গীতা জ্ঞানঃ ও গীতা দর্শন


গীতা জ্ঞানঃ
দেহ বোধ ইন্দ্রিয় বোধ, মন, বুদ্ধি, ও বিবেক বা জ্ঞান এই পঞ্চ অনুভূতির যে নিয়ন্তা ইহাই আত্মা বা কৃষ্ণ । আসুন এই জ্ঞান লাভ করি ।

গীতা দর্শনঃ
যিনি জ্ঞান দৃষ্টিতে দেখে যে, দেহ রথের মাঝে- দেহ রথের সারথী রজ্জু ধরে বিবেক বুদ্ধি দ্বারা দেহকে পরিচালনা করছেন, জীবাত্মা বা সজীব মনরূপী অর্জ্জুঙ্কে উপদেশ ও নির্দেশ জ্ঞান, প্রদান করতেছেন তিনিই কৃষ্ণরূপী পরমাত্মা । এই দর্শনই গীতা দর্শন ।
আত্মজ্ঞান লাভের জন্য সাধকের মনে যে, প্রশ্নের উদয় হয় তাহাই অর্জ্জুনের বা দেহের জীবাত্মা স্বরুপ মনের মুখ হতে এবং আত্মজ্ঞান লাভের জন্য যে যে মিমাংসা আবশ্যক হয় তাহাই ভগবান শ্রী কৃষ্ণের অর্থাৎ পরমাত্মার মুখ হতে নিঃসৃত হয়েছে (গীতা) জ্ঞান দাতা পরমাত্মা ।
বিবেক বা জ্ঞান দাতা পরমাত্মা রূপী কৃষ্ণই জগৎ গুরু । অর্জ্জুন=জীবাত্মা (স্বজীব মন) সাধক সিদ্ধ মন । ধৃতরাষ্ট্রঃ- অন্ধমন, সাধন বহিভুত মন । সঞ্জয়= দিব্যজ্ঞান । দুর্যধন=অভিমানএ অহংকার । ভীষ্মদেব= পুর্ব্ব জন্মের গতিধারা । গুরু দ্রোনাচার্য্য= পূর্ব্ব জন্মের সংস্কার ।

(সমাধী)________________________(বিরাট)______________________(সপ্তরথী)
প্রাণায়াম                                                             চেকিতান                                                           সপ্ততালা ।
অভিমান্য                                                              ব্রক্ষ্যচর্য্য                                                        আঠার অধ্যায় ।
কুরুক্ষেত্র                                                             দেহক্ষেত্র                                                         আঠার মোকাম ।
রথ                                                                       দেহ রথ                                                              পৃথিবী ।

দেহ, ইন্দ্রিয়, বুদ্ধি পরমাত্মা স্বরুপ কৃষ্ণকে জান ও বিবেকের উদ্ধের আত্মাই পরমাত্মা ময় কৃষ্ণতে জেনেছি অর্থাৎ নিজ সত্ত্বাকে জানুন তার পর শ্রেষ্ঠ পুরুষোত্তম কে ভজন করুণ যিনি ঈশ্বর নামে পরিচিত (গীতা ১৫/১৮) জীবাত্মা ও পরমাত্মার আলোচনাই গীতা ।

১। আত্মা ও ঈশ্বর দর্শনের চারটি পথঃ- ধ্যান, জ্ঞান, কর্ম ও ভক্তিযোগ । আত্মাকে না জানিয়া কেহই ঈশ্বর বা কৃষ্ণ দর্শন করতে পারে না । গভীর মনোযোগ দিন ! কল্যাণ হবে । আত্ম দর্শন হবে ।

সুত্র- বেদবাণী

#কৃষ্ণকমল।

Advertisements

“গীতা জয়ন্তী”


 gitajayanti

এই তিথিতেই পরম পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা বীর অর্জুনকে ৫১৫০ (৩১৩৮ খ্রীঃপূঃ নভেম্বর ০২ তারিখ শুক্রবার) বছর আগে কুরুক্ষেত্র (৬০ কিঃমিঃ) নামক স্থানে ভগবদ্গীতার জ্ঞান দান করেছিলেন । তাই এই মহিমা মণ্ডিত তিথিকে গীতা জয়ন্তী তিথি বলা হয় ।
গীতা সর্ম্পকে কিছু বহিরঙ্গা জ্ঞান
১। গীতা হচ্ছে সমস্ত শাস্ত্রের সারতিসার এমনকি গীতায় এমন কিছু আছে যা অন্যান্য কোন শাস্ত্রে পাওয়া যায় না । যেমন – ৫ম পুরুষার্থ
২। মহাভারতের ভীষ্মপর্বের ২৫ থেকে ৪২ নং অধ্যায়ের এই ১৮ টি অধ্যায় হল ভগবদগীতা বা গীতোপনিষদ ।
৩। গীতায় আছে ৭০০ শ্লোক (কেউ বলে ৭৪৫ শ্লোক) আছে । তার মধ্যে ধৃতরাষ্ট্র বলেন ১টি শ্লোক, সঞ্জয় বলেন ৪০টি শ্লোক, অর্জুন বলেন ৮৫টি শ্লোক, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেন ৫৭৪টি শ্লোক । আর পুরো গীতায় ৯৫৮০ টি সংস্কৃত শব্দ আছে ।
৪। গীতার ১৮টি অধ্যায়ের মধ্যে প্রথম ৬টি অধ্যায়কে বলে কর্মষটক, মাঝখানের ৬টি অধ্যায়কে বলে ভক্তিষটক, আর বাকি ৬টি অধ্যায়কে বলে জ্ঞানষটক ।
৫। গীতা পড়লে ৫টি জিনিষ সর্ম্পকে জানা যায় – ঈশ্বর, জীব, প্রকৃতি, কাল ও কর্ম ।
৬। যদিও গীতার জ্ঞান ৫০০০ বছর আগে বলেছিল কিন্তু ভগবান চতুর্থ অধ্যায় বলেছেন এই জ্ঞান তিনি এর আগেও বলেছেন, মহাভারতের শান্তিপর্বে (৩৪৮/৫২-৫২) গীতার ইতিহাস উল্লেখ আছে । তার মানে গীতা প্রথমে বলা হয় ১২,০৪,০০,০০০ বছর আগে, মানব সমাজে এই জ্ঞান প্রায় ২০,০০,০০০ বছর ধরে বর্তমান, কিন্তু কালের বিবর্তনে তা হারিয়ে গেলে পুনরায় আবার তা অর্জুনকে দেন ।
৭। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে মাত্র ৪০ মিনিটে এই গীতার জ্ঞান দেন ।
৮। গীতার মাহাত্ম্য অনেকে করে গেছেন তার মধ্যে শ্রীশঙ্করাচার্য, স্কন্দপুরাণ থেকে শ্রীল ব্যাসদেব, শ্রীবৈষ্ণবীয় তন্ত্রসারে গীতা মাহাত্ম্য আর আছে পদ্মপুরাণে দেবাদিদেব শিব কর্তৃক ১৮টি অধ্যায়ের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেছেন ।
৯। গীতাতে অর্জুনের ২০টি নাম আর কৃষ্ণের ৩৩টি নামের উল্লেখ করা হয়েছে ।
