ওঁ,এই; অহ্মরম=অহ্মর (অবিনাশী পরমাত্মা); ইদম= এই ; সর্বম = সম্পূর্ণ জগত ; তস্য=তার ;উপব্যাখ্যানম = উপব্যাখ্যানম অর্থাৎ তার নিকটতম মহিমার বোধক; ভূতম =ভূত ( যা হয়েছে); ভগৎ = বর্তমান (এবং) ; ভবিষ্যৎ (যা হবে); ইতি = এই; সর্বম= সম্পূর্ণ জগত ; ওঁকার এব= ওঁকারই; চ= তথা ; যৎ=যা; ত্রিকালাতীতম=ত্রিকালাতীত ; অন্যৎ = অন্য (কোনো তত্ত্ব); তৎ = তা,অপি=ও; ওঁকার = ওঁকার, এব= ই।। (মাণ্ডূক্যোপনিষদ /১)

★ব্যাখ্যা –এই উপণিষদে পরব্রহ্ম পরমাত্মার সমগ্র রুপের তত্ত্ব বোঝাবার জন্য চার পাদের কল্পনা করা হয়েছে। নাম এবং নামীর একতার প্রতিপাদন করার জন্য প্রণবের অ,উ,এবং ম,,এই তিন মাত্রার সাথে এবং মাত্রারহিত তার অব্যক্তরুপের সঙ্গে পরব্রহ্ম পরমাত্মার এক একটি পাদের সমত্ব দেখানো হয়েছে।এইভাবে এই মন্ত্রে পরব্রহ্ম পরমাত্মার নাম যে ওঁকার,তাকে সমগ্র পুরুষোত্তম থেকে অভিন্ন স্বীকার করে একথা বলা হয়েছে যে,ওঁ এই অহ্মরই পূর্ণব্রহ্ম অবিনাশী পরমাত্মা।প্রত্যহ্ম দৃশ্যমান জড় চেতন, এই সম্পূর্ণ জগত তার উপব্যাখ্যান অর্থাৎ তারই নিকটতম মহিমার নিদর্শক। যে স্থল এবং সূক্ষ্ম জগৎ প্রথমে উৎপন্ন হয়ে তাতে বিলীন হয়েছে এবং ভবিষ্যতে উৎপন্ন হবে,,,সে সমস্ত ওঁকার অর্থাৎ পরব্রহ্ম পরমাত্মাই।এছাড়া ও যা তিনকালের অতীত,এসবের থেকে ভিন্ন,তাও ওঁকারই অর্থাৎ কারণ,সূক্ষ্ম এবং স্থূল,, এই তিন ভেদেবিশিষ্ট জগৎ এবং এর ধারক পরব্রহ্মের যে অংশটুকুও এর আত্মারুপে এবং আধাররুপে অভিব্যক্ত হয়,,,শুধুমাত্র ততটুকুই পরমাত্মার স্বরুপ নয়,তিনি তা থেকে আর ব্যাপক। অতএব তার অভিব্যক্ত অংশ এবং তার অতীত যা কিছু সব মিলে পরব্রহ্ম পরমাত্মারই সমগ্র রুপ। এর অভিপ্রায় এই যে,যারা পরব্রহ্মকে কেবল সাকাররুপে স্বীকার করেন অথবা নিরাকার অথবা সর্বথা নির্বিশেষরুপে স্বীকার করেন তাকে সর্বজ্ঞ,সর্বাধার,সর্বকারণ,সর্বেশ্বর, আনন্দ,বিজ্ঞান আদি কল্যাণময় গুণসম্পন্ন বলে স্বীকার করেন না,তারা প্রকৃতপহ্মে পরব্রহ্মের এক অংশকেই পরমাত্মারুপে স্বীকার করেন।পূর্ণব্রহ্ম পরমাত্মা সাকার এবং নিরাকার,,,,দুইই,,আবার সাকার ও নিরাকার উভয় থেকে ভিন্ন ও।সম্পূর্ণ জগত তার স্বরুপ,আবার তিনি এই জগত থেকে পৃথক ও।তিনি সর্বগুণরাহিত নির্বিশেষ ও এবং সর্বগুণসম্পন্ন ও একথা স্বীকার করাই হল তাকে সর্বাঙ্গ রুপে স্বীকার করা।।
লিখেছেন- সুমিত ভট্টাচার্য্য।

হিন্দু ধর্ম নাকি সনাতন ধর্ম?



ধর্ম শব্দটি সংস্কৃত ‘ধৃ’ ধাতু থেকে ধর্ম শব্দের উৎপত্তি যার বাংলা অর্থ- ‘যা ধারণ করে’। এই ধর্ম শব্দটি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং নিরপেক্ষ শব্দ। পৃথিবীর সকল জীবন্ত প্রাণীসহ সকল বস্তুরই রয়েছে নিজস্ব ধর্ম। এর মধ্যে ব্যক্তিগত ধর্ম ছাড়াও রয়েছে সমষ্টিগত ও সর্বজনীন ধর্ম। যেমন— জলের ধর্ম তৃষ্ণা নিবারণ, আগুনের ধর্ম পুড়ানো, সূর্য প্রতিদিন পূর্ব দিকে উদিত হয়, চাঁদ স্নিগ্ধ জ্যোৎস্না দান করে। এগুলো অনাদিকাল ধরে একই রূপে চলে আসছে। এর কোনো অন্যথা হয় না। জল, আগুন, সূর্যের উদয়-অস্ত প্রকৃতিকে সনাতন বলা হয়। বনের বাঘ, সিংহ, গণ্ডার, বানর প্রভৃতি জন্তুর মধ্যে সমষ্টিগত ধর্ম দেখা দেয়। তখন বলা হয় বাঘের ধর্ম, বানরের ধর্ম ইত্যাদি। এভাবেই পশুদের আলাদা সম্প্রদায়ে ভাগ করা হয়। পাখিদের ক্ষেত্রেও তাই। তাহলে দেখা যায়, প্রকৃতিগতভাবে সকল প্রাণী ও বস্তুর ধর্ম সনাতন। কিন্তু মানুষ তার বুদ্ধিমত্তার জন্য সমস্ত জীব জগৎ থেকে আলাদা। সভ্যতার আদিতে মানুষের একটিই জাতীয় পরিচয় ছিল—তা হচ্ছে মানব জাতি। তাদের ধর্ম ছিল একটি- তাহল প্রাকৃতিক ক্রমান্বয়ে মানব সভ্যতার উত্তরণের পথ বেয়ে ধর্ম নিরপেক্ষ ‘ধর্ম’ শব্দটি বিভিন্ন ধর্ম (Natural Growth)) সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে। যেমন— হিন্দু ধর্ম, বৌদ্ধ ধর্ম, খ্রীষ্ট ধর্ম প্রভৃতি। তা ছাড়াও অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধর্মীয় সম্প্রদায় পৃথিবীতে রয়েছে। কাজেই যে কোনো জাতি বা সম্প্রদায় হোক না কেন যার সঙ্গে ধর্ম শব্দটি যুক্ত হয়েছে সে সকল ধর্মই সনাতন। তাহলে শুধু হিন্দু ধর্মকে আমরা সনাতন ধর্ম বলব কেন?

অন্যদিকে সনাতন শব্দের অর্থ প্রাচীন। হিন্দু ধর্ম অন্যান্য ধর্মের থেকে প্রাচীন বিধায় তাকে সনাতন ধর্ম বলা যাবে কি? ইতিহাসে আমরা দেখি ইহুদী, বৌদ্ধ, জরথুষ্ট্রীয় ধর্মও অনেক প্রাচীন ধর্ম। পৃথিবীতে যেসব আদিবাসী আছে তারা যে ধর্ম পালন করেন তাও অনেক প্রাচীন। তাহলে এই ধর্ম মতগুলোও সনাতন ধর্ম।

