সাত সাতটা জিনিস—যা পেলে কখনও ফেলে দেবেন না



ইন্দ্রাণী ঘোষ অক্টোবর

ভাবছেন নাকি, এ আবার কি মহা ফ্যাসাদে পড়লাম রে বাবা! সাত সাতটা জিনিস যা আপনার জীবনে যদি আসে কখনও, তাহলে ফেলতেও পারবেন না, ওগরাতেও পারবেন না! জাস্ট কথাটি না বলে খপাৎ করে গিলে নিতে হবে? না জানি সে কেমন ঘোরতর ভয়াবহ জিনিস! এও আবার হয় নাকি? হয় হয়। এ আজব দুনিয়ায় সবই হয়। থাক বাবা। আর বেশী ভ্যানতাড়া করব না। শেষে কৌতূহলে আপনার পেটের ভেতর গুড়গুড় করতে থাকবে। তাই এবার শুনেই নিন সেই আজব সাতটি জিনিসের নাম।

সাত সাতটা জিনিস
‘মনু স্মৃতি’র নির্দেশ
আজ্ঞে হ্যাঁ। ‘মনু স্মৃতি’। হিন্দুরা কিন্তু এই ‘মনু স্মৃতি’কে দিব্যি মান্য টান্য করেন। ‘মনু স্মৃতি’ যে সে জিনিস নয়। বহু প্রাচীনকাল থেকেই হিন্দুধর্মের যাবতীয় আচারবিধির দায়িত্ব তার ওপরই। তা এহেন ‘মনু স্মৃতি’রই একটি শ্লোকে আছে নাকি সে কথা। ‘স্ত্রীয় রত্নায়াথো বিদ্যা ধর্ম শৌচম সুভাষিতম বিবিধানি চ শিল্পানি সমাদেয়ানি সর্বথ’। অর্থাৎ আপনার জীবনের কোনো পর্যায়ে যদি কোনোভাবে, হতে পারে অচেনা কোনো লোকের কাছ থেকে, বা অন্য কোনো উপায়ে যদি সোনাদানা, জ্ঞান, ধর্ম, পবিত্রতা বা শুচিতা, উপদেশ, কোনো শিল্পদ্রব্য আর নারী পান, তাহলে তা ফেলে দেবেন না। যেন তেন প্রকারেণ নিয়েই ছাড়বেন।

টাকা আমার টাকা ওগো
এটা অবশ্য শুধু মনুর যুগের লোকজনই মানতেন না। এখনও এই কথাটি এক্কেবারে খাঁটি সত্য কথা। মনুর যুগে না-হয় রাজা-রাজড়া বা দেব-দেবীর আশীর্বাদে স্বর্গ থেকে ধনরত্ন বর্ষিত হতো। সে ছিল সত্যযুগ বা ত্রেতাযুগ। এখন ঘোর কলি। সে রাজাও নেই যার হাত দিয়ে মুঠো মুঠো মোহর গলবে, আর সেই দেব-দেবীতে আমার-আপনার ভক্তিও নেই। এখন টাকা আছে। টাকা উপায়ের হাজারো উপায়ও আছে। কেউ ঘুষ-টুশ দিচ্ছে নাকি? আরে ভাই। লজ্জা কীসের? মনু বলেছেন, নিয়েই ফেলুন না। শুধু চোখ-কান খোলা রাখবেন। আর টাকা তো টাকাই। সে সাদাই হোক। আর কালো!

জ্ঞান চাই? জ্ঞান?
জ্ঞান চাই?


