হিন্দুধর্মে পারমার্থিক লাভের পথ/ মার্গ


পারমার্থিক লাভের পথঃ

হিন্দুধর্মে পারমার্থিক লাভের বিভিন্ন পথ নির্দেশিত হয়েছে। পারমার্থিক লাভের বিভিন্ন মার্গ/পথের মধ্যে প্রধানত: তিনটি পথ/মার্গ বিশেষ ভাবে বৈদিক শাস্ত্রে উল্লেখ যোগ্য বলে বিবেচিত। আমরা এ পারমার্থিক পথ/মার্গ গুলোর যেকোন একটি পথ অনুসরণ করে সাধন পথে অগ্রসর হলে ঈশ্বরের সাক্ষাৎ প্রত্যক্ষ সম্ভব। এ পথ/মার্গ তিনটি হলঃ (ক) জ্ঞানমার্গ (খ) ভক্তিমার্গ এবং (গ) কর্মমার্গ

এ তিনটি মার্গ সম্পর্কে কিছুকথা নিম্নরূপঃ

(ক) জ্ঞানমার্গঃ জ্ঞানবাদীরা মনে করেন যে, জ্ঞানের পথই পরমার্থ বা মোক্ষলাভের শ্রেষ্ঠ পথ, কর্মের পথ নয়। নামরূপাত্মক দৃশ্য প্রপঞ্চের অতীত যে নিত্য, শাশ্বত, অক্ষয়, অব্যয়, অনাদিতত্ত্ব, তাই পরমতত্ত্ব, তাই ব্রহ্ম। জ্ঞান যোগে তাকেই জানতে হবে। আত্মতত্ত্ব ও ব্রহ্মতত্ত্ব এক। জীব মায়ামুক্ত হলে এই একত্ব জ্ঞান লাভ করে। শ্রবণ, মনন ও নিদিধ্যাসন আত্মজ্ঞান বা ব্রহ্মজ্ঞান লাভের তিনটি প্রয়োজনীয় অঙ্গ। শ্রবণ ব্রহ্মজ্ঞানের প্রথম সোপান। এর অর্থ গুরুর কাছ থেকে উপনিষদের বাণী শ্রবণ। দ্বিতীয় সোপান মনন এর অর্থ যৌক্তিক বিশ্লেষণের সাহায্যে এই উপদেশের তাৎপর্য উপলদ্ধি। তৃতীয় ও চরম সোপান নিদিধ্যাসন এর অর্থ বুদ্ধি অনুমোদিত তত্ত্বের বিরবচ্ছিন্ন ধ্যান। এরই মাধ্যমে পরমজ্ঞান লাভ হয়। এরই নাম প্রজ্ঞা। এরই মাধ্যমে তত্ত্বের প্রত্যক্ষ দর্শন ও সাক্ষাৎ উপলদ্ধি হয়।

(খ) ভক্তিমার্গঃ জ্ঞানমার্গ খুবই কঠিন। সে কারণে এই পথ সকলের জন্য নয়, সীমিত কয়েক জনের জন্য। নির্গুণ, নির্বিশেষ ব্রহ্ম, যাকে জগৎস্রষ্টা, প্রভু বা ঈশ্বর কোন ভাবেই বর্ণনা করা যায় না, তাকে ধারণা করা মানুষের পক্ষে কঠিন এবং তার সঙ্গে ভাবভক্তির সম্বন্ধ প্রতিষ্ঠা করাও মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষ পরমতত্ত্বকে যতখানি হৃদয় দিয়ে উপলদ্ধি করতে চায় ততখানি বৃদ্ধি দিয়ে অনুভব করতে চায় না। তাই এসে পড়ে সগুণ ব্রহ্ম বা ঈশ্বরের কল্পনা এবং ভক্তির মাধ্যমে ভক্তের ঈশ্বর এর সাক্ষাৎকারের কথা। উপাসনা ভক্তিমার্গের সাধনা, ভক্তিমার্গের প্রাণ। অনুরাগই ভক্তির স্বরূপ। ভক্তিশাস্ত্রে- নয় প্রকার ভক্তির সাধন উল্লিখিত আছে। যেমন- শ্রবণ, কীর্তন, স্মরণ, পদসেবা, অর্চনা, বন্দনা, দাস্য, সখ্য, আত্মনিবেদন। ভগবানই একমাত্র আশ্রয়- একমাত্র অগ্রতির গতি- এই ভাব অবলম্বন করে ভগবানে আত্মসমর্পণই ভক্তিমার্গের একটি প্রধান ভাব।