এই আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট যে, কিছু কিছু ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠিত হিন্দু ধর্মের নাম পরিবর্তন করে তা সনাতন ধর্ম বলে প্রচার করে প্রাচীনত্বের দিকে ফিরে যেতে চান। উল্লেখ্য, যারা প্রাচীন আচার, প্রথা ও সংস্কার আঁকড়ে ধরে থাকতে চান তাদের আজকের দুনিয়ায় প্রাচীনপন্থী, ধর্মান্ধ বা ইংরেজিতে Fundamentalist বলা হয়ে থাকে। মধ্যযুগে সুবিধাবাদী ব্রাহ্মণগোষ্ঠী ও পুরোহিততন্ত্র ধর্মের নামে জাতিভেদ প্রথা, কুলিন প্রথা, সতীদাহ প্রভৃতি অপপ্রথার মাধ্যমে বিশাল হিন্দু জনগোষ্ঠীর ওপর যে নির্মম অত্যাচার নিপীড়ন করেছিল তার ফলে ব্যাপক সংখ্যক হিন্দু অন্য ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়ে যায় এবং এর ফলে হিন্দু জাতি ও ধর্ম ক্ষয়প্রাপ্ত হতে থাকে। আধুনিক যুগে এসে রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এবং সর্বোপরি স্বামী বিবেকানন্দ সঠিক বৈদিক ধর্মকে সর্বসাধারণের সামনে উপস্থাপন করে বহু কুসংস্কার ও প্রাচীন প্রথাকে উচ্ছেদপূর্বক হিন্দু ধর্মের পুনঃস্থাপন করেন। এই মনীষীদের দ্বারাই হিন্দু ধর্মের বিশ্বায়ন হয়। এই বিশ্বায়নে বহিরাগত ইংরেজ ও গ্রিকদের অবদানও কম নয়। এভাবেই পৃথিবীর সকল প্রান্তের মানুষ হিন্দু ধর্মকে হিন্দু ধর্ম নামেই চেনেন। বিশ্ব বিখ্যাত সংস্কৃত পণ্ডিত ও দার্শনিক ম্যাক্স মুলার, রঁমারোঁলা, শোপেনহাওয়ার তাদের সুচিন্তিত লেখনীর মাধ্যমে যে হিন্দু ধর্মের মহাসাগর স্বরূপ পবিত্র বেদ ও বেদান্তদর্শন বিশ্বের দরবারে ছড়িয়ে দিয়েছেন তা যেন কেউ কালিমা লিপ্ত না করেন। নিশ্চয়ই সনাতনপন্থীরা উল্লিখিত মহান ব্যক্তিদের চেয়ে বড় পণ্ডিত নন। বর্তমান প্রজন্মকে লক্ষ্য রাখতে হবে, অতীতে পুরোহিত তন্ত্র বহু ফতোয়া জারি করে হিন্দু ধর্মের যে সর্বনাশ সাধন করেছিল নব্য সনাতনপন্থীরা যেন জাতিভেদের মতো আরেকটি সনাতনপন্থী ভেদ করে হিন্দু জাতিকে দুর্বল করতে না পারে।

পরিশেষে, সনাতন ধর্মের প্রকৃত সংজ্ঞা উল্লেখ করে এই ক্ষুদ্র প্রবন্ধের ইতি টানছি। মহাভারতে ভীষ্মের শরশয্যায় অন্তিম মুহূর্তে ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির তাকে প্রশ্ন করলেন, পিতামহ, সনাতন ধর্ম কি?

ভীষ্ম উত্তর দিলেন, ‘অহিংসা, সত্য, অক্রোধ ও দান— এ চারটিই সনাতন ধর্ম। তুমি এই ধর্মের অনুষ্ঠান করিবে। ’
সনাতন শব্দটি প্রসঙ্গে পবিত্র গীতায় বিশ্বরূপ দর্শনের পর অর্জুন শ্রীকৃষ্ণকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘তুমি সনাতন পুরুষ, তোমার মধ্যে শাশ্বত ধর্ম- শুধু ধর্ম নয়, শাশ্বত ধর্ম। অর্থাৎ ধর্মীয় দৃষ্টিতে কেউ ব্যক্তিগতভাবে শাক্ত, বৈষ্ণব, শৈব হতেই পারেন। কিন্তু সেটা শাশ্বত ধর্ম নয়। দেশভেদে, কালভেদে, মানুষভেদে যে ধর্ম বিভিন্ন সেই ধর্মের কোনো শাশ্বতিকতা নেই। কিন্তু দেশ, কাল, মানুষের ভেদ অতিক্রম করে যে ধর্ম সমাজের উপকার সাধন করে সেই ধর্মই শাশ্বত ধর্ম’। কাজেই পবিত্র গীতার ভাষ্যানুসারে সনাতন পুরুষ একজনই। তিনি বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের স্রষ্টা ও সমস্ত জীব জগতের প্রভু। এমতাবস্থায় সনাতন শব্দটি ধর্ম বিশেষের সঙ্গে যুক্ত করা সঙ্গত বলে মনে হয় না।
বিমল কুণ্ডু
লেখক : সাবেক যুগ্ম-সচিব, কবি ও গবেষক, সহ-সভাপতি ঢাকা রাইটার্স ক্লাব।

হিন্দু ধর্মে নারীর মর্যাদা


Image result for vedic women

অনেকে অভিযোগ করেন, মনুসংহিতা সামগ্রিকরূপে একটি নারীবিরোধী শাস্ত্র। স্মরণ রাখা প্রয়োজন, পণ্ডিত ও বিদ্বান সমাজ একথা বহুবার স্বীকার করেছেন যে, মনুসংহিতা নামক স্মৃতিশাস্ত্রটিতে বহু প্রক্ষিপ্ত অংশ রয়েছে। এর মানে এই যে, জাতিগত বা সময়গত বিশেষ বিশেষ উদ্দেশ্যে এই পবিত্র গ্রন্থটিতে অনেক কাঁটাছেঁড়া করা হয়েছে। শ্লোক রচনার গঠন রীতির আধুনিকতা ও প্রাচীনতা বিবেচনা করে এই জাল শ্লোকগুলো আলাদা করা খুব কঠিন কিছু নয়। আদি মনুসংহিতা শাস্ত্রটি অধ্যয়ন করলে যে কেউ গর্বভরে দাবি করতে পারবেন যে, পৃথিবীতে নারীকে মর্যাদা দানে মহর্ষি মনুর মতো এতো চমৎকার সব বিধান আর কোন ধর্মনেতা কোন কালেই প্রদান করেননি। এমনকি মনুসংহিতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হলে অনেক ক্ষেত্রে আধুনিক নারীবাদীদের চিন্তাধারারও উন্নয়নের প্রয়োজন। এখানে অত্যন্ত সংক্ষেপে মনুস্মৃতির আলোকে বিষয়টা আলোচনা করা হলো।

আমরা এখন এমন একটি শ্লোক পড়ব যার অর্থ দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করে যে নারীরাই হচ্ছে কোন উন্নত সমাজের ভিত্তিস্বরূপ। এটি মনুসংহিতার তৃতীয় অধ্যায়ের (ধর্মসংস্কার প্রকরণ) শ্লোকঃ

যত্র নার্য্যস্তু পূজ্যন্তে রমন্তে তত্র দেবতাঃ।
যত্রৈতাস্তু ন পূজ্যন্তে সর্বাস্তত্রাফলাঃ ক্রিয়াঃ।। (মনুসংহিতা ৩/৫৬)

অর্থাৎ“যে সমাজে নারীদের যথাযথ শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করা হয় সেই সমাজ উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি লাভ করে। আর যারা নারীদের যোগ্য সম্মান করে না, তারা যতই মহৎ কর্ম করুক না কেন, তার সবই নিষ্ফল হয়ে যায়।”

এটি নারীদের প্রতি কোন চাটুকারিতা বা তোষামদি নয়। এটি এমন একটি সত্য যা নারীবিদ্বেষীদের কাছে বিষের মতো, আর নারীশক্তির মহিমা কীর্তনীয়াদের কাছে অমৃতস্বরূপ। প্রকৃতির এই নিয়ম পরিবার, সমাজ, ধর্মগোষ্ঠী, জাতি বা সমগ্র মানবতার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য। যারা মনুস্মৃতিকে দোষারোপ করেন, তারা কখনোই এই শ্লোকের উদ্ধৃতি দেন না। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শুধুমাত্র হিন্দুধর্ম সম্পর্কে কুৎসা প্রচারই তাদের একমাত্র কাজ। নিরপেক্ষ বিচার তাদের কাছে নেই। যেমন নিচের চমৎকার শ্লোকগুলোর কথা কোন হিন্দুধর্মের সমালোচক উল্লেখ করেন না:

