সত্যভামা


Image result for সত্যভামা

ইনি শ্রীকৃষ্ণের স্ত্রী ছিলেন ও সত্রাজিৎ-এর কন্যা ছিলেন। কৃষ্ণের সাথে এঁর বিবাহের সূত্র ছিল স্যমন্তক নামক একটি মণি। একবার নারদ কল্পবৃক্ষের কয়েকটি ফুল নিয়ে শ্রীকৃষ্ণের সাথে দেখা করতে আসেন। কৃষ্ণ এই ফুলগুলি তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে ভাগ করে দিলেও সত্যভামাকে দিতে ভুলে যান। এরপর সত্যভামা অভিমান করলে– কৃষ্ণ ইন্দ্রের সাথে কলহ করে কল্পতরু এনে সত্যভামার ঘরের সামনে রোপন করেন। ইনি ইন্দ্রের স্ত্রী শচী, শিবের স্ত্রী গৌরী ও অগ্নির স্ত্রী স্বাহার মতো পুণ্যকব্রত পালন করে, কৃষ্ণকে নারদমুনির হাতে দান করেন। কিন্তু স্বামীর আসন্ন বিচ্ছেদ কল্পনা করে অস্থির হয়ে ইনি– শ্রীকৃষ্ণের নামাঙ্কিত তুলসীপাতার বিনিময়ে নারদের কাছ থেকে আবার স্বামীকে ফিরিয়ে নেন।
কৃষ্ণের মৃত্যু ও যদুবংশ ধ্বংসের পর, অর্জুন অন্যান্য যাদব মহিলাদের সাথে সত্যভামাকে ইন্দ্রপ্রস্থে নিয়ে যান। পরে ইনি হিমালয় অতিক্রম করে কলাপগ্রামে গিয়ে অবশিষ্ট জীবন কৃষ্ণের আরাধনা করে কাটিয়ে দেন। এঁর গর্ভে কৃষ্ণের সাতটি পুত্র জন্মলাভ করেছিল।

সত্যব্রত


Image result for সত্যব্রত

. ইনি ছিলেন বিষ্ণুভক্ত জনৈক রাজর্ষি একটি কল্পের শেষে, ব্রহ্মার নিদ্রাকালে একটি মহাপ্লাবনে পৃথিবীর সমস্ত লোক সমুদ্রজলে নিমগ্ন হয় এই সময় হয়গ্রীব নামক এক দানব সকল বেদ অপহরণ করেছিলেন বিষ্ণু মৎস্যাবতাররূপে  হয়গ্রীবকে হত্যা করে বেদসকল উদ্ধার করেছিলেন
এই অবতারে বিষ্ণু প্রাথমিকভাবে একটি পূঁটি মাছরূপে কৃতমালা নদীতে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন এই নদীতে সত্যব্রত তর্পণ করতে জলে নামলে, তাঁর অঞ্জলিবদ্ধ হাতের ভিতর এই পূঁটিমাছ আবদ্ধ হয়ে পড়ে সত্যব্রত মাছটিকে জলে ফেলে দিতে উদ্যত হলে, মাছটি পরম দয়ালু রাজাকে অন্যান্য জলজন্তুদের হাত থেকে তাকে রক্ষা করতে বলেন ইনি প্রথমে একটি পাত্রে রেখে মাছটিকে প্রতিপালন করতে থাকেন কিন্তু মাছটির আকার ক্রমান্বয়ে বর্ধিত হতে থাকলে, ইনিও আকার অনুসারে জলাধারের পরিবর্তন করতে থাকলেন শেষ পর্যন্ত  মাছটি এক দিনেই একশ যোজন করে বৃদ্ধি পেতে দেখে, ইনি অনুমান করলেন যে, এই মাছ স্বয়ং বিষ্ণু এরপর ইনি মাছটির স্তব করলে, বিষ্ণু তাঁকে একটি আসন্ন মহাপ্লাবনের কথা বলেন এরপর  ইনি বিষ্ণুর প্রেরিত নৌকায় বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের বীজ সংগ্রহ করেন বন্যার সময় ইনি প্রলয় সমুদ্রে বিহার করতে করতে মৎস্যরূপী বিষ্ণুর কাছ থেকে বিভিন্ন ধর্মীয় উপদেশ শোনেন সত্যব্রত বিষ্ণুর কৃপায় বিবস্বানের পুত্র হিসাবে মনু হয়ে জন্মেছিলেন
. ভীষ্মের অপর নাম

কৌরব মাতা গান্ধারীঃ–


12068193_1517869705200358_278462652_n-13ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের গান্ধার রাজ্যের(বর্তমান আফগানিস্থানের কান্দাহার) রাজা সুবলের কন্যা। এঁর প্রকৃত নাম জানা যায় না। ইনি পিতার নামে- সুবলকন্যা এবং তাঁর জন্মস্থান গান্ধারের নামানুসারে ইনি গান্ধারী নামে পরিচিত ছিলেন। মাতৃত্বের আকাঙ্ক্ষায় তাঁর মন পরিপূর্ণ ছিল। ইনি মহাদেবের কাছে শতপুত্র লাভের বর চেয়েছিলেন।

