যজুর্বেদ সংহিতা : [শুক্লযজুর্বেদ-বাজসনেয়ি-মাধ্যন্দিন-সংহিতা] প্রথম অধ্যায়


যজুর্বেদ সংহিতা : [শুক্লযজুর্বেদ-বাজসনেয়ি-মাধ্যন্দিন-সংহিতা] প্রথম অধ্যায়

মন্ত্র :-

ওঁ। ইষে ত্বোর্জে ত্বা বায়ব স্থ। দেবো বঃ সবিতা প্রার্পয়তু শ্রেষ্ঠতমায় কর্মণে।
আপ্যায়ধ্বমঘ্ন্যা ইন্দ্রায় ভাগং প্রজাবতীরনমীবা অযক্ষ্মা।
মা ব স্তেন ঈশত মাঘশংসো। ধ্রুবা অস্মিন গোপতৌ স্যাত বহ্বীঃ।
যজমানস্য পশূন্ পাহি।।১।।

অনুবাদঃ হে দেব, আমাদের অভীষ্ট পূরণ, বল ও প্রাণ প্রাপ্তির নিমিত্ত তোমাকে আহ্বান করছি। হে দেবগণ, তোমরা বায়ুর মত গতিশীল হও। সৎকর্মের প্রবর্তক দেবতা তোমাদের শ্রেষ্ঠতম কর্মে পরিচালিত করুক। অজর, অক্ষয়, অবিনশ্বর লোকপালিকা দেবীগণ ইন্দ্রের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত আমাদের পূজা সম্যকরূপে বর্ধন করুক। হে সদ্বৃত্তিসমূহ, তোমাদের শৈথিল্যে পাপমতি ইন্দ্রিয়াদিরূপ চোরগণ যেন আমাকে হিংসা করতে সমর্থ না হয়। হে দেবগণ, সত্যস্বরূপ সদ্বৃত্তিসমূহ জ্ঞানের আধারভূত আমাদের এ হৃদয়ে নিয়ত দেবভাবের স্ফূরণ করুক। হে দেব, যজমানকে (প্রার্থনাকারী আমাকে) পাপ হতে রক্ষা কর।১।

টীকাঃ ।।১।। শ্রেষ্ঠতমায় কর্মণে – শ্রেষ্ঠতম কর্মের নিমিত্ত। কর্ম চতুর্বিধ – অপ্রশস্ত, প্রশস্ত, শ্রেষ্ঠ ও শ্রেষ্ঠতম। লোক-বিরুদ্ধ বধ, বন্ধন, চৌর্য প্রভৃতি অপ্রশস্ত। লোকে প্রশংসনীয় বন্ধুবর্গপোষণাদি প্রশস্ত। স্মৃতি শাস্ত্রক্ত বাপী, কূপ, জলাশয় খননাদি কর্ম শ্রেষ্ঠ। বেদোক্ত যজ্ঞরূপ কর্ম শ্রেষ্ঠতম।

বসোঃ পবিত্রমসি। দ্যৌরসি পৃথিব্যসি।
মাতরিশ্বনো ঘর্মোহসি বিশ্বধা অসি।
পরমেণ ধাম্না দৃংহস্ব মা হ্বার্মা তে যজ্ঞপতি র্হ্বার্ষীৎ।।২।।

অনুবাদঃ হে দেব, তুমি ভগবানের নিবাসস্থল, যজ্ঞাদি কর্মের পবিত্রতা-সম্পাদক, দ্যুলোক ও ভূলোকব্যাপী চরাচরাত্মক এবং বায়ুর প্রকাশক। পরম তেজের দ্বারা তুমি সকলের ধারক। আমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি দর্শনে বিরূপ হয়ো না; তোমার যজ্ঞকারক উপাসক যেন কুটিল না হয়।২।

টীকাঃ ।।২।। বশঃ – ভগবন্নিবাসের হেতুভূত যজ্ঞাদি কর্মের। ঘর্ম – প্রকাশক। মা হ্বাঃ – কুটিল হয়ো না। মা হ্বার্ষীৎ – কুটিল না হোক; শুদ্ধ স্বভাব হোক অর্থাৎ আমিও যেন তোমার অনুগ্রহে সরল ও সদ্ভাব সম্পন্ন হই – এ প্রার্থনা।

বসো পবিত্রমসি শতধারং বসোঃ পবিত্রমসি সহস্রধারম্!
দেবস্ত্বা সবিতা পুনাতু বসোঃ পবিত্রেণ শতধারেণ সুপ্বা। কামধুক্ষঃ।।৩।।

অনুবাদঃ হে দেব, ভগবানের নিবাসহেতু তুমি যজ্ঞাদি সৎকর্মের শতপ্রকার পবিত্রতা সাধক, সেরূপ সৎকর্মের সহস্রপ্রকার পুণ্যফল প্রদাতাও তুমি – তোমার অনুকম্পায় আমাদের কর্মসমূহ সর্বতোভাবে পবিত্র হোক। হে মন, যজ্ঞাদ সৎকর্মের শত প্রকার পুণ্য অনুষ্ঠানের দ্বারা সবিতৃদেব তোমাকে পবিত্র করুন। তুমি কোন্ দেবতাকে আকর্ষণ করেছ?।৩।

টীকাঃ ।।৩।। সবিতা – সৎ কর্মের প্রবর্তয়িতা, জ্ঞানপ্রেরক। সুপ্বা – সুষ্ঠু পবিত্র করছে।

সা বিশ্বায়ুঃ। সা বিশ্বকর্মা। সা বিশ্বধায়াঃ।
ইন্দ্রস্য ত্বা ভাগং সোমেনাতনচ্ মি।
বিষ্ণো হব্যং রক্ষ।।৪।।

অনুবাদঃ সেই দেবতা বিশ্বায়ু (সকলের প্রাণ স্বরূপ), তিনি সমস্তকর্মের মূলভূত, তিনি সকলের ধারক ও পোষক। হে হবনীয়, ইন্দ্রদেবের ভাগ (যজ্ঞাংশরূপ) তোমাকে সোমের দ্বারা (শুদ্ধ সত্ত্বভাবে) সম্যকরূপে দৃঢ় করছি। হে বিষ্ণু, তুমি হবনীয়কে (আমাদের সত্ত্বভাবকে) রক্ষা কর।৪।

টীকাঃ ।।৪।। সোমেন – আহবনীয় দ্রব্য, যজ্ঞের শুদ্ধ সত্ব অংশ।

অগেন ব্রতপতে ব্রতং চরিষ্যামি তচ্ছকেয়ং তন্মে রাধ্যতাম্।
ইদমহমনৃতাৎ সত্যমুপৈমি।।৫।।

অনুবাদঃ হে ব্রতপালক অগ্নি, আমি ব্রত আচরণ করব (সৎকর্মের অনুষ্ঠান করব), তা করতে যেন সমর্থ হই। আমার সে কর্ম সিদ্ধ হোক। আমি অনৃত হতে (মিথ্যাস্বরূপ মনুষ্য জন্ম হতে) এ সত্যকে (সত্যস্বরূপ দেবত্বকে) লাভ করতে চাই।৫।

টীকাঃ ।।৫।। অনৃত – মনুষ্যজন্ম শিঘ্র বিনাশী বলে মিথ্যা বলা হয়েছে। সত্যম্ – বহুকাল স্থায়ী বলে দেবজন্মকে সত্য বলা হয়।

কৃতজ্ঞতায়ঃ- ব্লগ পেইজ ।