(গ) কর্মমার্গঃ কর্মমার্গ পরমার্থ লাভের জন্য নিষ্কাম কর্ম সম্পাদনের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। রাগ, দ্বেষ ও মোহ মুক্ত হয়ে যে কর্ম সম্পাদন করা হয় তাই হল নিষ্কাম কর্ম। গীতায় নিষ্কাম কর্ম সাধনের কথা বলা হয়েছে। জীব অনাসক্তভাবে, কর্মের ফলাফলে উদাসীন হয়ে, নিঃদ্বন্দ্ব ও সমত্ববুদ্ধিযুক্ত হয়ে এবং ঈশ্বরে সর্ব-কর্মফল সমর্পণ করে যদি কর্ম করে তবে সেই কর্মে কোন বন্ধন হয় না এবং আর পুনর্জন্ম হয় না। এই নিষ্কাম কর্মের মাধ্যমে সাক্ষাৎ ঈশ্বর দর্শন হয়।

এই তিনটি মার্গের মধ্যে যেকোন একটি মার্গ অনুসরণ করলেই ঈশ্বর দর্শন সম্ভব এবং আমাদের মানব উদ্দেশ্যের সার্থকতা এখানেই।

Advertisements

শ্রীমদ্ভগবদগীতার উৎপত্তি ও ইতিকথা


শ্রীমদ্ভগবদগীতার উৎপত্তি ও ইতিকথা

শ্রীমদ্ভগবদগীতা বহু প্রাচীন কাল থেকে একটি পবিত্র ধর্মগ্রন্থ হিসেবে সমাদৃত হয়ে আসছে। আজ থেকে হাজার হাজার বছর পূর্বে দ্বাপর যুগে শ্রীগীতার এ অমিয় বাণী কুরুক্ষেত্রের ধর্মযুদ্ধে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অগ্রহায়ণ মাসের শুক্লা একাদশী তিথিতে অর্জুনকে ব্যক্ত করেছিলেন। কৃষ্ণদ্বৈপায়ন যিনি মহর্ষি ব্যাসদেব নামে সমধিক পরিচিত তিনি মহাভারত রচনা করে এই কথোপকথন ভীষ্ম পর্বের ২৫ অধ্যায় হতে ৪২ অধ্যায় পর্যন্ত সপ্তশতী শ্লোকে অন্তর্ভূক্ত করেন। অবশ্য শ্রীগীতার উত্পত্তি আর ও অনেক প্রাচীন।
শ্রীমদ্ভগবদগীতার ৪র্থ অধ্যায়ের প্রথম শ্লোকে এর উত্পত্তি ও ইতিকথা সর্ম্পকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

ইমং বিবস্বতে যোগং প্রোক্তবানহমব্যয়ম্ ।
বিবস্বান্মনবে প্রাহ মনুরিক্ষ্বাকবেহব্রবীত্ । ৪/১

অনুবাদ :
পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন – আমি পূর্বে সূর্যদেব বিবস্বানকে এই অব্যয় নিষ্কাম কর্মসাধ্য জ্ঞানযোগ করেছিলাম। সূর্য তা মানব জাতির জনক মনুকে বলেন এবং মনু তা ইক্ষ্বাকুকে বলেছিলেন।
শ্রীমদ্ভগবদগীতার উত্পত্তি ইতিহাস অতি পুরাতন। পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিজেই শ্রীগীতার ইতিহাস বর্ণনা করেছেন। সূর্যকে একটি শক্তিরূপে কল্পনা করে প্রাচীন কাল থেকে তাকে দেবতা হিসেবে মনে করা হত। তিনি সকল গ্রহের রাজা। অশেষ তেজবিশিষ্ট এবং জগতের চক্ষুস্বরূপ। মানুষ যেমন চক্ষু ব্যতীত কোন কিছু দেখতে পায়না তেমনি সূর্য ছাড়া সারা পৃথিবী অন্ধকার। তিনি অন্যান্য গ্রহকে তাপ ও আলো দান করেন। ভগবান অতি কৃপা করে প্রথম শিষ্যরূপে সূর্যদেব (বিবস্বান)কে গ্রহণ করেন এবং তাকে শ্রীমদ্ভগবদগীতার সমুদয় জ্ঞান করেছিলেন এবং পরবর্তীতে বিবস্বানের মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রহের রাজাদেরকেও তা দান করেছিলেন।পৃথিবীতে যখন ত্রেতা যুগ শুরু হয় তখন তার প্রারম্ভে ভগবত্তত্ত্ব জ্ঞান বিবস্বান (সূর্যদেব) মানব জাতির জনক মনুকে দান করেন। মনু পরবর্তীকালে এই তত্ত্বজ্ঞান তার পুত্র সসাগরা পৃথিবীর অধিশ্বর এবং রঘু বংশের জনক ইক্ষ্বাকুকে দান করেন । প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে রঘু বংশে শ্রীরামচন্দ্র আর্বিভূত হন। অতএব এই শ্রীগীতার তত্ত্ববাণীর জ্ঞান শুরু থেকে শিষ্যতে পরম্পরাক্রমে ধারাবাহিকভাবে প্রচারিত ও প্রবাহিত হয়ে আসছে। কিন্তু এক সময় এই পরম্পরা ছিন্ন হয়ে যায় এবং এই জ্ঞান আমরা হারিয়ে ফেলি । তাই পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিজে এসে আবার এই জ্ঞান দান করলেন।
পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যখন সূর্যদেব বিবস্বনকে শ্রীমদ্ভগবদগীতা শোনান তখন অর্জুনও অন্যকোন রূপে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু ভগবানের সাথে পার্থক্য হচ্ছে যে , অর্জুন তা ভুলে গেছেন। কিন্তু ভগবান তা ভোলেন নি। তাই পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শ্রীগীতার ৪র্থ অধ্যায়ের ৫ম শ্লোকে বলেছেন-

