মোহমুদগর ও মোহকুঠার স্তোত্র


ভবানী স্তোত্রে- কেউ পিতা নয়, কেউ মাতা নয়, কেউ বন্ধু নয়, কেউ পুত্র নয়, কেউ পুত্রী নয়,-একমাত্র জগদম্বাই সকলের সারভূত! এখানে মায়ার বন্ধন ছিন্ন হয়েছে। মরীচিকা দূরে সরে গেছে। তবে এখানেও তিনি আমি-জননী আর তনয়-এটুকু যেন ভেদ-ভাব রয়েছে!  মোহমুদগরে এই ভেদ-ভাব বিচূর্ণীকৃত; মোহকুঠারে এ ভাব ছিন্নবিচ্ছিন্ন। মোহ নাশের জন্য-চৈতন্য-শক্তি-সঞ্চারের জন্য মোহমুদগর ও মোহকুঠার। এই দুইটি রচনার একটু ইতিহাস ও আছে। শঙ্করাচার্য্যের সাথে বিচারে মণ্ডনমিশ্র পরাজিত হলে, মণ্ডনমিশ্রের পত্নী ‘উভয়ভারতী শঙ্করাচার্য্যের সাথে বিচারে প্রবৃত্ত হন। সকল শাস্ত্রে শঙ্করাচার্য্য সুপণ্ডিত ছিলেন; কিন্তু রতিশাস্ত্রে তাঁর আদৌ অভিজ্ঞতা ছিল না। সেই বিষয় বুঝতে পেরে, উভয়ভারতী শঙ্করাচার্য্যকে সে বিষয়ে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেন। তাতে শঙ্করাচার্য্যকে সঙ্গান্তর গ্রহণ করতে হয়। কিন্তু সেই অবস্থায় উপনীত হবার পূর্বে শঙ্করাচার্য্য মোহমুদ্‌গর ও মোহকুঠার রচনা করে যান। শিষ্যদেরকে উপদেশ দেন,-এই মোহমুদগর ও মোহকুঠার আমায় শ্রবণ করাতে পারলে সকল মোহ দূর হবে। আমি মুক্ত হয়ে নবজীবন লাভ করব। রতি শাস্ত্র আলাপন প্রসঙ্গে পাছে মনোবিকার সংঘটিত হয়, মহাপুরুষ সে বিকার নিবারণের জন্য তাই ঐ অমোঘ ঔষধের ব্যবস্থা করে রাখেন। সংসার-মোহমুগ্ধ মানবের মোহ-পাশ ছিন্ন করার পক্ষে মোহমুদ্গর পরম সহায়। শঙ্করাচার্য্য-কৃত মোহমুদগর-

মুঢ় জহীহি ধনাগমতৃষ্ণাম কুরু তনুবুদ্ধে মনসি বিতৃষ্ণাম্‌।
যল্লভতে নিজকর্ম্মোপাত্তম্‌ বিত্তং তেন বিনোদয় চিত্তম্‌॥১॥

অর্থ- হে মূঢ় জন কেবলমাত্র অর্থ উপার্জনের তৃষ্ণা পরিত্যাগ কর। এই ধরনের চিন্তা তোমার মনকে কেবলমাত্র জাগতিক করে দেবে সুতারং মনে এর জন্য বিতৃষ্ণা সৃষ্টি কর। তোমার উত্তম কর্ম্মের দ্বারা উপার্জিত যে অর্থ তোমাকে স্বচ্ছল রাখে তার দ্বারাই তোমার মনকে খুশী রাখো।

কা তব কান্তা কস্তে পুত্রঃ সংসারোহয়মতীববিচিত্রঃ।
কস্য ত্বং বা কুতঃ আয়াতঃ তত্ত্বং চিন্তয় তদিদং ভাতঃ॥২॥

অর্থ- কে তোমার স্ত্রী? কেই বা তোমার সন্তান? এই সংসার হল অতীব বিচিত্র। তুমি কার? তুমি কোথা থেকে এসেছ? তত্ত্ব সহকারে এই বিষয়ে চিন্তা করে দেখ।

মা কুরু ধনজনযৌবনগর্বম্‌ হরতি নিমেষাৎ কালঃ সর্ব্বম্‌।
মায়াময়মিদমখিলং হিত্বা ব্রহ্মপদং প্রবিশাশু বিদিত্বা॥৩॥

অর্থ- ধন, জন ও যৌবনের গর্ব না করাই ভাল কারন সময় এই সকলকে নিমেষে গ্রাস করে ফেলে। এই অখিল জগতকে মায়াময় জেনে সেই পরম ব্রহ্ম পরমপুরুষের চরণে আশ্রয় গ্রহন করাই তোমার পক্ষে ভালো।