১০। গীতাতে মাং এবং মামেব কথাটি বেশি আছে, যোগ শব্দটি আছে ৭৮ বার, যোগী আছে ২৮ বার আর যুক্ত আছে ৪৯ বার ।
১১। গীতার ২য় অধ্যায়কে বলা হয় গীতার সারাংশ ।
১২। ভগবান যখন বিশ্বরূপ দেখান তখন কাল থেমে যায় ।
১৩। ভগবান শুধু যুদ্ধের আগেই গীতা বলেনি ১৮ দিন যুদ্ধের মাঝখানেও গীতা বলেছে ।
১৪। গীতায় অর্জুন ১৬টি প্রশ্ন করে আর কৃষ্ণ তার উত্তর দেন, কৃষ্ণ তা ৫৭৪টি শ্লোকের মাধ্যমে উত্তর দেন ।
১৫। পুরো গীতার সারমর্ম মাত্র ৪টি শ্লোকে বর্ণনা করা হয়েছে, ১০ অধ্যায়ের ৮ থেকে ১১ নং শ্লোক ।
১৬। পুরো গীতায় অর্জুন ৪৫ নামে কৃষ্ণকে সম্বধোন করছেন, আর কৃষ্ণ অর্জুনকে ২১টি নামে সম্বধোন করেছেন ।
১৭। গীতার ৫ম অধ্যায় ১৩ থেকে ১৬ নং শ্লোকে তিনজন কর্তার কথা বলা হয়েছে ।
১৮। গীতায় ৩টি গুণ, ৩টি দুঃখ আর ৪টি আমাদের প্রধান সমস্যার কথা বলেছে ।
১৯। ত্রিশ্লোকী গীতার জ্ঞান ঃ যা বেদ ও বেদান্তের সার, ১৫ অধ্যায়ের ১৬ থেকে ১৮ নং শ্লোক ।
২০। গীতায় ২৬টি গুণের কথা বলা হয়েছে আর ৬টি আসুরিক প্রবৃত্তির কথা বলা হয়েছে ।
২১। নরকের ৩টি দ্বারের কথা বলা হয়েছে (কাম, ক্রোধ ও লোভ)
২২। গীতার ১৮ অধ্যায় ব্রাক্ষ্মনের ৯টি গুণ, ক্ষত্রিয়ের ৭টি গুণ, বৈশ্যের ৩টি গুণ আর শুদ্রের ১টি গুণ ।
২৩। ৩টি কর্মের প্রেরণা আর ৩টি কর্মের আশ্রয়ের কথা বলা আছে ।
২৪। বেদান্ত শাস্ত্রের সিধান্ত অনুসারে কর্মসমূহের সিদ্ধির উদ্দেশ্যে ৫টি নির্দিষ্ট কারণ কথা বলা হয়েছে ।
২৫। গুণ অনুসারে ৩ প্রকারের ত্যাগের কথা বলা হয়েছে ।
২৬। ৩ প্রকারের আহার, যজ্ঞ, তপস্যা, শ্রদ্ধা, পূজা ও দানের কথা বলা হয়েছে ।
২৭। ২টি স্বভাবের জীবের কথা বলা হয়েছে ।
২৮। ২ প্রকার জীবের কথা বলা হয়েছে ।
২৯। ১৮টি আত্মজ্ঞানের সাধনার গুনের কথা বলা হয়েছে ।
৩০। ব্রক্ষ্ম উপলব্ধির ৫টি স্তরের কথা বলা হয়েছে ।
৩১। ভক্তদের ৩৬ টি গুণের কথা বলা হয়েছে ।
৩২। গীতায় ২৫ জন সৃষ্টের কথা বলা হয়েছে যারা স্থাবর, জঙ্গম ও সমস্ত প্রজাদের সৃষ্টি করেছেন ।
৩৩। গীতায় নারীর ৭টি গুণের কথা বলা হয়েছে ।
৩৪। ৪ প্রকার সুকৃতিবান ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে । আর ৪ প্রকার দুষ্কৃতিবানের কথা বলা হয়েছে ।
৩৫। জড়া প্রকৃতির ৮টি উপাদানের কথা বলা হয়েছে

