গুরু পূজা



গুরু পূজা

মন্ত্র সত্যং পূজাসত্যং সত্যম্ দেব নিরঞ্জনম্।
গুরুর্বাক্য সদাসত্যং সত্যমেব পরম্ পদম্।। ১

ভাবার্থঃ
গুরু প্রদত্ত মন্ত্র সত্য, পূজাও সত্য। দেবাদিদেব নিরঞ্জনও সত্য। গুরু বাক্য সদা সত্য, সেই পরমপদ সত্যের দ্বারা আস্তীর্ন।

গুরুর্ব্রহ্মা গুরুর্বিষ্ণু গুরুর্দেবো মহেশ্বরঃ
গুরুরেব পরমব্রহ্ম তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।। ২

ভাবার্থঃ
গুরুই সৃষ্টিকর্তা, গুরুই পালনকর্তা, গুরুই ধ্বংসকর্তা, গুরুই সেই পরমব্রহ্ম, আমি সেই পরমগুরুকে নমস্কার করি।

অখণ্ড মন্ডলাকারং ব্যপ্তং যেন চরাচরম্
তৎপদং দর্শিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।। ৩

ভাবার্থঃ
যার দ্বারা অখণ্ড মন্ডলাকার চরাচর জগৎ ব্যপ্ত হয়ে আছে, তাঁর স্বরূপ যিনি দর্শন করিয়েছেন সেই শ্রী গুরুকে নমস্কার।

অজ্ঞানতিমিরান্ধস্য জ্ঞানাঞ্জন শলাকয়া।
চক্ষুরুন্মিলিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।।৪

ভাবার্থঃ
অজ্ঞতায় অন্ধ ব্যাষ্টির চক্ষু যিনি জ্ঞানাঞ্জন শলাকা দিয়ে উন্মীলিত করে দিয়েছেন, সেই শ্রী গুরুকে নমস্কার করি।

স্থাবরং জঙ্গমং ব্যাপ্তং যৎকিঞ্চিৎ সচরাচরম্।
তৎপদং দর্শিতং যেন তস্মৈ শ্রী গুরবে নমঃ।।৫

ভাবার্থঃ
সপ্রাণ এবং অপ্রাণ সচল ও অচল সমস্ত বস্তুসমুহ যে ব্রহ্মের দ্বারা ব্যাপ্ত, তার স্বরূপ যিনি দর্শন করিয়েছেন সেই পরম গুরুকে নমস্কার করি।

চিদ্ রূপেন পরিব্যাপ্তং ত্রৈলোকং সচরাচরম্।
তৎপদং দর্শিতং যেন তস্মৈ শ্রী গুরবে নমঃ।। ৬

ভাবার্থঃ
চরাচর সহ ত্রিলোক জ্ঞান স্বরূপ (ব্রহ্মের) দ্বারা পরিব্যাপ্ত, তৎস্বরূপ যিনি দর্শন করিয়েছেন সেই শ্রী গুরুকে নমস্কার করি।

সর্বশ্রুতি শিরোরত্ন সমুদ্ভাসিত মূর্তয়ে।
বেদান্তম্বুজ সূর্যায় তস্মৈ শ্রী গুরবে নমঃ।। ৭

ভাবার্থঃ
যাহার মূর্তি বেদান্তজ্ঞানের দ্বারা সমুদ্ভাসিত, যিনি বেদান্তরূপ পদ্মের উন্মেলক সূর্য স্বরূপ, সেই শ্রী গুরুকে নমস্কার করি।

চৈতন্যং শাশ্বতং শান্তং ব্যোমাতীতং নিরঞ্জনং।
বিন্দুনাদকলাতীতং তস্মৈ শ্রী গুরবে নমঃ।। ৮

ভাবার্থঃ
যিনি শাশ্বত শান্ত ব্যোমাতীত ও নিরঞ্জন চৈতন্যস্বরূপ এবং যিনি বিন্দু, নাদ ও কলার অতীত, সেই শ্রী গুরুকে নমস্কার করি।

অনেক জন্ম সংপ্রাপ্ত কর্মবন্ধ বিদাহিনে।
আত্মজ্ঞান প্রদানেন তস্মৈ শ্রী গুরবে নমঃ।। ৯

ভাবার্থঃ
যিনি আত্মজ্ঞান রূপ অগ্নিদান করে বহু জন্মে সঞ্চিত কর্মরূপ কাষ্ঠকে দহন করেন, সেই শ্রী গুরুকে নমস্কার করি।

ন গুরোরধিকং তত্ত্বং ন গুরোরধিকং তপঃ।
তত্ত্বজ্ঞানং পরংনাস্তি তস্মৈ শ্রী গুরবে নমঃ।। ১০

ভাবার্থঃ
গুরুর অধিক তত্ত্ব নাই, গুরুর (সেবা) অধিক তপস্যা নাই, এবং যদ্বিষয়ক তত্ত্বজ্ঞান অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ কিছুই নাই, সেই পরম গুরুকে নমস্কার করি।

মন্নাথঃ শ্রীজগন্নাথো মদ্ গুরুঃ শ্রীজগদগুরুঃ।
মদাত্মা সর্বভূতাত্মা তস্মৈ শ্রী গুরবে নমঃ।। ১১

ভাবার্থঃ
নাথই শ্রীজগন্নাথ, গুরুই শ্রীজগদ্ গুরু, আমার আত্মাই সর্বভূতের আত্মা, সেই শ্রী গুরুকে নমস্কার করি।

গুরুরাদিরনাদিশ্চ গুরুঃ পরম দৈবতম্।
গুরোঃপরতং নাস্তি তস্মৈ শ্রী গুরবে নমঃ।। ১২

ভাবার্থঃ
গুরুই কারণ এবং কারণহীন, গুরুই পরম দেবতা, গুরু অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর কেহ নাই, সেই পরমগুরুকে নমস্কার করি।