নলিনীদলগতজলমতিতরলং তদ্বজ্জীবনমতিশয়চপলং।
ক্ষণমিহ সজ্জনসঙ্গতিরেকা ভবতি ভবার্ণবতরণে নৌকা॥৪॥

অর্থ- পদ্মপাত্রার উপর জলবিন্দু যে রকম অস্থির প্রানীর মধ্যে প্রাণও সেই রকম অস্থির। তাই এই ক্ষণজীবনে যদি ক্ষণকালের জন্যও সাধুসঙ্গ করে থাকো তাহলে এই ভব সাগরে হতে সেই সাধু সঙ্গ নৌকা হয়ে তোমাকে পার করে দেবে।

যাবজ্জনমং তাবন্মরনণং তাবজ্জননীজঠরে শয়নং।
ইহ সংসারে স্ফূটতরদোষঃ কথমিহ মানব তব সন্তোষঃ॥৫॥

অর্থ- প্রাক প্রসব অবস্থা, জন্ম, মৃত্যু এগুলি ক্রমাগত, এই সংসারের এই ক্ষণ ভঙ্গুর রূপ তুমি স্পষ্ট ভাবে দেখতে পাও। তাহলে হে মানুষ তুমি কিসে সন্তুষ্ট থাকো?

দিনযামিন্যৌ সায়ম্প্রাতঃ শিশিরবসন্তৌ পুনরায়াতঃ।
কালঃ ক্রীড়তি গচ্ছত্যায়ুঃ তদপি ন মুঞ্চত্যাশাবায়ুঃ॥৭॥
অর্থ- দিন-রাত্রি, সন্ধ্যা-সকাল, শীত-বসন্ত কতবার আসে কতবার চলে যায়, সময়ের এই খেলা দেখতে দেখতে আয়ু শেষ হয়ে যায় কিন্তু তবুও এই বায়ুর মত অফুরন্ত আশা মানুষের আর ফুরায় না।

অঙ্গং গলিতং পলিতং মুণ্ডম্‌ দন্ত-বিহীনং জাতং তুণ্ডম্‌।
করধৃতকম্পিতশোভিতদণ্ডম্‌ তদপি ন মুঞ্চত্যাশাভাণ্ডম্‌॥৭॥
অর্থ- অঙ্গ সকল কুঁচকে গিয়ে এমন হয় যেন গলে গলে পড়ছে, মাথা থেকে সব চুল উঠে যায়, দাঁত পড়ে গিয়ে মুখ বিবর চুপসে যায়, ঠুকরে ঠুকরে হাঁটে, হাতে ধরে থাকা লাঠিটাও যখন থর থর করে কাঁপতে থাকে তখনো মানুষ এই আশা নামক ফাঁকা মাটির হাঁড়িটা ছাড়তে চায় না।

সুরবরমন্দিরতরুতলবাসঃ শয্যাভূতলমজিনং বাসঃ।
সর্ব্বপরিগ্রহভোগত্যাগঃ কস্য সুখং ন করোতি বিরাগঃ॥৮॥
অর্থ- সেই দেবতাদের মন্দির স্বরূপ তরুতলে যদি বাস করা হয়, পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠ কে শয্যা করা হয় এবং অজিন বসন যদি পরিধান করা হয় এবং সংসারের সকল ভোগে ত্যাগে আগ্রহ না রেখে সব কিছু পরিত্যাগ করে দেওয়ার এই বৈরাগ্যভাব কাকে না খুশি করে।

শত্রৌ মিত্রে পুত্রে বন্ধৌ মাকুরু যত্নং বিগ্রহসন্ধৌ।
ভব সমচিত্তঃ সর্ব্বত্র ত্বং বাঞ্ছস্যচিরাদ্‌ যদি বিষ্ণুত্বং॥৯॥
অর্থ- শত্রু-মিত্র পুত্র-বন্ধু বান্ধব আদি যা কিছু সম্পর্ক আছে এদের সাথে এবং ঝগড়া সন্ধি ইত্যাদি বিষয়ে বিশেষ যত্ন করার কোন দরকার নেই। ভগবান চারিপাশে ব্যাপ্ত আছেন এই কথাটি মনে রেখে সকলের প্রতি সমান যত্ন নেওয়ার চেষ্টা সব সময়েই করা উচিত।

অষ্টকুলাচলসপ্তসমুদ্রাঃ ব্রহ্মাপুরন্দরদিনকররুদ্রাঃ।
ন ত্বং নাহং নায়ং লোকঃ তদপি কিমর্থং ক্রিয়তে শোকঃ॥১০॥
অর্থ- এই মহাদেশ সসাগরা জগৎ সংসার ব্রহ্মা (সৃষ্টি কর্তা), ইন্দ্র (ভোগ কর্তা), সূর্য্য (পালন কর্তা), রুদ্র (সংহার কর্তা) কতৃক পরিচালিত হয়। তুমি-আমি এই লোক সমূহে ক্ষণ ভঙ্গুর পদার্থ মাত্র। তাহলে কিসের জন্য তুমি দুখঃ শোকে জর্জরিত হয়ে থাকো!

ত্বয়ি ময়ি চান্যত্রৈকোবিষ্ণুঃ ব্যর্থং কুপ্যসি ময্যসহিষ্ণুঃ।
সর্ব্বং পশ্য আত্মনাত্মানং সর্ব্বতোৎসৃজ ভেদজ্ঞানম্‌॥১১॥
অর্থ- তুমি আমি আর কেউ নই আমরা সেই এক সর্ব্বঘটে পরিব্যাপ্ত ব্যাপ্তময় বিষ্ণু এর জন্য ব্যর্থই আমার প্রতি অসিহষ্ণুতা বশত রাগ করে থাকো। চেয়ে দেখ চারিদিকে যা কিছু দেখতে পাচ্ছ সব তোমারই আত্মারই অংশ, আত্মার আত্মীয়। সুতারং যত্ন সহকারে মন থেকে এই ভেদজ্ঞান দূর করে দাও।

বালস্তাবৎ ক্রীড়াসক্ত-স্তরুণস্তাবৎ তরুনীরক্তঃ।
বৃদ্ধস্তাবচ্চিন্তামগ্নঃ পরমে ব্রহ্মণি কোহপি ন লগ্নঃ॥১২॥
অর্থ- বালকেরা যেরকম খেলার প্রতি আসক্ত, তরুনরা যেরকম তরুনীদের প্রতি আসক্ত, বৃদ্ধেরা যে রকম বিষয় চিন্তার প্রতি আসক্ত থাকে, পরম ব্রহ্মেকে জানার জন্য সেই রকম আকুল করা আসক্তি দেখ কারো মধ্যে দেখা যাচ্ছে না।

অর্থমনর্থং ভাবয় নিত্যং নাস্তি ততঃ সুখলেশঃ সত্যং।
পুত্রাদপি ধনভাজাং ভীতিঃ সর্ব্বত্রৈষা কথিতা নীতিঃ॥১৩॥
অর্থ- অনর্থকারী অর্থ চিন্তায় সব সময়ে ডুবে আছো কিন্তু জেনে রাখো তাতে লেশ মাত্র সত্যিকারের সুখ নেই। হে ধনী, সংসারের লোকেরা এমনকী নিজের সন্তানরাও তোমাকে যে শ্রদ্ধা ভক্তি প্রদর্শন করে তা তোমার ধন প্রাপ্ত করার জন্য। সব সময় এমনি হয়ে থাকে নীতিকথাতে তাই বলা আছে।

যাবদ্বিত্তোপার্জ্জনশক্তঃ তাবন্নিজপরিবারো রক্তঃ।
তদনু চ জরয়া জর্জ্জরদেহে বার্ত্তাং কোহপি ন পৃচ্ছতি গেহে॥১৪॥
অর্থ- যতদিন তুমি অর্থ উপার্জন করতে পারবে ততদিন তোমার পরিবারের সকলে তোমার খুব অনুরক্ত থাকবে। তুমি যা বলবে তাই হবে, তোমার কথায় সবাই ওঠা বসা করবে। তারপরে যখন সময়ের চক্রে জরা ব্যাধি ইত্যাদি এসে তোমার দেহে বাসা বাধবে, নড়বড়ে হয়ে তুমি বিছানায় শুয়ে থাকবে, তোমার বাড়িতেই তোমারই পরিবারের কেউ আর তোমার কথা জিজ্ঞেস করবে না, তোমার সাথে কথা বলবে না, তোমার সঞ্চিত অর্থের দ্বারা কোন সেবাদাসী নিয়োজিত হয়ে তোমার সামনে বসে খবরের কাগজ পড়বে।

কামং ক্রোধং লোভং মোহং ত্যক্ত্বাত্মানং পশ্যতি কোহহং।
আত্মজ্ঞানবিহিনা মূঢ়া স্তে পচ্যন্তে নরকে নিগূঢ়াঃ॥১৫॥
অর্থ- কাম, ক্রোধ, লোভ ও মোহ চেষ্টা করে পরিত্যাগ কর। নিজের আত্মাকে জানার চেষ্টা কর, তুমি কে? এই আত্মজ্ঞান না হলে তুমি মূর্খই রয়ে যাবে। এই জীবন-মৃত্যু ময় সংসারে জন্ম জন্মান্তর ধরে পচতে হবে।

ষোড়শপজ্ঝটিকাভিরশেষঃ শিষ্যানাং কথিতোহভ্যুপদেশঃ।
যেষাং নৈব করোতি বিবেকং তেষাং কঃ কুরুতে মতিরেকং॥১৬॥
অর্থ- এই ঝাড়া ষোলটি পদের দ্বারা শিষ্যদের সবাইকে আমি উপদেশ প্রদান করলাম। কিন্তু এতেও যার বিবেক জাগ্রত হয় না তার সেই এক পরব্রহ্মে মতি কিভাবে হবে?

Advertisements

ভবানী-স্তোত্র


Image result for hargouri
ন তাতো ন মাতা ন বন্ধুর্ন দাতা ন পুত্রো ন পুত্ৰী ন ভৃত্যো ন ভর্তা।
ন জায়া ন বিদ্যা ন বৃত্তির্মমৈব গতিস্ত্বং গতিস্ত্বং ত্বমেকা ভবানী ॥
অর্থ- আমার পিতা নাই, মাতা নাই, বন্ধু নাই, পৌত্র নাই, পুত্র নাই, কন্যা নাই, ভৃত্য নাই, প্রভু নাই, স্ত্রী নাই, বিদ্যা নাই, জীবিকা নাই; হে ভবানি তুমিই আমার গতি, একমাত্র তুমিই গতি।
ভবাদ্ধিপারে মহাদুঃখভিরৌ পপাত প্রকামী প্রলোভী প্ৰমত্তঃ।
সংসার-পাশ-প্রবন্ধঃ সদাহং গতিস্ত্বং গতিস্ত্বং ত্বমেকা ভবানী ॥
অর্থ- অপার সংসারসাগরে আমি সর্বদাই মহাদুঃখে ভীত ; আমি বাসনাগ্রস্ত , লোভযুক্ত, বুদ্ধিশূন্য এবং কুৎসিত সংসারবন্ধনে আবদ্ধ হইয়া তোমার শরণাগত হইয়াছি ; হে ভবানি -তুমিই আমার গতি, একমাত্র তুমিই গতি।
ন জানামি দানং ন চ ধ্যানযোগম্‌ ন জানামি তস্ত্ৰং ন চ স্তোত্রমন্ত্ৰম।
ন জানামি পুজাং ন চ ন্যাসযোগম গতিস্ত্বং গতিস্ত্বং ত্বমেকা ভবানী ॥
অর্থ- আমি দান ও ধ্যানযোগ জানি না; তন্ত্র, মন্ত্র, স্ত্রোত্র এবং পূজা জানি না, সন্ন্যাসযোগও জানি না; হে ভবানি – তুমিই আমার গতি, একমাত্র তুমিই গতি।
ন জানামি পুণ্যং ন জানামি তীর্থম্ ন জানামি মুক্তিং লয়ং বা কদাচিৎ।
ন জানামি ভক্তিং ব্রতং বাপি মাতর্গতিস্ত্বং গতিস্ত্বং ত্বমেক ভবানী ॥
অর্থ- মা, আমি কখনও পুণ্য জানি না, তীর্থ জানি না, মুক্তি জানি না, চিত্তবৃত্তি নিরোধ জানি না অথবা ব্রতও জানি না; হে ভবানি –তুমিই আমার গতি, একমাত্র তুমিই গতি।
কুকৰ্ম্মী কুসঙ্গী কুবুদ্ধিঃ কুদাসঃ কুলাচারহীনঃ কদাচারলীনঃ ।
কুদৃষ্টি কুবাক্যপ্রবন্ধঃ সদাহম্ গতিস্ত্বং গতিস্ত্বং ত্বমেকা ভবানী ॥
অর্থ- আমি সর্বদাই কুকর্মে রত, কুসঙ্গে মগ্ন, কুবুদ্ধিপূর্ণ, কুজনের দাস, কুলহীন, আচারহীন, কদাচারশীল, কুৎসিত বিষয়ে অভিনিবিষ্ট এবং কুবাক্যে তৎপর; হে ভবানি – তুমিই আমার গতি, একমাত্র তুমিই গতি।
প্রজেশং রমেশং মহেশং সুরেশম্‌ দীনেশং নিশীথেশ্বরং বা কদাচিৎ।
ন জানামি চান্যৎ সদাহং শরণ্যে গতিস্ত্বং গতিস্ত্বং ত্বমেকা ভবানী ॥
অর্থ- হে শরণ্যে, আমি প্রজাপতি , বিষ্ণু, শিব, ইন্দ্র, সূর্য বা বিশ্বনাথকে অথবা দেবগণমধ্যে অপর কাহাকেও কখনও জানি না, হে ভবানি-তুমিই আমার গতি, একমাত্র তুমিই গতি।
বিবাদে বিষাদে প্রমাদে প্রবাসে জলে চানলে পৰ্ব্বতে শক্রমধ্যে।
অরণ্যে শরণ্যে সদা মাং প্রপাহি গতিস্ত্বং গতিস্ত্বং ত্বমেকা ভবানী ॥

অর্থ- হে শরণ্যে, আমাকে বিবাদে, বিষাদে , প্রমোদে, প্রবাসে, জলে, অনলে, পর্বতে, শত্রুমধ্যে বা অরণ্যে সর্বদা রক্ষা কর ; হে ভবানি –তুমিই আমার গতি, একমাত্র তুমিই গতি।
অনাথো দরিদ্রো জরারোগযুক্তো মহাক্ষীণদীনঃ সদা জাড্যবক্ত্রঃ।
বিপত্তৌ প্রবিষ্টঃ প্রনষ্টঃ সদাহম গতিস্ত্বং গতিস্ত্বং ত্বমেক ভবানী ॥
অর্থ- আমি সদাই অনাথ, দরিদ্র, জীর্ণ, রোগগ্রস্ত , অতি ক্ষীণ, দীন, বাক্যে অপারগ, সর্বদা বিপদে মগ্ন এবং সর্বপ্রকারে বিনষ্ট হইয়াছি- হে ভবানি-তুমিই আমার গতি, একমাত্র তুমিই গতি।

এ আর এক স্তর! কেহ পিতা নয়, কেহ মাতা নয়, কেহ বন্ধু নয়, কেহ পুত্র নয়, কেহ পুত্রী নয়,-একমাত্র জগদম্বাই সকলের সারভূত! এখানে মায়ার বন্ধন ছিন্ন হয়েছে। মরীচিকা দূরে সরে গেছে। তবে এখানেও তিনি আমি-জননী আর তনয়-এটুকু যেন ভেদ-ভাব রয়েছে!

জগত গুরু শঙ্করাচার্য্যকৃত।

সংকলনে- শ্রীমান কৃষ্ণকমল।

হরগৌরী স্তোত্র


Image result for hargouri

শঙ্করাচার্য্যকৃত গৌরী ও মহেশ্বরের বন্দনা-একাধারে কবিত্বের, ভাবুকতার, ও ভক্তিপ্রাণতার নিদর্শন। যথা,-
কস্তুরিকাচন্দনলেপনায়ৈ, শ্মশানভস্মাঙ্গবিলেপনায়।
সৎকুণ্ডলায়ৈ ফণিকুণ্ডলায় নমঃ শিবায়ৈ চ নমঃ শিবায় ॥১॥
অর্থ- যাঁর অর্ধেক গৌরীদেহ, কস্তুরিচন্দন বিলেপিত, অপর অর্ধেক হরদেহে শ্মশানভস্মের বিলেপন; অর্ধেক অঙ্গের কর্ণে মনোহর কুণ্ডল শোভিত, অপর অর্ধেকে সর্পকুণ্ডল শোভা সম্পাদন করছে সেই শিবা(দুর্গা) এবং শিবকে প্রণাম করি।
মন্দারমালাপরিশোভিতায়ৈ কপালমালাপরিশোভিতায়।
দিব্যাস্বরায়ৈ চ দিগম্বরায় নমঃ শিবায়ৈ চ নমঃ শিবায় ॥২॥
অর্থ- যাঁর অর্ধেক অঙ্গের গলায় পারিজাত মালা পরিশোভিত অপর অর্ধেক শব-মাথার অস্থি পরিশোভিত, অর্ধেক অঙ্গে দিব্য অন্বর এবং অপর অর্ধেকে দিগম্বর সেই শিবা এবং শিবকে প্রণাম করি।
চলৎকণৎ কঙ্কণ-নুপুরায়ৈ বি ফণাভাসুরনুপুরায়।
হেমাঙ্গদায়ৈ চ ফণাঙ্গদার নমঃ শিবায়ৈ চ নমঃ শিবায় ॥৩॥
অর্থ- যাঁর অর্ধেক অঙ্গে চরণে চঞ্চল শব্দায়মান নূপুর শোভিত, অপর অর্ধেক ভাগে সাপের ফণা চরণের নূপুর হয়েছে, অর্ধেক অঙ্গের হাতে সুবর্ণ বাজু, অপর অর্দ্ধেকে সাপের বাজু সেই শিবা ও শিবককে প্রণাম করি।
বিলোলনীলোৎপল লোচনায়ৈ বিকাশপঙ্কেরুকলোচনায়।
ত্রিলোচনায়ৈ বিষমেক্ষণায় নমঃ শিবায়ৈ চ নমঃ শিবায় ॥৪॥
অর্থ- মুখমণ্ডলে অর্ধেক অংশে যাঁর চঞ্চল নীলপদ্মের ন্যায় ত্রিনেত্র অপর অর্ধেকে বিকশিত পদ্মের ন্যায় নয়ন, সেই ত্রিনয়না এবং অযুগ্মনেত্র(ত্রিনয়ন) শিবা এবং শিবকে প্রণাম করি।
প্রপন্নপ্রষ্ঠৈ সুখদাশ্রয়ায়ৈ ত্ৰৈলোক্যসংহারক তাগুবায়।
কৃতস্মরায়ৈ বিকৃতস্মরায় নমঃ শিবায়ৈ চ নমঃ শিবায় ॥৫॥
অর্থ- যিনি অর্ধেক অঙ্গে আশ্রিত সিংহ পীঠে সুখাসীণা অপর অর্ধেকে ত্রৈলোক্য সংহারের জন্য তাণ্ডবনৃত্য করছেন, অর্ধেক অঙ্গে কামের রচয়িত্রী,- অপর অর্ধেকে কামের সংহার কর্তা সেই শিবা ও শিবকে প্রণাম করি।
চাম্পেয়গৌরার্দ্ধশরীরকায়ৈ কর্পূরগৌরার্দ্ধশরীরকায়।
ধন্মিল্লবত্যৈ চ জটাধরায় নমঃ শিবায়ৈ চ নমঃ শিবায় ॥৬॥
অর্থ- যাঁর দেহের অর্ধেক চম্পক-কুসুমের ন্যায় গৌরবর্ণ অপর অর্ধেক কর্পূরবৎ শুভ্র, অর্ধেকভাগে কেশপাশে করবী ধারণ করেছেন, অপর অর্ধেকে জটা(অথবা গঙ্গা) প্রবম্বিত সেই শিবা ও শিবকে প্রণাম করি।
অন্তোধর শ্যামলকুন্তলায়ৈ বিভূতিভূষাঙ্গ জটাধরায়।
জগজ্জনন্যৈ জগদেকপিত্রে নমঃ শিবায়ৈ চ নমঃ শিবায়॥৭॥
অর্থ- যাঁর মস্তকে অর্ধেক অংশ নবীন মেঘের ন্যায় কৃষ্ণবর্ণ কেশদাম অপর অর্ধেকে জটাবিভূতি শোভিত সেই জগজ্জননী এবং জগতের একমাত্র পিতা শিবা ও শিবকে প্রণাম করি।
সদাশিবানাং পরিভূষণায়ৈ সদাশিবানাং পরিভূষণায়।
শিবান্বিভায়ৈ চ শিবান্বিতায় নমঃ শিবায়ৈ চ নমঃ শিবায় ॥৮॥
অর্থ- শিবাগণ যাঁর ভূষণরূপে বিরাজমান এবং যিনি শিবা পরিব্যাপ্ত অথবা কেবল মঙ্গলই যার ভূষণ এবং যিনি মঙ্গলব্যাপ্ত সেই শিবশিবান্বিত মূর্ত্তি অর্থাৎ হরগৌরীকে বারবার প্রণাম করি।
ইতি- জগতগুরু শংকরাচার্য্যকৃত হরগৌরী স্তোত্র।
প্রথম শ্লোকের প্রথম চরণের প্রথমার্দ্ধে ‘কস্তূরিকাচন্দনলেপনায়ৈ’ এবং দ্বিতীয় চরণের ‘সৎকুণ্ডলায়ৈ’  ও ‘শিবায়ৈ’ শব্দদ্বয়, কস্তূরিচন্দনবিলেপিত কনককুন্দলবিভূষিত অর্থে, দেবী গৌরীর বিশেষণরূপে ব্যবহৃত হয়েছে। ‘শ্মশানভস্মাঙ্গবিলেপনায়’, ‘ফণিককুণ্ডলায়’ ও ‘শিবায়’ শব্দত্রয়ে মহাদেবের চিতাভষ্মের বিষয় ও ফণিকুগুলীর বিষয় বুঝা যাচ্ছে। এরকম প্রতি শ্লোকের অৰ্দ্ধেকে মহাদেবের বিষয় বলা হয়েছে। হরগৌরী স্তোত্রে হরগৌরীর ভেদ-ভাবের মধ্যে যে অভেদ-ভাবের বীজ নিহিত রয়েছে। 
নিবেদনে- #কৃষ্ণকমল

গুরু পূজা



গুরু পূজা

মন্ত্র সত্যং পূজাসত্যং সত্যম্ দেব নিরঞ্জনম্।
গুরুর্বাক্য সদাসত্যং সত্যমেব পরম্ পদম্।। ১

ভাবার্থঃ
গুরু প্রদত্ত মন্ত্র সত্য, পূজাও সত্য। দেবাদিদেব নিরঞ্জনও সত্য। গুরু বাক্য সদা সত্য, সেই পরমপদ সত্যের দ্বারা আস্তীর্ন।

গুরুর্ব্রহ্মা গুরুর্বিষ্ণু গুরুর্দেবো মহেশ্বরঃ
গুরুরেব পরমব্রহ্ম তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।। ২

ভাবার্থঃ
গুরুই সৃষ্টিকর্তা, গুরুই পালনকর্তা, গুরুই ধ্বংসকর্তা, গুরুই সেই পরমব্রহ্ম, আমি সেই পরমগুরুকে নমস্কার করি।

অখণ্ড মন্ডলাকারং ব্যপ্তং যেন চরাচরম্
তৎপদং দর্শিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।। ৩

ভাবার্থঃ
যার দ্বারা অখণ্ড মন্ডলাকার চরাচর জগৎ ব্যপ্ত হয়ে আছে, তাঁর স্বরূপ যিনি দর্শন করিয়েছেন সেই শ্রী গুরুকে নমস্কার।

অজ্ঞানতিমিরান্ধস্য জ্ঞানাঞ্জন শলাকয়া।
চক্ষুরুন্মিলিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।।৪

ভাবার্থঃ
অজ্ঞতায় অন্ধ ব্যাষ্টির চক্ষু যিনি জ্ঞানাঞ্জন শলাকা দিয়ে উন্মীলিত করে দিয়েছেন, সেই শ্রী গুরুকে নমস্কার করি।

স্থাবরং জঙ্গমং ব্যাপ্তং যৎকিঞ্চিৎ সচরাচরম্।
তৎপদং দর্শিতং যেন তস্মৈ শ্রী গুরবে নমঃ।।৫

ভাবার্থঃ
সপ্রাণ এবং অপ্রাণ সচল ও অচল সমস্ত বস্তুসমুহ যে ব্রহ্মের দ্বারা ব্যাপ্ত, তার স্বরূপ যিনি দর্শন করিয়েছেন সেই পরম গুরুকে নমস্কার করি।

চিদ্ রূপেন পরিব্যাপ্তং ত্রৈলোকং সচরাচরম্।
তৎপদং দর্শিতং যেন তস্মৈ শ্রী গুরবে নমঃ।। ৬

ভাবার্থঃ
চরাচর সহ ত্রিলোক জ্ঞান স্বরূপ (ব্রহ্মের) দ্বারা পরিব্যাপ্ত, তৎস্বরূপ যিনি দর্শন করিয়েছেন সেই শ্রী গুরুকে নমস্কার করি।

সর্বশ্রুতি শিরোরত্ন সমুদ্ভাসিত মূর্তয়ে।
বেদান্তম্বুজ সূর্যায় তস্মৈ শ্রী গুরবে নমঃ।। ৭

ভাবার্থঃ
যাহার মূর্তি বেদান্তজ্ঞানের দ্বারা সমুদ্ভাসিত, যিনি বেদান্তরূপ পদ্মের উন্মেলক সূর্য স্বরূপ, সেই শ্রী গুরুকে নমস্কার করি।

চৈতন্যং শাশ্বতং শান্তং ব্যোমাতীতং নিরঞ্জনং।
বিন্দুনাদকলাতীতং তস্মৈ শ্রী গুরবে নমঃ।। ৮

ভাবার্থঃ
যিনি শাশ্বত শান্ত ব্যোমাতীত ও নিরঞ্জন চৈতন্যস্বরূপ এবং যিনি বিন্দু, নাদ ও কলার অতীত, সেই শ্রী গুরুকে নমস্কার করি।

অনেক জন্ম সংপ্রাপ্ত কর্মবন্ধ বিদাহিনে।
আত্মজ্ঞান প্রদানেন তস্মৈ শ্রী গুরবে নমঃ।। ৯

ভাবার্থঃ
যিনি আত্মজ্ঞান রূপ অগ্নিদান করে বহু জন্মে সঞ্চিত কর্মরূপ কাষ্ঠকে দহন করেন, সেই শ্রী গুরুকে নমস্কার করি।

ন গুরোরধিকং তত্ত্বং ন গুরোরধিকং তপঃ।
তত্ত্বজ্ঞানং পরংনাস্তি তস্মৈ শ্রী গুরবে নমঃ।। ১০

ভাবার্থঃ
গুরুর অধিক তত্ত্ব নাই, গুরুর (সেবা) অধিক তপস্যা নাই, এবং যদ্বিষয়ক তত্ত্বজ্ঞান অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ কিছুই নাই, সেই পরম গুরুকে নমস্কার করি।

মন্নাথঃ শ্রীজগন্নাথো মদ্ গুরুঃ শ্রীজগদগুরুঃ।
মদাত্মা সর্বভূতাত্মা তস্মৈ শ্রী গুরবে নমঃ।। ১১

ভাবার্থঃ
নাথই শ্রীজগন্নাথ, গুরুই শ্রীজগদ্ গুরু, আমার আত্মাই সর্বভূতের আত্মা, সেই শ্রী গুরুকে নমস্কার করি।

