জেনে নিন কালীমূর্তির প্রকৃত রহস্য- 


হিন্দুদের অন্যতম আরাধ্যা দেবী কালিকা বা কালীর সবচেয়ে জনপ্রিয় মূর্তিতে দেবীকে নগ্নিকা হিসেবে দেখা যায়। দেবীর এই মূর্তি অনেকের কাছে কৌতুহলের কারণ, অনেকের কাছে কৌতুকেরও। সেক্ষেত্রে এই দেবীরূপের প্রকৃত তাৎপর্য জানা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।

প্রথমেই বলে রাখা ভাল যে, হিন্দুধর্মে যে কোনও দেব বা দেবীমূর্তিই আদপে প্রতীকী। হিন্দু শাস্ত্রে ব্রহ্মকেই একমাত্র সত্য বলে গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি নিরুপাধি, নির্গুণ। মায়াকে আশ্রয় করে তিনি সগুণ রূপ লাভ করেন। এই সগুণ ব্রহ্মই ঈশ্বর, স্রষ্টা। পুরুষ ও প্রকৃতির লীলার মাধ্যমে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি, অতঃপর স্থিতি ও বিলয় ঘটে থাকে। শক্তি হলেন প্রকৃতি স্বরূপিনী। তিনি জগন্মাতৃকা। আদ্যাশক্তি নিরাকারা এবং মানুষের কল্পনার অতীত। কিন্তু ভক্তের সুবিধার্থেই তাঁকে মানুষের ইন্দ্রিয়বোধ্য রূপে কল্পনা করা হয়ে থাকে। দেবী কালীর প্রচলিত ও সাধারণ্যে পূজিত মূর্তিটিও তাঁর তেমনই একটি কল্পিত রূপমূর্তি। কিন্তু এই রূপকল্পনার বিশেষ শাস্ত্রীয় তাৎপর্য রয়েছে। তাঁর মূর্তির প্রতিটি অংশই গভীর প্রতীকী অর্থ সম্পন্ন। কীরকম সেই অর্থ? সংক্ষেপে জেনে নেওয়া যাক—

১. দেবীর মাথায় কালো চুলের ঢল। তাঁর এই মুক্ত কেশপাশ তাঁর বৈরাগ্যের প্রতীক। তিনি জ্ঞানের দ্বারা লৌকিক মায়ার বন্ধন ছেদন করেছেন। তাই তিনি চিরবৈরাগ্যময়ী।

২. দেবীর গায়ের রং কালো। আসলে তিনি যে কোনও বর্ণের অতীত। আর কালো রং সকল বর্ণের অনুপস্থিতির প্রতীক। কখনও দেবীকে গাঢ় নীল বর্ণেও কল্পনা করা হয়। তিনি গাঢ় নীল আকাশের মতোই অসীম। তাঁর নীল গাত্রবর্ণ সেই গগনসম অসীমতার ইঙ্গিতবাহী।

৩. দেবী ত্রিনয়ন সম্পন্না। এই ত্রিনয়ন চন্দ্র, সূর্য ও অগ্নির ন্যায় অন্ধকার বিনাশকারী। এই ত্রিনয়নের মাধ্যমে দেবী যেমন অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ দর্শন করে থাকেন, তেমনই প্রত্যক্ষ করেন সত্য, শিব ও সুন্দরকে; অর্থাৎ বৃহত্তর অর্থে সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয়কে।

৪. দেবী সাদা দাঁতের দ্বারা নিজের রক্তবর্ণ জ্বিহাকে কামড়ে ধরে রয়েছেন। লাল রং রজোগুণের ও সাদা রং সত্ত্বগুণের প্রতীক। দাঁতের দ্বারা জিহ্বাকে চেপে ধরে দেবী তাঁর ভক্তকুলকে বোঝাতে চাইছেন, ত্যাগের দ্বারা ভোগকে দমন করো।

৫. দেবী মুণ্ডমালিনী। দেবীর গলায় রয়েছে মোট ৫০টি মুণ্ডের মালা। এই মুণ্ডগুলি ৫০টি বর্ণ (১৪টি স্বরবর্ণ ও ৩৬টি ব্যঞ্জনবর্ণ) বা বীজমন্ত্রের প্রতীক। এই বীজমন্ত্রই সৃষ্টির উৎস। দেবী নিজে শব্দব্রহ্মরূপিনী।

৬. দেবী চতুর্ভুজা। তাঁর ডানদিকের উপরের হাতে রয়েছে বরাভয় মুদ্রা, নীচের হাতে আশীর্বাদ মুদ্রা। কারণ দেবী তাঁর সন্তানদের যেমন রক্ষা করেন, তেমনই ভক্তের মনোবাঞ্ছাও পূর্ণ করেন। বাঁ দিকের উপরের হাতে তিনি ধরে রয়েছেন তরবারি, আর নীচের হাতে একটি কর্তিত মুণ্ড। অর্থাৎ জ্ঞান অসির আঘাতে তিনি যেমন জীবকুলকে মায়াবন্ধন থেকে মুক্তির পথপ্রদর্শন করতে পারেন, তেমনই মায়াচ্ছন্ন জীবের মস্তিস্কে প্রদান করতে পারেন প্রজ্ঞা কিংবা বিশেষ জ্ঞান।