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা বিষয়ক প্ৰশ্ন এবং উত্তর-১৮


প্রশ্নঃ- ভগবান বলেন যে, ‘আমিও কর্তব্য পালন করি, কেন না আমি যদি সাবধানতাপূর্বক কর্তব্য পালন না করি, তবে লোকেরাও কর্তব্যচ্যুত হবে'(৩/২২-২৪)। তাহলে এখন লোকে কর্তব্যচ্যুত হয়ে পড়েছে কেন?

উল্লেখ্য শ্লোকঃ
ন মে পার্থাস্তি কর্ত্তব্যং ত্রিষু লোকেষু কিঞ্চন।
নানবাপ্তমবাপ্তব্যং বর্ত্ত এব চ কর্ম্মণি।।২২
অর্থঃ- হে পার্থ, ত্রিলোক মধ্যে আমার করণীয় কিছু নাই, অপ্রাপ্ত বা প্রাপ্তব্য কিছু নাই, তথাপি আমি কর্মানুষ্ঠানেই ব্যাপৃত আছি।
যদি হ্যহং ন বর্ত্তেয় জাতু কর্ম্মণ্যতন্দ্রিতঃ।
মম বর্ত্মানুবর্ত্তন্তে মনুষ্যাঃ পার্থ সর্ব্বশঃ।।২৩
অর্থঃ- হে পার্থ, যদি অনলস হইয়া কর্মানুষ্ঠান না করি, তবে মানবগণ সর্ব্বপ্রকারে আমারই পথের অনুবর্ত্তী হইবে। (কেহই কর্ম্ম করিবে না)।
উৎসীদেয়ুরিমে লোকা ন কুর্য্যাং কর্ম্ম চেদহম্।
সঙ্করস্য চ কর্ত্তা স্যামুপহন্যামিমাঃ প্রজাঃ।।২৪
অর্থঃ- যদি আমি কর্ম্ম না করি তাহা হইলে এই লোক সকল উৎসন্ন যাইবে। আমি বর্ণ-সঙ্করাদি সামাজিক বিশৃঙ্খলার হেতু হইব এবং ধর্ম্মলোপহেতু প্রজাগণের বিনাশের কারণ হইব।
গ্রন্থঃ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা দর্পন।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা বিষয়ক প্ৰশ্ন এবং উত্তর-১৭


প্রশ্নঃ- পরমাত্মা যদি সর্ব্ব্যাপীই হন তাহলে তাঁকে (৩/১৫)কেবল নিত্য প্রতিষ্ঠিত কেন বলা হয়, তিনি দ্বিতীয় কোন স্থানে কি প্রতিষ্ঠিত নন্‌ ?

উত্তরঃ- সর্বব্যাপী পরমাত্মাকে যজ্ঞে অর্থাতকর্তব্য কর্মে নিত্য প্রতিষ্ঠিত বলার তাৎপর্য্য এই যে, যজ্ঞ হচ্ছে তাঁর উপলব্ধি স্থান। যেমন জমিতে সর্বত্র জল থাকলেও তা কুযো হতে পাওয়া যায়, তেমনি পরমাত্মা সর্বত্র পরিপূর্ণ থাকা সত্ত্বেও নিজ নিজ কর্তব্য কর্ম নিষ্কামভাবে করলে তবেই তাঁকে পাওয়া যায়। এর গূঢ়ার্থ এই যে, যিনি নিজ কর্তব্য কর্ম সঠিকভাবে পালন করেন, তিনি সর্বব্যাপী পরমাত্মাকে অনুভব করতে পারেন!

উল্লেখ্য শ্লোক-

কর্ম্ম ব্রহ্মোদ্ভবং বিদ্ধি ব্রহ্মোক্ষরসমুদ্ভব ।
তস্মাৎ সর্ব্বগতং ব্রহ্ম নিত্যং যজ্ঞে প্রতিষ্ঠিত ॥১৫॥
কর্ম্ম (কর্ম্ম) ব্রহ্মোদ্ভবং (বেদ হইতে উৎপন্ন) বিদ্ধি (জানিবে), ব্রহ্ম (বেদ) অক্ষর সমুদ্ভব (অক্ষর অর্থাৎ পরব্রহ্ম হইতে সমুদ্ভূত), তস্মাৎ (অতএব) সর্ব্বগতং (সর্ব্বব্যাপক) ব্রহ্ম (পরব্রহ্ম) যজ্ঞে (যজ্ঞে) নিত্যং (সর্ব্বদা) প্রতিষ্ঠত (প্রতিষ্ঠিত আছেন) ॥১৫॥
ব্রহ্ম (বেদ) হইতে কর্ম্ম উদ্ভূত এবং ঐ বেদ অক্ষর অর্থাৎ অচ্যুত হইতে উৎপন্ন, সুতরাং সর্ব্বব্যাপক ভগবান্ অচ্যুত যজ্ঞে নিত্যকালই প্রতিষ্ঠিত ॥১৫॥