হুম। এটা একটু সিরিয়াস জিনিস বটে। জ্ঞান। ছোটবেলায় পড়েছিলেন তো ‘জ্ঞানই পরম সত্য’ মার্কা বাণী? ইতিহাস বইতে পড়েও তো ছেন, যে জ্ঞানের জন্য সক্রেটিস, গ্যালিলিও কিই না করেছিলেন! নানা, বালাই ষাট। আপনাকে আমরা অদ্দুর যেতে বলছি না। আপনি জ্ঞানের জন্য প্রাণ বিসর্জন করলে কলিকালের আর বাকি রইলো টা কি? তবে হ্যাঁ। একটা কথা বলব, ছোট্ট পরামর্শ। জানেনই তো পুরনো চাল ভাতে বাড়ার মতো জ্ঞানও রাখলে বাড়ে। আর জ্ঞানের কোনো শেষও নেই। যে যাই করে ফেলুক না কেন, আপনার জ্ঞান কিন্তু আপনারই থাকবে। তাই গোটা জীবনটা পড়ে আছে। বিনা টেনশনে জ্ঞানলাভ করতে থাকুন। ভগবান আপনার মঙ্গল করবেন।

‘ধর্মক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে’
এই ধর্ম মানে মনু অবশ্য রিলিজিয়ন বলেন নি। তাঁর কাছে এই ধর্ম মানে ছিল মানুষের ভেতরকার ধর্ম। যাকে খাঁটি বাংলায় বলে মানবধর্ম বা মানুষ হয়ে ওঠার ধর্ম। তা যেখানেই পারবেন না কেন, এই জিনিসটি ছাড়বেন না। যথার্থ মানুষ হবার ধর্মকে অবিশ্যি ছাড়াও যায় না। আর স্বয়ং গান্ধারীই যখন অতো বড় কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে ছেলেকে বাদ দিয়ে ধর্মের পক্ষে ছিলেন, তখন আপনি তো কোন ছাড়!

সে ছিল পরম পবিত্র
পবিত্রতা বিষয়টাও একটু গুরুগম্ভীর জিনিস। এই পবিত্রতাও বাইরে থেকে আসে না। এ পবিত্রতাও মানুষের ভেতরকার ব্যাপার। দেখবেন এক একজনকে দেখলেই কেমন পবিত্র-শান্ত-শুদ্ধ ভাব জাগে না মনে? এ হচ্ছে তাই। তো এই পবিত্র পবিত্র ভাবটি ছাড়বেন না। ধরে রাখুন। অভ্যেস করুন ‘পবিত্র পবিত্র’ থাকার। দেখবেন কেমন একটা ‘সেন্ট লাইক’ ফিলিংস হচ্ছে!

উপদেশের বোঝা
ফ্রিয়ের বলে একে আবার অন্য জিনিসের মতো হেলাফেলা করবেন না। এ যে সে ফ্রি নয়। এ হল খাস উপদেশ। টাটকা তাজা, এক্কেবারে হাতে গরম। অন্য লোকের থেকে পেলে নিয়েই দেখুন না। এর মতো পরম সম্পদ আর হয় নাকি? কে জানে, জমাতে জমাতে আপনিও হয়তো একদিন উপদেশের আস্ত একটা বোঝা বানিয়ে ফেললেন!

শিল্পদ্রব্য
ভালো ভালো দামী জিনিস দিয়ে নিজের ঘর সাজানোর তাল করছেন নাকি? এই তো সুযোগ। উপহার দিন। উপহার নিনও। আর সেই তালিকায় যদি ঘর সাজানোর ভালোমন্দ শিল্পদ্রব্য থাকে? ব্যাস। লুফে নেবেন জাস্ট। আর যাই হোক, মনুর কথায় আপনার ভালো ভালো শিল্পদ্রব্যের অমন শখটি পূর্ণ হয়ে গেল—একি কম কথা?

নারী!
কি, শেষ ওভারে ক্লিন বোল্ড হয়ে গেলেন তো মনুর ট্যালেন্ট দেখে? আজ্ঞে আপনি ভুল শোনেননি। উনি কিন্তু নারীর কথাই বলেছেন। শুনুন কথা। যেখানে, যেভাবে, যে অবস্থাতেই মেয়ে পাবেন না কেন, সোজা নাকি তুলে নেবেন। তা মনুর দোষ নেই। সেকালে সের’মই ব্যাপার ছিল কিনা! আর মেয়েদের কবেই বা কে পাত্তা দিয়েছে! ভাবলে অবাক হবেন মনুর যুগে মেয়েদের নেহাতই বস্তু বলে ভাবা হতো! রাজ্য, সোনাদানা জয় করার পাশাপাশি সেকালে রাজারা মেয়েদেরও জয় করতেন! নয়তো কি আর মনু তাঁর এই পাওয়ার তালিকায় মেয়েদের রাখতেন? সে যাইহোক, আপনি কিন্তু আবার আনন্দে আত্মহারা হয়ে মেয়ে দেখলেই তুলে নেবেন না। এতে আপনারই বিপদ। হাজার হোক। এটা তো কলিকাল!