ধ্যানমূলং গুরোর্ম্মূর্ত্তি পূজামূলং গুরোঃ পদম্।
মন্ত্রমূলং গুরোর্বাক্যং মোক্ষমূলং গুরো কৃপা।। ১৩

ভাবার্থঃ
একমাত্র গুরুমূর্ত্তির ধ্যানই মূল, গুরুর পদযুগল পূজাই সকল পূজার মূল।
গুরুর বাক্যই সকল পূজার মন্ত্র, গুরুদেবের কৃপাই মোক্ষপ্রাপ্তির মূল–একমাত্র গুরুদেবের কৃপাতেই মুক্তিলাভ হয়ে থাকে।

চিন্ময়ং ব্যাপিতং সর্ব্বং ত্রৈলোকং সচরাচরম্।
তৎপদং দর্শিতং যেন তস্মৈ শ্রী গুরবে নমঃ।। ১৪

ভাবার্থঃ
যিনি চিন্ময়রূপে অতি সুক্ষ্মরূপে ত্রিলোকে ব্যাপিয়া বর্তমান আছেন ও যিনি ব্রহ্মপদ দেখাচ্ছেন, অজ্ঞাননাশক সেই গুরুকে নমস্কার করি।

সংসার -বৃক্ষমারুঢ়াঃ পতন্তি নরকার্ণবে।
যেনোদ্ধৃত্মিদং বিশ্বং তস্মৈ শ্রী গুরবে নমঃ।। ১৫

ভাবার্থঃ
সংসাররূপ বৃক্ষে আরোহন পূর্ব্বক মায়ায় আচ্ছন্ন হয়ে অজ্ঞানতাবশতঃ কতই না কুকর্ম করে ভয়ানক নরক সমুদ্রে পতিত হয়।
যিনি নরকে পতিত প্রানীকে জ্ঞান দান করে উদ্ধার করেন সেই ত্রাণকর্তা গুরুদেবকে নমস্কার করি।

ব্রহ্মানন্দং পরম সুখদং কেবলং জ্ঞান মূর্ত্তিং।
বিশ্বাতীতং গগনসদৃশং তত্ত্বমস্যাদি লক্ষ্যম্।। ১৬

ভাবার্থঃ যিনি ব্রহ্মানন্দস্বরূপ পরম সুখদ, নির্লিপ্ত, চিতিশক্তি রূপ জ্ঞানমূর্ত্তি বিশ্বাতীত গগনসদৃশ, তত্ত্বমসি প্রভৃতি বাক্যের লক্ষ্য, সেই পরম গুরুর বেদিমূলে আত্মসমর্পণ করলাম।

একং নিত্যং বিমলমচলং সর্বধীসাক্ষীভূতং।
ভাবাতীতং ত্রিগুণরহিতং সদগুরুং তং নমামি।। ১৭

ভাবার্থঃ
একং নিত্যং সেই অদ্বিতীয় ব্রহ্ম, বিমল, অচল, সকল বুদ্ধির সাক্ষী স্বরূপ, ভাবাতীত এবং ত্রিগুণ রহিত, সেই সদগুরুকে আমি নমস্কার করি।

শ্রীমৎপরং ব্রহ্ম গুরুং বদামি,
শ্রীমৎপরং ব্রহ্ম গুরুং ভজামি।
শ্রীমৎপরং ব্রহ্ম গুরুং স্মরামি,
শ্রীমৎ পরমব্রহ্ম গুরুং নমামি। ১৮

ভাবার্থঃ
শ্রীগুরু পরমব্রহ্মস্বরূপ, গুরুশব্দ সর্বদা মুখে বলি ও পরমব্রহ্মরূপ শ্রীগুরুদেবকে ভজনা করি।
পরমব্রহ্মস্বরূপ শ্রীগুরুদেবকে মনে মনে দিবা রাত্রি চিন্তা করি এবং পরমব্রহ্মস্বরূপ শ্রী গুরুদেবকে প্রণাম করি।

তব দ্রবং জগৎগুরো তুভ্যমেব সমর্পয়ে।

ভাবার্থঃ
হে জগতের গুরু আমার এই মন যা তোমারই জিনিস তোমারই পদমূলে সমর্পণ করলাম।

গুরু কৃপা হি কেবলম্।
ব্রহ্ম কৃপা হি কেবলম্।

ওঁম শান্তি ওঁম শান্তি ওঁম শান্তি

শ্রীশ্রী গুরু প্রণাম মন্ত্র (অর্থ সহ)