ভীষ্ম এঁর সাথে ধৃতরাষ্ট্রের বিবাহের জন্য গান্ধাররাজের কাছে প্রস্তাব পাঠালে- গান্ধাররাজ তাঁর পুত্র শকুনি’র সাথে সালঙ্কৃতা অবস্থায় গান্ধারীকে হস্তিনাপুরীতে পাঠান। এবং এখানেই তাঁর সাথে ধৃতরাষ্ট্রের বিবাহ হয়।

স্বামীর অন্ধত্বের কারণে গান্ধারী চোখে সব সময় এক খণ্ড কাপড় বেঁধে রাখতেন। বেদব্যাস একদিন ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কাতর হয়ে হস্তিনাপুরীতে এলে, গান্ধারী যথোচিত সেবা যত্ন করে ঋষিকে তুষ্ট করেন। পরিতুষ্ট বেদব্যাস তাঁকে বর দিতে ইচ্ছা করলে- ইনি তাঁর কাছে শতপুত্র লাভের বর প্রার্থনা করে তা লাভ করেন।

গর্ভবতী হওয়ার পর দুই বৎসরেও তাঁর সন্তান প্রসব না হওয়ায় এবং পাণ্ডুর প্রথম পুত্র যুধিষ্ঠিরের জন্ম হওয়ায়, ইনি ঈর্ষায় নিজের উদরে আঘাত করতে থাকেন। ফলে ইনি একটি লৌহকঠিন মাংশপিণ্ড প্রসব করেন। ইনি ক্ষোভে দুঃখে এই মাংসপিণ্ড ফেলে দিতে উদ্যোগী হলে, ব্যাসদেব সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁকে এই কর্ম থেকে নিবৃত করেন। পরে ব্যাসবেদের পরামর্শে ইনি, একশতটি ঘৃতপূর্ণ কুণ্ড স্থাপন করে, শীতল জলে এই মাংস খণ্ডটি ধৌত করেন। ফলে এই মাংস খণ্ডটি একশত এক ভাগে বিভক্ত হয়। পরে আরো একটি ঘৃতকুণ্ড স্থাপন করে এই ১০১টি খণ্ড রেখে দিলেন। এক বৎসর পর এই মাংস পিণ্ড হতে প্রথমে দুর্যোধন ও এক বত্সর এক মাসের মধ্যে অন্যান্য ১০০টি পুত্র ও একটি কন্যার জন্ম হয়।

ইনি অত্যন্ত ধর্মশীলা ছিলেন। প্রকাশ্য সভার মধ্যে দুর্যোধন দ্রৌপদীকে অপমান করলে দুর্যোধনকে পরিত্যাগ করার জন্য ইনি ধৃতরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেন। অন্যায় আচরণের জন্য ইনি দুর্যোধন ও দুঃশাসনকে কখনও ক্ষমা করেন নি। ইনি পণ-মুক্ত পাণ্ডবদের অর্ধরাজ্য দান করে সন্ধিস্থাপনের যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলেন। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে আগে দুর্যোধন এঁর কাছে আশীর্বাদ প্রার্থনা করতে গেলে- ইনি বলেন যে- যেখানে ধর্ম সেখানেই জয়। যুদ্ধের শেষে মাতৃস্নেহে আকুল হয়ে তাঁর পুত্রদের জন্য ক্রন্দন করেছেন এবং পাণ্ডবদের অভিশাপ দিতে অগ্রসর হয়েছেন। পরে ব্যাসদেবের অনুরোধে ইনি তাঁর ক্রোধ দমন করেন। গান্ধারী সক্রোধে যুধিষ্ঠিরের কাছে এলে, যুধিষ্ঠির তাঁর কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করেন। এই সময় যুধিষ্ঠিরের শরীর কাপড়ে ঢাকা ছিল। গান্ধারী ক্রোধের সাথে যুধিষ্ঠিরের দিকে তাকালে ইনি শুধু যুধিষ্ঠিরের পায়ের আঙুলের নখ দেখতে পান। গান্ধারীর তীব্র দৃষ্টিতে যুধিষ্ঠিরের পায়ের নখ বিকৃত হয়ে যায়। ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কৃষ্ণ যুদ্ধ থামানোর যথাসাধ্য চেষ্টা করে নি এটি মনে করে ইনি কৃষ্ণকে অভিশাপ দেন। এই অভিশাপের ফলে বনের মধ্যে কৃষ্ণ নিকৃষ্টভাবে নিহত হন।