তাহলে মনুর অবাক লিস্টের ব্যাপার-স্যাপার দেখে কেমন লাগলো? আপডেটেড বলতে হবে কিন্তু মনুমশাইকে। কেমন দিব্য মাথা খাটিয়ে বের করেছেন! দেরী না করে আপনি দেখুন তো কোনটায় কোনটায় টিক মার্ক দেবেন? আর জানান ‘দাশবাস’কে।

Advertisements

পায়ে কেন সোনার নূপুর পরতে নেই


বাঙালি মেয়েরা বেশিরভাগই সোনার নূপুর প্রায় ব্যবহার করেন না। কিন্তু কখনও ভেবেছেন কেন পায়ে সোনার নূপুর ব্যবহার করা হয় না? আসুন জেনে নি।

 বিভিন্ন ধরনের গয়না পড়া নারীদের একটি ঐতিহ্য। আর মা ঠাকুমার আমল থেকে এই ঐতিহ্য ভালোবাসায় পরিনত হয়েছে। কোন উৎসব অনুষ্ঠান হোক বা বিয়েতে মেয়েকে গয়নায় ভরিয়ে দেওয়া, যেকোনো কিছুতেই গয়না চাই চাই। কারণ এই গয়না হল নারীর পরিচয়। এরকমই একটি গয়না হল নূপুর। যেটি বাঙালি মেয়েদের মধ্যে পড়ার প্রচলন বেশি। তবে এখন দু পায়ে নূপুর পড়ার থেকে এক পায়ে নূপুর পড়ার ফ্যাশন এসেছে।  তবে বাঙালি মেয়েরা বেশিরভাগই রুপোর নূপুর ব্যবহার করে। সোনার নূপুর প্রায় ব্যবহার করেন না বললেই চলে। কিন্তু কখনও ভেবেছেন কেন পায়ে সোনার নূপুর ব্যবহার করা হয় না? তার কি কোন বিশেষ কারণ আছে? আসুন জেনে নি।

ধর্ম ও বিজ্ঞান 

পায়ে সোনার নূপুর না পড়ার পিছনে কিছু ধার্মিক আর কিছু বৈজ্ঞানিক কারণও আছে। ভারত হল বিভিন্ন ধার্মিক মানুষের মিলন ক্ষেত্র। বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করেন এখানে। যেখানে তারা ধর্মকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেন। হিন্দু ধর্মে বেশিরভাগ মানুষই বিশেষত মা ঠাকুমারা ধর্মকে অত্যন্ত মেনে চলেন। তাই মনে করা হয় যে, সোনা অত্যন্ত আকাঙ্খিত একটি বস্তু। হিন্দু ধর্মে এই সোনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সোনা ভবিষ্যতের সম্পদ হিসাবেও প্রতিটি হিন্দু ঘরে গচ্ছিত থাকে। তাই এত মূল্যবান ও দামি বস্তু সেটি পায়ে ঠিক শোভা পায় না।

লক্ষ্মীর প্রতীক

এছাড়াও সোনা ভগবানকে পরানো হয়। সোনা হল লক্ষ্মীর প্রতীক। লক্ষ্মী রুপে তাকে পূজা করা হয়। তাই এর একটি একটি আলাদা ধার্মিক মাহাত্ম্য আছে। তাই একে পায়ে পড়া ঠিক নয় বলে অনেকেই মনে করেন। তাই বেশিরভাগ সময়ে রুপোর নূপুরই পড়তে দেখা যায় বাঙালি মেয়েদের।