(দ্বি-প্রহর ও সন্ধ্যাবেলায়)
ওঁ অজ্ঞান-তিমিরান্ধস্য জ্ঞানাঞ্জন-শলাকয়া।
চক্ষুরুন্মীলিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।। ১
মন্ত্রঃ সত্যং পূজা সত্যং সত্যং দেবো নিরঞ্জনঃ।
গুরোর্বাক্যং সদা সত্যং সত্যমেব পরং পদম্।।২
অখন্ড-মন্ডলাকারং ব্যাপ্তং যেন চরাচরম্।
তত্পদং দর্শিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।।৩
পিতৃমাতৃ-সুহৃদ্বন্ধু-বিদ্যা-তীর্থানি দেবতা।
ন তুল্যং গুরুণা শীঘ্রং স্পর্শয়েৎ পরমং পদম্।।৪
গুরুর্ব্রহ্মা গুরুর্বিষ্ণুঃ গুরুর্দেবো মহেশ্বরঃ।
গুরুরেব পরং ব্রহ্ম তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।।৫
ধ্যানমূলং গুরোমূর্ত্তিঃ পূজামূলং গুরোঃ পদম্।
মন্ত্রমূলং গুরোর্বাক্যং মোক্ষমূলং গুরোঃ কৃপা।।৬
ব্রহ্মানন্দং পরম-সুখদং কেবলং জ্ঞানমূর্ত্তিম্।
দ্বন্দ্বাতীতং গগন-সদৃশং তত্ত্বমস্যাদি-লক্ষ্যম্।।
একং নিত্যং বিমলমচলং সর্ব্বদা সাক্ষিভূতম্।
ভাবাতীতং ত্রিগুণ-রহিতং সদ্গুরুং তং নমামি।।৭
ত্বমেব মাতা চ পিতা ত্বমেব।
ত্বমেব বন্ধুশ্চ সখা ত্বমেব।
ত্বমেব বিদ্যা দ্রবিণং ত্বমেব।
ত্বমেব সর্ব্বং মম দেবদেব।।৮
অর্থঃ
যিনি অজ্ঞান-অন্ধকারাচ্ছন্ন শিষ্যের চক্ষু জ্ঞানাঞ্জন-শলাকা দিয়া খুলিয়া দেন, সেই শ্রীগুরুদেবকে ভক্তিভরে প্রণাম করি।১
মন্ত্র সত্য, পূজা সত্য, দেব নিরঞ্জনও সত্য; শ্রীগুরুদেবের বাক্যও সর্ব্বদা সত্য বলিয়া জানিবে এবং সেই পরমপদও সত্য।২
যাঁহার দ্বারা অখন্ড-মন্ডলাকার এই চরাচর বিশ্ব পরিব্যাপ্ত রহিয়াছে, তাঁহার শ্রীপাদপদ্ম যিনি দর্শন করাইয়া দেন, সেই শ্রীগুরুদেবকে পুনঃ পুনঃ প্রণাম করি।৩
এই জগতে পিতামাতা, সুহৃৎ-বন্ধু, বিদ্যাবুদ্ধি, তীর্থসমূহ এবং দেবদেবী কেহই শ্রীগুরুদেবের সমতুল্য হইতে পারে না; যেহেতু শ্রীগুরুদেবই একমাত্র সেই পরম ব্রহ্মপদ শীঘ্র লাভ করাইয়া দিতে পারেন।৪
শ্রীগুরুদেবই ব্রহ্মা, গুরুই বিষ্ণু, গুরুই দেব মহেশ্বর, শ্রীগুরুই পরব্রহ্ম স্বরূপ; সেই শ্রীগুরুদেবকে পুনঃ পুনঃ ভক্তিভরে প্রণাম করি।৫
শ্রীগুরুমূর্ত্তিই সর্ব্বদা ধ্যান করা কর্ত্তব্য, শ্রীগুরুদেবের শ্রীপাদপদ্মই সর্ব্বদা পূজা করা উচিত, শ্রীগুরুদেবের বাক্যই মন্ত্র-স্বরূপ এবং শ্রীগুরুকৃপাই মুক্তি বা মোক্ষ লাভের একমাত্র উপায়।৬
যিনি ব্রহ্মানন্দ-স্বরূপ, পরম সুখদানকারী, নিলির্প্ত, জ্ঞান-মূর্ত্তি-স্বরূপ, যিনি সুখদুঃখাদি দ্বন্দ্বের অতীত, গগনসদৃশ উদার, ‘তত্ত্বমসি’ প্রভৃতি মহাবাক্যের লক্ষ্য-স্বরূপ, যিনি এক, নিত্য, বিমল, অচল, সর্ব্বদা সমস্ত কিছুর সাক্ষীস্বরূপ, ভাবাতীত ও ত্রিগুণাতীত, সেই পরব্রহ্মরূপী শ্রীশ্রীসদ্গুরুকে ঐকান্তিক ভক্তিভরে প্রণাম করি।৭
হে গুরুদেব, তুমিই আমার মাতা, তুমিই আমার পিতা, তুমিই বন্ধু, তুমিই সখা। তুমিই আমার বিদ্যাবুদ্ধি, তুমিই আমার ধনৈশ্বর্য্য সবই; শুধু তাহাই নয়, হে আমার প্রাণদেবতা, তুমিই আমার জীবনের যথাসর্বস্ব।৮
(এইভাবে শ্রীশ্রীসদ্গুরুর শ্রীচরণে সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণই প্রণাম মন্ত্রের যথার্থ অর্থ)
সংগৃহীত- নিবেদনে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা স্কুল

পূজারম্ভের পূর্বে আচমন কেন ও কিভাবে করে?


শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা স্কুল's photo.
আচমন প্রসঙ্গে পূজ্যপাদ স্বামী প্রমেয়ানন্দজি মহারাজ লিখেছেন, “দেহ-মন শুদ্ধ না থাকলে আধ্যাত্মিক সাধনের যোগ্যতা হয় না। অন্যভাবে, দেহ-মন শুদ্ধ করে নিয়ে তবে সাধন-ভজনে প্রবৃত্ত হতে হয়। আচমনের মুখ্য উদ্দেশ্য দেহ-মন শুদ্ধ করা। বিষ্ণুস্মরণ দেহ-মনশুদ্ধির শ্রেষ্ঠ উপায়।… আবার আচমন পূজককে পূজার লক্ষ্য সর্বব্যাপক অখণ্ড-চৈতন্য পরমাত্মার দিকে অগ্রসর হওয়ার কথাও পরোক্ষভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়।” (পূজাবিজ্ঞান, পৃ. ১৯) এই কারণে হিন্দুরা যে কোনো পবিত্র কাজ, তা সে পূজাই হোক বা অন্য কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানই হোক, তা শুরু করার আগে আচমন করে থাকেন।
আচমনের দুটি অংশ। প্রথমটি মূল আচমন প্রক্রিয়া, দ্বিতীয়টি তার আনুষঙ্গিক বিষ্ণুস্মরণ। আচমন প্রক্রিয়াটি ওঁ-কারযুক্ত শুদ্ধ বিষ্ণুনাম উচ্চারণ-সহ কয়েকটি প্রতীকী ক্রিয়া। বিষ্ণুস্মরণের সময় আমরা সাধারণত যে মন্ত্রটি উচ্চারণ করি, সেটি হল—
ওঁ তদ্বিষ্ণোঃ পরমং পদং সদা পশ্যন্তি সূরয়ঃ দিবীব চক্ষুরাততম্। ১
ওঁ অপবিত্রঃ পবিত্রো বা সর্বাবস্থাং গতোঽপি বা।
যঃ স্মরেৎ পুণ্ডরীকাক্ষং স বাহ্যাভ্যন্তরঃ শুচিঃ।। ২
মন্ত্রটির বাংলা অর্থ—
আকাশের সূর্যের মতো সর্বত্র প্রকাশমান, বেদ ও অন্যান্য শাস্ত্রে প্রসিদ্ধ, পরম তত্ত্ব জ্ঞানীগণ সর্বদা দর্শন করেন। ১
বাহ্য শরীর ও শরীরের অভ্যন্তরে স্থিত মনের কোনো একটি বা দুটিই যদি অপবিত্র হয়, তবে পদ্মলোচন শ্রীবিষ্ণুকে স্মরণ করা মাত্রই বাহ্য ও অন্তরে শুদ্ধ হওয়া যায়। ২
মন্ত্রের তাৎপর্য উল্লেখ করে প্রমেয়ানন্দজি উপসংহারে লিখেছেন, “কর্মের (পূজা) সূচনায় সাধকও প্রার্থনা করছেন—জ্ঞাননেত্রে তিনি যেন বিষ্ণুকে দর্শন করতে পারেন, তাঁর স্বরূপ উপলব্ধি করতে পারেন ; কর্মের উদ্দেশ্য সাধনে তিনি যেন সক্ষম হন।” (তদেব)
কেউ কেউ বিষ্ণুস্মরণ মন্ত্রের সঙ্গে আরও দুটি পংক্তি জুড়ে দেন—
ওঁ মাধবো মাধবো বাচি মাধবো মাধবো হৃদি।
স্মরন্তি সাধবঃ সর্বে সর্বকার্যেষু মাধব।।
মন্ত্রের অর্থ—
সাধুব্যক্তিদের বাক্যে মাধব (বিষ্ণু) ও হৃদয়ে মাধব। তাঁরা সকল কাজেই মাধবকে স্মরণ করে থাকেন।
আচমন পদ্ধতি
ডান হাতের তালু ‘গোকর্ণাকৃতি’ অর্থাৎ গোরুর কানের মতো করে একটি মাষকলাই ডুবতে পারে, এই পরিমাণ জল নিয়ে ‘ওঁ বিষ্ণু’ মন্ত্রে পান করতে হবে। এই রকমভাবে তিন বার জল পান করতে হয়। তারপর বুড়ো আঙুলের পিছন দিকটি দিয়ে ওষ্ঠ ও অধর ডান দিক থেকে বাঁদিকে দুবার মার্জনা করে সামান্য জলে হাত ধুয়ে নিতে হয়। এরপর ডান হাতের নির্দিষ্ট আঙুলের ডগা দিয়ে নিম্নলিখিত ক্রমে নির্দিষ্ট স্থানগুলি স্পর্শ করা হয়—
(১) তর্জনী+মধ্যমা+অনামিকা (একসঙ্গে)—ওষ্ঠ ও অধর।
(২) (হাত ধুতে হবে)
(৩) বুড়ো আঙুল+তর্জনী—ডান ও বাঁ নাক।
(৪) বুড়ো আঙুল+অনামিকা—ডান ও বাঁ চোখ; ডান ও বাঁ কান।
(৫) বুড়ো আঙুল+কড়ে আঙুল—নাভি
(৬) (আবার হাত ধুতে হবে)
(৭) করতল দ্বারা হৃদয় স্পর্শ করতে হবে
(৮) সবকটি আঙুলের ডগা দিয়ে মাথা, ডান ও বাঁ বাহুমূল স্পর্শ করতে হবে।
(দ্রঃ এই ক্রিয়াগুলি অভিজ্ঞ ব্যক্তিরাই করে থাকেন। এগুলি যাঁরা করতে অসমর্থ তাঁরা শুধু ‘ওঁ বিষ্ণু’ মন্ত্রে জলপান করেই আচমন করেন।)
এরপর হাতজোড় করে পূর্বোক্ত আচমন মন্ত্রটি পাঠ করতে হয়—
ওঁ তদ্বিষ্ণোঃ পরমং পদং সদা পশ্যন্তি সূরয়ঃ দিবীব চক্ষুরাততম্।
ওঁ অপবিত্রঃ পবিত্রো বা সর্বাবস্থাং গতোঽপি বা।
যঃ স্মরেৎ পুণ্ডরীকাক্ষং স বাহ্যাভ্যন্তরঃ শুচিঃ।।
মন্ত্রপাঠের সময় মনে মনে শ্রীবিষ্ণুকে স্মরণ করাও আবশ্যক। কারণ, মনে রাখতে হবে সংস্কৃত আমাদের মাতৃভাষা নয়, তাই সংস্কৃত মন্ত্র শুধু পাঠ করেই আমরা তার তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পারি না, সেজন্য আমাদের মন্ত্রের অর্থ বিশেষভাবে স্মরণ করতে হয়।
নিত্যপূজায় উপরিউক্ত ক্রমেই আচমন করে। তবে বিশেষ পূজায় আচমনের পর কুশাঙ্গুরীয় ধারণ করে পাপস্খালনের জন্য নিম্নোক্ত মন্ত্রটিও পাঠ করতে হয়—
ওঁ দেব তৎ প্রাকৃতং চিত্তং পাপাক্রান্তমভূন্মম।
তন্নিঃসারয় চিত্তান্মে পাপং হূঁ ফট চ তে নমঃ।
ওঁ সূর্য সোমো যমঃ কালো মহাভূতানি পঞ্চ চ।
এতে শুভাশুভস্যেহ কর্মণো নব সাক্ষিণঃ।।
এমন সুন্দর সুন্দর তথ্য জানতে অংশগ্রহণ করুণ (শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা স্কুল) পেইজে ।