বহূনি মে ব্যতীতানি জন্মানি তব চার্জুন ।
তান্যহং বেদ সর্বাণি ন ত্বং বেত্থ পরন্তপ ॥ ৪/৫

অনুবাদঃ
পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন – হে পরন্তপ অর্জুন, আমার এবং তোমার বহু জন্ম অতীতে হয়েছে। আমি সেই সমস্ত জন্মের কথা স্মরণ করতে পারি কিন্তু তুমি তা পারো না ।
মানুষ কথনো পূর্ব জন্মের ঘটনা প্রবাহ জানতে পারেনা। তাই দ্বাপর যুগে অর্জুন কুরুক্ষেত্রের ধর্মযুদ্ধে দাঁড়িয়ে তাঁর বিপক্ষীয় কুরুবংশের আত্মীয় স্বজনদের বধ করে রাজ্য লাভ করতে কিছুতেই রাজী হচ্ছিলেন না। কিন্তু পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সেই পূর্বে প্রচারিত শ্রীমদ্ভাগবদগীতার বাণী পুনরায় শোনানোর কারণে অর্জুনের জ্ঞান ফিরে আসে এবং ধর্মযুদ্ধ করতে মনস্থির করলেন।

সহজ কথায় ধর্মঃ


সহজ কথায় ধর্মঃ
Image result for dharma
 ধর্মঃ
ধর্ম শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ধৃ(ধরে রাখা, বহন করা, রক্ষণ করা) ধাতু থেকে। অর্থাৎ, যা কোন কিছুকে ধরে রাখে বা রক্ষা করে অথবা যা ছাড়া কোন কিছুরই অস্তিত্ব অসম্ভব তাইই হল ধর্ম। বেদ ও অন্যান্য গ্রন্থের ধর্মালোচনা থেকে ধর্মের যে ধারণা পাওয়া যায়, তা হল; ন্যায়, বিশেষ পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত, নৈতিক মূল্যবোধ, কর্তব্যনিষ্ঠতা, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ন্যায়, নীতির প্রতি অবিচল আস্থা ও ন্যায্যকর্ম সম্পাদন, অন্যের(মানুষ বা যেকোনো প্রাণীর) প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন করা, জনকল্যাণে সংবেদনশীল ও সহযোগী হওয়া, প্রাকৃতিক গুনাগুণ বা চরিত্র, দায়িত্ব, কর্তব্য, সংবিধান ইত্যাদি। সোজা কথায়, ধর্ম হল এমন একটি পদ্ধতি যা, মহাজাগতিক শৃঙ্খলাকে ধরে রাখে, মানুষের জীবনের সাথে প্রকৃতির ঐকতান সৃষ্টি করে ও এই ঐক্যকে ধারণ করে। অর্থাৎ, আমরা যখন ধর্ম পালন করি, তখন আমরা আসলে বিশ্বপ্রকৃতির নিজস্ব প্রাকৃতিক নিয়মের সাথেই সহাবস্থান করি।
অবস্থাভেদে বা পরিপ্রেক্ষিত অনুযায়ী ধর্মের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগের পরিবর্তন ঘটে। আর এই বিশেষ কারণে, মাত্র এক লাইনে ধর্মের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা সম্ভব নয়। এই কারনেই এর (ধর্মের) অর্থের প্রায়োগিক ব্যাপকতা অনেক বিস্তৃত ও গভীর।
আসুন, আরেকটু বিস্তৃত আলোচনা করা যাক। প্রথমেই আসি ধর্মের মূল আভিধানিক অর্থ; অর্থাৎ যা দ্বারা কোন কিছুকে ধারণ করা বোঝায়। যেমন, জলের ধর্ম তারল্য, বায়ুর ধর্ম বায়বীয়, কঠিন যেকোনো পদার্থের ধর্ম তার কাঠিন্য। এখন জল যদি তার তারল্য হারায়, তখন তা আর জল থাকবে না, অন্য কোন পদার্থ; বরফ বা বাস্পে পরিণত হতে পারে। একইভাবে, কঠিন পদার্থ তার কাঠিন্য, বায়ু তার বায়বীয়তা হারালে তা তাদের স্বাভাবিক সত্ত্বা হারিয়ে অন্য কোন পদার্থে রূপান্তরিত হবে। তাহলে আমরা দেখতে পাচ্ছি,