৭. দেবী কোমরে কর্তিত হাতের মেখলা পরিহিতা। এই হাত কর্মের প্রতীক। মানুষের সমস্ত কর্মের ফলদাত্রী দেবী। জীবনচক্রের শেষে সমস্ত আত্মা স্বয়ং দেবীর অঙ্গীভূত হয়। এবং পরে মাতৃজঠর থেকেই পুনরায় তাদের কর্মফল অনুসারে জন্মলাভ করে।

৮. দেবীর পদতলে শিব শায়িত। শিব স্থিতি, দেবী গতি। শিব ব্রহ্মচৈতন্য, দেবী ব্রহ্মশক্তি। তাঁদের সম্মিলন ব্যতীত সৃষ্টির উৎপত্তি সম্ভব নয়। বঙ্গে সাধারণত দক্ষিণা কালীর পুজো হয়ে থাকে। এই মূর্তিতে দেবীর দক্ষিণ পদ বা ডান পা শিবের বুকে স্থাপিত থাকে।

৯. দেবী নগ্নিকা। তিনি বিশ্বব্যাপী শক্তির প্রতীক। তিনি অসীম। এই চিরশক্তিকে আবৃত করে এমন সাধ্য কোন বস্ত্রের রয়েছে! দেবী তাই দিগম্বরী।

Advertisements

বিষ্ণূ



বেদে উল্লেখিত বিষ্ণু হলেন পরমেশ্বরের ব্যাপনশীল মূর্তি, যিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সবকিছু পরিব্যাপ্ত করে বিরাজ করেন।বিশ্ + নু-ক এভাবে বিষ্ণু শব্দটি নিষ্পন্ন। বিশ ধাতুর অর্থ প্রবেশ করা অর্থাৎ পরমাত্মা যেই রুপে সবকিছুর মধ্যে প্রবেশ করে, ব্যাপক হয়ে বিরাজমান। ব্যাপ্তিভাবনার মধ্য দিয়ে আমরা বিষ্ণু মূর্তি ধ্যান করতে পারি- যিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কোন কিছুতেই ক্ষণকালের জন্যও অনুপস্থিত থাকেন না।ত্রিলোকেই তিনি সর্বক্ষণ বিরাজ করেন– তাই তাঁকে ত্রিপাদচারী ত্রিবিক্রম ইত্যাদি নামে ভূষিত করা হয়, অর্থাৎ বাহ্য এবং এই অন্তর সব লোকেই তিনি সমভাবে বিরাজমান আবার আমাদের অন্তর জগতের অজ্ঞানময়,জ্ঞানময় এবং বিজ্ঞানময় তিন অবস্থাতেই তিনি আমাদের পরিচালিত করেন। পরমেশ্বরের বিষ্ণুরুপে বর্ণনাতে তাই বৈদিক ঋষিরা ত্রিপাদ পরিক্রমারর ইঙ্গিত করেছেন।
পরবর্তিকালে পৌরাণিক উপাখ্যানে, বলি রাজা ও বামন অবতারের একটি কাহিনীর উল্লেখ পাই যেখানে সর্বব্যাপক পরমেশ্বর বিষ্ণুরুপে এক পায়ে সমগ্র পৃথিবী দখল করলেন আর এক পায়ে তিনি অন্তরিক্ষসহ সমগ্র মহাকাশ পরিব্যাপ্ত করলেন আর তৃতীয় পাদ তিনি বলিরাজের মাথায় দিয়ে বলিরাজের অহংবোধ যেটুকু অবশিষ্ট ছিল তাও নাশ করলেন।পুরাণকর্তারা রুপকের অন্তরালে আমাদের দেখিয়ে গেছেন আমরা সকলেই বলিরাজের মত।
সর্বব্যাপী পরমাত্মা বিষ্ণুরুপে চার বেদেই যেন সমান ভাবে বিরাজমান।
*ইদং বিষ্ণুর্বিচক্রমে ত্রেধা নি পদম্।স মূঢ়মস্য পাংসুরে।।
★সর্বব্যাপক পরমাত্মা এই প্রত্যক্ষ ও অপ্রতক্ষ্য জগৎ কে বিশেষ ক্রমপূর্বক রচনা করিয়াছেন। স্থূল সূক্ষ্ম ও কারন এই তিন প্রকারের এবং সূক্ষ্মরেণু পূর্ণ আকাশে সুব্যবস্থিত জগৎ কে ধারণ করিয়াছেন। (ঋগ্বেদ ১/২২/১৭)
অথবা
বিষ্ণু এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড পরিক্রমা কালে ত্রিলোক পা দিয়ে ধারণ করেন।তাঁর ধূলিযুক্ত পায়ে এই সমগ্র জগদব্রহ্মাণ্ড সংলগ্ন।
ভূঃ ভুবঃ স্বঃ, সত্ত্ব রজঃ তমঃ ইত্যাদি তিন লোকেই বিষ্ণুর পাদচারণা। শ্রীবিষ্ণুর পদরেণুতেই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড বিধৃত।বিষ্ণু বিরাট বিশাল সুমহান তাঁর তুলনায় বিশ্বব্রহ্মাণ্ড নিতান্তই নগণ্য।বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের যে বিশালতা আমরা প্রত্যক্ষ করি তা কেবলি মায়া কারন পরমাত্মার বিষ্ণুরুপের পদরেণু মধ্য থেকে নিমেষে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডেরর সৃষ্টি স্থিতি প্রলয় ঘটে।

তথ্যসুত্র- বেদমন্ত্র (অযাচক)
সৌজন্যে- শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা স্কুল​

বৈদিক ইন্দ্র



বেদের ইন্দ্র হলেন স্বয়ং পরেমেশ্ব।প্রাচীন ভাষ্যকার যাস্কের মতে ইন্দ্র নামের ব্যুৎপত্তি ঐশ্বর্য্যবাচক ইন্দ্ ধাতু থেকে ইন্দ্র।কিন্তু ইন্দ্রের সামান্য পরিচয় মাত্র বেদে ইন্দ্র সর্বত্র ইন্দ্র স্তুতি গুলি পাঠ করলে ইন্দ্র নামটি পরমেশ্বর সূচক সেটা অনুধাবন করা যায়, ইন্দ্র যে জগতের ঈশান বা ঈশ্বরে একটি প্রশংসা সূচক নাম তার পরিচয় সংহিতায় খুবই উজ্জ্বল।
সর্বাধিক ঐশ্বর্য্য একমাত্র পরমেশ্বরেরই, তাই “ইন্দ্র” শব্দের প্রধানর্থ হল পরমেশ্বর।তিনি দেবলোকের স্বর্লোকের বা জ্যোতির্লোকের অধিপতি, মহাপরাক্রমশালী যোদ্ধা, শত্রুবিমর্দক,বৃত্রসংহারক এবং সোমরসের মত আপ্লুত আনন্দময় পুরুষ।
দেবতা,যজ্ঞ,বৃত,গো, গোধচুরি,অসুরবধ,সোমরস ইত্যাদি শব্দগুলি মূলত প্রতীক ভাবনা রূপেই ঋগ্বেদে স্থান পেয়েছে।এদের প্রতীকী তাৎপর্য সম্পর্কে সবসময় সজাগ সচেতন না থাকলে বেদমন্ত্র গুলি মর্মার্থ অনুধাবন করা প্রায়ই সম্ভব হয় না।
দেবতা হলেন বস্তুর অন্তর্নিহিত শক্তির প্রতীক।
যজ্ঞ হল বৃহৎ কর্মের প্রতীক।
বৃত্র হল সেই আবরণী শক্তি যা আমাদের সত্তার সহজ ও শুভঙ্কর বিকাশকে রুদ্ধ করে দেয়।জড়তা তামসকে আঘাত না করলে তা থেকে বিদ্যুতের ঝলক বা বর্ষার বারিধারা নেমে আসে না।পরমেশ্বররূপী ইন্দ্র আমাদের ভিতরে অন্তর্য্যামীরূপে বিরাজ করে এই কাজটি করেন।তাঁর ই প্রসাদে গোধন চুরি নিবারিত হয়।বেদে “গো” শব্দের মুখ্য অর্থ রশ্মি বা আলো।বৃত্র বালা বা পণির নামের অসুরদের কাজই হল জীবনকে সঙ্কুচিত আড়ষ্ট ও পঙ্গু করা।তাদের কবল থেকে যখন ইন্দ্ররূপী পরমেশ্বরের প্রসাদে মুক্ত হই তখন আমাদের যে আনন্দ ও উল্লাস সেটিই সোমরসপানের মধ্য দিয়ে প্রকটিত।সোমলতার পাতা ছেঁচে রসপান নিতান্তই প্রতীকী ব্যাপার মাত্র।আমাদের সত্তার দিব্য রসঘন অবস্থানটি আমাদের সর্বকর্মের অনন্য লক্ষ্য।
ইন্দ্র সকল অশুভ শক্তি বাধাবিপত্তি ব্জ্রাঘাতে বিদীর্ণ করে আমাদের জীবনে আনন্দবর্ষণ করেন।মেঘের মধ্যে যে বারি পূঞ্জীভূত হয়ে আবদ্ধ,আকাশের বজ্র বিদারণে সেই বদ্ধাবস্থা ঘুচিয়ে মর্ত্যে বৃষ্টি নামিয়ে জীবজগৎকে তিনি সঞ্জীবিত করে তোলেন। বৃত্র হল সেই দস্যু বা অসুর যা আমাদের চিত্তের গভীর অন্ধকারের ফাঁকেফাঁকে নানাভাবে লুকিয়ে থাকে, যারা আমাদের ভিতর থেকে আমাদের সকল শুভ কর্ম এবং উদ্যোগে বাধা দেয়,অজ্ঞানান্ধকারে আচ্ছন্ন করে আমাদের আড়ষ্ট পঙ্গু নির্জীব এবং ক্লীব করে ফেলে। বজ্রের আলোকের তেজ এবং নাদের নির্ঘোষ সেই বৃত্রাসুরকে বধ করে।