এই ধার্মিক কারণগুলি ছাড়াও কিছু বৈজ্ঞানিক কারণ আছে যেমন, সোনা একটু গরম ধাতু। সোনার গয়নাও একটু গরম হয়। যেটি পায়ে তাপ উৎপন্ন করে। যার ফলে শরীর গরম হয়ে যাবার সম্ভবনা থাকে।  তাই সোনার গয়না পায়ে পড়তে বারন করা হয়।

এছাড়াও রূপোর গয়না পায়ে পড়ার কিছু উপকারও আছে  

রুপোর নূপুর পড়ার কিছু কারণ যেমন, যদি কোমর ব্যাথা, হাঁটু ব্যাথা এসব সমস্যায় ভোগেন তাহলে রুপোর নূপুর এই সব বাথা থেকে কিছুটা মুক্তি দিতে সাহায্য করে। রুপোর নূপুরে এমন কিছু উপাদান থাকে যা এই ধরনের ব্যাথা কমাতে সাহায্য করে।

যদি পায়ের পাতা, গোড়ালি খুব ফোলা ধরনের হয়। তাহলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করবে রুপো। এই গয়নাটি রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে। তার ফলে এই ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

এছাড়াও রুপোর নূপুর শরীরে এনার্জি বাড়াতে সাহায্য করে। এবং বিভিন্ন গায়নোলোজিক্যাল সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করে। যেমন অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যা, হরমনের অসামঞ্জস্যতা জনিত নানান সমস্যা। এছাড়াও শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে রুপো।

এই সকল কারনের জন্যই সোনার বদলে রুপোর নূপুর ব্যবহার করা হয়। রুপোর নূপুর দেখতেও ভালো লাগে আবার নানারকম উপকারও পাওয়া যায়। তাই বেশিরভাগ সময় রুপোর নূপুর ব্যবহার করা হয়।

লিখেছেন-

তথ্যসূত্র-

একাদশী ব্রত পালন করলে কি হয় ? এবং কেন পালন করবো?


“কৃষ্ণ ভূলি যেই জীব অনাদি বহির্মুখ।
অতএব মায়া তারে দেয় সংসার দুঃখ।।”

শ্রীকৃষ্ণকে ভুলে জীব অনাদিকাল ধরে জড়া প্রকৃতি প্রতি আকৃষ্ট রয়েছে। তাই ম‍ায়া তাকে এ জড় জগতে নানা প্রকার দুঃখ প্রদান করছে। পরম করুণাময় ভগবান কৃষ্ণস্মৃতি জাগরিত করতে মায়াগ্রস্ত জীবের কল্যাণে বেদপুরাণে আদি শ‍াস্ত্রগ্রন্থাবলী দান করেছেন। ভক্তি হচ্ছে ভগবানকে জানার ও ভগবৎ প্রীতি সাধনের একমাত্র সহজ উপায়।

শাস্ত্রে যে চৌষট্টি প্রকার ভক্ত্যাঙ্গের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে একাদশী ব্রত সর্বত্তোম। শ্রবণ, কীর্তন, স্মরণ আদি নবধা ভক্তির পরই দশম ভক্ত্যাঙ্গরূপে একাদশীর স্থান। এই তিথিকে হরিবাসর বলা হয়। তাই ভক্তি লাভেচ্ছু সকলেরই একাদশী ব্রত পালনের পরম উপযোগিতার কথা বিভিন্ন পুরাণে বর্ণিত হয়েছে। একাদশী তিথি সকলের অভীষ্ট প্রদানকারী। এই ব্রত পালনে সমস্ত প্রকার পাপ বিনষ্ট, সর্বসৌভাগ্য ও শ্রীকৃষ্ণের প্রীতি বিধান হয়। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আট থেকে আশি বছর বয়স পর্যন্ত যে কোন ব্যক্তিরই ভক্তিসহকারে পবিত্র একাদশী ব্রত পালন করা কর্তব্য। সঙ্কটজনক অবস্থা বা জন্মমৃত্যুর অশৌচে কখনও একাদশী পরিত্যাগ করতে নেই। একাদশীতে শ্রাদ্ধ উপস্থিত হলে সেইদিন না করে দ্বাদশীতে শ্রাদ্ধ করা উচিত। শুধু বৈষ্ণবেরাই নয়, শিবের উপাসক, সূর্য-চন্দ্র-ইন্দ্রাদি যেকোন দেবোপাসক, সকলেরই কর্তব্য একাদশী ব্রত পালন করা। দুর্লভ মানবজীবন লাভ করেও এই ব্রত অনুষ্ঠান না করলে বহু দঃখে-কষ্টে চুরাশি লক্ষ যোনি ভ্রমণ করতে হয়। অহংকারবশত একাদশী ব্রত ত্যাগ করলে অশেষ যমযন্ত্রণা ভোগ করতে হয়। যে ব্যাক্তি এই ব্রতকে তুচ্ছ জ্ঞান করে, জীবিত হয়েও সে মৃতের সমান।