ধর্ম হল পদার্থের বা অন্য যেকোনো কিছুর এমন এক নিজস্ব গুণ, যা হারালে পদার্থ তার স্বাভাবিক অবস্থা হারায়, তার নিজস্বতা হারিয়ে হয় ধ্বংস প্রাপ্ত হয় নয়ত অন্য কোন কিছুতে পরিণত হয়, যা তার স্বাভাবিক, গুনগত অবস্থা নয়।
এরপর আসি ধর্মের অন্য অর্থ যেমন; নীতি (বেদাদি ধর্মগ্রন্থ সমুহে এটি ধর্মের আরেক রুপ)। মানুষ পশু প্রজাতি হলেও, তার উন্নত মনন, দূরদৃষ্টি, চিন্তাভাবনার গতিশীলতা ও সাবলীলতার কারণে সে অন্যান্য প্রানীদের মত স্বভাবজাত নয়, বরং সে তার স্বতপ্রবৃত্তির বাইরে ও চিন্তা করতে পারে এবং নিজ আদিম প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এই দারুন ক্ষমতার জন্যই সে আর সব প্রানী থেকে আলাদা। একই কারণে যে বন্য প্রাণীর মত স্বভাবজাত মানসিকতা নিয়ে চলতে পারেনা, বরং তার সমস্ত নিজস্ব কার্যকারণের আদ্যোপান্ত সে জানতে চায় ও তার সমর্থন চায়। আর এই কার্যকারণের পক্ষে সমর্থন যোগাতে সে নীতি আশ্রয়ী হয়, জীবনে চলার পথে নীতি-অনীতি, সত্য-অসত্য, ন্যায়-অন্যায়, ঔচিত্য-অনোচিত্য প্রভৃতি যাচাই করে এবং এই যাচাইের সুবিধার্থে নৈতিক কর্মপন্থার খোঁজ করে। একজন ব্যাক্তি তাঁর জীবনের জন্য এমন কিছু নীতির খোঁজ করেন বা এমন নীতি নিয়ে চলেন, যা তাঁকে বৃহত্তর সামাজিক সম্পর্কের পর্যায়ে স্বচ্ছন্দ করে তোলে, সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় নীতির সাথে সামঞ্জস্য সৃষ্টি করে একটি অর্থপূর্ণ, স্বচ্ছন্দ ও নিরাপদ জীবনযাপনে সহায়তা করে এবং বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট ঘাত প্রতিঘাত এড়িয়ে চলতে সাহায্য করে, শুধু তাই নয়, বিশেষ প্রয়োজনীয় মুহূর্তে তাঁর কর্তব্যকর্ম স্থির করতে ও সাহায্য করে। এরকম নীতি যেকোনো ব্যাক্তি বা সমষ্টি বা সামাজিক চরিত্রের অবিচ্ছেদ্য উপাদান। এই উপাদান না থাকলে বা নষ্ট হলে, ব্যাক্তি বা সমাজের কোন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই থাকেনা। অনেকটা চরিত্রহীন, হীনমন্য, বিবেকহীন, বোধহীন পরজীবী ক্লীবে পরিণত হয়। এই ধরনের ব্যাক্তি বা সমাজের ধ্বংসই একমাত্র নিয়তি। এক্ষেত্রে, নীতিই ব্যক্তি বা সমাজের ধর্ম হিসেবে আবির্ভূত। যা থাকলে স্বীয় বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হওয়া যায় আর না থাকলে নিজ গুনাগুণ রহিত হয়ে অপরের মুখাপেক্ষী হতে হয় এবং স্বীয় অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়।
অর্থাৎ, আবারো ধর্মহীনতাই বিলুপ্তির কারণ।