“একজন পিতা, ভাই, পতি বা দেবর তাদের কন্যা, বোন, স্ত্রী বা ভ্রাতৃবধুকে মৃদুবাক্য, ভদ্র ব্যবহার ও উপহারাদি দ্বারা খুশি ও সন্তুষ্ট রাখবেন। যারা যথার্থ কল্যাণ ও উন্নতি চান, তারা নিশ্চিত করবেন যে, তাদের পরিবারের নারীরা যাতে সর্বদা খুশী থাকেন এবং কখনো দুর্দশা ভোগ না করেন”। (মনুসংহিতা ৩/৫৫)

“যে বংশে ভগিনী ও গৃহস্থের স্ত্রী (নারীকূল) পুরুষদের কৃতকর্মের জন্য দুঃখিনী হয়, সেই বংশ অতি শীঘ্র ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। আর যে বংশে স্ত্রীলোকেরা সন্তুষ্ট থাকে, সেই বংশ নিশ্চিতভাবেই শ্রীবৃদ্ধি লাভ করে”। (মনুসংহিতা ৩/৫৭)

ভেবে দেখুন, পরিবারের সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধির জন্য এর চেয়ে বড় কথা আর কি হতে পারে? এখানে পুরুষতান্ত্রিকতা চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। নারীকে সর্বদা সুখী রাখতে হবে -এটাই মহর্ষি মনুর নির্দেশ।

“যে স্বামী তার স্ত্রীকে সন্তুষ্ট রাখে না, সে তার সমগ্র পরিবারের জন্য দুর্দশা বয়ে আনে। আর যদি স্ত্রী পরিবারের প্রতি সুখী থাকেন, তবে সমগ্র পরিবার শোভাময় হয়ে থাকে।” (মনুসংহিতা ৩/৬২)

“যে বংশকে উদ্দেশ্য করে ভগিনী, পত্নী, পুত্রবধূ প্রভৃতি স্ত্রীলোকেরা অনাদৃত, অপমানিত বা বৈষম্যের শিকার হয়ে অভিশাপ দেন, সেই বংশ বিষপান করা ব্যক্তি ন্যায় ধন-পশু প্রভৃতির সাথে সর্বতোভাবে বিনাশপ্রাপ্ত হয়।” (মনুসংহিতা ৩/৫৮)

পুরুষতান্ত্রিক যে সমাজে নারীনির্যাতন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার, নারীকে যথেচ্ছা সম্ভোগ, প্রহার বা তাড়িয়ে দেওয়ার বিধানও যে সমাজ অনুমোদন করে, সেই সমাজ যে ক্রমেই বিনাশপ্রাপ্ত হবে -এটাই তো স্বাভাবিক। বিশ্বের প্রতিটি নারীর ব্যক্তিগত জীবনের সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও সর্বাঙ্গীন মঙ্গলের লক্ষ্যে, নারীর অপমান ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে মহর্ষি মনু যে দৃপ্ত বাণী উচ্চারণ করেছেন, তাতে তো মনুকে বরং কট্টর নারীবাদী বলেই মনে হয়, তাই না?

“যারা ঐশ্বর্য কামনা করে, তারা স্ত্রীলোকদের সম্মান প্রদর্শন দ্বারা খুশী রাখবে এবং উত্তম অলংকার, পোশাক ও খাদ্যদ্বারা প্রীত রাখবে। স্ত্রীজাতিকে সর্বদা পবিত্র হিসেবে গভীরভাবে শ্রদ্ধা করবে।” (মনুসংহিতা ৩/৫৯)

শ্লোকটিকে খুব নারীবাদী মনে হতে পারে, তবে মহর্ষি মনু মোটেও পুরুষতান্ত্রিক বা নারীবাদী কোনটাই নন, তিনি মানবতাবাদী। মনে রাখবেন ‘মনু’ শব্দ থেকেই ‘মানব’ ও ‘মানবতা’ শব্দের উৎপত্তি।

“স্ত্রী লোকেরা সন্তানাদি প্রসব ও পালন করে থাকে। তারা নতুন প্রজন্ম বা উত্তরসুরির জন্ম দেয়। তারা গৃহের দীপ্তি বা প্রকাশস্বরূপ। তারা সৌভাগ্য ও আশীর্বাদ বয়ে আনে। তারাই গৃহের শ্রী।” (মনুসংহিতা ৯/২৬)