ঋগ্বেদে ইন্দ্রদেবের উদ্দেশ্যে নিবেদিত সূক্তসংখ্যা সর্বাধিক সমগ্র ঋগ্বেদের প্রায় তিরিশ শতাংশ সূক্তেরই দেবতা ইন্দ্র।সকল গোত্রীয় ঋষিরাই ইন্দ্রের উদ্দেশ্যে সূক্ত রচনা করেছেন।সব স্থানেই তাঁর এই অভিন্ন মূর্তি।দেবতারূপে যিনি স্বর্গাধিপতি ইন্দ্র, অধিভূতরূপে যিনি হলেন আকাশে বজ্রবিদ্যুৎ, অধ্যাত্মরূপে তিনিই হলেন আমাদের সর্বেন্দ্রিয়ে অধিষ্ঠিত অন্তর্য্যামী পরমেশ্বর।
কিন্তু অবাক হয়ে যাই বিশেষত পুরাণাদিতে এবং মহাকাব্য দেখলে, সেখানে ইন্দ্র নামক দেবরাজের যে উল্লেখ পাই তা একেবারেই কলঙ্কিত।বেদের ইন্দ্র হলেন সেই ইন্দ্র থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং স্বতন্ত্র।আমাদের কাছে এখন তো ইন্দ্র কেবল ভোগবাদের প্রতীক।এই দৃষ্টির সংশোধন একান্ত আবশ্যক নাহলে যুগে যুগে আমাদের অধঃপতন আরো দ্রুতগামী হবে।
উত নঃ সুভগাঁ অরিঃ
বোচেয়ুর্দস্ম কৃষ্টয়ঃ
স্যামেদিন্দ্রস্য শর্মণি।।
হে শক্রবিমর্দক ইন্দ্রদেব, এমন কি বিরোধীরাও আমাদের সৌভাগ্যশালী বলুক এবং আরো বলুক, ইন্দ্রদেবের শরণে তোমাদের সুখশান্তি হোক।
(ঋগ্বেদ সংহিতা, প্রথম মণ্ডল, চতুর্থ সূক্ত, ৬ মন্ত্র)
ভাষ্য :- বিরোধী নাস্তিকের ভাবটি, এই, তোমার ঈশ্বর কি করতে পারেন?– যা নেই তার পিছনে জীবনভর তুমি মূর্খের মতন ছুটেছ।নাস্তিক ও আস্তিকের এই বিরোধ এবং সংঘাত চিরন্তন। কিন্তু আস্তিক যদি নিজের বিশ্বাস নিষ্ঠা এবং লক্ষ্যপথে অটল অবিচল থাকেন তবে নাস্তিকেরা কালক্রমে প্রতিরোধ বিরোধিরা তুলে নিয়স বলতে বাধ্য হয় আমরা যা করেছি এবং বলেছি রা ভুল।
একটু আবেগজাত এবং দুঃখিত হয়ে বলতে বাধ্য হচ্ছি এখানে নাস্তিক কেবল ঈশ্বর অবিশ্বাসীরা নয়, নাস্তিক বলতে আমি সেই সব স্বার্থবাদী মানুষদের কথা বলছি যারা বেদ কে বিকৃত করে পরমেশ্বরের অন্যতম পবিত্র এবং প্রধান নাম “ইন্দ্র” কে কলঙ্কিত করে চলেছে আর আমাদের সমাজকে ঈশ্বর থেকে বিচ্যুত করে দিচ্ছে নাস্তিকদের মত।
তাই ইন্দ্ররূপি পরমেশ্বরের কাছে আমাদের প্রার্থনা তিনি যেন আমাদের মনের বৃত্রসংহার করেন।

লিখেছেন- সুমিত ভট্টাচার্য্য
সৌজন্যে- শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা স্কুল​