ভক্তি প্রেম রসঃ


3618422661_cd1133bb0f
সকালে ঘুম থেকে ওঠে বিছানায় বসেঃ
১। মহামন্ত্র
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।|

২। বসুমতিকে প্রণামঃ
সমুদ্র মেঘলে দেবী পর্বত নভমণ্ডলে
বিষ্ণুপত্নী নমস্যমি পাদস্পর্শ হ্মমস্বমে।।
প্রিয় দত্তায়ৈ ভুমে নমঃ।

৩। সূর্যকে প্রণামঃ আঙ্গিনায় দাড়িয়ে
জবা কুসুম সঙ্কাশং কাশ্যপেয়ং মহাদ্যুতিম।
ধ্বান্তারিং সর্বপাপঘ্ন্যং প্রনতোহস্মি দিবাকরম।।

৪। তুলসীকে প্রণামঃ
বৃন্দায়ৈ তুলসী দৈব্যে প্রিয়ায়ৈ কেশবস্য চ।
কৃষ্ণভক্তি প্রদেদেবী সত্যবত্যৈ নমো নমঃ।।

৫। স্নান করার মন্ত্রঃ
গঙ্গেচ যমুনাশ্চৈব গোদাবরী সরস্বতী।
নর্মদে সিন্ধু কাবেরী জলে হস্মিন সন্নিধিকুরু।।

৬। সমস্ত তীর্থকে আহবানঃ
নমো কুরুহ্মেত্রং গয়া গঙ্গা প্রভাস পুস্করানিচ।
তীর্থেন্যে তানি পুণ্যানি স্নানকালে ভবন্তিহ।।

৭। পবিত্র হওয়ার মন্ত্রঃ
নমো অপবিত্র পবিত্রোবা সর্বাবস্থায় গতোহপিবা।
যদস্মরেত্‍ পুণ্ডরীকাহ্মং সঃ বাহ্যভ্যন্তর শুচিঃ।।

৮। দেহশুদ্ধির মন্ত্রঃ
পাপোহং পাপকর্স্মহং পাপাত্মা পাপ সম্ভবা।
ত্রাহিমা পুণ্ডরীকাহ্মং সর্ব্বোপাপো হরো হরি।।

৯। তুলসী গাছে জল দিবার মন্ত্রঃ
গোবিন্দ বল্লভাং দেবী ভক্ত চৈতন্য কারিনী।
স্নাপযামি জগদ্ধাত্রীং কৃষ্ণভক্তি প্রদায়িনী।।

১০। আচমন করার মন্ত্রঃ
ওঁ বিষ্ণু ওঁ বিষ্ণু ওঁ বিষ্ণু।
ওঁ তদ্বিষ্ণু পরমং পদং সদাপশ্যান্তি সুরয়। দিবিব চহ্মুরাততম।

১১।তিলক গুলিবার মন্ত্রঃ
নমো কেশবান্ত গোবিন্দ বরাহ পুরুষোত্তম।
পুর্ন্যযাস্যমায়ুরস্য তিলকং মে প্রসাদতু।।

১২। গুরুর প্রণাম মন্ত্রঃ
গুরু ব্রহ্মা গুরু বিষ্ণু গুরুদেবো মহেশ্বরঃ ।
গুরুরেব পরম ব্রহ্ম তস্মৈ শ্রীগুরুবে নমঃ। ।
এরপর
আহ্ণিক /গুরু বীজমন্ত্র
ঐং শ্রী গুরুবে নমঃ।

১৩। দেব দেবী ও মহাপুরুষের নামঃ (৬৭ জন )
ক) কৃষ্ণায় নমঃ কৃষ্ণায় নমঃ কৃষ্ণায় নমঃ। কার্ত্তবীর্যাজ্জুন শংকরাচার্য মার্কণ্ড মুনি। নমো ভগবতে শিবায় নম। নমো দুর্গায় নমঃ, নমো দুর্গায় নমঃ । ব্রাহ্মণ্যেভ্যা ব্রাহ্মণ্যেভ্যা ব্রাহ্মণ্যেভ্যা। স্বরূপ দামোদর রায় রামানন্দ শিখিমাইতি মাধবীলতা।

খ) কৃষ্ণায় কৃষ্ণভক্তায় তদভক্তায় নমো নমঃ। শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ শ্রীঅদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌর ভক্তবৃন্দ। জয়রূপ সনাতন ভট্ট রঘুনাথ। শ্রীজীব গোপাল ভট্ট দাস রঘুনাথ। শ্রীবত্‍স চিন্তা তাল বেতাল। কর্কটক ঋতুপর্ণ দময়ন্তি নল। আস্তিক মুনি আস্তিক মুনি আস্তিক মুনি।