কেউ যদি বলে “একাদশী পালনের দরকারটা কি?’’
সে নিশ্চয় কুম্ভপাক নরকের যাত্রী। যারা একাদশী পালনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে শনির কোপে তার‍া বিনষ্ট হয়। একাদশীকে উপেক্ষা করে তীর্থ স্নান আদি অন্য ব্রত পালনকারীর অবস্থা গাছের গোড়া কেটে পাতায় জল দানের মতোই। একাদশী বাদ দিয়ে যারা দেহধর্মে অধিক আগ্রহ দেখায়, ধর্মের নামে পাপরাশিতে তাদের উদর পূর্ণ হয়। কলহ-বিবাদের করেণেও একাদশী দিনে উপব‍াস করলে অজ্ঞাত সুকৃতি সঞ্চিত হয়। পুণ্য প্রদায়িনী সর্বশেষ্ঠ এই ব্রত শ্রীহরির অতি প্রিয়। একাদশী ব্রত পালনে যে ফল লাভ হয়, অশ্বমেধ, রাজসূয় ও বাজপেয় যজ্ঞদ্বারাও তা হয় না। দেবরাজ ইন্দ্রও যথাবিধি একাদশী পালনকারীকে সম্মান করেন। একাদশী ব্রতে ভাগবত শ্রবণে পৃথিবী দানের ফল লাভ হয়। অনাহারে থেকে হরিনাম, হরিকথা রাত্রিজাগরণে একাদশী পালন করা কর্তব্য। কেউ যদি একাদশী ব্রতে শুধু উপবাস করে তাতে বহু ফল পাওয়া যায়। শুদ্ধ ভক্তেরা এই দিনে একাদশ ইন্দ্রিয়কে শ্রীকৃষ্ণে সমর্পণ করেন।