এরপর, ধর্মের আরেকটি অর্থের কথা বলতে হয়, যা হল ন্যায়। যারা মহাভারত পড়েছেন, তাঁরা জানেন, কুরু পাণ্ডবের মধ্যেকার যুদ্ধটি সংগঠিত হবার মূল কারণ ছিল ন্যায়। পাশাখেলায় পরাজিত হবার শাস্তি হিসেবে পাণ্ডবদের ১২ বছর বনবাস ও ১ বছর অজ্ঞাত বাস করতে হয়। শর্ত ছিল, শাস্তিভোগের পর পাণ্ডবরা তাঁদের রাজ্য ও সম্পদ ফিরে পাবে। কিন্তু, কৌরবরা শর্তভঙ্গ করে ও পাণ্ডবদের রাজ্য ফেরত দিতে অস্বীকার করে, উল্টো যুদ্ধের হুমকি দেয়। প্রাপ্য ফেরত পাওয়ার সমস্ত তৎপরতা এবং কুটনৈতিকতা (সাম, দান, ভেদ) ব্যর্থ হলে পাণ্ডবরা “কুরুক্ষেত্রে” যুদ্ধে(দণ্ডনীতি)অবতীর্ণ হয়। এই যুদ্ধ ছিল ন্যায্য প্রাপ্তির যুদ্ধ অর্থাৎ ন্যায়ের যুদ্ধ। আর এই ন্যায়ের যুদ্ধকেই মহাভারতে বলা হয়েছে ধর্মযুদ্ধ। এখানে, ন্যায় ও ধর্ম সমার্থক। দেখুন, যে কাউকেই সমাজে বসবাস করতে হলে, তাঁকে আর দশজনের সাথে মিলেমিশে বসবাস করতে হয়। মানুষের মধ্যেকার পারস্পরিক সম্পর্ক যেমন তৈরি হয় তেমনি আবার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সংঘাত ও তৈরি হয়। ঠিক এই জায়গাটাতেই ন্যায়ের প্রশ্ন আসে। আমি যদি অপর ব্যাক্তির সাথে অন্যায় আচরণ করি, তবে তারও আমার প্রতি অন্যায় আচরনের অধিকার আছে, কারণ, আমি আগে অন্যায় আচরণ করে তাঁকে সে অধিকার দিয়েছি। এটা আইন শৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়। এটা নৈতিকতার প্রশ্ন ও অধিকারের প্রশ্ন। দুই বা ততোধিক ব্যাক্তির পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্যে যদি ন্যায় অনুপস্থিত হয়, তবে সম্পর্কের মধ্যে অন্যায় আসবে, একপাক্ষিকতা আসবে, বঞ্চনা আসবে, বৈষম্য আসবে। এই ধরনের সম্পর্কের মধ্যে কোন শ্রদ্ধাবোধ বা ভালবাসা তৈরি হয়না বরং শঠতা ও প্রতারনা তৈরি হয়। পরিণামে তা একটি সুস্থ, স্বাভাবিক সম্পর্কের অন্তরায় হয়, সুস্থ, স্বাভাবিক সমাজ ও জাতি গঠন অসম্ভব হয়ে পড়ে। অরাজকতা তৈরি হয়, মাৎস্যন্যায় তৈরি হয়, দুর্বলের উপর সবলের উৎপাত বৃদ্ধি পায়, পরিবার ও সমাজের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ ভেঙ্গে পড়ে এবং এর ফল অবশ্যম্ভাবী ধ্বংস। কুরুক্ষেত্রে কৌরবদের ধ্বংস হয়েছিল। আর বর্তমানে ক্ষয়িষ্ণু হিন্দুরা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
অতএব আবার দেখতে পাচ্ছি, ন্যায়স্বরূপ ধর্মের অনুপস্থিতি এবং নিশ্চিত ধ্বংস।
 ধর্মের সংজ্ঞাঃ
Dharma is an expression of “Ethical Principals” which uphold a cosmic order that harmonize the relationship “among men and also between men and broader nature” through combining both “materialistic development and spiritual enlightenment”, which, when practiced consciously ultimately leads to “Moksha” that is releasing oneself from the cycle of “birth and death”.
ধর্ম হল কর্তব্যকর্মের এমন এক নীতিমালা, যা এক মহাজাগতিক শৃঙ্খলার নির্দেশক, যা বৈষয়িক উন্নয়ন ও আধ্যাত্মিক জ্ঞ্যানকে একীভূত করে, মানুষে মানুষে এবং মানুষ ও বৃহত্তর প্রকৃতির মধ্যে সামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পর্কের ঐকতান সৃষ্টি করে, যার সচেতন চর্চায় মোক্ষলাভের (জন্ম ও মৃত্যুর চক্র হতে মুক্তি) পথ সুগম হয়।