গ) যুধিষ্ঠির ভীম অর্জুন নকুল সহদেব। ধ্রুব প্রহল্লাদ নারদ ব্যাসদেব শুকদেব পরীহ্মিত মহারাজ অম্বরীষ মহারাজ। ধরা দ্রোণ রুহিদাস যাজ্ঞসেনী খণ্ডবাসী নরহরি অদ্বৈতাচার্য সীতাদেবী উড়িয়া গৌড়িয়া সেন শিবানন্দ রায় ভবানন্দ। তেত্রিশ কোটি দেবদেবী আশীর্বাদ কর শ্রীকৃষ্ণ পদে যেন শুদ্ধাভক্তি হয় এবং প্রভুর লীলা যেন আরোপে দর্শণ করতে পারি।

১৪। গীতার ১৮ টি নাম ৫১ বার
১। গঙ্গাঁ ২। গীতা ৩। সাবিত্রী ৪। সীতা ৫। সত্যা ৬। পতিব্রতা ৭। ব্রহ্মাবলী ৮। ব্রহ্মাবিদ্যা ৯। ত্রিসন্ধ্যা ১০। মুক্তিগেহিনী ১১। অর্ধমাত্রা ১২। চিতা ১৩। নন্দা ১৪। ভবগ্নী ১৫। ভ্রান্তিনাশিনী ১৬। বেদত্রয়ী ১৭। পরানন্দা ১৮। তত্ত্বার্থজ্ঞানমঞ্ছুরী

১৫। মঘা নহ্মত্র সন্তুষ্টির জন্যঃ
ওঁ শিবায় নমঃ , ওঁ পুলকায় নমঃ, ওঁ নারায়ণ নমঃ

১৬। ১৬ নাম জপঃ
ক। সর্বকাজে শ্রী মাধবায় নমঃ, ওষুধে শ্রী বিষ্ণু, সংকটে শ্রী মধুসূদন, দুঃস্বপ্নে শ্রী গোবিন্দ,
ঘুমানোর সময় শ্রী পদ্মনাভঞ্চ, ভোজনে শ্রী জনার্দন। বিবাহে প্রজাপতি, গমনে বামনদেব

খ। অগ্নি জলসাই, জলে বরাহঞ্চ, কাননে নরসিংহ, প্রবাসে ত্রিবিক্রম, যুদ্ধে চক্রধরদেবং,
মৃত্যুর সময় নারায়ণা, স্ত্রী সহবাসে শ্রীধরায়, পর্বতে প্রভুনন্দন।

১৭। ক) সরস্বতী জপ মন্ত্রঃ
পূজা মন্ত্রঃ ঐং সরস্বত্যে নমঃ ১০৮
নারায়ণং নমোষ্কৃত্ত্যং নরাঞ্চৈবং নরোত্তমং দেবিং ।
সরস্বতী ব্যসং তত জয়েত্‍ মুদি রয়েত্‍ ।।
মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্ ।
যত্‍কৃপা তমহং বন্দে পরমানন্দমাধবম্ ।।
সরস্বতী দেবী কী জয়ঃ/ প্রণামঃ
ক) নমো সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমল লোচনে।
বিশ্বরূপে বিলালাহ্মী বিদ্রাং দেহি সরস্বতী।।

খ) জয় জয় দেবী চরা চর মাঝে কুচ যুগ শোভিত মুক্তাহারে।
বীণারঞ্জিত পুস্তক হস্তে ভাগবতী ভারতী দেবী নমোহস্ততে।।

১৮। সংক্রান্তির দিনঃ
ওঁ নমো শ্রী বিষ্ণু ৩০ বার জপ

১৯। পবিত্র বন্ধনের জন্যঃ
১। ওঁ বিষ্ণু , ওঁ বিষ্ণু , ওঁ বিষ্ণু
২। ওঁ শিবায় নমঃ, ওঁ শিবায় নমঃ, ওঁ শিবায় নমঃ।

২০। যজ্ঞের তিলক ধারণঃ মধ্যমিকা আঙ্গুল দিয়ে

২১। উন্নতি জপঃ ৫ বার
শ্রী কৃষ্ণায় বাসুদেবায় । হরয়ে পরমাত্বমেঃ প্রণত ক্লেশ নাশায় ।।

মন্দিরে সহজ প্রার্থনাঃ
২২। শ্রীগুরু কী জয়/ প্রণামঃ
গুরু ব্রহ্মা গুরু বিষ্ণু গুরুদেবো মহেশ্বরঃ ।
গুরুরেব পরম ব্রহ্ম তস্মৈ শ্রীগুরুবে নমঃ। ।১
২৩। শ্রী বৈষ্ণব কী জয়/ প্রণামঃ
বাঞ্ছাকল্প তরুভ্যশ্চ কৃপাসিন্ধুভ্য এব চ।
পতিতানাং পাবনেভ্যা বৈষ্ণবেভ্যে নমো নমঃ ।।

২৪। শ্রী গৌরাঙ্গ কী জয়/ প্রণামঃ
নমো মহাবদান্যায় কৃষ্ণপ্রেম প্রদায় তে।
কৃষ্ণায় কৃষ্ণচৈতন্যানাম্নে গৌরত্বিষে নমঃ।।

২৫। শ্রীকৃষ্ণ কী জয়/ প্রণাম
হে কৃষ্ণ করুণাসিন্ধো দীনবন্ধো জগত্‍পতে।
গোপেশ গোপীকাকান্ত রাধাকান্ত নমোহস্ত তে।।

২৬। শ্রীমতি রাধারাণী কী জয়/ প্রণামঃ
তপ্ত কাঞ্চন গৌরাঙ্গী রাধে বৃন্দাবনেশ্বরি।
বৃষভানুসুতে দেবী প্রণামামী হরিপ্রিয়ে।।

২৭। পঞ্চতত্ত্ব কী জয়/ বন্দনাঃ
জয় শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
শ্রী অদ্বৈত গদাধর শ্রী বাসাদি গৌর ভক্তবৃন্দ