বিশ্বকর্মা


বিশ্বকর্মা

দেবতাদের শিল্পী হলেন বিশ্বকর্মা । তিনি নির্মাণ, যন্ত্রপাতি আদির দেবতা । স্বর্গের অনান্য দেবতা দের মতো তাঁরও পূজা হয় । বিশ্বকর্মার ধ্যান মন্ত্রে বলা হয়-

ওঁ বিশ্বকর্মন্ মহাভাগ সুচিত্রকর্মকারক্ ।
বিশ্বকৃৎ বিশ্বধৃক্ ত্বঞ্চ রসনামানদণ্ডধৃক্ ।।

[ এর অর্থ- হে দংশপাল ( বর্মের দ্বারা পালনকারী ) , হে মহাবীর , হে বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা ও বিশ্ব বিধাতা, হে সুন্দর চিত্র রূপ কর্মকারক , আপনি মাল্য চন্দন ধারন করে থাকেন । ]

বিশ্বকর্মার প্রনাম মন্ত্রে বলা হয়-

দেবশিল্পি মহাভাগ দেবানাং কার্য্যসাধক ।
বিশ্বকর্মন্নমস্তুভ্যং সর্বাভীষ্টপ্রদয়ক ।।

[ দেবশিল্পী , মহাভাগ ( দয়াদি অষ্ট গুন যুক্ত ) দেবতা দের কারু কার্য্যসাধক সর্বাভীষ্ট প্রদানকারী হে বিশ্বকর্মা আপনাকে নমস্কার ]

ধ্যান ও প্রনাম মন্ত্রে বিশ্বকর্মার যে পরিচয় পাওয়া গেলো- সেটি হল বিশ্বকর্মা মহাবীর আবার দয়াদি অষ্ট গুন যুক্ত। তিনি সৃষ্টি কর্তা আবার সৃষ্টি বিধাতা। তিনি মহাশিল্পী আবার মহাযোদ্ধা। বিশ্বকর্মার এই চরিত্র বেদ এবং পুরানে আরোও পরিষ্কার ভাবে ফুটে উঠে ।

বেদে বিশ্বকর্মা
= = = = = =

ঋক বেদের দশম মণ্ডলের দুটি বিশিষ্ট সূক্তে বিশ্বকর্মাকে স্তব করা হয়েছে । দুল্যক ও ভূলোক প্রথমে জলাকার ও সম্মিলিত ছিল। উভয়ের সীমা যত বৃদ্ধি পেলো- ততই তারা পরস্পর দূরবর্তী হতে লাগলো। এবং এক সময় পৃথক হল। বিশ্বকর্মা মনে মনে এই বিষয়ে চিন্তা করে নিরীক্ষণ করলেন। এই বিশ্ব তাঁরই কর্ম বলে তাঁর নাম বিশ্বকর্মা । বিশ্বকর্মা ‘বিমনা’ অর্থাৎ তিনি সমষ্টি মনা। বিশ্বকর্মা ‘ধাতা’ অর্থাৎ তিনি স্রষ্টা, বিশ্বকর্মা শ্রেষ্ঠ, বিশ্বকর্মা সর্ব দ্রষ্টা , এবং তিনি ‘ধামানি বেদ ভুবনানি বিশ্বা’ বিশ্ব ভুবনের সকল ক্ষেত্রই তাঁর পরিজ্ঞাত এবং তিনি সর্ব অন্তর্যামী ।

বিশ্বকর্মার চোখ, বদন, বাহু , পদ সর্বত্র, সর্ব দিকে । তিনি বিশ্বতশ্চক্ষু, বিশ্বতোমুখ , বিশ্বতস্পাৎ । এই বিশ্ব যজ্ঞে তিনি নিজেকে আহুতি দিয়েছেন । অর্থাৎ বিশ্ব জগতের কল্যাণে তিনি সর্বদা চিন্তা রত। তিনি বাচস্পতি অর্থাৎ বাক্যের অধীশ্বর। তিনি মনোজেব অর্থাৎ মনের ন্যায় বেগ মান । তিনি বিশ্বের সমস্ত প্রানীর মঙ্গলকারী । তিনি সাধুকর্মা অর্থাৎ তাঁর চেষ্টা ও বিধান মঙ্গলময় ।

পুরান শাস্ত্রে বিশ্বকর্মা
= = = = = = = =

বেদের যিনি বিশ্ব স্রষ্টা , পুরানে তিনি দেবতা দের শিল্পী বিশ্বকর্মা । তিনি স্বর্গের একজন দেবতা । তিনি সহস্র রকম শিল্প জানেন । তিনি দেবতা দের শিল্পের কারিগর । কারিগরি সকল বিদ্যা বিশ্বকর্মার হাতে । কোন কোন পুরান বলে বিশ্বকর্মার পিতা হলেন প্রভাস । প্রভাস হলেন অষ্টবসুর এক জন । আর বিশ্বকর্মার মাতা হলেন বরবর্ণিনী । বরবর্ণিনী হলেন দেবগুরু বৃহস্পতির ভগিনী । আবার ব্রহ্মবৈবর্ত্ত পুরান বলে ব্রহ্মার নাভি থেকে বিশ্বকর্মার সৃষ্টি ।