অতএব, আমরা দেখতে পাচ্ছি, ধর্ম বলতে কর্তব্যকর্ম সম্পাদনের নীতিকেই বোঝায়, যে নীতির আলোকে মানুষ তাঁর আর্থ ও কাম চরিতার্থ করবে, যে নীতিতে মানুষ তাঁর পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, বৃহত্তর মানবজাতি ও বৃহত্তর প্রকৃতির সাথে সম্পর্ক স্থাপন করবে, তাঁদের কল্যাণে নিজের জীবন উৎসর্গ করবে, যে নীতির সচেতন চর্চায় তাঁর সুপ্ত মানবিক গুনগুলোকে সুষমামণ্ডিত করে তুলবে এবং ধাপে ধাপে তাঁর আধ্যাত্মিক সত্তাকে উপলব্ধি করবে, জীবাত্মা ও পরমাত্মার পার্থক্য দুরীভুত হবে।
কর্তব্যকর্ম ছেঁড়ে যারাই মোক্ষের প্রত্যাশায় লালায়িত হবে, সংসার ছেঁড়ে, সংসারের প্রতি দায়িত্ব ছেঁড়ে যারাই আধ্যাত্মিকতার চর্চা করতে যায়, তাঁরা অধার্মিক। ধর্ম ও ধার্মিক সমাজের চোখে তাঁরা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অথর্ব। তাঁরা মানবজাতির কাছে ভারসম। আবার যারা কর্তব্যকর্ম ছেঁড়ে কেবলমাত্র আত্মসর্বস্ব জীবনযাপন করেন, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র চুলোয় যাক, আপনি বাচলে বাপের নাম, কর্তব্য এড়াতে যারা কখনও দর্শনের নামে, কখনও বিশ্ব মানবতার নামে, কখনও অহিংসার নামে কঠিন বাস্তবতাকে অস্বীকার করেন, তারাও সমান অধার্মিক, শঠ, প্রতারক এবং তারাও ধর্মের চোখে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অথর্ব। এরাও মানবজাতির কাছে অপ্রয়োজনীয় ও ভারসম।
কেবল যারা যোগী (কর্মযোগী), যারা পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, সভ্যতা, ন্যায় অন্যায়, রাজনীতি, আর্থসামাজিক চাপানউতর এর মধ্যে শান্ত, সংযত, কর্তব্যপরায়ণ ও ধীসম্পন্ন থাকেন, ধর্মে অবিচল থাকেন, ধর্ম প্রতিষ্ঠায় অবিচল থাকেন, ধর্ম প্রচার, প্রসার ও রক্ষায় বাঘের ন্যায় ক্ষিপ্র, সাহসী, ধৈর্যশীল ও বলবান থাকেন, যেকোনো বাঁধার সামনেই অভিযোগশুন্য, অকুতোভয়, সাত্ত্বিক ও বলীদানে প্রস্তুত থাকেন তাঁরাই প্রকৃত ধার্মিক। এঁদের হাতেই ধর্মের প্রতিষ্ঠা হয়, ধর্মের সুরক্ষা হয়, অপরাপর মানুষের, সমাজের, সংস্কৃতির ও সভ্যতার সুরক্ষা হয়। এঁরাই (পুরুষ ও স্ত্রী উভয়ই) নেতৃত্ব দানের যোগ্য, এঁরাই সহজাত নেতা হন। এঁদের সংখ্যা কম হতে পারে, কিন্তু এঁদের প্রভাবই সমাজকে, সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যায়। এরা যেকোনো কেউ বা যে কোন পেশার হতে পারেন।
এঁরা সকলে যেক্ষেত্রে এক কাতারে দাঁড়ান, তা হল ধর্মের প্রতি অনন্যসাধারণ চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞা, অসাধারণ শক্ত মানসিকতা, প্রজ্ঞ্যা, ধী এবং সর্বোপরি যা তাঁদের বাকী সবার চাইতে অনন্য ও আলাদা করে, বাকী সবার চোখে তাঁরা নায়ক/ নায়িকার আসনে অধিষ্ঠিত হন, তা হল যেকোনো বৃহত্তর স্বার্থে নিঃশঙ্ক চিত্তে “আত্মত্যাগের” ক্ষমতা।