২৮। মহামন্ত্র কী জয়/
হরে কূষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।

২৯। তুলসী দেবী কী জয়/ প্রণামঃ
বৃন্দায়ৈ তুলসী দৈব্যে প্রিয়ায়ৈ কেশবস্য চ।
কৃষ্ণভক্তি প্রদেদেবী সত্যবত্যৈ নমো নমঃ।।

৩০। জগন্নাথ, বলরাম সুভদ্রা দেবী কি জয়। নৃসংহ দেবতা কি জয়

৩১। শিব কী জয়/ প্রণামঃ
নমঃ একদন্তং মহাকায়ং লম্বোদর গজাননম।
বিঘ্ননাশকরং দেবং হেরম্বং প্রণামাম্যহম।।

৩২। মা দূর্গা কী জয়/ প্রণামঃ
যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা
নমোস্তৈ নমোস্তৈ নমোস্তৈ নমো নমঃ

৩৩। মা কালী কী জয়/ প্রণামঃ
ক) ওঁ সর্ব মঙ্গল মঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থ সাধিকে।
শরণ্য ত্রম্বকে গৌরি নারায়াণি নমোস্তুতে।।১

খ) সৃষ্টি স্থিতি বিনাশনম শক্তিভূতে সনাতনী।
গুণাশ্রয়ে গুণাময়ে নারায়াণি নমোস্তুতে।। ২

গ) শরণাগত দীনার্ত পরিত্রাণ পরায়ণে
সর্বস্যার্তি হরে দেবী নারায়াণি নমোস্তুতে।। ৩

৩৪। সিদ্ধিদাতা গণেশ কী জয়ঃ

৩৫। লহ্মী দেবী কী জয়ঃ

৩৬। বাবা কার্তিক কী জয়

৩৭। কুবের ঠাকুর কী জয়/
ওঁ কুবেরায় নমঃ
৩৮। বাবা হনুমান, মা মনসা দেবী কী জয়।

৩৯। বাবা লোকনাথ কী জয়ঃ
জয় বাবা লোকনাথ, জয় মা লোকনাথ, জয় গুরু লোকনাথ, জয় শিব লোকনাথ, জয় ব্রহ্ম লোকনাথ।
হে তেত্রিশ কোটি দেবতা আমাকে আশীর্বাদ করো। সৃষ্টির জীব পরিবারবর্গাবলী বংশাবলী এবং অধমকে কৃপা কর। আমাদের সুখী সমৃদ্ধ দরদী পরিবারে পরিণত কর|
যে কোন সিদ্ধি সাধনের জন্য গীতার শ্লোকঃ

গুরুদেবের নির্দেশে এই ল্লোকগুলো পাঠ করতে হবেঃ (বিদ্রঃ যার যেটা প্রয়োজন সে সেটা পাঠ করবে।)

পাঠবিধিঃ
শুদ্ধভাবে পূর্বমুখী বা উত্তরমুখী হয়ে বসে প্রথমে আচমন এবং আসনাদি শুদ্ধ করবে এরপর গীতা পাঠ করবে।

৪০। যে কোন কাজে সফলতার জন্যঃ শ্রীমদ্ভগবত গীতা ৯ অধ্যায় ২২ নং শ্লোকঃ

অনন্যাশ্চিন্তয়ন্তো মাং যে জনাঃ পর্য্যুপাসতে ।
তেষাং নিত্যাভিযুক্তানাং যোগহ্মেমং বহামাহম ।। ৯/২২

অর্থঃ অনন্যচিত্ত হয়ে আমার চিন্তা করিতে করিতে যে ভক্তগণ আমার উপাসনা করেন, আমাতে নিত্যযুক্ত সেই সমস্ত ভক্তের যোগ ও হ্মেম আমি বহন করে থাকি। (আমাদের প্রয়োজনীয় অলব্ধ বস্তুর সংস্থান এবং লব্ধ বস্তুর রহ্মণ আমি করে থাকি।)

৪১। শাস্ত্র বিষয়ে বিজ্ঞ এবং অন্তিম মহুর্ত্তে সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য

শ্রীমদ্ভগবত গীতা ১৮ তম অধ্যায় ৭৮ নং শ্লোকঃ

যত্র যোগেশ্বরঃ কৃষ্ণো যত্র পার্থো ধনুর্দ্ধরঃ ।
তত্র শ্রীর্বিজয়ো ভূতির্ধ্রুবা নীতির্মতির্মম ।। ১৮/৭৮

অর্থঃ যে পহ্মে যোগেশ্বর কৃষ্ণ এবং যে স্থলে ধনুর্দ্ধর পার্থ সেই স্থানে বিজয়, রাজলহ্মী উত্তরোত্তর ঐশ্বয্যবৃদ্ধি ও অখণ্ডিত রাজনীতি আছে ইহাই আমার মত।
যুক্তি ও শক্তি মিলিত হইলেই কার্যসফলতা সম্ভবপর। শুধু মাত্র শক্তি ও বুদ্ধি দ্বারা কৃতকার্য হওয়া যায় না।

৪২। ক) সর্বত্র ভগবত প্রাপ্তির জন্য ভগবানকে পাওয়ার জন্য

শ্রীমদ্ভগবত গীতা ৭ম অধ্যায় ৭ নং শ্লোকঃ

মত্তঃ পরতরং নান্যত্‍ কিঞ্চিদস্তি ধনঞ্জয়।
ময়ি সর্ব্বমিদং প্রোতং সূত্রে মণিগণা ইব।। ৭/৭

