আসুন জেনে নেই গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য-দেবতা পুজায় বর্জ্জনীয় পুষ্পাদি/ দেবতার নিষিদ্ধ দ্রব্যাদি/দেবতার নিষিদ্ধ বাদ্য/পুষ্পের অভাবে ব্যবহার্য্য দ্রবাদি/পর্য্যুষিত পুষ্প


আসুন জেনে নেই গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য

1463241_175863435955763_1440183626_n
দেবতা পুজায় বর্জ্জনীয় পুষ্পাদিঃ→
পুরুষদেবতার রক্ত বর্ণ পুষ্প দ্বারা পুজা করা নিষেধ। সূর্য্য কে ধুতুরা এবং বিল্বপত্র,, গণেশকে তুলসীপত্র,,মহাদেব কে শ্বেতজবা দ্বারা পুজা করা নিষেধ।অর্কপুষ্প,,ধুতুরা,,বৃহতি,,শ্মশানজাত বৃক্ষের পুষ্প এবং শেফালিকা ভিন্ন অন্যান্য ভূপতিত পুষ্প দ্বারা দেবপূজা নিষিদ্ধ।উগ্র গন্ধ পুষ্প দ্বারা শিব পুজা নিষেধ।।
দেবতার নিষিদ্ধ দ্রব্যাদিঃ→
শিব ও সূর্য্য পুজার অর্ঘ্যে শঙ্খ নিষেদ্ধ। বিল্বপত্র তর্জনী ও অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা গ্রহন করিয়া উপুড় করিয়া,,তুলসীপত্র অনামিকা- মধ্যমা ও অঙ্গুষ্ঠদ্বারা ধরিয়া চিৎ করিয়া এবং পুষ্প যেরূপভাবে বৃক্ষে উৎপন্ন হয় সেইরূপভাবে ধরিয়া দেবতাকে নিবেদন করিবেন। বিল্বপত্র অধোমুখ করিয়া দেবতাকে নিবেদন করিবেন। শ্রাদ্ধাদি কার্য্যে দুর্ব্বার গর্ভ অর্থাৎ কোক ফেলিয়া দিবেন। বাম হস্তে পুষ্পাদি লইয়া দেবতা পুজা নিষিদ্ধ।।
দেবতার নিষিদ্ধ বাদ্যঃ→
দুর্গার নিকট বাঁশী,,শিবের নিকট করতাল,, ব্রহ্মার নিকট ঢক্কা এবং লক্ষীর নিকট ঘন্টা বাদ্য নিষিদ্ধ।।
মনসা পূজায় ধুনা দেবেন না। দেবতাকে উৎসর্গীকৃত পুষ্পদ্বারা সাজাইবেন না। পুজা শেষ হইবার পূর্ব্বে নৈবিদ্য ভাঙ্গিবেন না। নির্ম্মাল্য পুষ্প এবং আশির্ব্বাদী পুষ্প মস্তকে ধারণ করিবেন।।
পুষ্পের অভাবে ব্যবহার্য্য দ্রবাদিঃ→ পুষ্পের অভাবে পত্র,,পত্রের অভাবে ফল,,ফলের অভাবে কুশদ্বারা দেবতা পুজা করিবেন।কুশের অভাব হইলে গুল্ম এবং ওষধি দ্বারা আর তাহারও অভাব হইলে কেবল জলদ্বারাই পুজা করিবেন।যদি জলেরও অভাব হয় তবে কেবল মানষিক উপাচারে পূজা করিবেন।।
পর্য্যুষিত পুষ্পঃ→
তুলসী,,দুর্ব্বা,,পদ্মপুষ্প,,মালতীপূষ্প,, জাতীপুষ্প,,যুতিকা পুষ্প,,করবী এবং চম্পক পুষ্প কখনো পর্য্যুষিত(বাসি) হয় না।

Advertisements

আরতির উদ্ভব—–


শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা স্কুল's photo.

সন্ধ্যাকালে শ্রীকৃষ্ণ গোষ্ঠ হতে ফিরিলে মা যশোদা তাঁকে আরতি করে বরণ করে গৃহ আনিতেন। তা থেকে আরতির উদ্ভব। মায়ের উদ্দেশ্য ছিল বনে বনে গোপালের অঙ্গে ভূত প্রেতের কু-বাতাস লাগেছে তা দূর করে মঙ্গল বিধান করে। গভীর বাৎসল্যে এইরূপ মনে করতেন। আরতি এখন প্রায় সকল পূজার্চ্চানাতে প্রযুক্ত হয়।
আরতির সার্থকতা——
আরতির মাধ্যমে শ্রীভগবানের সঙ্গে ভাবের আদান প্রদান। লৌকিকে যেমন পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম, মাথায় হাত দিয়ে আশীর্বাদ, কোলাকুলি ইত্যাদি দ্বারা ভাব বিনিময়, আরতির মাধ্যমে তেমন আত্মসমর্পণ হয় ভগবচ্চরণে ।
আরতির তত্ত্ব———–
# ধূপ—-ক্ষিতিতত্ত্ব—দেহের প্রতীক–দেহ সমর্পণ।
# পঞ্চদীপ—তেজতত্ত্ব–পঞ্চপ্রাণের প্রতীক–পঞ্চপ্রাণ সমর্পণ।
# কর্পূরদীপ— বায়ুতত্ত্ব– মন বুদ্ধির প্রতীক–মন সমর্পণ।
# জলশঙ্খ– অপ্-তত্ত্ব– স্নেহপ্রীতি প্রতীক–হৃদয়পাত্র ভরা প্রীতি সমর্পণ।
# বস্ত্র—–আকাশতত্ত্ব–লজ্জাভয়াদির প্রতীক– লজ্জাদি সমর্পণ।
# পুষ্পচন্দন ভক্তিমাখা আত্মসমর্পণ—-সর্বতোভাবে নিজেকে দান ।
# ব্যাজন– পাখা চামর–অহংকার তত্ত্ব–অহংসত্তা ঈশ্বরে মিশিয়ে দেয়া।
আরতি ভগবানের শ্রীমুখে তিন বার, নাভিতে এক বার, দুই চরণে দুই বার, সর্বাঙ্গে সাত বার মোট চৌদ্দ বার এর কম নয়। বেশী যত ইচ্ছা।
উপরের প্রতিটি দ্রব্য প্রতি বিগ্রহে অঙ্গতে বুলিয়ে মনে মনে তত্ত্ব চিন্তা করতে করতে আরতি মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করা যায়।
ভুল হলে ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন।