পদ্মিনী একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য


যুধিষ্ঠির বললেন- হে জনার্দন ! আমি বহুধর্ম ও ব্রতের কথা শুনেছি। এখন পুরুষোত্তম মাসের সর্বপাপবিনাশিনী ও পুণ্যদায়িনী শুক্লপক্ষীয় ‘পদ্মিনী’ একাদশীর কথা আমার কাছে বর্ণনা করুন। যা শ্রবন করলে পরমপদ প্রাপ্ত হওয়া যায়।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন- দশমীর দিন থেকেই ব্রতের শুরু হয়। কাঁসার পাত্রে ভোজন, মসুর , ছোলা, শাক এবং অপরের অন্ন ও আমিষ দশমীর দিন বর্জন করতে হয়। পরের দিন প্রাতঃকৃত্যের পর সুগন্ধী ধূপ, দীপ , চন্দনাদি দিয়ে ভগবানের পূজা করতে হয়। রাত্রিতে জাগ্রত থেকে ভগবানের নাম ও গুণ কীর্ত্তন করতে হয়।

একসময় রাজা কার্তবীর্য লঙ্কাপতি রাবনকে পরাজিত করে তাঁর কারাগারে বন্দী করে রাখে। পুলস্ত মুনি রাজার কাছে রাবনের মুক্তি কামনা করেন। মুনির আজ্ঞায় রাজা রাবনকে মুক্ত করে দেন। এই আশ্চর্যজনক কথা শুনে দেবর্ষি নারদ পুলস্ত মুনিকে জিজ্ঞাসা করেন- হে মুনিবর! ইন্দ্র সহ সকল দেবতা যেখানে রাবনের কাছে পাজিত হয়েছিলেন সেখানে কিভাবে কার্তবীর্য রাবণকে পরাজিত করল? কৃপা করে তা বলুন। পুলস্ত মুনি তখন রাবনের কাছে কার্তবীর্যের জন্মরহস্য বর্ণনা করেন।

ত্রেতাযুগে হৈহয় বংশে কৃতবীর্য নামে এক রাজা ছিলেন। মহিস্ষ্মতীপুরে তার রাজধানী ছিল। রাজার এক হাজার পত্মী ছিল। কিন্তু রাজ্যভার গ্রহনের মতো কোন পুত্র রাজার ভাগ্যে হয়নি। দেবতাদের আরাধনাতেও সুফল মেলেনি তার। অবশেষে সাধুদের আজ্ঞানুসারে বিভিন্ন ব্রত পালন করলেন। তথাপি রাজা ছিলেন অপুত্রক। মন্ত্রীর উপর রাজ্যভার অর্পণ করে তপস্যায় যাবেন বলে স্থির করলেন রাজা কৃতবীর্য। বরানী মহারাজ হরিশচন্দ্রের কন্যা পদ্মিনী ছিলেন অন্তত্য পতিব্রতা । স্বামীর সঙ্গে তিনিও তপস্যার জন্য মন্দার পর্বতে গমন করলেন। সেখানে তারা দশ হাজার বৎসর কঠোর তপস্যা করলেন। কিন্তু তবুও কৃতবীর্য পুত্রসুখে বঞ্চিতই রইলেন।
রাণী পদ্মিনী মহাসাধ্বী অনুসূয়াকে জিজ্ঞাসা করলেন- হে সাধ্বী! পুত্র লাভের জন্য আমার স্বামী দশ হাজার বছর তপস্যা করেও বিফল হয়েছেন। এখন যে ব্রত পালনে ভগবান প্রসন্ন হন অতি শ্রেষ্ঠ পুত্র লাভ হয়, এমন কোন উপায় বিধান করুন।
পদ্মিনীর প্রার্থনায় অনুসূয়া প্রসন্ন হয়ে বললেন- বত্রিশ মাস অন্তরে এক অধিমাস বা পুরুষোত্তম মাস আসে। এই মাসে পদ্মিণী ও পরমা দুই একাদশী। এই ব্রত পালন করলে পুত্র দাতা ভগবান শীঘ্রই প্রসন্ন হবেন। অনুসূয়ার নির্দেশে পদ্মিনী পরম শ্রদ্ধায় এই একাদশী ব্রত পালন করলেন। সেই ব্রতে সন্তুষ্ঠ হয়ে স্বয়ং ভগবান গরুড় বাহনে আরোহন করে পদ্মিনীর সম্মূখে উপস্থিত হলেন।
ভগবান বললেন- হে ভদ্রে! আমি প্রসন্ন হয়েছি। পুরুষোত্তম মাসের সমান কোন মাস আমার প্রিয় নয়। এই মাসের একাদশী আমার প্রিয়। তুমি সেই ব্রত যথাযথ পালন করেছ। তাই আমি তোমার ইচ্ছানুরূপ বর প্রদান করব। ভগবানের স্তব করে রাণী বললেন- হে ভগবান! আমার স্বামীকে আপনি বরপ্রদান করুন।

ভগবান তখন রাজার কাছে এস বললেন- হে রাজেন্দ্র! আপনার অভিলষিত বর প্রার্থনা করুন। মহানন্দে রাজা বললেন- হে জগৎপতি, মধুসূধন! দেবতা, মানুষ, নাগ দৈত্য, রাক্ষস আদি কেউ তাকে পরাজিত করতে পারবে না, এমন পুত্র আমি প্রার্থনা করি। রাজার প্রার্থনা অনুসারে বরদান করে ভগবান অন্তর্হিত হলেন। রাজা পত্নীসহ নিজ গৃহে ফিরে গেলেন। যথা সময়ে রাণী পদ্মিনীর গর্ভে মহাবলশালী এক পুত্রের জন্ম হয়। মহারাজ কৃতবীর্য পুত্রের নাম রাখেন কার্তবীর্য। ত্রিলোকে তার সমান কোন বীর ছিলনা । তাই দশানন রাবন তার কাছে পরাজিত হয়।

আশাকরি সকলেই এই একাদশী পালন করবেন।

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।

Advertisements

একাদশী ব্রত পালন করলে কি হয় ? এবং কেন পালন করবো?


“কৃষ্ণ ভূলি যেই জীব অনাদি বহির্মুখ।
অতএব মায়া তারে দেয় সংসার দুঃখ।।”

শ্রীকৃষ্ণকে ভুলে জীব অনাদিকাল ধরে জড়া প্রকৃতি প্রতি আকৃষ্ট রয়েছে। তাই ম‍ায়া তাকে এ জড় জগতে নানা প্রকার দুঃখ প্রদান করছে। পরম করুণাময় ভগবান কৃষ্ণস্মৃতি জাগরিত করতে মায়াগ্রস্ত জীবের কল্যাণে বেদপুরাণে আদি শ‍াস্ত্রগ্রন্থাবলী দান করেছেন। ভক্তি হচ্ছে ভগবানকে জানার ও ভগবৎ প্রীতি সাধনের একমাত্র সহজ উপায়।

শাস্ত্রে যে চৌষট্টি প্রকার ভক্ত্যাঙ্গের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে একাদশী ব্রত সর্বত্তোম। শ্রবণ, কীর্তন, স্মরণ আদি নবধা ভক্তির পরই দশম ভক্ত্যাঙ্গরূপে একাদশীর স্থান। এই তিথিকে হরিবাসর বলা হয়। তাই ভক্তি লাভেচ্ছু সকলেরই একাদশী ব্রত পালনের পরম উপযোগিতার কথা বিভিন্ন পুরাণে বর্ণিত হয়েছে। একাদশী তিথি সকলের অভীষ্ট প্রদানকারী। এই ব্রত পালনে সমস্ত প্রকার পাপ বিনষ্ট, সর্বসৌভাগ্য ও শ্রীকৃষ্ণের প্রীতি বিধান হয়। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আট থেকে আশি বছর বয়স পর্যন্ত যে কোন ব্যক্তিরই ভক্তিসহকারে পবিত্র একাদশী ব্রত পালন করা কর্তব্য। সঙ্কটজনক অবস্থা বা জন্মমৃত্যুর অশৌচে কখনও একাদশী পরিত্যাগ করতে নেই। একাদশীতে শ্রাদ্ধ উপস্থিত হলে সেইদিন না করে দ্বাদশীতে শ্রাদ্ধ করা উচিত। শুধু বৈষ্ণবেরাই নয়, শিবের উপাসক, সূর্য-চন্দ্র-ইন্দ্রাদি যেকোন দেবোপাসক, সকলেরই কর্তব্য একাদশী ব্রত পালন করা। দুর্লভ মানবজীবন লাভ করেও এই ব্রত অনুষ্ঠান না করলে বহু দঃখে-কষ্টে চুরাশি লক্ষ যোনি ভ্রমণ করতে হয়। অহংকারবশত একাদশী ব্রত ত্যাগ করলে অশেষ যমযন্ত্রণা ভোগ করতে হয়। যে ব্যাক্তি এই ব্রতকে তুচ্ছ জ্ঞান করে, জীবিত হয়েও সে মৃতের সমান।

কেউ যদি বলে “একাদশী পালনের দরকারটা কি?’’
সে নিশ্চয় কুম্ভপাক নরকের যাত্রী। যারা একাদশী পালনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে শনির কোপে তার‍া বিনষ্ট হয়। একাদশীকে উপেক্ষা করে তীর্থ স্নান আদি অন্য ব্রত পালনকারীর অবস্থা গাছের গোড়া কেটে পাতায় জল দানের মতোই। একাদশী বাদ দিয়ে যারা দেহধর্মে অধিক আগ্রহ দেখায়, ধর্মের নামে পাপরাশিতে তাদের উদর পূর্ণ হয়। কলহ-বিবাদের করেণেও একাদশী দিনে উপব‍াস করলে অজ্ঞাত সুকৃতি সঞ্চিত হয়। পুণ্য প্রদায়িনী সর্বশেষ্ঠ এই ব্রত শ্রীহরির অতি প্রিয়। একাদশী ব্রত পালনে যে ফল লাভ হয়, অশ্বমেধ, রাজসূয় ও বাজপেয় যজ্ঞদ্বারাও তা হয় না। দেবরাজ ইন্দ্রও যথাবিধি একাদশী পালনকারীকে সম্মান করেন। একাদশী ব্রতে ভাগবত শ্রবণে পৃথিবী দানের ফল লাভ হয়। অনাহারে থেকে হরিনাম, হরিকথা রাত্রিজাগরণে একাদশী পালন করা কর্তব্য। কেউ যদি একাদশী ব্রতে শুধু উপবাস করে তাতে বহু ফল পাওয়া যায়। শুদ্ধ ভক্তেরা এই দিনে একাদশ ইন্দ্রিয়কে শ্রীকৃষ্ণে সমর্পণ করেন।

একদশীতে শস্যমধ্যে সমস্ত পাপ অবস্থান করে। তাই চাল, ডাল, আটা, ময়দা, সুজি, সরিষা আদি জাতীয় খাদ্যদ্রব্য একদশী দিনে বর্জন করা উচিত। নির্জলা উপবাসে অসমর্থ ব্যক্তি জল,দুধ, ফল-মূল, এমনকি আলু, পেঁপে, কলা, ঘিয়ে বা বাদাম তেল অথবা সূর্যমুখী তেলে রান্না অনুকল্প প্রসাদ রূপে গ্রহন করতে পারেন। রবিশস্য (ধান, গম, ভূট্টা, ডাল, ও সরিষা) ও সোয়াবিন তেল অবশ্যই বর্জনীয়। দশমী বিদ্ধা একাদশীর দিন বাদ দিয়ে দ্বাদশী বিদ্ধা একাদশী ব্রত পালন করতে হয়। একাদশীতে সূর্যোদয়ের পূর্বে বা সূর্যোদয় কালে (1ঘন্টা 36 মিনিটের মধ্যে) যদি দশমি স্পর্শ হয়, তাকে দশমী বিদ্ধা বলে জেনে পরদিন একাদশীব্রত পালন করতে হয়। মহাদ্বাদশীর আগমন হলে একাদশীর উপবাস ব্রতটি মহাদ্বাদশীতেই করতে হয়। একাদশী ব্রত করে পরের দিন উপযুক্ত সময়ে শস্যজাতীয় প্রসাদ গ্রহণ করে পারণ করতে হয়। শাস্ত্রবিধি না মেনে নিজের মনগড়া একাদশী ব্রত করলে কোন ফল লাভ হয় না। একাদশী উপবাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বছরে ছাব্বিশটি একাদশী আসে। সাধারণত বার মাসে চব্বিশটি একাদশী। এইগুলি হচ্ছে– উৎপন্না, মোক্ষদা, সফলা, পুত্রদা, ষটতিলা, জয়া,বিজয়া, আমলকি, পাপমোচনী, কামদা, বরুথিনী, মোহিনী, অপরা, নির্জলা, যোগিনী, শয়ন, কামিক‍া, পবিত্রা, অন্নদা, পরিবর্তিনী বা পার্শ্ব, ইন্দিরা, পাশাঙ্কুশা, রমা এবং উত্থান।কিন্তু যে বৎসর পুরুষোত্তমাস, অধিমাস বা মলমাস থাকে, সেই বৎসর পদ্মিনী ও পরমা নামে আরও দুটি একাদশীর আবির্ভ‍াব হয়। যারা যথাবিধি একাদশী উপবাসে অসমর্থ অথবা ব্রতদিনে সাধুসঙ্গে হরিকথা শ্রবণে অসমর্থ, তারা এই একাদশী মাহাত্ম্য পাঠ কবা শ্রবণ করলে অসীম সৌভাগ্যের অধিকারী হবেন।

একাদশী-কেন-আমরা-পরের-দিন-পালন-করি?


আমরা একাদশী পালন করি সূর্যোদয় থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত। রাত ১২ টা বা মধ্যরাত্রির হিসাব পাশ্চাত্য জ্যোতির্বিদ্যার হিসাব অনুযায়ী; কিন্তু বৈদিক জ্যোতির্বিজ্ঞান অনুযায়ী সূর্যোদয় বা সূর্যাস্ত থেকে হিসাব করতে হয়। সাধারণত তা সূর্যোদয় থেকেই হিসাব করা হয়। আমাদের হিসাবটি এরকমঃ একাদশী তিথির মধ্যে যদি সূর্যোদয় পড়ে, তাহলে ঐদিনই একাদশী পালন করতে হবে। আর যদি সূর্যোদয়ের পর (এক মিনিট পর হলেও) একাদশী তিথি শুরু হয় তাহলে তা পরের দিন পালন করতে হয়। আমাদের সকল বৈদিক উৎসবই এভাবে পালিত হয়ে আসছে। এটার মানে আমাদেরকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে একাদশী তিথির (নির্দিষ্ট সময় ব্যবধান) মধ্যে যেন সূর্যোদয় পড়ে। আমরা পাশ্চাত্য রীতি অনুসরণ করি না। তারা বড়দিন ২৫ ডিসেম্বর – নির্দিষ্ট দিনে পালন করে কিন্তু আমাদের জন্মাষ্টমীর জন্য ঐরকম নির্দিষ্ট কোনো দিন নেই।

তিথির সূর্যোদয় নিয়মঃ

১। যদি একাদশী তিথিটি সূর্যোদয়ের পর শুরু হয়ে পরের দিন সূর্যোদয়ের পূর্বেই শেষ হয়ে যায় তাহলে তা পরের দিন পালন করতে হবে। একে উন্মীলনী মহাদ্বাদশী বলে।

২। যদি কোনো তিথিতে দুটি সূর্যোদয় পড়ে তাহলে তা আগের দিন পালন করতে হয় (একাদশী, অমাবস্যা, পূর্ণিমা ব্যতীত)।

৩। যদি একাদশী তিথি ব্রাহ্মমূহুর্তে (সূর্যোদয়ের ১ ঘন্টা ৩৬ মিনিট পূর্বে) তাহলে তা শুদ্ধ একাদশী। যদি তা সূর্যোদয়ের পরে শুরু হয়, তাহলে তা অপবিত্র একাদশী, এবং তা পরের দিন তথা দ্বাদশী বা মহাদ্বাদশীতে পালন করতে হয়।

৪। যদি দ্বাদশী সূর্যোদয়ের পর শুরু হয়ে পরের দিন (ত্রয়োদশী) সূর্যোদয়ের পূর্বে শেষ হয়ে যায়, তাহলে তাকে ত্রিস্পর্শা মহাদ্বাদশী বলা হয়।

৫। যদি দ্বাদশীতে পরপর দুটি সূর্যোদয় পড়ে, তাহলে প্রথম দ্বাদশীতে উপবাস পালন করতে হয়। একে ব্যঞ্জুলী মহাদ্বাদশী বলে।

৬। যদি একাদশীর পরের অমাবস্যা বা পূর্ণিমাতে পরপর দুটি সূর্যোদয় পড়ে, তাহলে একে পক্ষ-বর্ধিনী মহাদ্বাদশী বলা হয়। (যেমন- পুরুষোত্তম মাসের পরমা একাদশী)

একাদশী তিথি কি? ড.শ্রীমন্ম মহানামব্রত ব্রহ্মচারী মহারাজজীর অপূর্ব ব্যাখ্যা।


একাদশী তিথি কি? ড.শ্রীমন্ম মহানামব্রত ব্রহ্মচারী মহারাজজীর অপূর্ব ব্যাখ্যা।


একাদশী তিথির আর এক নাম হরিবাসর। বাসর শব্দের দুইটা অর্থ। বাসর বলিতে ঘর বোঝায়। যেখানে বাস করা হয়। বাসর শব্দের অপর অর্থ দিন,দিবস।
হিন্দু শাস্ত্রে দুর্গার জন্য দিন আছে আশ্বিনী সপ্তমী অষ্টমী নবমী।মাকালীর জন্য দিন আছে অমাবস্যা,শিবের জন্য চতুর্দশী ,লক্ষীর জন্য পূর্ণিমা ইত্যাদি। জামাইয়ের জন্য দিন আছে ষষ্ঠী,ভাইর জন্য দিন আছে ভ্রাতৃদ্বিতীয়া। শ্রীহরির জন্য একটি বিশেষ দিন,তার নাম হরি বাসর-একাদশী। ঐদিন আমরা শ্রীহরির সঙ্গে এক ঘরে বাস করিব। মনটা হরির পাদপদ্মে হইতে কোথাও যেন না সরিয়া যায়-এইভাবে চলিব।
আমাদের নানা স্থানে চলিতে হয় প্রধানতঃ আহারের চিন্তায়। ঐদিন আহার বাদ দিলে অনেক চলাফিরা কমিয়া যায়,আমাদের ছুটাছুটি বাড়ে ইন্দ্রিয়ের চঞ্চলতা হেতু। ইন্দ্রিয় সংযত হলে চিত্ত স্থির হয় ছুটাছুটি কমিয়া যায়।
আমাদের ১১টা ইন্দ্রিয়।চক্ষু,কর্ণ,নাসিকা,জিহ্বা ও ত্বক-৫ টি জ্ঞানেন্দ্রিয়। বাক্,পাণি,পাদ,পায়ু ও উপস্থ-৫টি কর্মেন্দ্রিয়। আর অন্তরিন্দ্রিয় একটি মন। এই এগারটি ইন্দ্রিয়কে সংযত রাখিয়া শ্রীহরির গৃহে তার সঙ্গে বাস করার জন্য একদিশী দিবস নির্দিষ্ট। হরি গৃহ কোথায় যেখানে হরিনাম ও হরিকথা কীর্তন পাঠ হয় সেই স্থানই হরির ঘর।
সুতরাং ঐদিন সর্বদা হরিনাম কীর্তন ও হরিকথা আলাপনে কাটিলে হরিসঙ্গে একঘরে বাস করা হয়,সুতরাং একদশী দিনে কর্তব্য আহার ত্যাগ করিয়া বা আহার সাধ্যমত কমাইয়া সারা-দিন-রাত ভগবান্ শ্রীহরির নামকীর্তন,গুণকীর্তন,লীলাকীর্তন ও শাস্ত্রগ্রন্থ পাঠ লইয়া অতিবাহিত করা।
এই অনুষ্ঠান সত্য ত্রেতা যুগ হইতে প্রবর্তিত আছে। কলিযুগে মহাপ্রভু গৌরাঙ্গদেব আসিয়া অদ্বৈত আচার্যের বাড়ি বিশেষভাবে একদশীর অনুষ্ঠান প্রবর্তণ করেন। সকল বৈষ্ণবগণ হরিবাসর কীর্তণ করেন।
শ্রীশ্রী প্রভু জগদ্বন্ধু শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দরের অবতার। তিনিও একদশীর অনুষ্ঠান করিয়াছেন।ও ভক্তদের করিতে আদেশ করিয়াছেন।

সুতরাং এই দিনে আমরা কৃষ্ণকথা,গৌরকথা,জগদ্বন্ধুসুন্দরের লীলা গাথা-কথা স্মরণে চিন্তনে আলোচনায় কাটাইব। ইহাতে আমারা আধ্যাত্মিক পথে শ্রীহরির দিকে অগ্রসর হইব। শুধু আমাদের কল্যাণ নহে গ্রামের কল্যাণরাজ্যের কল্যাণ,পুথিবীর সকল নরনারীর মহাকল্যাণ সাধিত হইবে। একাদশী তিথির জয় হউক্। জয় জগদ্বন্ধসুন্দরের জয় হউক।