গুরুরাদিরনাদিশ্চ গুরুঃ পরম দৈবতম্।
গুরোঃপরতং নাস্তি তস্মৈ শ্রী গুরবে নমঃ।। ১২

ভাবার্থঃ
গুরুই কারণ এবং কারণহীন, গুরুই পরম দেবতা, গুরু অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর কেহ নাই, সেই পরমগুরুকে নমস্কার করি।

ধ্যানমূলং গুরোর্ম্মূর্ত্তি পূজামূলং গুরোঃ পদম্।
মন্ত্রমূলং গুরোর্বাক্যং মোক্ষমূলং গুরো কৃপা।। ১৩

ভাবার্থঃ
একমাত্র গুরুমূর্ত্তির ধ্যানই মূল, গুরুর পদযুগল পূজাই সকল পূজার মূল।
গুরুর বাক্যই সকল পূজার মন্ত্র, গুরুদেবের কৃপাই মোক্ষপ্রাপ্তির মূল–একমাত্র গুরুদেবের কৃপাতেই মুক্তিলাভ হয়ে থাকে।

চিন্ময়ং ব্যাপিতং সর্ব্বং ত্রৈলোকং সচরাচরম্।
তৎপদং দর্শিতং যেন তস্মৈ শ্রী গুরবে নমঃ।। ১৪

ভাবার্থঃ
যিনি চিন্ময়রূপে অতি সুক্ষ্মরূপে ত্রিলোকে ব্যাপিয়া বর্তমান আছেন ও যিনি ব্রহ্মপদ দেখাচ্ছেন, অজ্ঞাননাশক সেই গুরুকে নমস্কার করি।

সংসার -বৃক্ষমারুঢ়াঃ পতন্তি নরকার্ণবে।
যেনোদ্ধৃত্মিদং বিশ্বং তস্মৈ শ্রী গুরবে নমঃ।। ১৫

ভাবার্থঃ
সংসাররূপ বৃক্ষে আরোহন পূর্ব্বক মায়ায় আচ্ছন্ন হয়ে অজ্ঞানতাবশতঃ কতই না কুকর্ম করে ভয়ানক নরক সমুদ্রে পতিত হয়।
যিনি নরকে পতিত প্রানীকে জ্ঞান দান করে উদ্ধার করেন সেই ত্রাণকর্তা গুরুদেবকে নমস্কার করি।

ব্রহ্মানন্দং পরম সুখদং কেবলং জ্ঞান মূর্ত্তিং।
বিশ্বাতীতং গগনসদৃশং তত্ত্বমস্যাদি লক্ষ্যম্।। ১৬

ভাবার্থঃ যিনি ব্রহ্মানন্দস্বরূপ পরম সুখদ, নির্লিপ্ত, চিতিশক্তি রূপ জ্ঞানমূর্ত্তি বিশ্বাতীত গগনসদৃশ, তত্ত্বমসি প্রভৃতি বাক্যের লক্ষ্য, সেই পরম গুরুর বেদিমূলে আত্মসমর্পণ করলাম।

একং নিত্যং বিমলমচলং সর্বধীসাক্ষীভূতং।
ভাবাতীতং ত্রিগুণরহিতং সদগুরুং তং নমামি।। ১৭

ভাবার্থঃ
একং নিত্যং সেই অদ্বিতীয় ব্রহ্ম, বিমল, অচল, সকল বুদ্ধির সাক্ষী স্বরূপ, ভাবাতীত এবং ত্রিগুণ রহিত, সেই সদগুরুকে আমি নমস্কার করি।

শ্রীমৎপরং ব্রহ্ম গুরুং বদামি,
শ্রীমৎপরং ব্রহ্ম গুরুং ভজামি।
শ্রীমৎপরং ব্রহ্ম গুরুং স্মরামি,
শ্রীমৎ পরমব্রহ্ম গুরুং নমামি। ১৮

ভাবার্থঃ
শ্রীগুরু পরমব্রহ্মস্বরূপ, গুরুশব্দ সর্বদা মুখে বলি ও পরমব্রহ্মরূপ শ্রীগুরুদেবকে ভজনা করি।
পরমব্রহ্মস্বরূপ শ্রীগুরুদেবকে মনে মনে দিবা রাত্রি চিন্তা করি এবং পরমব্রহ্মস্বরূপ শ্রী গুরুদেবকে প্রণাম করি।

তব দ্রবং জগৎগুরো তুভ্যমেব সমর্পয়ে।

ভাবার্থঃ
হে জগতের গুরু আমার এই মন যা তোমারই জিনিস তোমারই পদমূলে সমর্পণ করলাম।

গুরু কৃপা হি কেবলম্।
ব্রহ্ম কৃপা হি কেবলম্।

ওঁম শান্তি ওঁম শান্তি ওঁম শান্তি