একদশীতে শস্যমধ্যে সমস্ত পাপ অবস্থান করে। তাই চাল, ডাল, আটা, ময়দা, সুজি, সরিষা আদি জাতীয় খাদ্যদ্রব্য একদশী দিনে বর্জন করা উচিত। নির্জলা উপবাসে অসমর্থ ব্যক্তি জল,দুধ, ফল-মূল, এমনকি আলু, পেঁপে, কলা, ঘিয়ে বা বাদাম তেল অথবা সূর্যমুখী তেলে রান্না অনুকল্প প্রসাদ রূপে গ্রহন করতে পারেন। রবিশস্য (ধান, গম, ভূট্টা, ডাল, ও সরিষা) ও সোয়াবিন তেল অবশ্যই বর্জনীয়। দশমী বিদ্ধা একাদশীর দিন বাদ দিয়ে দ্বাদশী বিদ্ধা একাদশী ব্রত পালন করতে হয়। একাদশীতে সূর্যোদয়ের পূর্বে বা সূর্যোদয় কালে (1ঘন্টা 36 মিনিটের মধ্যে) যদি দশমি স্পর্শ হয়, তাকে দশমী বিদ্ধা বলে জেনে পরদিন একাদশীব্রত পালন করতে হয়। মহাদ্বাদশীর আগমন হলে একাদশীর উপবাস ব্রতটি মহাদ্বাদশীতেই করতে হয়। একাদশী ব্রত করে পরের দিন উপযুক্ত সময়ে শস্যজাতীয় প্রসাদ গ্রহণ করে পারণ করতে হয়। শাস্ত্রবিধি না মেনে নিজের মনগড়া একাদশী ব্রত করলে কোন ফল লাভ হয় না। একাদশী উপবাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বছরে ছাব্বিশটি একাদশী আসে। সাধারণত বার মাসে চব্বিশটি একাদশী। এইগুলি হচ্ছে– উৎপন্না, মোক্ষদা, সফলা, পুত্রদা, ষটতিলা, জয়া,বিজয়া, আমলকি, পাপমোচনী, কামদা, বরুথিনী, মোহিনী, অপরা, নির্জলা, যোগিনী, শয়ন, কামিক‍া, পবিত্রা, অন্নদা, পরিবর্তিনী বা পার্শ্ব, ইন্দিরা, পাশাঙ্কুশা, রমা এবং উত্থান।কিন্তু যে বৎসর পুরুষোত্তমাস, অধিমাস বা মলমাস থাকে, সেই বৎসর পদ্মিনী ও পরমা নামে আরও দুটি একাদশীর আবির্ভ‍াব হয়। যারা যথাবিধি একাদশী উপবাসে অসমর্থ অথবা ব্রতদিনে সাধুসঙ্গে হরিকথা শ্রবণে অসমর্থ, তারা এই একাদশী মাহাত্ম্য পাঠ কবা শ্রবণ করলে অসীম সৌভাগ্যের অধিকারী হবেন।

রুদ্রাক্ষ ধারণ করার গুনাগুণ


রুদ্রাক্ষ ধারণ করার নানা গুনাগুণ আছে। রুদ্রাক্ষ আসলে একটি গাছের বীজ। যা পাহাড়ে পাওয়া যায়। অনেক উচ্চতায় পাওয়া যায়। বলা হয় রুদ্রাক্ষ ভগবান শিবের চোঁখের জলের থেকে সৃষ্টি হয়। এই রুদ্রাক্ষ অসাধারণ গুনে ভরা। মুনি ঋষিরা যারা হিমালয়ের গভীর পাহাড়ে ধ্যান করেন তারা রুদ্রাক্ষের বহু গুনের ব্যাপারে পরিচিত। হিমালয় অঞ্চলে গাছ কাটার ফলে আজকাল রুদ্রাক্ষের উৎপাদন কমে গেছে তাই দিনকে দিন এর চাহিদাও বাড়ছে।

রুদ্রাক্ষ মালার বহু গুনাগুন আছে। বহু ঋষি,মুনি এবং সাধারণ মানুষজন রুদ্রাক্ষ ধারণ করে থাকেন রুদ্রাক্ষের গুণের ফল পেতে। তাহলে আজ জানা যাক রুদ্রাক্ষের কিছু গুন।

 হার্টের সুরক্ষা করে

আমাদের হার্ট বিট এবং রক্তের চলাচলের ফলে একটা চৌম্বক শক্তির সৃষ্টি করে যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো না। রুদ্রাক্ষে ডাইমাগ্মেটিজমের বৈশিষ্ট্য আছে। এর ফলে হার্টের ধমনী এবং শিরার মধ্যে রক্ত চলাচলকে বাড়িয়ে দেয়।

শুদ্ধ এবং বিষাক্ত জল এবং খাবারের মধ্যে পার্থক্য করতে সাহায্য করে

মুনি ঋষিরা অনেক উঁচু পাহাড় অঞ্চলে ধ্যান করে থাকেন। ওইসব উঁচু জায়গাতে প্রায়শই বিষাক্ত গ্যাস মিশে থাকে জল এবং ফল বা খাবারের মধ্যে। ওইসব বিষাক্ত গ্যাসে ভরা জল বা খাবার খেলে আমাদের শরীর খারাপ হতে বাধ্য। রুদ্রাক্ষ শুদ্ধ এবং বিষাক্ত জলের মধ্যে পার্থক্য করতে সাহায্য করে। জলের বা খাবারের মধ্যে রুদ্রাক্ষ দিলে যদি রুদ্রাক্ষটি দক্ষিণাবর্তে ঘোরে রুদ্রাক্ষটি তার মানে জলটিতে বা খাবারে কোনো রকেমের বিষ নেই। আবার রুদ্রাক্ষটি বামাবর্তে ঘুরলে বুঝতে হবে যে খাবারটি বিষাক্ত।