আজও ভারতবর্ষে মহর্ষি মনুর এই শ্লোক থেকেই শিক্ষা নিয়ে মেয়েদের ‘ভাগ্যশ্রী’, ‘ঘরের লক্ষ্মী’ বা ‘গৃহলক্ষ্মী’ বলা হয়।

“প্রজন্ম থেকে প্রজন্মোন্তরে স্ত্রীরাই সকল সুখের মূল। কারণ, সন্তান উৎপাদন, ধর্ম পালন, পরিবারের পরিচর্যা, দাম্পত্য শান্তি এসব কাজ নারীদের দ্বারাই নিষ্পন্ন হয়ে থাকে।” (মনুসংহিতা ৯/২৮)

অন্যকথায়, মাতৃরূপে, কন্যারূপে, স্ত্রীরূপে, ভগ্নীরূপে কিংবা ধর্মকর্মে অংশীদাররূপে নারীরাই সকল কল্যাণের মূল উৎস বলে মহর্ষি মনু প্রতিপাদন করেছেন।

“পতি ও পত্নী মৃত্যু পর্যন্ত একসাথে থাকবেন। তারা অন্য কোন জীবনসঙ্গী গ্রহণ করবেন না বা ব্যাভিচার করবেন না। এই হলো নারী-পুরুষের পরম ধর্ম।” (মনুসংহিতা ৯/১০১)

“নারী ও পুরুষ একে ভিন্ন অপরে অসম্পূর্ণ। এজন্য বেদে বলা হয়েছে ধর্মকর্ম পত্নীর সাথে মিলিতভাবে কর্তব্য”। (মনুসংহিতা ৯/৯৬)

এই শ্লোকটির কথা একবার ভেবে দেখুন। নারী ছাড়া পুরুষ অসম্পূর্ণ একথা শুধুমাত্র হিন্দুধর্মই বলে থাকে। নারী ছাড়া পুরুষের ধর্মকর্ম সম্পূর্ণ হয় না। বৈদিক যজ্ঞ ও ধর্মপালন স্বামী-স্ত্রী যুগ্মভাবে করতে হয়, কেউ একাকী করতে পারেন না। একারণেই নারীকে বলা হয় পুরুষের ‘অর্ধাঙ্গিনী’ ও ‘সহধর্মিনী’। উল্লেখ্য, মনুসংহিতাই একমাত্র ধর্মশাস্ত্র যেখানে এই বিখ্যাত কথা দুইটি অনুমোদন করা হয়েছে। সঙ্গত কারণেই হিন্দুধর্মে বিবাহবিচ্ছেদ এবং বহুবিবাহ করতে নিষেধ করা হয়েছে।

এবার নারীদের স্বাতন্ত্রের কথায় আসা যাক। স্মর্তব্য, স্বাধীনতা মানে উচ্ছৃঙ্খলা নয়, স্বাতন্ত্র্য মানেই ঔদ্ধত্য নয়।

“যে স্ত্রী দুঃশীলতা হেতু নিজে আত্মরক্ষায় যত্নবতী না হয়, তাকে পুরুষগণ ঘরে আটকে রাখলেও সে ‘অরক্ষিতা’ থাকে। কিন্তু যারা সর্বদা আপনা-আপনি আত্মরক্ষায় তৎপর, তাদের কেউ রক্ষা না করলেও তারা ‘সুরক্ষিতা’ হয়ে থাকে। তাই স্ত্রীলোকদের আটকে রাখা নিষ্ফল। স্ত্রীজাতির নিরাপত্তা প্রধানত তাদের নিজস্ব সামর্থ্য ও মনোভাবের উপর নির্ভরশীল।” (মনুসংহিতা ৯/১২)

এই শ্লোকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, নিরাপত্তার নামে নারীকে ঘরে আটকে রাখা নিষ্ফল। বিপরীতক্রমে তাকে নিরাপদ রাখতে হলে তাকে অধিকার দিতে হবে এবং সঠিক শিক্ষা-দীক্ষা প্রদান করতে হবে। নারীর সামর্থ্য ও প্রজ্ঞা বৃদ্ধি করতে হবে, মানবিক বিকাশ সাধনে তৎপর হতে হবে, যার ফলশ্রুতিতে তারা যেন আত্মরক্ষায় তৎপর থাকেন, নিজেদের পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন। নারী জাতি সম্পর্কে এই হলো মহর্ষি মনুর মতাদর্শ।

“নারী অপহরণকারীদের মৃত্যুদণ্ড হবে।” (মনুসংহিতা ৮/৩২৩)

“যারা নারী, শিশু ও গুণবান পণ্ডিতদের হত্যা করে, তাদের কঠিনতম শাস্তি দিতে হবে।” (মনুসংহিতা ৯/২৩২)

“যারা নারীদের ধর্ষণ করে বা উত্যক্ত করে বা তাদের ব্যাভিচারে প্ররোচিত করে তাদের এমন শাস্তি দিতে হবে যাতে তা অন্যদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করে এবং কেউ তা করতে আর সাহস না পায়।” (মনুসংহিতা ৮/৩৫২)

ইভটিজিং এখন প্রধান একটা সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে, যার বিরুদ্ধে কঠোর কোন শাস্তির ব্যবস্থা নেই। কিন্তু ইভটিজিং, অপহরণ ও ধর্ষণের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান কিন্তু সেই মনুর যুগ থেকেই প্রচলিত ছিল।

“যদি কেউ মা, স্ত্রী বা কন্যার নামে মিথ্যা দোষারোপ করে তবে তাকে শাস্তি দিতে হবে।” (মনুসংহিতা ৮/২৭৫)

অথচ নারীকে এই মিথ্যা দোষারোপ করেই প্রতিবছর হাজার হাজার নারীকে ‘অনার কিলিং’ করা হয়। অর্থাৎ হিন্দুধর্মের বিপরীত বিধানও অনেক সমাজে প্রচলিত আছে।

“যদি কেউ কোন ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া মা, বাবা, স্ত্রী বা সন্তান ত্যাগ করে, তাকে কঠিন দণ্ড দিতে হবে।” (মনুসংহিতা ৮/৩৮৯)

“যদি কোন নারীকে সুরক্ষা দেবার জন্য পুত্র বা কোন পুরুষ পরিবারে না থাকে, অথবা যদি সে বিধবা হয়ে থাকে, যে অসুস্থ অথবা যার স্বামী বিদেশে গেছে, তাহলে রাজা তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। যদি তার সম্পত্তি তার কোন বন্ধু বা আত্মীয় হরণ করে, তাহলে রাজা দোষীদের কঠোর শাস্তি দেবেন এবং সম্পত্তি ঐ নারীকে ফেরত দেবেন।” (মনুসংহিতা ৮/২৮-২৯)

“নববিবাহিতা বধূ, কন্যা এবং গর্ভবতী মহিলাদের অতিথি ভোজনের পূর্বেই ভোজন প্রদান করতে হবে।” (মনুসংহিতা ৩/১১৪)

“বাহনে বা যানে আরোহী ব্যক্তির পক্ষে বয়স্ক ব্যক্তি, ক্লান্ত ব্যক্তি, ভারবাহী ব্যক্তি, বর, রাজা, স্নাতক এবং স্ত্রীলোকদের পথ ছেড়ে দেয়া কর্তব্য।” (মনুসংহিতা ২/১৩৮)

এই মানবিক ভদ্রতা জ্ঞানটুকু আর কোন শাস্ত্রে আছে? Ladies First তত্ত্বটা কিন্তু তাহলে বিদেশী নয়, বরং ভারতীয় রীতি বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

ভেবে দেখুন, পথে-ঘাটে যত অনাথ শিশু দেখেন, যত নিশিকন্যা দেখেন, যত পিতৃ-মাতৃতুল্য বৃদ্ধ বা বৃদ্ধাকে হাত পেতে ভিক্ষা করতে দেখেন, তাদের মাঝে কতজনকে আপনি হিন্দু দেখেছেন? হিন্দুদের মানবিক মূল্যবোধ অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ নয় কি? নিজেই বিচার করুন।