অর্থঃ হে ধনঞ্জয়, আমা অপেহ্মা শ্রেষ্ঠ পরমার্থ তত্ত্ব অন্য কিছুই নাই। সূত্রে মণি সমুহের ন্যায় সর্ব্বভূতের অধিষ্ঠানস্বরূপ আমাতে এই সমস্ত জগত্‍ রয়েছে।

৪২। খ) শ্রীমদ্ভগবত গীতা ৭ম অধ্যায় ১৯ নং শ্লোকঃ

বহূনাং জন্মনামন্তে জ্ঞানবান্মাং প্রপদ্যতে।
বাসুদেবঃ সর্ব্বমিতি স মহাত্মা সুদুর্লভঃ।। ৭/১৯

অর্থঃ জ্ঞানী ভক্ত অনেক জন্মের সাধানাফলে “বাসুদেব সমস্ত ” এইরূপ জ্ঞান লাভ করে আমাকে প্রাপ্ত হন। এইরূপ মহাত্মা অতি দুর্লভ।

৪৩। ক) ভগবত ভক্তির জন্য ঃ শ্রীমদ্ভগবত গীতা ৯ম অধ্যায় ৩৪ নং শ্লোকঃ
মন্মনা ভব মদ্ভক্তো মদযাজী মাং নমস্কুরু।
মামেবৈষ্যসি যুক্ত্বৈবমাত্মানং মত্‍পরায়ণঃ ।। ৯/৩৪

অর্থঃ তুমি সর্ব্বদা মনকে আমার চিন্তায় নিযুক্ত কর, আমাতে ভক্তিমান হও আমার পূজা কর আমাকেই নমস্কার কর এইরূপে মত্‍পয়ায়ণ হয়ে আমাতে মন সমাহিত করতে পারলে আমাকেই প্রাপ্ত হবে।

৪৩। খ) শ্রীমদ্ভগবত গীতা ১১ তম অধ্যায় ৫৪ নং শ্লোকঃ

ভক্ত্যা ত্বনন্যয়া শক্য অহমেবংবিধোহর্জ্জুন।
জ্ঞাতুং দ্রষ্টুঞ্চ তত্ত্বেন প্রবেষ্টুঞ্চ পরন্তপ।। ১১/৫৪
অর্থঃ হে পরন্তপ হে অর্জুন কেবল অনন্যা ভক্তি দ্বারাই ঈদৃশ আমাকে স্বরূপতঃ জানতে পারা যায় সাহ্মাত্‍ দেখিতে পারা যায় এবং আমাতে প্রবেশ করতে পারা যায়।

৪৩। গ) শ্রীমদ্ভগবত গীতা ১১ তম অধ্যায় ৫৫ নং শ্লোকঃ
মত্‍কর্ম্মকৃন্মত্‍পরমো মদ্ভক্ত সঙ্গবর্জ্জিতঃ।
নির্ব্বৈরঃ সর্বভূতেষু যঃ স মামেতি পাণ্ডব ।। ৫৫

অর্থঃ হে পাণ্ডব যে ব্যক্তি আমারই কর্মবোধে সমুদয় কর্ম করেন আমি যার একমাত্র গতি যিনি সর্বপ্রকারে আমাকে ভজনা করেন যিনি সমস্ত বিষয়ে আসক্তিশূন্য যার কার উপর শত্রুভাব নাই তিনিই আমাকে প্রাপ্ত হন।

এছাড়া ভগবত ভক্তির জন্য
নিম্ন বর্ণিত আরো শ্লোক পাঠ করা যার ১২ তম ৮ নং শ্লোক, ১৮ তম ৬৬ নং শ্লোক

ভক্তি প্রেম রসঃ চতুর্থ পর্বঃ

৪৪। কোন সমস্যা সমাধানের জন্য

শ্রীমদ্ভগবত গীতা ২য় অধ্যায় ৭ নং শ্লোকঃ

কার্পণ্যদোষাপহতস্বভাবঃ
পৃচ্ছামি ত্বাং ধর্ম্মসংমূঢচেতাঃ ।
যচ্ছ্রেয়ঃ স্যান্নিশ্চিতং ব্রূহি তন্মে
শিশ্যস্তেহহং শাধি মাং ত্বাং প্রপন্নম্ ।। ২/৭

অর্থঃ আমি কর্তব্য স্থির করতে পারছি না। আমি তোমার শিষ্য ও তোমার শরণাপণ্ণ। আমাকে উপদেশ দাও।

৪৫। কোন কথায় সমস্যা সমাধানের জন্য
শ্রীমদ্ভগবত গীতা ৩য় অধ্যায় ২ নং শ্লোকঃ

ব্যামিশ্রেণেব বাক্যে ন বুদ্ধিং মোহয়সীব মে ।
তদেকং বদ নিশ্চিত্য যেন শ্রেয়োহহমাপ্পুয়াম্ ।। ৩/২

অর্থঃ যা করিলে আমার মঙ্গল হবে, আমাকে সেই বিষয়েই উপদেশ দাও।

৪৬। ভুত প্রেত থেকে মুক্তির জন্য

শ্রীমদ্ভগবত গীতা ১১ তম অধ্যায় ৩৬ নং শ্লোকঃ

স্থানে হৃষীকেশ তব প্রকীর্ত্ত্যা
জগত্‍ প্রহৃষ্যত্যনুরজ্যতে চ
রাহ্মাংসি ভীতানি দিশো র্দ্রবন্তি
সর্ব্বে নমস্যন্তি চ সিদ্ধসঙ্ঘাঃ ।।

অর্থঃ অর্জুন বলিলেন হে হৃষীকেশ, তোমার মাহাত্ম কীর্ত্তনে সমস্ত জগত্‍ যে হৃষ্ট হয়, তোমার প্রতি অনুরক্ত হয় তা যুক্তিযুক্ত। রাহ্মসেরা যে তোমার ভয়ে ভীত হযে