পুরানের বিশ্বকর্মা একজন শিল্পী। তিনি বিমান নির্মাতা ( দিব্য দেব বিমান ), অলংকার ভূষন , আয়ূধ প্রস্তুতকারক । মনুষ্য শিল্পীরা বিশ্বকর্মার প্রবর্তিত শিল্প কেই উপজীব্য করে বেঁচে আছে । বিশ্বকর্মা প্রচুর জিনিষ নির্মাণ করেছেন। কুঞ্জর পর্বতে অবস্থিত অগস্ত্য মুনির ভবন, কুবেরের অলকা পুরী ও দিব্য বিমান, রাবনের স্বর্ণ লঙ্কা , ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দ্বারকা পুরী – সকল কিছু বিশ্বকর্মার দ্বারা সৃষ্টি। রাবনের রাজাপ্রসাদের সাথে সুন্দর উদ্যান, গোষ্ঠ, মন্ত্রণা গৃহ, মনোরম ক্রীড়া স্থান, রাজাপ্রাসাদের কারুকার্য ইত্যাদি দেবশিল্পীর নিখুত শিল্প কলার পরিচয় দেয় । এছাড়া ভাগবত পুরান অনুসারে দ্বারকা নগরীর যে সুরক্ষিত, ভাস্কর্য , কলা কৌশলের একটি ধারনা পাওয়া যায়- তাতে শিল্পী বিশ্বকর্মার শিল্প কে দেখে আশ্চর্য হতে হয় ।

বিশ্বকর্মার অপর নির্মাণ হল দেবপুরী । তিনি সমস্ত সৌন্দর্য কে মিলিয়ে এই পুরী নির্মাণ করেছিলেন । এই পুরীকে পাওয়ার জন্য বারংবার অসুর গণ সুর লোকে হানা দিয়েছিলেন। তাই বিশ্বকর্মার সৃষ্টিকে প্রনাম না করে থাকা যায় না । মৎস্য পুরান বলে- কি কূপ, কি প্রতিমা, কি গৃহ, কি উদ্যান সকল কিছুর উদ্ভাবক হলেন বিশ্বকর্মা। শুধু এখানেই বিশ্বকর্মার সৃষ্টি শেষ নয়, যে বিমানে চড়ে দেবতারা গমন করেন- তাও বিশ্বকর্মার তৈরী। এবং বিভিন্ন দিব্য বান- যা কেবল দেবতাদের অস্ত্রাগারে থাকে – তাও বিশ্বকর্মার তৈরী। যে ধনুক দিয়ে ভগবান শিব ত্রিপুরাসুরকে বধ করেছিলেন, যে ধনুক পরশুরামের কাঁধে শোভা পেতো- সেই ধনুক বিশ্বকর্মার সৃষ্টি। বৃত্রাসুর বধের জন্য বিশ্বকর্মা দধীচি মুনির অস্থি থেকে বজ্র নির্মাণ করে দেবেন্দ্র কে দিয়েছিলেন । কিছু পুরান বলে ভগবান বিষ্ণুর চক্র, ভগবান শিবের ত্রিশূল বিশ্বকর্মার সৃষ্টি । শ্রী শ্রী চন্ডীতে দেখি মহিষাসুর বধের জন্য দেবী মহামায়া প্রকট হলে দেবীকে তীক্ষ্ণ বর্শা, অভেদ্য কবচ এবং বহু মারনাস্ত্র বিশ্বকর্মা দেবীকে প্রদান করেন । রামচন্দ্রের সেতু বন্ধনের অন্যতম কারিগর নল এই বিশ্বকর্মার পুত্র । বিষ্ণু পুরান বলে ত্বষ্টা নামক এক শিল্পী ছিল- যিনি বিশ্বকর্মার পুত্র । দেবতাদের শিল্পী যেমন বিশ্বকর্মা , তেমনি অসুর দের শিল্পী হলেন ময় দানব । বায়ু পুরান ও পদ্ম পুরান মতে ভক্ত প্রহ্লাদের কন্যা বিরোচনার সাথে বিশ্বকর্মার বিবাহ হয় । বিশ্বকর্মার ঔরসে বিরোচোনার গর্ভে অসুর শিল্পী ময় দানবের জন্ম হয় ।