জবালার পুত্র সত্যকাম।


Image result for satyakama jabala

সত্যকাম বাল্য পার হয়ে কৈশোরে পা দিয়েছে। তখন একদিন মাকে বলল সত্যকামঃ মা, ব্রহ্মচর্য অবলম্বন করে গুরুগৃহে পড়াশুনা করতে যাব। তুমি অনুমতি দাও।”
মা পুত্রকে আশীৰ্বাদ করে দিনক্ষণ দেখে গুরুগৃহে পাঠিয়ে দিলেন। সত্যকাম গৌতমবংশীয় হারিদ্রুমত নামক এক গুরুর গৃহে গিয়ে উপনীত হয়ে তার মনের অভিপ্রায় জানাল। সবিনয়ে সত্যকাম বললঃ
মহাশয়! আপনার গৃহে থেকে আপনার নিকট আমি পড়াশোনা করতে চাই—আপনি অনুমতি দিন।
শান্তস্বরে গুরু বললেনঃ
‘তোমার পরিচয় কী আর গোত্র কী বৎস?’
সত্যকাম পিতার নামও জানে না, কোন গোত্র তাও জানে না। বাড়ি ফিরে এসে সে তার মাকে জিজ্ঞেস করলঃ মা, আমার কোন গোত্র?
জবালা তার মাথায় পিঠে হাত বুলিয়ে বললেনঃ ‘বাবা! আমি বহুজনের সেবা করে তোমায় লাভ করেছি। তোমার পিতার পরিচয় কিংবা গোত্র তো আমার জানা নেই।’

সত্যকাম আবার ফিরে গেল গুরুগৃহে। তারপর মা তাকে যা বলেছিলেন, তাই সে জানাল গুরুকে। গুরু হারিদ্রুমত সত্যকামের এই সরল ও সত্য কথা শুনে বললেনঃ
‘ব্রাহ্মণ ছাড়া আর কেউ এমন সত্য কথা বলতে পারে না। কাজেই তুমিই প্রকৃত ব্রাহ্মণ। তোমার মাতার নাম জবালা—তোমার গোত্র হল জাবাল। তুমি আজ থেকে সত্যকাম জাবাল বলে পরিচিত হবে।’
এই বলে গুরু তাকে আশীৰ্বাদ করলেন এবং বললেন যে তার উপনয়ন দিয়ে তাকে ব্রাহ্মণ করবেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি সত্যকামকে লক্ষ করে বললেনঃ
বৎস! তুমি যে সত্যভ্রষ্ট হওনি, সেজন্য আমি খুবই, খুশি হয়েছি। তুমি যজ্ঞের জন্য কাঠ নিয়ে এসো— আমি তোমার উপনয়ন দেব।’
সত্যকাম গুরুর আদেশে অরণ্যে গিয়ে যজ্ঞের জন্য কাঠ কুড়াল, তারপর কাঠ নিয়ে গুরুগৃহে ফিরে এলে গুরু সেই কাঠে যজ্ঞ করে তার গলায় পৈতে পরিয়ে দিলেন—সত্যকাম ব্রাহ্মণ হল।
তারপর গুরু সত্যকামকে চারশ ক্ষীণ ও দুর্বল গোরু পৃথক করে দিয়ে তাকে লক্ষ করে বললেনঃ ‘এই গাভিগুলির ভার তোমায় দিলাম—তুমি এদের চরিয়ে নিয়ে এস।” গুরুর আদেশে সত্যকাম সেই চারশ’ গরু নিয়ে বনের পথে রওনা হল, আর মনে মনে ভাবলঃ এই চারশ’ গরু হাজারে পরিণত না হওয়া পর্যন্ত আমি গুরুগৃহে ফিরব না।’ সত্যকাম বনে চলে গেল। দীর্ঘকাল সে বনে বনেই কাটাল—তারপর একদিন গরুর সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল হাজারে!
সত্যকামের শ্রদ্ধা ও তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে তাকে অনুগ্রহ করবার জন্য বায়ুদেবতা এক ষাঁড়ের দেহ আশ্রয় করে সত্যকামকে বললেনঃ
সত্যকাম, গুনে দেখ, আমরা এখন সংখ্যায় হাজার পূর্ণ হয়েছি—এবার আমাদের গুরুগৃহে নিয়ে চল। এই বলে বৃষস্থিত বায়ুদেবতা আবার বললেনঃ সত্যকাম, তোমাকে ব্রহ্মজ্ঞান বিষয়ে কিছু উপদেশ দিতে চাই। সবিনয়ে সত্যকাম বললেনঃ
দয়া করে বলুন, প্রভু।
তখন বৃষরূপী বায়ুদেবতা বললেনঃ
পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ—এই চার দিককে ব্রহ্মের চার অংশ বলে জানবে। যিনি ব্রহ্মকে এইভাবে উপাসনা করেন, তিনি দেবলোক জয় করতে পারেন। এ বিষয়ে অগ্নিও তোমাকে উপদেশ দেবেন।
পরদিন সত্যকাম হাজার গরু নিয়ে গুরুগৃহে ফিরে গেল। তারপর সন্ধ্যা এসে গেছে দেখে গরুদের বেঁধে রেখে যজ্ঞকাষ্ঠ দিয়ে আগুন জ্বালাল। তারপর অগ্নির পশ্চাতে পূর্বমুখী হয়ে বসল । তখন অগ্নি তাকে বললেনঃ
‘সত্যকাম! আমি তোমাকে ব্রহ্ম সম্বন্ধে কিছু উপদেশ দেব। পৃথিবী, আকাশ, স্বৰ্গ আর সমুদ্ৰ—এরা ব্রহ্মের চার অংশ। যাঁরা এভাবে ব্রহ্মের উপাসনা করেন, তারাই পরলোকে জয়ী হন। এ বিষয়ে হংস তোমায় আরও উপদেশ দেবেন।”