পাণ্ডবদের রাজ্যলাভের পর পনের বত্সর ধৃতরাষ্ট্র ও গান্ধারী পাণ্ডবদের আশ্রয়ে ছিলেন। এরপর এঁরা বাণপ্রস্থ অবলম্বন করে গঙ্গাতীরে রাজর্ষি শতযূপের আশ্রমে যান। এখানে আশ্রম নির্মাণ করে অন্যান্য সকলের সাথে বসবাস করতে থাকেন। বনবাসকালে ইনি শুধুমাত্র জলপান করে তপস্যা করতেন। বাণপ্রস্থের তৃতীয় বত্সরে ইনি সবার সাথে অরণ্যে প্রবেশ করেন। উক্ত বনে দাবানলের সৃষ্টি হলে ধৃতরাষ্ট্র, কুন্তী সহ ইনি মৃত্যুবরণ করেন

পৌরানিক চরিত্র: অগস্ত্যমুনি (মহাভারতের চরিতাবলী)


বিখ্যাত মুনি। পাণ্ডবরা যখন তীর্থে গিয়েছিলেন তখন এঁর জীবন-কাহিনী ওঁরা শোনেন। ওঁর স্ত্রী লোপমুদ্রা ছিলেন বিদর্ভরাজের কন্যা। উনিও একজন তপস্বিনী ছিলেন। ওঁদের পুত্রের নাম দৃঢ়স্যু। অগস্ত্যমুনি একবার তাঁর পত্নী লোপামুদ্রার ইচ্ছাপূরণের জন্য রাক্ষস ইল্বলের কাছে ধন চাইতে এসেছিলেন, তখন ওঁর চোখের সন্মুখে ইল্বলের ভ্রাতা বাতাপি একটি মেষ হয়ে গেলেন। ইল্বল সেই মেষটি কেটে রন্ধন করে অতিথিদের দিতে, অগস্ত্য বললেন আমিই একে খাব। এর আগে বহুবার ইল্বল এইভাবে তাঁর মেষরূপী ভ্রাতাকে কেটে ব্রাহ্মণদের খাইয়ে, উদরস্থ ভ্রাতাকে পুনর্জীবিত করে ব্রাহ্মণদের অপমৃত্যু ঘটিয়েছেন। এবারও তাই ঘটবে তিনি ভেবেছিলেন। কিন্তু অগস্ত্যের খাওয়া শেষ হলে ইল্বল যখন বাতাপিকে ডাকলেন, তখন অগস্ত্য বললেন যে,বাতাপি আসবে না,কারণ তিনি তাঁকে জীর্ণ করে ফেলেছেন। কালেয় দানবরা যখন রাত্রিকালে সমুদ্র থেকে বেরিয়ে তপস্বী ব্রাহ্মণদের বধ করছিলেন তখন দেবতাদের অনুরোধে অগস্ত্য মহাসমুদ্র পান করেন। ফলে কালেয়দের আর আত্মগোপন করার স্থান রইলো না – দেবতাদের হাতে নিহত হলেন। দানবরা বিনষ্ট হবার পর দেবতারা যখন অগস্ত্যকে বললেন উদর থেকে জলরাশি উদ্গার করে সমুদ্রকে আবার পূর্ণ করতে, তিনি বললেন,সব জল জীর্ণ হয়ে গেছে। পরে ব্রহ্মা ভগীরথকে দিয়ে সমুদ্র আবার জলপূর্ণ করেন।

দানবরা একবার দেবতাদের পরাজিত করে স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করলে দেবতারা অগস্ত্যের শরণাপন্ন হন। অগস্ত্য সেই শুনে ক্রোধে প্রজ্বলিত হলে,দানবরা দগ্ধ হয়ে প্রাণশূন্য হয়ে অন্তরীক্ষ থেকে নিপাতিত হতে লাগলেন। শুধু যাঁরা মর্তে আর পাতালে ছিলেন – তাঁরাই রক্ষা পেলেন। স্বর্গস্থ দানবরা সব বিনষ্ট হলে দেবতারা অগস্ত্যকে অনুরোধ করলেন,মর্ত ও পাতালের দানবদেরও বিনষ্ট করতে। অগস্ত্য রাজি হলেন না। দেবতাদের বললেন যে,ওঁদের অনুরোধ রক্ষা করতে উনি স্বর্গের দানবদের ধবংস করেছেন, কিন্তু এখন অন্য অনুরোধ রক্ষা করতে হলে,ওঁর নিজের তপোবল ক্ষয়প্রাপ্ত হবে।

একবার বিন্ধ্যপর্বত মেরুপর্বতের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে বাড়তে শুরু করেছিলেন যাতে মেরু-প্রদক্ষিণকারী চন্দ্রসূর্যের পথরোধ হয়। দেবতারা অগস্ত্যের শরণ নিলে অগস্ত্য বিন্ধ্যের কাছে গিয়ে বললেন যে,তিনি দক্ষিণে যাবেন – বিন্ধ্য যেন ওঁর পথ করে দেন। আর অগস্ত্য না ফেরা পর্যন্ত বিন্ধ্য যেন আর বর্ধিত না হন। বিন্ধ্য অগস্ত্যকে ভক্তি করতেন বলে তাতে স্বীকৃত হলেন। অগস্ত্য দক্ষিণ দিকে চলে গেলেন,কিন্তু আর ফিরলেন না। বিন্ধ্যপর্বতও আর বাড়তে পারলেন না।