স্বাস্থ্যের উন্নতি করে

রুদ্রাক্ষের মধ্যে রয়েছে চুম্বকীয় শক্তি যা আমাদের শরীরে অনুভূমিক কম্পন পাঠায়। এই কম্পনের ফলে আমাদের শরীরে কিছু ইমপালস তৈরি হয়। তারফলে আমাদের ব্রেন কিছু কেমিক্যাল সৃষ্টি করে যা আমাদের বেশ কিছু শরীরের রোগ নিজে থেকেই সারাতে সাহায্য করে খুব তাড়াতাড়ি। এই কারণের জন্য রুদ্রাক্ষ ধারণ করলে আমাদের শরীর এবং মন ভালো লাগতে শুরু করে।

শরীরের বহু রোগ তারায় দূর করে

চারমুখী রুদ্রাক্ষ ধারণ করলে তা আমাদের স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। বৃষচক কামড়ালে, রুদ্রাক্ষ কামড়ানোর জ্বালা থেকে মুক্তি দেয়। রুদ্রাক্ষটি কোনো শক্ত জায়গাতে ঘষে তারপর তার মধ্যে জল দিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে যদি কামড়ানোর জায়গাতে লাগানো যায় তাহলে কামড়ানোর জ্বালার অবসান ঘটে। খুবই তাড়াতাড়ি আমরা ভালো বোধ করি।

অশুভ  শক্তির থেকে আমাদের বাঁচায়

এইটা সত্যি যে অনেক সময় কয়েকজন মানুষ অশুভ শক্তির সাহায্য নেয় অন্য মানুষের ক্ষতির জন্য।রুদরাক্ষের মালা ধারণ করলে আমাদের  সুরক্ষা কবজ হয়ে দাঁড়ায় রুদ্রাক্ষ।অথর্ব বেদে বলা আছে যে নেতিবাচক শক্তির ব্যাপারে আর এমন অনেক মানুষই আছে যারা অন্যদের ক্ষতি করার জন্য মুখিয়ে থাকেন। রুদ্রাক্ষ ধারণ করলে অশুভ শক্তি আমাদের থেকে দূরে সরে যায়। তার ফলে আমরা এইসব অশুভ শক্তির কোপ থেকে রেহাই পাই।

জানলেন নিশ্চয়ই যে রুদ্রাক্ষের সাথে কত সুফল জড়িয়ে আছে। পুরোনো উপনিষদে রুদ্রাক্ষের গুণ সম্পর্কে অনেক প্রশংসা উল্লেখিত করা আছে। শুধু মুনি ঋষিরা না সাধারণ মানুষজনও রুদ্রাক্ষ ধারণ করে থাকেন। রুদ্রাক্ষের কথা আয়ুর্বেদেও উল্লেখ করা আছে। আয়ুর্বেদে  সঞ্জীবনীর আখ্যাও দেওয়া হয়েছে রুদ্রাক্ষকে। আমাদের  বহু রোগের অন্ত ঘটায় রুদ্রাক্ষ। যেমন হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি, শরীরের উন্নতি ইত্যাদি। প্রার্থনার জন্যও অনেকে রুদ্রাক্ষের মালা ধারণ করে থাকেন। এই ছিল রুদ্রাক্ষ ধারণ করার গুনাগুন। পরের দিন আবার  নতুন কিছু তথ্য নিয়ে হাজির হব।

লিখেছেন-

রামেশ্বরী বর্মণ

তথ্যটি নেয়া হয়েছে- https://dusbus.com থেকে।