পরদিন সত্যকাম আবার গাভিদল চরিয়ে সন্ধ্যাকালে গুরুগৃহে ফিরে এল। তারপর গরু বেঁধে যজ্ঞকাষ্ঠে আগুন জ্বেলে পূর্বমুখী হয়ে বসল। –
তখন সূর্য হংসরূপে সেখানে উড়ে এসে বললেনঃ সত্যকাম, আমি ব্রহ্ম বিষয়ে তোমায় কিছু উপদেশ দেব, শোন। অগ্নি, সূর্য, চন্দ্র আর বিদ্যুৎ—এরা ব্রহ্মের চার অংশ। যারা এভাবে ব্রশ্নের উপাসনা করেন, তারাই পরলোকে চন্দ্রলোক ও সূর্যলোক জয় করতে পারেন। এ বিষয়ে মদগু তোমায় আরও উপদেশ দেবেন।
এই বলে হংস উড়ে চলে গেলেন। পরদিন আবার দিনমানে গরু চরিয়ে সন্ধ্যাকালে সত্যকাম গুরুগৃহে ফিরে এসে অন্যদিনের মতোই গরু বেঁধে আগুন জেলে পূর্বমুখী হয়ে বসলেন।
তখন মদগু নামে এক জলচর পাখি উড়ে এসে বললেনঃ সত্যকাম! ব্রহ্ম বিষয়ে কিছু উপদেশ দেব—শোন! প্রাণ, চক্ষু, কর্ণ আর মন—এরা ব্রহ্মের চার অংশ। যারা এভাবে ব্রহ্মের উপাসনা করেন—তারাই পরলোকে জয়ী হন।’
এই বলে মদগু-রূপী জলদেবতা উড়ে চলে গেলেন। সত্যকাম এই ভাবে ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করবার পর তার দেহে অপূর্ব এক জ্যোতি দেখা দিল। পরদিন সন্ধ্যায় গরুর দল নিয়ে সত্যকাম গুরুগৃহে ফিরে এলে পর তাঁর দিকে তাকিয়ে গুরু হারিদ্রুমত অবাক হয়ে গেলেন তারপর সত্যকামকে লক্ষ করে বললেনঃ
সত্যকাম—তোমার দেহে ব্ৰহ্মতেজ বিদ্যমান দেখছি। কোন ব্যক্তি তোমায় উপদেশ দিযেছেন—সত্য করে বল |’ –
সত্যকাম সবিনয়ে বললেনঃ ‘প্রভু, আমি গুরুত্যাগ করিনি। অপর কোনো মানুষের কাছে আমি উপদেশ পাইনি। যাদের কাছ থেকে পেয়েছি—তারা কেউ মানুষ নন। আপনার কাছ থেকেই প্রকৃত ব্ৰহ্মজ্ঞান লাভ করতে চাই—উপদেশ দিন প্রভু।
তখন গুরু হারিদ্রুমত সত্যকামকে ব্রহ্মবিষয়ে পুনরায় উপদেশ দিলেন। পূর্বে সত্যকাম যে সমস্ত জ্ঞান লাভ করেছিলেন, গুরুর নিকটও সেই উপদেশই পেলেন।
সত্যকাম কালক্রমে একজন প্রকৃত ব্রহ্মজ্ঞাণী হয়ে উঠলেন।