ব্রহ্মবৈবর্ত্ত পুরান মতে বিশ্বকর্মা ও তাঁর স্ত্রী ঘৃতাচী দুজনেই শাপ পেয়ে ধরাধামে জন্ম নেন । ঘৃতাচী ছিলেন স্বর্গের এক নর্তকী । তাঁদের নয়টি সন্তান হয় – যথা মালাকার , কর্মকার , কাংস্যকার, শঙ্খকার , সূত্রধর, কুবিন্দক, কুম্ভকার, স্বর্ণকার, চিত্রকর । বিশ্বকর্মা প্রত্যেক কেই নানান শিল্প শেখান । তিনি মালাকারকে পুস্প শিল্প, কর্মকারকে লৌহ শিল্প, কাংস্যকারকে কাংস শিল্প, শঙ্খ কারকে শঙ্খ শিল্প, সূত্রধরকে কাষ্ঠ শিল্প, কুবিন্দক কে বয়ন শিল্প, কুম্ভকারকে মৃৎ শিল্প, স্বর্ণকারকে অলঙ্কার শিল্প, চিত্রকরকে অঙ্কন শিল্প শেখান। স্কন্ধ পুরান বলে বৃত্রাসুর হলেন বিশ্বকর্মার পুত্র। যাকে ইন্দ্র দেবতা বধ করেন । তবে স্কন্ধ পুরানের এই মত অপর কোন পুরানে পাওয়া যায় নি ।

এত সর্তেও বলা যায় বিশ্বকর্মার এক মেয়ে পিতার অমতে বিয়ে করেছিল। এই কারনে বিশ্বকর্মা বানর হয়ে পৃথিবীতে জন্মান । ঘটনা টি এই- বিশ্বকর্মা ও ঘৃতাচীর কন্যা চিত্রাঙ্গদা পৃথিবীর সূর্য বংশীয় রাজা সুরথ কে ভালোবাসতো। সুরথও চিত্রঙ্গদা কে ভালোবাসতো । কিন্তু দেবতা হয়ে ত মানুষের সাথে বিবাহ হয় না । বিশ্বকর্মা জানতে পেরে মেয়েকে যথেষ্ট শাসন করলেন । এই অবস্থায় পৃথিবীর মেয়েরা যা করে বিশ্বকর্মার কন্যা টিও তাই করলো । স্বর্গ থেকে পালালো । দুজনে বিবাহ করে নিলো। ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয়ে বিশ্বকর্মা আসলেন । কন্যা ভাবলেন পিতা বুঝি আশীর্বাদ করতে এসেছেন । কিন্তু না। বিশ্বকর্মা অভিশাপ দিলেন । কন্যার বিবাহ বিচ্ছেদ হোক – এমন অভিশাপ দিলেন । কিন্তু সনাতন ধর্মে বিবাহকে খুব পবিত্র সম্পর্ক মানা হয়- যেখানে বিবাহ বিচ্ছদের স্থান নেই। তাই মহর্ষি ঋতধ্বজ ভাবলেন দেবতা হয়ে বিশ্বকর্মার একি পশুর মতো বুদ্ধি? মুনি বিশ্বকর্মা কে বানর কূলে জন্মাবার শাপ দিলেন । বিশ্বকর্মা বানর হলেন । অবশেষে এক সময় কন্যার বিবাহ মেনে নিলে কন্যা ও বিশ্বকর্মা দুজনেরই শাপ দূর হয় ।

বিশ্বকর্মার হাতে দাঁড়িপাল্লা
== = = = = = = = =

বাঙালী হিন্দু গণ যে বিশ্বকর্মার মূর্তি পূজো করেন তিনি চতুর্ভুজা । এক হাতে দাঁড়িপাল্লা, অন্য হাতে হাতুরী, ছেনী ( লম্বা , ভারী লোহার যন্ত্র, মাথায় হাতুরী মেরে ফুটো করার কাজে ব্যবহার হয় ) , কুঠার থাকে । অবশ্যই এগুলি শিল্পের প্রয়োজনীয় জিনিষ, তাই শিল্প দেবতা বিশ্বকর্মা এগুলি ধারন করে থাকেন । দাঁড়িপাল্লার একটি কারন আছে । আমরা যদি দাঁড়িপাল্লা কে ভালো মতো লক্ষ্য করি- দেখি সুপাশে সমান ওজনের পাল্লা থাকে। ওপরের মাথার সূচক যখন সমান ভাবে ঊর্ধ্ব মুখী হয়- তখন বুঝি মাপ সমান হয়েছে । এভাবে একটি পাল্লায় বাটখারা রেখে অপর টিতে দ্রব্য রেখে পরিমাপ হয় । এর তত্ত্ব কথা আছে । আমাদের জীবনের কাটাতি আত্মিক বিন্দুতে স্থির রাখতে হবে । দুই পাল্লার একদিকে থাকবে জ্ঞান আর কর্ম। জ্ঞানের দিকে বেশী ঝুকে পড়লে কর্ম কে অবহেলা করা হবে- পরিণামে আসবে দুঃখ, অভাব। আর কাটাতি কর্মের দিকে বেশী ঝুকে পড়লে তবে আসবে আধ্যাত্মিক অকল্যাণ । তাই কাটাতি দুয়ের মাঝে সমন্বয় করে রাখতে হবে । কোন দিকেই না যেনো বেশী ঝুকে পড়ে। এই নিয়ম না মেনে চললে বিশ্বপ্রেম , বিশ্ব ভাতৃত্ব সচেতনতা কোন টাই সম্ভব না।

হস্তী কেন বিশ্বকর্মার বাহন ?
= = = = = = = = = = =

বিশ্বকর্মার মূর্তি যদি আমরা দেখি, তাহলে দেখি তাঁর বাহন হস্তী । কলকাতার কর্মকার সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট নেতা শিক্ষা ব্রতী স্বর্গত হরষিত কেশরী রায় প্রথম বিশ্বকর্মার হস্তী বাহন বিগ্রহের পূজা করেন । হাতী কেন বাহন ? পুরানের প্রনাম মন্ত্রে বিশ্বকর্মা কে মহাবীর বলে বর্ণনা করা হয়েছে । হাতীর কত টা শক্তি তার আন্দাজ করতে পারি। নিমিষে গাছ পালা মাথা দিয়ে ঠেলে ফেলে দেয় । কারোর ওপর চরণ ভার দিলে- তার মুখ দিয়ে রক্ত উঠে মৃত্যু- আর অস্থি সকল চূর্ণ চূর্ণ হবে । এমন প্রবাদ আছে, হাতী নাকি একটু বড় পাথর শুঁড়ে তুলে ছুঁড়ে মারতে পারে । প্রাচীন কালে রাজারা যুদ্ধে হস্তী বাহিনীর প্রবল ভাবে ব্যবহার করতেন । তাই এই মহা শক্তিমান প্রানী এই দিক থেকে মহা যোদ্ধা বিশ্বকর্মার বাহন হবার যোগ্যতা রাখে ।

হস্তীর হাত নেই । তবে একটি ‘কর’ বা ‘শুন্ড’ আছে । কর আছে বলেই হাতীর এক নাম ‘করী’ । ‘কৃ’ ধাতু থেকেই ‘কর’ শব্দটির উৎপত্তি। সে এই শুন্ডের সাহায্যেই গাছের ডাল টানে, জল খায়, স্নান করে । আবার দেখি শিল্পের মাধ্যমেই কর্ম সংস্থান । তাই বিশ্বকর্মা কর্মের দেবতা । এই শূন্ড দ্বারা কর্ম করা – এই দিক থেকে হস্তী একভাবে বিশ্বকর্মার বাহন হিসাবে মানানসই ।

হস্তীকে দিয়ে অনেক কাজ করানো হয় । বন দপ্তর হস্তীকে দিয়ে কাঠ সরানোতে কাজে লাগায় । মোটা মোটা গাছের গুঁড়ি, কান্ড মাহুতের নির্দেশে হাতী এক স্থান থেকে আর এক স্থানে নিয়ে যায়, আবার কখনো সে গাছের ডাল বয়ে নিয়ে যায় মাহুতের নির্দেশে । আবার বন্য হাতীদের তাড়াতে বন দপ্তর পোষা হাতী গুলিকে কাজে লাগায়। হাতীর জীবন টাই এই রকম কাজের। নিজের খাদ্য আরোহণ থেকে , মাল বওয়া সব সময় কাজ । আর শিল্পের সাথে কর্মের সংস্থান জল আর ঠান্ডার মতো। জলে যেমন ঠান্ডা ভাব থাকে তেমনই কর্মের মাধ্যমেই শিল্পের বিকাশ। তাই বিশ্বকর্মা হলেন কর্মেরও দেবতা । এই দিকে থেকে শ্রমিক হাতী বিশ্বকর্মার বাহন হিসাবে একেবারে মানানসই ।

শিল্পের বিকাশ , বেকার দের কর্ম সংস্থান , শিল্পকে কেন্দ্র করে একটি দেশের বিকাশ যথার্থ বিশ্বকর্মা পূজা । বন্ধ কারখানা , অন্ধকার ময় শ্রমিক বস্তী , বন্ধ কাজ কর্ম- সেখানে বিশ্বকর্মার পূজা অনেক টা ‘ঘরে নাই ভাত- দুয়ারে বাজে ঢাক’ এমন অবস্থা। কর্ম রূপে যেনো আমরা বিশ্বকর্মার পূজা করতে পারি। শ্রম দিবস হিসাবে এই বিশ্বকর্মা পূজার দিন টা যেনো পালন করতে পারি- এই প্রার্থনাই সকলে বিশ্বকর্মার কাছে করবো।

জয় গুরু। জয় মা। জয় প্রভু বিশ্বকর্মা। সনাতন হিন্দু ধর্ম কি জয় ।

লিখেছেন- সুমন বসাক।